পোস্টগুলি

অনুগল্প লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আমার ভাষা | আব্দুল রাহাজ

ছবি
অ্যাওয়ার্ডস - ০৩ গল্প...... "আমার ভাষা" আব্দুল রাহাজ বসিরহাট , উঃ২৪পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ          প্রতিবছর সুবলদের গ্রামের পাঠশালায় ভাষা দিবস পালিত হয়। সে বছর ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়েছিল সুবল ও তার বন্ধুরা সাথে ছিল গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক শিক্ষিকারা। শুরু হয় স্কুলে প্রতিদিন টিফিন বেলায় ভাষা দিবসের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। গ্রামের পাঠশালার শিক্ষক অরুণ মিস্ত্রি ওদের সাথে ছিল সর্বসময়। সেদিন সন্ধ্যাবেলা সুবলদের বাড়িতে এসেছিল ওর সহপাঠীরা । তারপর সুবলের ঘরে গিয়ে দেখল ভাষা দিবসের অনুষ্ঠান কিভাবে ভালো করে করা যায় তা নিয়ে জানালার ধারে বসে পরিকল্পনা করছে। সুবলের সহপাঠীদের অনেকদিন পর আসতে দেখে সুবলের মা গরম গরম চা ও সন্দেশ তৈরি করে বাড়িতে। এদিকে সুবলের ঠাকুমা সহপাঠীদের দেখে সুবলের ঘরে গিয়ে বসল এক কোনার দিকে। তারপর সুবলের ঠাকুমা বলল কি ব্যাপার মনে হচ্ছে কোন একটা বড় কাজ এর দায়িত্ব তোমরা পেয়েছো। তখন সুবল বলে ওঠে হ্যাঁ ঠাকুমা সামনেই তো ভাষা দিবস তাই স্কুলে আমাদের দায়িত্ব পড়েছে। অনুষ্ঠানটি কীভাবে করা যায় তার পরিকল্পন...

মা ও মাতৃভাষার ঋণ | সঞ্জয় বৈরাগ্য

ছবি
অ্যাওয়ার্ডস - ০৩ গল্প...... "মা ও মাতৃভাষার ঋণ" সঞ্জয় বৈরাগ্য কৃষ্ণনগর,নদীয়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  আচ্ছা, আমরা কি কখনো শুনেছি পিতৃভাষা? শুনি নি নিশ্চয়ই। আসলে জন্মের পর থেকেই, আমাদের নামের পরে বাবার পদবি জুড়ে দেওয়া হয়। শিক্ষাক্ষেত্রেই হোক বা অন্য কোনো অফিসিয়াল ক্ষেত্র, সব জায়গাতেই কিন্তু 'বাবা'র নাম কি?' --- আগেই মূল জিজ্ঞাস্যর বিষয় হয়ে ওঠে। আমাদের প্রতিটি সার্টিফিকেটে বাবার নামটাই প্রাধান্য পায়, মায়ের নাম নয়। আমাদের সবার জীবনে বাবার ভূমিকা যে, বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ -- এ'কথা অনস্বীকার্য। বাড়ির গন্ডীর বাইরে, সব বিষয়েই এগিয়ে থাকে বাবা'র প্রসঙ্গ। তবে ভাষার ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা হয় না কখনোই। আর হয় না মাতৃদুগ্ধের কোনো মূল্য নির্ধারণ। মা ছাড়া যেমন একটি শিশুর জন্ম হওয়া সম্ভব নয় তেমনি মাতৃদুগ্ধ আর মাতৃভাষা এই দুইক্ষেত্রে মায়ের তুলনা কখনই চলে না।  একটি শিশু যখন তার মাতৃগর্ভে একটু একটু করে বেড়ে উঠতে থাকে তখন সে, তার মায়ের হৃদস্পন্দন ছাড়া আর যা শুনতে পায় তা হল, মায়ের কথার শব্দ, আর সেই শব্দই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে তার ভাষা, তার মাতৃভাষা।  মাতৃগর...

দুগ্গী | পার্থ গোস্বামী

ছবি
দুগ্গী পার্থ গোস্বামী            কালিকাপুরের চাটুজ্যে বাড়ির বুনেয়াদী দুর্গা পুজো এলাকায় সর্বজন মুখরিত।বেশ ঘটা করেই মায়ের আরাধনা করা হয়।আর সেই গল্প বাগদী পাড়ার দুগ্গী দিম্মা বিপদতারিণীর কাছে ছোট থেকেই শুনে আসছে সাথে সেই অসুর নিধনের দুর্গা মাকে সাক্ষাৎ মনে মনে খোঁজে চলেছে।দুগ্গী এখন বেশ বড় বয়স বারো তাই এবছর পুজোর প্রথম দিনেই কৌতুহলী মনে নতুন পোশাকে চাটুজ্যে বাড়ির মন্দির দালানের উপর এসে দাঁড়ায়।এহেন কান্ডে টহলদার বিপিন খুড়ো চোখ বড়বড় করে এমা এ কি অনাসৃষ্টি!ছোটলোক তোর সাহস হয় কি করে দালানের উপর আসার?ওরে কে কোথায় আছিস এই ছোটলোক টাকে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দে।সেদিন ওই ছোটলোক শব্দের মানে দুগ্গী বুঝতে পারে নি।বুঝার কথাও নয় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে ও দিম্মা ও দিম্মা ছোটলোক মানে কি?তাদের কেন দালানে উঠতে মানা?দিম্মা কাঁদে না মা ওখানে আমাদের যেতে নেই। তুমি কাউকে কিছু না বলে গিয়ে ঠিক করো নি।এমন আর করবে না বলতে বলতে ছোট্ট দুগ্গী দিম্মার কোলে ঘুমিয়ে পড়ে।বেশ কটা দিন পর বৃষ্টিমুখর সেই রাত বিপিন খুড়ো বাগদী পাড়ার পাশেই বৌ নিয়ে থাকে হঠাৎ চিৎকার বাঁচাও বাঁচাও আ...

অনুগল্প | ভয় |অপু দেবনাথ |

ছবি
গল্প...... "ভয়" অপু দেবনাথ মধ্যকুল,কেশবপুর,যশোর,বাংলাদেশ  দু ই দিন যাবৎ মেসে রান্না বন্ধ রয়েছে। আজ দ্বিতীয় দিন। আমার কাছে পর্যাপ্ত টাকাও নেই যা দিয়ে নাস্তা-পানি করব। খুব জোর করেই খাটে শুয়ে আছি। কারণ- উঠলেই তো খিদে লাগবে কিছু না কিছু খেতেই হবে। সুয়ে ও ঘুম আসছে না। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- "পেটে খেলে পিঠে সয়" সারংশ এমন খিদে পেটে ঘুম আসতে চাইনা। ঘুমের ঝুলে হোক বা জেগে থেকেই হোক, দুপুর ২:৩০ থেকে ৩:০০ টা নাগাদ। আমি ভগবানকে ডেকে বলছি, ভগবান দুপুরে তো কিছু খাওয়া হয়নি। রাতে অন্তত একটু প্রাসাদের ব্যবস্থা করেদিস। না দিলেও ক্ষতি নেই- তুই তো আমাকে চিনিস 'খাবার না পেলে আজ তোর একদিন কি আমার একদিন' এসব কিছু বলতে বলতে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। ঘুম থেকে উঠতে সৈকত ডাকছে- চলেন খেয়ে আসি। বললাম টাকা নেই। বলে আমি টাকা দিব চলেন আপনি। একে-তো পেটে খিদে বেশি আপত্তি না করে চললাম তার সাথে। রাজপ্রিয়া হোটেল থেকে দুইজন দুপুরের খাবার গ্রহণ করলাম। খাবারের বিল ১৮০ টাকা নিল। খাবার হিসেবে শুধু ডাল, ভাত, ভাজি আর ভর্তা দিয়েই ১৮০ টাকা নিয়ে নিল। যাই হোক, এতো টাকা আমি দিলে এতক্ষণে আমা...

গল্প | মুছে যাওয়া দিন গুলি | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল

ছবি
অনুগল্প...... "মুছে যাওয়া দিন গুলি" ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল বড়জোড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  —- পিকলু বলল - বাপি তোমার লেখার টেবিলে একটা চিঠি আছে। —- সুকোমলের ছেলের নাম পিকলু। —-- সুকোমল টেবিলের কাছে এসে দেখলো চিঠিটা । আশ্চর্য হয়ে গেল চিঠিটি দেখে। চিঠির কথা শুনে ভেবেছিল কোন সাহিত্য সবার চিঠি হবে। আজকাল সুকোমলের পড়াশোনার ঘরে সাহিত্য সবার নিমন্ত্রণে চিঠি ছাড়া কোন আত্মীয়-স্বজনের চিঠি এসেছে বলে তো মনে পড়ছে না বা সুকোমল কাউকে দু'কলম লিখে চিঠি দিয়েছে বলে মনে পড়ছে না। যা কথা চালাচালি ভাবের আদান প্রদান হয় তা হল ফোনে বা পথ চলতে চলতে যদি দেখা হয় বা কোন অনুষ্ঠানে। —- চিঠির বাইরে প্রেরকের নাম নেই। হাতের লেখা চেনা চেনা মনে হলেও চীনে উঠতে না পারার জন্য একটু কৌতুহল বসতো চিঠিখানা খুলে ফেলল সুকোমল। ইতি লেখার জায়গায় তোমার শেফালীদি দেখে চমকে উঠল সুকোমল। মুহূর্তে রক্ত প্রবাহ দ্বিগুণ হয়ে মাথা থেকে পায়ে আসা যাওয়া শুরু করল। আবেগ উত্তেজনা মিলেমিশে মাথায় তোলপাড় শুরু করল। নিজেকে সামলে নিয়ে দেখলো ইন-এন্ড-লেটারটি। কোথাও তিল ঠাঁই নাই । সুকোমল পড়তে শুরু করল...

অনুগল্প | বন্ধু | নাসরিন বানু

ছবি
অনুগল্প...... "বন্ধু" নাসরিন বানু দক্ষিন দিনাজপুর, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ            বা বাকে মনে পড়ে না। মার মুখখানি একটু একটু মনে পড়ে। মা ছেড়ে গেছে! কোথাও নাকি মরেই গেছে সুমন নিশ্চিত নয়। তবে একটা কথা মনে আছে, যেদিন প্রথম সন্ধ্যায় মা হারিয়ে গেল ধীরে ধীরে রাত এলো শিয়ালদা স্টেশনে!ঘুরে ঘুরে কেঁদেছিল সুমন। বয়স তখন তার কত ছিল সে সঠিক জানে না অনুমান করছে চার থেকে পাঁচ বছর হবে!সুমন নিজের অজান্তেই বড় হয়ে হতে থাকলো। সে ফুল বিক্রি করত, না খেয়ে দিন পার করত। সুমনের জীবন বড় কষ্টদায়ক ছিল! সুমন মাঝে মাঝে চুরিও করত কিন্তু কখনো সে ধরা পড়েনি কোন এক ঘটনা ক্রমে সন্দেহজনক ভাবে সে একবার প্রবল মার খেয়েছিল। মাথা ফেটে গিয়ে রক্ত ঝরছিল ।হাতে আঘাত লেগেছিল তবে সে ছিল সম্পূর্ণ নির্দোষ! কোথায় কিভাবে কার যেন কি চুরি হয়েছিল সেই সন্দেহে পুলিশ সুমন কে সামনে পেয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে দেয় আর সুমনকে যাওয়ার সময় বলে সুস্থ হলে জেলে নিয়ে যাবে। সুমনের হাতে-পায়ে, কপালে, ব্যান্ডেজ বেঁধে দেওয়া হয়।প্রকৃত চোর কে!তা না জেনে সুমনকে পুলিশ শাস্তি দেয়...

গল্প | চন্দনা | প্রবাল মুখোপাধ্যায়

ছবি
গল্প...... "চন্দনা" প্রবাল মুখোপাধ্যায় হাওড়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ          খাঁ চায় একটা চন্দনা ছিল। সে বেচারা একলা থাকতে থাকতে কেমন মনমরা হয়ে পড়েছিল। কাঁচালঙ্কা ওর অত প্রিয় ছিল, সেই লঙ্কা ছুঁয়েই দেখত না। পালং শাক দাঁতে কাটত না। আগে পাকা কলার টুকরো খাঁচার সামনে ধরলেই ঠোঁট বাড়িয়ে নিয়ে ছুট লাগাত। আর বাটির জল ফুরিয়ে গেলে ছোট্ট দরজার কাছে এসে কলকল কলকল করে কত কি বলত। দিব্যায়ন ঠিক টের পেয়ে যেত ও কী বলছে। সঙ্গে সঙ্গে গেলাসে করে জল এনে বাটি ভর্তি করে দিত। একদিন দুপুরে খাঁচার পাশটিতে বসে পাকা পেঁপে সবে মুখে দিয়েছে, টুসি ক্যাঁ ক্যাঁ করে ডেকে উঠল। দিব্যায়নের চোখ গেল চন্দনার দিকে। মাথায় উঠল খাওয়া। বলল, কিরে টুসি, দিইনি বলে রাগ হয়েছে ? তারপর খাঁচার দরজা খুলে গোটা চারেক টুকরো ওর বাটিতে দিয়ে তবে শান্তি।  সেই টুসি আজ দুদিন হল খাওয়া বন্ধ করেছে। স্পিকটি নট। বাটিতে দু'দিনের ছোলা পড়ে আছে।‌ জলে মুখ দেয়নি।‌ দাঁড়েও বসে না। খাঁচার এককোণে চুপটি করে ...

গল্প | সাঁতার | অঞ্জলি দেনন্দী, মম

ছবি
গল্প...... "সাঁতার" অঞ্জলি দেনন্দী, মম দিল্লি,ভারতবর্ষ          বা বা সালকিয়াতে থাকতো। বৌবাজার চাকরী করতো। প্রতি শনিবার সন্ধ্যায় চৈতন্যবাটীতে আসতো। আর রবিবার বিকেলে আবার চলে যেত। আমি, মা, ভাই, বোন, দাদু, ঠাকুমা, পিসিমা চৈতন্যবাটীতে থাকতুম। দু কাকা বাবার কাছে ওখানে থাকতো। আর দু পিসীমার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল।       আমরা ভাই বোনেরা তখন ছোট। মা অন্য ছ'দিন আমাদের চান করাতো। আর বাবা রবিবার দুপুরে আমাদের নিয়ে খিরকি ঘাটের জলে নামাতো। সবার ছোট বোন একদম ছোট তাই তাকে চান করিয়ে বাবা বাড়ি পাঠিয়ে দিত। কাছেই ছিল বাড়ি। এরপর বাবা দু হাতে দুটি গামছা আমার ও ভায়ের পেটের ওপর দিয়ে ঘুরিয়ে ধরতো। আমরা উপুড় হয়ে জলের ওপরে ভেসে থাকতুম। বাবা পিঠের ওপর ওই গামছা দুটির দু প্রান্ত একসঙ্গে করে টেনে তুলে ধরে থাকতো। আমরা বাবার দু হাতে ধরা দু গামছায় আটকে জলের ওপরে খুব হাত ও পা ছুঁড়তুম। সেখানে জলের গভীরতা আমাদের বুক পর্যন্ত। আর বাবার তো অনেকই কম। মাঝে মাঝেই বাবা গামছা দুটো খুলে নিত। আমরা তো সাঁতার কাটতে কাটতে হঠাৎই তখন আর ভেসে থাকতে পারতুম নি। খানিকটা জল খেয়ে ফেলতুম। এরপর আমা...

গল্প | নিয়তি | রুচিরা সাহা

ছবি
গল্প...... "নিয়তি" রুচিরা সাহা মালদা, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  প্রথম পর্ব            প্র ত্যন্তর গ্রাম থেকে শহরে পড়াশোনার জন্য আসে শশীকান্ত আর নিশিকান্ত দুই ভাই। শশীকান্ত পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল।চতুর্থ শ্রেণীতে বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ষষ্ঠ শ্রেণীতে আর দাদা নিশিকান্ত অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে বয়সের তফাৎ ছিল প্রায় চার বছরের। শশীকান্ত ডবল প্রমোশন পায়। তাঁরা চার ভাই দুই বোন। বড়োভাই রাধাকান্ত আর মেজো ভাই আমলাকান্ত গ্রামের ইস্কুলেই পড়াশোনা করে। উনাদের বাবা ছিলেন  কবিরাজ মশাই। গ্রামে তাঁর বেশ ভালো পরিচিতি ছিল।ছোট ছেলে পড়াশোনায় ভালো ছিল বলে তাঁর শখ ছিল শহরের কোনো নামী ইস্কুলে পড়াবেন। কিন্তু তিনি অকালেই মারা যান । স্ত্রী নিরুপমা দেবী থেমে থাকেন নি। ছোট ছেলে শশীকান্তর সাথে নিশিকান্তকেও পাঠিয়ে দিলেন শহরে।ব্রিটিশ তখন দেশ শাসন করছে। স্বামীর অকাল মৃত্যুর পরে তিনি একাই সব কিছু দেখাশোনা করতেন। বড়ো ছেলে রাধাকান্ত পড়াশোনা শেষ করেছে।শশী কান্ত আর নিশিকান্তকে নতুন ইস্কুলে ভর্তি করানো হলো।  হোস্টেলে থাকার ব্যবস্থা করা হলো। সুন্দর ব...

গল্প | হঠাৎ সব গল্প | বৈশালী দাশগুপ্ত

ছবি
গল্প...... "হঠাৎ সব গল্প" বৈশালী দাশগুপ্ত  প্রথম পর্ব          আ জ সারা পাড়া আলোয় ঝলমল করছে। বৌবাজারের সেঁকড়াপাড়া লেনের বাসিন্দাদের মুখে চোখে আনন্দ প্রস্ফুটিত। প্রতিটা বাড়ির শিশুরা একে অপরের সাথে মিলিত হয়েছে আনন্দে মাতবে বলে। দেখে মনটা যেন বলে ওঠে-          "আনন্দেতে উছলে হাসি                  বাঁধ ভেঙেছে রাশি রাশি"।    পাড়ায় একদিকে সুজয় মিত্তিরের মেয়ের বিয়ে আর একদিকে চিন্ময় হালদারের ছেলের অন্নপ্রাশন। এখন পাড়ার লোকের নাজেহাল অবস্থা এই ভেবে, কে কার বাড়ি নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাবে। কিন্তু শিশুরা ব‍্যতিক্রম তারা দুই বাড়িতেই যাবে খাবারে ভাগ বসাতে।      বিয়েবাড়ির ব‍্যস্ততা, কেউ গয়না বাছাই করছে তো কেউ আবার শাড়ী। হঠাৎ হ‌ইচ‌ই -"ওরে গায়হলুদ এসে গেছে ছেলের বাড়ি থেকে"। সেই শুনে পল্লবীর মুখ লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠে।      হলুদের আলতো ছোঁয়ায় আর গঙ্গোত্রীর ধারায় মনে হল সূর্যস্নাত রমনী ভোরের অলোকানন্দা থেকে উঠে এসেছে।      আজ পল্লবীর জীবনের শ্রেষ্ঠ দিন।...

গাজন বাপি | প্রদীপ কুমার দে

ছবি
অনুগল্প...... "গাজন বাপি" প্রদীপ কুমার দে  কোলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  ষ্টেশনের ভাঙা এবড়ো-খেবড়ো সিমেন্টের স্ল্যাবটার উপর একজন মাঝ বয়সের ব্যক্তি হলুদ পাঞ্জাবী আর লুঙ্গি পড়ে চিৎপটাং। ঘুমে বিভোর। পাশ দিয়ে গেলে গন্ধে মালুম হয় তার আসল কারণ। পাশ দিয়ে ট্রেন থেকে নামা সকলেই পাশ করে চলে যাচ্ছে কেউ এড়িয়ে কেউবা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে একমিনিটের অবলেকনে। দূরে দাঁড়িয়ে কয়েকজন যুবক লোভী চোখে পকেট হাতরাচ্ছে। আজ আবার তীব্র গরমে কয়েক ফোঁটা ঝরেছে। পেটে একটু পড়লে বেশ মৌজই হত। এক মা তার ছোট ছেলেকে নিয়ে পাশ দিয়ে যেতে গিয়ে নাক সিঁটকিয়ে সরে চলে যেতে চাইলে বাচ্ছাটি সেই দৃশ্য দেখে মায়ের হাত ছেড়ে দিয়ে দাঁড়াতে চাইল। মা টানে। ছেলে নাছাড়! হঠাৎই ছেলেটা পায়ের জুতোজোড়া খুলে হাত জোড় করে প্রনাম করতেই মা তাড়াতাড়ি ছেলেটিকে কোলে তুলেই দৌড়…।  কিন্তু ছেলেটা মায়ের কোল থেকেই চেঁচাচ্ছে, -- মা দ্যাখো, দ্যাখো, বাপি আবার আবারও গাজনের উপোস করেছে যে … লেখক পরিচিতি- আমি প্রদীপ কুমার দে। বয়স ৬৩ বছর। বিবাহিত। অবসর জীবন। কিশোর বয়স থেকেই লিখি। উপন্যাস, গল্প, কবিতা, প্রবন্ধ লিখি। নিজস্ব লেখা এবং প্রকাশ...

সেই প্রভাতে নেই আমি | শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার

ছবি
গল্প...... "সেই প্রভাতে নেই আমি" শ‍্যামাপ্রসাদ সরকার কোলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  অসুখটা এবার বোধহয় সারবেনা। আর না সারলেও যদিও বিধাতাকে কোন দোষ দেবেন না তিনি। আশিবছরেও যদি সব কলকব্জা ঠিকমতই চলে তবে আর বয়স হবার কি মানে? এখনো সূর্যোদয়ের আগেই ঘুমটা ভাঙে নিয়ম করে। মুখহাত ধুয়ে বারান্দায় চেয়ার পাতা আছে সেখানে একটু বসে উপাসনা করেন । পুব অাকাশে লালিমার আলিম্পন দেখতে দেখতে মনটা স্বাভাবিক ভূমি ছেড়ে যেন ভূমাকে খুঁজতে বের হয়। এসময়টায় প্রতিদিন একবার তাঁর নবজন্ম হয়। ঋষিকল্প পরম সত‍্যজ্ঞানকে শুধু উপনিষদের পাতায় নয়, দীর্ঘজীবন ধরে নিত‍্য জন্ম -মৃত‍্যুর প্রবাহপথে উপলব্ধি করেছেন। মৃত‍্যুর এই ভয়ংকর সংহারী বিচ্ছেদ প্রকাশের জন‍্য নিজের এই একাকিত্বময় দীর্ঘায়ুটিকেই মাঝেম‍ধ‍্যে অভিশাপ বলে মনে হয়। কাল রাতে আবার জ্বর এসেছিল। মরসুম বদলের শিরশিরানি বয়ে আসছে দক্ষিণের বাতাসে। ধীর পায়ে ওপরের ঘর থেকে আস্তে আস্তে নীচে নেমে এলেন। আপাতত সবাই নিদ্রামগ্ন। এখন তাঁর আম্রবীথির পথটা ধরে খুব হাঁটতে ইচ্ছা করছে। একটি দিনের প্রাকসূচনার পরিবেশটি বড় মধুর। রাত্রির অন্ধকার আর দিনের প্রখরতার ম...

আবাসনের প্রহরীটি | রুচিরা সাহা

ছবি
গল্প...... "আবাসনের প্রহরীটি " রুচিরা সাহা  ইংলিশবাজার,মালদহ,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  হীরালাল চক্রবর্তীর বাড়িতেই রয়েছে একটি মুদিখানা দোকান। মুদিখানা দোকানের সাথে সাথে পুরোহিত্যও করতেন।তিন ভাইয়ের সংসারে তিনিই ছিলেন বড়।কানে কম শুনতেন।পাড়ায় তিনি কালা হীরা নামেও পরিচিত ছিলেন।অন্য দুই ভাই চাকুরী করতেন। স্ত্রী দেখতে ছিলেন পরমা সুন্দরী।তিন বছর বয়সে তিনি পিতৃহারা হন।মামা বাড়িতেই বড় হন।আর্থিক অবস্থা খারাপ কাজেই বধির হীরার সাথে তাঁর বিয়ে হয়।চারটি ছেলে মেয়ে তাঁর।বড় মেয়ে উষা।সে দেখতে ঠিক তার মায়ের মতো।ওরপরে স্বপন,লক্ষ্মী,খোকন।দোকানে সেরকম জিনিসপত্র বিক্রি হত না।কানে কম শুনতো সেই জন্য যিনি জিনিস কিনতে আসতেন উচ্চ স্বরে চেঁচিয়ে কথা বলতে হত সেই অসুবিধার জন্য লোকে আসতো কম।তার স্ত্রী  সংসারের কাজের মাঝে একটু একটু করে দোকানে জিনিসপত্র বিক্রি করে,গোবর কুড়িয়ে এনে ঘুঁটে দিয়ে,কোনোরকমে সংসার চালাতো।ছোট ছেলেটি ছয় বছর বয়স থেকেই তার বাবার সাথে মুদিখানা দোকানটিতে বসতো।লক্ষ্মী তার মায়ের সাথে সংসারের কাজকর্ম করে পড়াশোনা করতো।স্বপন ছিল তাঁদের অত্যন্ত আদরের সন্তান।কাজেই স্বপন একটু আহ্লাদে...