গল্প | মুছে যাওয়া দিন গুলি | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
অনুগল্প......
"মুছে যাওয়া দিন গুলি"
ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
বড়জোড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
—- পিকলু বলল - বাপি তোমার লেখার টেবিলে একটা চিঠি আছে।
—- সুকোমলের ছেলের নাম পিকলু।
—-- সুকোমল টেবিলের কাছে এসে দেখলো চিঠিটা । আশ্চর্য হয়ে গেল চিঠিটি দেখে। চিঠির কথা শুনে ভেবেছিল কোন সাহিত্য সবার চিঠি হবে। আজকাল সুকোমলের পড়াশোনার ঘরে সাহিত্য সবার নিমন্ত্রণে চিঠি ছাড়া কোন আত্মীয়-স্বজনের চিঠি এসেছে বলে তো মনে পড়ছে না বা সুকোমল কাউকে দু'কলম লিখে চিঠি দিয়েছে বলে মনে পড়ছে না। যা কথা চালাচালি ভাবের আদান প্রদান হয় তা হল ফোনে বা পথ চলতে চলতে যদি দেখা হয় বা কোন অনুষ্ঠানে।
—- চিঠির বাইরে প্রেরকের নাম নেই। হাতের লেখা চেনা চেনা মনে হলেও চীনে উঠতে না পারার জন্য একটু কৌতুহল বসতো চিঠিখানা খুলে ফেলল সুকোমল। ইতি লেখার জায়গায় তোমার শেফালীদি দেখে চমকে উঠল সুকোমল। মুহূর্তে রক্ত প্রবাহ দ্বিগুণ হয়ে মাথা থেকে পায়ে আসা যাওয়া শুরু করল। আবেগ উত্তেজনা মিলেমিশে মাথায় তোলপাড় শুরু করল। নিজেকে সামলে নিয়ে দেখলো ইন-এন্ড-লেটারটি। কোথাও তিল ঠাঁই নাই । সুকোমল পড়তে শুরু করল—----
স্নেহের ভাই সুকোমল
দীর্ঘকাল যাবত তোমার সাথে কোন যোগাযোগ নেই ।অবশ্য যোগাযোগ না থাকার জন্য দায়ী আমি। কারণ তোমার সাথে খুব দুর্ব্যবহার করেছিলাম। যতদিন তুমি আমার কাছাকাছি ছিলে ততদিন আমার সুখে দুঃখে, না
সুখে নয় দুঃখে সর্বদায় আমার পাশে দাঁড়িয়েছো। এবং যথাসাধ্য সাহায্য করেছ ।কিন্তু সে সাহায্যের দাবি, অধিকার আমি আমার নিজের দোষে হারিয়েছি ।আমি জানি তুমি অন্য মানুষ আর পাঁচটা সাধারণ লোকের সাথে তোমার মেলানো, মূল্যায়ন করা যায় না। তাই সেই ভরসায় লিখছি।
বর্তমানে আমার জীবন দুর্বিষহ ।অঞ্জনদার কথা তো তোমার মনে আছে নিশ্চয়ই । কারণ অঞ্জনদার কারণেই তোমার সাথে দুর্ব্যবহার করেছিলাম। তা কি তুমি ভুলতে পারো না ভোলা সম্ভব? সেই অঞ্জনদা আমাদের পথের ভিখিরি করে দিয়েছে।
পুরনো ক্ষতে আবার ধাক্কা। রক্ত তো বেরোবেই বহু বছর পেরিয়ে গেছে ক্ষত উপরে শুকিয়ে গেলেও ভিতরের ঘা যেমন থাকার তেমনি ছিল আজ আবার নতুন করে বুঝতে পারলো সুকোমল। ভালোবাসার বাঁধনটা এমনই প্রগাঢ় ,হয়তো কিছুদিন, কয়েক মাস ,কয়েক বছর দূরে থাকা যায়। কিন্তু ভালোবাসার অন্তরের যে
টান তা কি নষ্ট হয়, না হবার জিনিস? সব ভুলে যেতে চেয়েছিল সুকোমল হয়তো ভুলে গিয়েছিল কালের প্রভাবে অতীতের সব কথা স্মৃতিপটে ভেসে উঠলো সুকোমলের এই চিঠির দৌলতে।—-----
সুকোমলের বয়স তখন কত বড় জোর আঠেরো কি উনিশ বছর। হায়ার সেকেন্ডারি পাস করে হোমিওপ্যাথিতে ভর্তি হয়েছে সুকোমল। বাংলা মিডিয়ামের ছাত্র আর হোমিওপ্যাথিক ফোর্স সম্পূর্ণ ইংরেজিতে। ফলে ক্লাস ফলো করা খুবই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো সুকোমল ।ডিকশনারী সাহায্য নিয়েও খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না এমন পরিস্থিতিতে সুকোমলেরই কলেজের লাস্ট ইয়ারের ছাত্রীর সাথে পরিচয় হলো, নাম শেফালী। ক্রমশ ঘনিষ্ঠতা বাড়লো, বাড়িতে আসা যাওয়া শুরু হলো। ফলে দুজনের মধ্যে দিদি ভাইয়ের সম্পর্কটা অল্প দিনের মধ্যেই দানা বেঁধে উঠলো। শেফালী সব বইপত্র সুকোমলকে দিয়েছিল ও পড়াশোনা বুঝিয়ে দিতো। ফলে সুকোমলের পড়াশোনার যে অসুবিধা হচ্ছিল সেগুলো মিটে যেতে লাগলো ।
শেফালীর দুই ভাই। দুই ভাই কলেজে পড়ে। শেফালির বাবা একটি নামি ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। মাইনে পত্র ভালো। বাড়িতে কোন অভাব নেই ।কেবল দুঃখ বলতে শেফালির মা খুবই অসুস্থ থাকতেন। ক্রমাগত রোগে ভুগে ভুগে জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছিলেন। শেফালীরা কোম্পানির কোয়ার্টারে থাকতো । কোয়ার্টার থেকে হোমিও কলেজ মিনিট পাঁচেকের হাঁটা পথ।ফলে শেফালীর কলেজ যাতায়াত ও পড়াশুনাতে বেশ সুবিধাই ছিল।
সুকোমল সেকেন্ড ইয়ারে উঠলো ।আর শেফালীর ফাইনাল ইয়ার শেষ হয়ে গেলো। ছয় মাস হাউস সার্জেনশিপ করার পর ডাক্তারি সার্টিফিকেট নিয়ে কোয়ার্টারেই টুকটাক প্র্যাকটিস শুরু করলো। সুকোমল সময় মতো শেফালীর কাছে প্র্যাকটিসের জ্ঞান লাভ করছিল ।এইভাবে চলছিল।
সুকোমলের যখন ফাইনাল ইয়ার সেই বছর শেফালীর মা মারা যান। এমনিতেই সুকোমল শেফালীদের ঘরের লোক হয়ে গিয়েছিল, মা মারা যাবার পর পরিবারের গার্জিয়ান হয়ে উঠলো। সব কিছু দেখাশোনা করা ,তাদের কাপড় কেচে দেওয়া, খেতে দেওয়া এমনকি শ্রাদ্ধের জন্য বাজার হাট খরচ খরচা সব সুকোমল একা হাতে সামলেছে।
শেফালীর বাবা বলতেন সুকমল আমার গত জন্মে ছেলে ছিল।
শেফালীর মা মারা যাওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই শেফালীর বাবা হার্ট অ্যাটাকে মারা যান ।তখন ওই একই ভূমিকা ছিল সুকোমলের। শেফালীদের আত্মীয়-স্বজন তেমন কিছু ছিল না। সেটা দেখেছিল শেফালীর মা মারা যাওয়ার সময়।
পাশাপাশি লোকেদের নিয়ে শ্রাদ্ধ শান্তি হয়েছিল।
শেফালীদের আদি নিবাস বসিরহাটে। সেখানে কাকা জ্যাঠারা সবাই আছে কিন্তু কেউ কারো খোঁজ রাখে না। শ্রাদ্ধের দিন তিনেক আগে শেফালীর এক জ্যেঠতুতো দাদা এলো নাম অঞ্জন।
জায়ান্ট ফিগার। ভুড়িটিও বেশ বড়সড় ,সারা গায়ে লোমে ভর্তি, কিন্তু মাথায় একটিও চুল নেই। পরচুল পরে থাকে। অঞ্জনের সাথে সুকোমলের পরিচয় হলো। শেফালীর সম্পর্ক ধরে অঞ্জনকে সুকোমল অঞ্জনদা বলতে শুরু করলো। কিন্তু অঞ্জনকে সুকোমলের একটুও ভালো লাগলো না। কেমন যেন স্বার্থপর স্বার্থপর চেহারা।
অঞ্জন আসার পরের দিনেই সুকোমল দেখল সবাই যেন কেমন বদলে বদলে গেছে শেফালী ও শেফালীর ভাইরা সুকোমলকে তেমন পাত্তা দিচ্ছে না ।কোন কাজের দায়িত্ব দেয় নি বরং যে কাজের দায়িত্ব গুলো ছিল সেগুলোও অঞ্জনকে দিয়েছে। কোন ভূমিকাই থাকলোনা সুকোমলের।
সুকোমল এই পরিবর্তনে অবাক ।এমনটা হয় কি করে? সুকোমলের ত্রুটি কি ?কি তার অপরাধ?
মানুষ কি করে এত সহজে সবকিছু ভুলে স্বার্থপর হয়ে যায়? সুখময় ভাবলো শেফালীরা কি অঞ্জনদাকে নির্ভরযোগ্য গার্জিয়ান ঠাওরেছে! যদি তাই হয় তাতে তো আমি কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়নি! তাহলে আমাকে এত এড়িয়ে চলার মানে কি? নিঃশব্দে এই অপমান সহ্য করা দায় হয়ে দাঁড়ালো সুকোমলের।
সুকোমল বরাবরই একটু অভিমানী। ভালবাসার কাঙ্গাল। খুব বন্ধুবান্ধব প্রিয়। এখানে শেফালী শেফালীর ভাইদের বন্ধুদের, পরিচিতদের এত ভালোবাসা পেত যে সবাই বন্ধু হয়ে উঠেছিল। সুকোমলের তাই দিনের মধ্যে ঘন্টা কয়েক এই শেফালীদের ঘরে অতিবাহিত করতো।
কিন্তু একি হলো যে ভালোবাসা টানে শেফালীদের ঘরে প্রাণ পাত করে দিয়ে চলেছে সেই শেফালীদি যেন চিনতেই পারছে না বড় আহত হল সুকোমল। সাথে আত্মাভিমানের ঘা লাগলো।
শ্রাদ্ধ শান্তি চুকে গেছে বাড়ি খালি। দূরের আত্মীয়-স্বজন তেমন কেউ আসেনি যারা এসেছিল শ্রাদ্ধের পরের দিনেই চলে গেছে। কেবল অঞ্জন রয়ে গেছে।
শ্রাদ্ধের দিন দুই পরে সুকোমল শেফালীদের বাড়িতে এসে দরজায় কড়া নাড়লো। কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে পিছনের দরজার দিকে গেলো।
এক অদ্ভুত কায়দায় এই দরজার ছিটকিনি খোলা যায়, এটা শেফালী শিখিয়ে দিয়ে বলেছিল আমরা কেউ না থাকলে তুমি দরজা খুলে ঘরের ভিতরে বসবে। সেই মতো আজও করলো।
ভিতরে ঢুকে হতবাক দেখলো ভিতরের ঘরে অঞ্জন রন্টি বলে একটা মেয়ের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় শুয়ে আছে। খালিঘর শেফালীদি ও ভাইয়েরা কেউ নেই ।এই দৃশ্য দেখে সুকোমল তাড়াতাড়ি বেরিয়ে এলো।
—- পরের দিন শেফালীকে বলল - শেফালী কোন গা তো করলোই না উল্টে বলল দেখো সুকোমল তোমাকে যেমন স্নেহ করি তেমনি অঞ্জনদাকে সম্মান করি। অঞ্জনদার সম্বন্ধে কোন বিরূপ মন্তব্য শুনতে চাই না। তুমি অঞ্জনদার সম্বন্ধে বলছ নিজের সম্বন্ধে বলছ না কেন ?না লোকের দোষ দেখিয়ে নিজেরটা গোপন করতে চাইছো?
—- মানে ?সুকমল আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞাসা করেছিল ।
—-মানে? মানেটা তুমি জানো না? না ভাবছো শেফালীদি কিছু জানে না? তোমার সাথে টুম্পার যে দৈহিক সম্পর্ক আছে সেটা আমি ভালোভাবে জানি ।আমি কোন তর্ক বিতর্কে যেতে চাই না।
তোমার জীবন তুমি যেমন ভাবে খুশি অতিবাহিত করতে পারো তাতে আমি বলার কে!
যেমন আমারা কেউ তোমার ব্যক্তিগত জীবনে ইন্টারফেয়ার করি না তেমনি তুমিও না করলে খুশি হব। আর একটা কথা তুমি আর আমাদের বাড়ির চৌহদ্দি মাড়াবে না তোমাকে একটু বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলেছিলাম বলে তুমি কি ভাবছো তুমি আমাদের গার্জেন হয়ে গেছো? এখন বুঝতে পারছি তোমাকে বেশি প্রশ্রয় দেওয়াই অন্যায় হয়ে গেছে।
সুকোমল নিজের সাপোর্টে একটা কথাও বলেনি বুঝে গেছিল অঞ্জন নিজের দোষ ঢাকতে শেফালীদের ব্রেন ওয়াশ করেছে সেই দিন থেকে সুকোমল আর শেফালীদের বাড়ি যায়নি। সুকোমলের তখনও ডাক্তারি পাশ করা হয়নি ওখানে থাকতে থাকতেই খবর পেল শেফালীর বিয়ে হয়েছে।
একজন হোমিওপ্যাথি রিপ্রেজেন্টেটিভের সাথে। শেফালী ও শেফালীর ভাইরা সবাই বসিরহাট চলে গেছে। সুকোমল বুঝতে পারলো অঞ্জনকে গার্জেন বা ভগবান সমান জ্ঞান করার কারণ। তারপর থেকে আর কোনো খবর ছিল না। সুকোমল ডাক্তারি পাশ করে নিজের দেশে ফিরে এসে ডাক্তারি শুরু করল ।পাশাপাশি আবার কলেজে ভর্তি হলো। সরকারি অফিসে চাকরি পেলো। বিয়ে করলো। একটি ছেলে হলো। সেও এখন মাধ্যমিক দেবে, মাঝে প্রায় কুড়ি বাইশ বছর কোন যোগাযোগ নেই এর মধ্যে সুকোমল লেখক হিসাবে খ্যাতি লাভ করেছে। নিজের ফেলে আসা জীবনের স্মৃতিচারণা থেকে বেরিয়ে এসে আবার মন দিল চিঠিতে—----
ভাগাড়ের শবদেহ পড়লে শকুনরা যেমন হামলে পড়ে সেই রকম বাবা মারা যাওয়ার পর অঞ্জনদা হামলে পড়েছিল আমাদের উপর। বুঝতে পেরেছিল আমাদের হাতে অনেক টাকা আছে। সেই টাকা আত্মসাৎ করার জন্য ভালো মানুষ সেজে আমার বিয়ে দিল একজন হোমিওপ্যাথি রিপ্রেজেন্টেটিভের সাথে এবং ভাইদের বিজনেস খুলে দেবে এই বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে সবাইকে নিয়ে চলে এলো বসিরহাটে। ভাইদের জন্য বিজনেস খুললো যা বছর কয়েকের মধ্যে ভরাডুবি হয়ে বন্ধ হয়ে গেলো।
আর আমার স্বামীর ওষুধ কোম্পানিও বন্ধ হয়ে গেলো। আজ থেকে বছর দশেক আগে ।আমার স্বামী এখানে তেমন কোন রোজকারের সুরাহা করতে না পেরে আমাকে ছেড়ে বাংলাদেশে চলে গেলো সেখানে একটি মেয়েকে বিয়ে করে ওখানেই থাকে। আমি এখন শ্বশুরবাড়ির গলগ্রহ
কেউ আমাকে সহ্য করতে পারে না।ভাইরা যে যার নিজেদের মতো করে সংসার পেতেছে ।তাদেরও কষ্টে সৃষ্টে কোনরকম সংসার চলছে। তাদের সংসারে গিয়ে থাকবো সে অবস্থাও নেই। যাই হোক অনেক কষ্টে তোমার লেখা বই থেকে তোমার ঠিকানা জোগাড় করে চিঠি দিলাম সব খুলে লিখলাম।
আমার কথা বিশ্বাস করো মুখ ফিরিয়ে নিও না ভাই ।তুমি আমাকে তোমার কাছে নিয়ে চলো। আমি কিছু চাই না কেবল শরীর ঢাকতে মোটা শাড়ি আর তিন বেলা পেটভর্তি খাবার। আমি বাঁচতে চাই ,সুকোমল তুমি আমাকে বাঁচাও।
ইতি
তোমার শেফালীদি
কতক্ষণ যে চিঠি নিয়ে সুখময় বসে আছে খেয়াল নেই সম্বিত ফিরলো স্ত্রীর ডাকে
—- কি হলো চুপচাপ বসে আছো? ক'টা বাজে খেয়াল আছে? কখন স্নান খাওয়া করবে? কথা বলতে ভালো করে সুকোমলকে দেখে বলল - কি হয়েছে বলতো ?এমন দেখাচ্ছে কেন? তোমার কি শরীর খারাপ?
—--সুকোমল স্ত্রী কে চিঠিটা বাড়িয়ে দিল ।
—- সুকুমলের স্ত্রী বিপাশা চিঠিটা আদ্যোপান্ত পড়ে সুকোমলের দিকে সোজাসুজি তাকালো। —- সুকমল বলল - কি করি বলতো?
—-- বিপাশা বলল - কি করি মানে! নিয়ে এসো। —--সুকোমল অবাক হয়ে বলল - কি বলছ তুমি? ভেবেচিন্তে বলছো?
—- হ্যাঁ ভেবেচিন্তে বলছি। তোমরা দিস্তার পর দিস্তা কাগজে গল্প, কবিতায় নারী অত্যাচারের বিরুদ্ধে লিখছো অথচ বাস্তবে কিছুই করছো না। একটা বাস্তব কাজ করে দেখাও যে অন্তত একটা নারীকে বাঁচার অবলম্বন দিতে পেরেছো। শোনো চিঠি পড়ে মনে হচ্ছে সত্যিই খুব দুর্দশায় আছেন ভদ্রমহিলা। তুমি পারলে কালই রওনা হয়ে যাও।
—- সুকোমলের মনে হল সে একটা বটবৃক্ষের ছায়ায় দাঁড়িয়ে আছে ।খুব ভালো লাগলো নিজের স্ত্রীকে। এর আগে এত ভালো লেগেছে বলে মনে পড়লো না।
লেখক পরিচিতি:
আমি ডাক্তার হর্ষময় মন্ডল, পিতা ৺কুচিল চন্দ্র মন্ডল ,মাতা ৺ আনন্দময়ী মন্ডল, ২রা জুলাই ১৯৬৩ সালে বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার অন্তর্গত কাপিষ্টা গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া থানার অন্তর্গত বড়জোড়ায় বসবাস করি, শিক্ষিকা শ্রীমতী তাপস্বী মন্ডল ও একমাত্র পুত্র তপময় মন্ডল কে নিয়ে। পুত্র I. T . O নিউ দিল্লি তে কর্মরত।
আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমি সবার ছোট। আমি সায়েন্স নিয়ে এইচ.এস পাশ করে হোমিওপ্যাথি পড়তে যাই রাঁচিতে। ওখান থেকে ডাক্তারি পাস করে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমার বাবাও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন।
পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করি বাংলা অনার্স নিয়ে ।যখন ফাইনাল ইয়ার তখন হাই স্কুলের চাকরি পাই।
বর্তমানে চাকরিতে আছি ৩০.১১.২০২৩ এ অবসর গ্রহণ করবো।
মাধ্যমিক দেওয়ার সময় থেকে লেখালেখি করি, এটা আমার বংশগত। বাবা ও বড় দাদা সাহিত্যিক ছিলেন উনাদের বইও আছে।
বহু লিটিল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিলাম এখনো আছি।" দিক দিগন্ত" সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
প্রচুর পুরস্কার পেয়েছি তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য আপনাদের সংস্থা "নবজাগরণ" থেকে "প্রেম অপ্রেম" গল্প গ্রন্থের জন্য "রাজা রামমোহন রায়" স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছি। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি।
আমি প্রায় সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করি, কবিতা, গল্প ,নাটক, যাত্রা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গীত রচনা করি। আমার নাটক "আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে " " প্রত্যাশা " অনুষ্ঠানে অভিনীত হয়।
আমার গল্পগ্রন্থ তিনটি বের হয়েছে যথাক্রমে "অপরাহের আলো" ," বৈশাখে বসন্ত"," প্রেম
অপ্রেম"; কাব্যগ্রন্থ "বিষণ্ণতায় একাকী"; যাত্রার বই "সুখের ঠিকানার খোঁজে " ,"আমি এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ " প্রভৃতি।
যা লেখা জমে আছে এর দশ গুন বই হবে ।
আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী। গানের ট্রুপ আছে। চিকিৎসা আমার সমাজ সেবামূলক কাজ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন