দুগ্গী | পার্থ গোস্বামী
দুগ্গী
পার্থ গোস্বামী
কালিকাপুরের চাটুজ্যে বাড়ির বুনেয়াদী দুর্গা পুজো এলাকায় সর্বজন মুখরিত।বেশ ঘটা করেই মায়ের আরাধনা করা হয়।আর সেই গল্প বাগদী পাড়ার দুগ্গী দিম্মা বিপদতারিণীর কাছে ছোট থেকেই শুনে আসছে সাথে সেই অসুর নিধনের দুর্গা মাকে সাক্ষাৎ মনে মনে খোঁজে চলেছে।দুগ্গী এখন বেশ বড় বয়স বারো তাই এবছর পুজোর প্রথম দিনেই কৌতুহলী মনে নতুন পোশাকে চাটুজ্যে বাড়ির মন্দির দালানের উপর এসে দাঁড়ায়।এহেন কান্ডে টহলদার বিপিন খুড়ো চোখ বড়বড় করে এমা এ কি অনাসৃষ্টি!ছোটলোক তোর সাহস হয় কি করে দালানের উপর আসার?ওরে কে কোথায় আছিস এই ছোটলোক টাকে ধাক্কা মেরে নামিয়ে দে।সেদিন ওই ছোটলোক শব্দের মানে দুগ্গী বুঝতে পারে নি।বুঝার কথাও নয় কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি এসে ও দিম্মা ও দিম্মা ছোটলোক মানে কি?তাদের কেন দালানে উঠতে মানা?দিম্মা কাঁদে না মা ওখানে আমাদের যেতে নেই। তুমি কাউকে কিছু না বলে গিয়ে ঠিক করো নি।এমন আর করবে না বলতে বলতে ছোট্ট দুগ্গী দিম্মার কোলে ঘুমিয়ে পড়ে।বেশ কটা দিন পর বৃষ্টিমুখর সেই রাত বিপিন খুড়ো বাগদী পাড়ার পাশেই বৌ নিয়ে থাকে হঠাৎ চিৎকার বাঁচাও বাঁচাও আমার বৌ টাকে বাঁচাও কে কোথায় আছো শয়তানটা ওকে খুবলে খেতে চাইছে।কেউ শোনে নি কেউ আসে নি।সেই রাতে ছোটলোক দুগ্গী কাটারি হাতে যেনো সাক্ষাৎ চাটুজ্যে বাড়ির সেই মা দুর্গার আর এক রূপ।ধড় থেকে মুন্ডটা নামিয়ে জীবন্ত অসুর নিধনে ছোটলোকি হাতে খুড়োর বৌয়ের নামি সম্ভ্রম রক্ষা পেলো।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন