মা ও মাতৃভাষার ঋণ | সঞ্জয় বৈরাগ্য
অ্যাওয়ার্ডস - ০৩
গল্প......
গল্প......
"মা ও মাতৃভাষার ঋণ"
সঞ্জয় বৈরাগ্য
কৃষ্ণনগর,নদীয়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
আচ্ছা, আমরা কি কখনো শুনেছি পিতৃভাষা? শুনি নি নিশ্চয়ই।
আসলে জন্মের পর থেকেই, আমাদের নামের পরে বাবার পদবি জুড়ে দেওয়া হয়। শিক্ষাক্ষেত্রেই হোক বা অন্য কোনো অফিসিয়াল ক্ষেত্র, সব জায়গাতেই কিন্তু 'বাবা'র নাম কি?' --- আগেই মূল জিজ্ঞাস্যর বিষয় হয়ে ওঠে। আমাদের প্রতিটি সার্টিফিকেটে বাবার নামটাই প্রাধান্য পায়, মায়ের নাম নয়। আমাদের সবার জীবনে বাবার ভূমিকা যে, বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ -- এ'কথা অনস্বীকার্য। বাড়ির গন্ডীর বাইরে, সব বিষয়েই এগিয়ে থাকে বাবা'র প্রসঙ্গ। তবে ভাষার ক্ষেত্রে কিন্তু এমনটা হয় না কখনোই। আর হয় না মাতৃদুগ্ধের কোনো মূল্য নির্ধারণ। মা ছাড়া যেমন একটি শিশুর জন্ম হওয়া সম্ভব নয় তেমনি মাতৃদুগ্ধ আর মাতৃভাষা এই দুইক্ষেত্রে মায়ের তুলনা কখনই চলে না।
একটি শিশু যখন তার মাতৃগর্ভে একটু একটু করে বেড়ে উঠতে থাকে তখন সে, তার মায়ের হৃদস্পন্দন ছাড়া আর যা শুনতে পায় তা হল, মায়ের কথার শব্দ, আর সেই শব্দই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে তার ভাষা, তার মাতৃভাষা।
মাতৃগর্ভে, শিশুটির সৃষ্টিলগ্ন থেকেই মায়ের শরীরলব্ধ রসে ধীরে ধীরে পরিপুষ্ট হতে থাকে সে। এরপর পৃথিবীর আলো দেখার পর থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত মাতৃদুগ্ধ পান করে বড় হয় শিশুটি। সারা জীবনেও কিন্তু আমরা পরিশোধ করতে পারি না, মাতৃদুগ্ধের সেই ঋণ।
অথচ যে মাতৃভাষা আমার শিখি জন্মের আগে, যে মাতৃভাষা আমাদের চিন্তাশক্তি, চেতনা শক্তি, আমাদের মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, যে ভাষায় আমরা স্বপ্ন দেখি, সেই মাতৃভাষাকে সামান্যতম মূল্য দিতেও ভুলে যাই।
আসুন না আমরা আমাদের গর্ভধারিণী মা'কে যেমন শ্রদ্ধা-সম্মান করি, মর্যাদা দিই। ঠিক তেমনই আমাদের মাতৃভাষা বাংলা'কেও সমানভাবে সম্মান, মর্যাদা দিই।
দৃঢ় প্রত্যয়ী কন্ঠে, মাথা উঁচু করে বলি, 'আমার না ভিনদেশী ভাষা ঐ ইংরেজিটা ঠিক আসে না।'
বর্তমানে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যেখানে এক ভিনদেশী ভাষা'কে আপন করে নিয়েছি আমরা। কখনও আবার নিজের মাতৃভাষা'তে বলতেও লজ্জা পাই, পাছে কেউ আমাদের অশিক্ষিত ভাবে ..! কেউ কেউ তো আবার নির্লজ্জের মতো বলে চলে, "আমার ছেলের না ঐ বাংলা-টাংলা ঠিক আসে না।"
আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শুভলগ্নে আমরা
সকলে মিলে এক সাথে বলি--
"আমি গর্বিত আমি বাঙালী,
আমি গর্বিত আমি বাংলায় কথা বলি; বাংলায় হাসি, কাঁদি,
আর নিজের মাতৃভাষা বাংলাতেই বাঁচি।"
লেখক পরিচিতি:
একটি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা'র পেশায় যুক্ত। বিভিন্ন পত্রিকা ও ফেসবুক সাহিত্য গ্রুপ ও পেজে লেখালেখি করে থাকি।।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন