পোস্টগুলি

জুলাই, ২০২২ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

চলছবি - বিউটি কর্মকার

ছবি
কবিতা...... "চলছবি" বিউটি কর্মকার এ শহরের চলছবি আমি দেখেছি। এ শহর এক বৈচিত্রের কারখানা। এ শহরে রাত নামে- কোথাও নিয়ন আলো, কোথাও বা মাটির প্রদীপ, এ শহর জ্বলে ওঠে তার নিজস্ব অস্তিত্বে। আধাঁর কালো আকাশের নিচে রোশনাই- কোথাও টাকার, কোথাও বা ঝুপড়ির আগুন, এ শহর ককিয়ে ওঠে যন্ত্রণায়, তীব্র আর্তনাদে। এ শহরের বুকে প্রেম কোথাও বুভুক্ষু হয়ে লুঠে নেয় সব, আবার কোথাও বিক্রি হয় প্রেম জঠরের প্রয়োজনে। কোথাও বা ছুঁয়ে যায় চাতকের জল বালিশ ভিজিয়ে, কোথাও আবার প্রেমের অভিনয় লুঠে নেয় সব হাহাকার রবে। আমি কালিমার দাগ গুনি- এ শহরের আনাচে- কানাচে জেগে থাকা দাগ মুছতে চায় মানুষের অস্তিত্ব বারবার। শুধু জেগে থাকে সব বাতিস্তম্ভ দৃষ্টিহীন সাক্ষী হয়ে। আরো কবিতা পড়ুন   পশুর স্বাদ্ধিনতা - তাপস পান্ডা সঞ্চিত অনুভূতি - স্বপ্না মজুমদার বেলা পড়ে এলো | পরমেশ্বর গাইন কুনোব্যাঙের সঙ্গীত সাধনা | কৃষ্ণেন্দু কইলি

ভাগ্যের লিখন - স্বপ্না মজুমদার

ছবি
গল্প...... "ভাগ্যের লিখন" স্বপ্না মজুমদার এসেছে বসন্ত।ফাগুন ছড়িয়েছে দখিনা বাতাস।পলাশ শিমুল পাঁপড়ি মেলেছে। মনেতে ভারি উচ্ছাস!! সমীরণ আজ বন্ধুদের সাথে যাচ্ছে শান্তিনিকেতন। একটা বড়ো গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবাই মিলে চলেছে,হৈ হুল্লোড় করতে করতে। শান্তিনিকেতনে বহুবার এসেছে সমীরণ। খুব ভালো লাগে শান্তিনিকেতনের বনছায়া পরিবেশ। শরীর মন জুড়িয়ে যায়। সারাদিন ঘোরাফেরা শেষে বাড়ি ফেরার পালা। সন্ধ্যা পার হয়েছে অনেকক্ষন।এখন রাত আটটা হবে হয়তো।পথ মধ্যে আলোর রোশনাইয়ে সাজানো বিয়ে বাড়ি। ভিড়ে ভর্তি রাস্তা। পুলিশ নিয়ন্ত্রন করছে সব। সমীরণরা চার বন্ধু। গাড়ি থামাতেই হলো ড্রাইভারকে। সমীরণরা নেমে এসে জানতে চাইলো এক অচেনা মানুষের কাছে। ---- কি হয়েছে এখানে? ----- আর বলেন কেনো। আজ রমেশদার মেয়ের বিয়ে। আমরা সব নিমন্ত্রিত। বেশ আনন্দেই সব চলছিল।অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিচ্ছিলেন রমেশদা। প্রাইমারি স্কুলের রিটায়ার্ড টিচার।যথা সর্বস্য দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলেন। একটু আগে খবর এলো পাত্রের গাড়ি রেল গেট খোলা থাকায় লাইন ক্রশ করার সময়,ট্রেন চলে আসে।কেউ দেখেনি।ভয়ঙ্কর আ্যকসিডেন্ট।স্পটেই সবাই মারা গেছে।...

তুমি ছিলে পাশে - বাপী নাগ

ছবি
গল্প...... "তুমি ছিলে পাশে" বাপী না জীবনের কঠিন সময়ে ছিলে তুমি পাশে, তুমি বুঝতে দাওনি আমাকে কঠিন সময়টা কতটা কঠিন। তুমি আমাকে শিখিয়েছো কঠিন সময়ের বাস্তবতার অভিজ্ঞতা। তোমার হাত ধরে শিখেছি আমি কঠিন সময়ের পথ চলা। জীবনের কঠিন সময়ে তুমি আমায় যুগিয়েছে মনের সাহসিকতা। তুমি আমায় শিখিয়েছো কঠিন সময়ে মানুষ চিনতে। জীবনের কঠিন সময়ে তুমি ছিলে পাশে।জীবনের অর্থই হচ্ছে একটি যাত্রা। যে যাত্রাপথে আমার সাথে হাজার মানুষের দেখা হবে, কথা হবে, আমার সাথে বন্ধুত্ব হবে আবার তা চোখের পলকে ভেঙেও যাবে। জীবনের এই সময়ের সবটুকু পথই সুন্দর ভাবে কাটব তা কিন্তু নয়।  কারন আমি যদি খারাপ সময় দেখা না পাই, তাহলে সুখের মূল্য বুঝবে কেমন করে। তেমনি জীবন পথে অতিবাহিত হওয়া কঠিন সময় আমার সংস্পর্শে না এলে, আমিও বেটার কতটা আত্মবিশ্বাস আস্থা রাখতে পারতাম না। তুমি পাশে ছিলে হাতে হাত রেখে ছিলে তাই আমার পথ চলা সহজ হয়ে উঠেছিল। আমার জীবনে অনেক কঠিন পথে তুমি আমার হাত ছেড়ে কোথাও চলে যাও নি, আমার দুটো হাত শক্ত করে ধরে রেখেছিলে। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এই ভাবেই আমার সুখে-দুঃখে পাশে থেকো। আমাদের জীবনে ওঠা পড়া লেগেই থা...

পশুর স্বাদ্ধিনতা - তাপস পান্ডা

ছবি
কবিতা...... "   পশুর স্বাদ্ধিনতা " তাপস পান্ডা ছিলিম ধরায় সুরেনকাকা, টানেই ব্যাথা জাগে, উথলে ওঠে মনের কথা কে কার আগে ভাবে । স্বাধীনতার সোত্তর সাল তাতেই এত কথা, আগে কথা আসতো মনে ছিলই না যে ব্যাথা। ইংরেজরা এক শত্রু বিদেশী  সব আইন, বাইরের সে,বাইরেই গেল দেশ হলো স্বাধীন। ভাবে কাকা চোখ ভরা জল, স্বাধীনতা কই, পেলাম কিবা বিনিময়ে আজো জেগে রই? পাশের ঘরে যুবতী মেয়ে যেন নষ্ট না হয়, পার্টি করা ছেলে গুলো প্রতিবেশী হয়। ওরা রুলিং পার্টি,আইন ওদের মানুষ খুন করে, ধর্ষণ,লুট, ভয় দেখিয়ে দেয়াল ধখল করে। সীমানা টা ছোট হলো দেশ বলে আর নেই, পাড়ায় পাড়ায় দেশ হয়েছে আপন যে আর নেই । অনেক দেশের ভারে ভারত মাথা কোড়ে, স্বার্থ লোভী শয়তান সব দেশের মানুষ লড়ে। কে লড়ছে কার ই সাথে সবাই ভারত বাসি, তবু,আপন রক্তে ভাই রাঙা হয় উল্লাস আর হাসি । স্বাধীনতা সবই নিল হাসপাতালে বউ, স্বাস্থ্যসেবার চালাকি টা  বুঝলো না যে কেউ। বউ মরলো গত বছর ছেলে গলায় দড়ি, পড়াশোনায় ভালই ছিল কাকা আবার ধরায় বিড়ি। টাকা দিলে চাকরী পাবে এতো টাকা নেই, পরীক্ষা সব লোক দ্যাখানো স্বাধীনতা কই। খুট করে কি আওয়াজ হলো গেল কাকা ঘরে, থা...

মনে পড়ার বেলায় - শ্যামাপ্রসাদ সরকার

ছবি
গল্প...... "মনে পড়ার বেলায়" শ্যামাপ্রসাদ সরকার " বন্ধ ঘরে চাঁদের আলো দেখিয়েছিলাম প্রবৃত্তি নেই। বাতাস বইতে দিয়েছিলাম প্রবৃত্তি নেই। চতুর্দিকের কিছুই কি নয় স্মরণীয়?                           - শক্তি চট্টোপাধ্যায় লাল রঙের মেঝে বাড়িটার।বড় টানা বারান্দা। চোখ বুজলে একটা চেহারা ভাসে। সবুজ ডুরে শাড়ি আর খোলা চুল থেকে সদ্য স্নানের গন্ধ মাখানো। এখন দুপুরবেলা, চুল শোকানোর সময়। শীতের দুপুরে রোদ পড়ে আসছে। এবারে ছায়ারা দীর্ঘতর হবে। খোলা চুলের এক নারী অতি সূক্ষ্ম গলায় গুনগুনিয়ে গাইছে - ' অমলধবল পালে লেগেছে মন্দ মধুর হাওয়া...' ........ এ বাড়িতে গানের সেরকম পাট নেই। দু এক কলি অবশ্য অনেকেই গুনগুন করে যদিও। আবার কখনো রেকর্ডপ্লেয়ারে দু একটা অবশ্য গান বাজে কখনোও আহীর ভৈরবীতে বা হেমন্তবাবুর গলায়  ' পথে এবার নাম সাথী..'।   সে আজকাল  নিজে এই বাড়ির নতুন বউ। তার বিয়ের উপহার সব চুরি হয়ে গেছে ট্রেনে। অথচ কয়েকটা জিনিষ রক্ষা পেয়েছে যেন  অযথাই।  বাপের বাড়ি থেকে সে এনেছে তার জন্মদিনে পাওয়া গীতবিতানের দুটি খন্ড। সে দুটি বই ...

কণ্ঠ - সায়ন মান্না

ছবি
গল্প...... "কণ্ঠ" সায়ন মান্না      মাথার উপর সূর্যদেব নিজের কাজে ব্যাস্ত।আমি হাঁটছি।পাশে হাঁটছে আমার বন্ধু,নীল।গন্তব্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। কিছুক্ষণ হাঁটার পর এসে পৌছালাম ভিক্টোরিয়ার মেন গেটের কাছে।ভেতর ঢুকবো সেই মুহূর্তে চোখ গেলো একটা ভিড়ের দিকে। কৌতুহলী হয়ে ভিড় ঠেলে ভেতরে ঢুকলাম। দেখলাম একজন মধ্য বয়স্ক ছেলে গিটার হাতে নিয়ে গান গাওয়ার ভঙ্গিতে ঠোঁট নাড়ছে।মাথার চুল উস্কো-খুস্কো।বয়স হবে ২৪-২৫।পরনে সাদা রঙের অপরিষ্কার জামা,একটা জিন্সের প্যান্ট আর পায়ে ধুলোজমা বুট।মুখে লেগে রয়েছে একাকীত্বের ছাপ কিন্তু তৃপ্তির প্রতীক। আমি নীল কে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করলাম,"ছেলেটা পাগল নাকি?"  - "না।"  - "তাহলে ওইভাবে গিটার বাজিয়ে শুধু ঠোঁট নেড়ে যাচ্ছে কেনো? লোকেরা তো পাগল ভেবে ভিড় জমাচ্ছে।" - "না পাগল নয়। একজন গায়ক বলতে পারিস।" ভারী গলায় নীল আমার প্রশ্নের উত্তর দিলো। - " গায়ক?" - "হুম।ছেলেটার নাম দেবব্রত রায়।বাবা মা নেই। অনাথাশ্রমে বড়ো হয়েছে । ছোটো থেকেই গানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা।স্কুলে পড়াকালীন অ্যাক্সি...

সঞ্চিত অনুভূতি - স্বপ্না মজুমদার

ছবি
কবিতা...... "সঞ্চিত অনুভূতি" স্বপ্না মজুমদার আমি অনুভূতি সঞ্চয় করতে চেয়েছিলাম চেয়েছিলাম ভালোবাসার উপন্যাস লিখতে হারানো প্রেমের কবিতা হতে চাই নি, এতো ঠুনকো ভাবনায় আমি নই!! গোলাপ উপহার যথেষ্ট ছিল শুধু টাটকা,সতেজ গোলাপ চেয়েছিলাম, শিউলি ঝরা সুগন্ধ কুড়াই হিমেল পরশে শুনতে চেয়েছি নদীর কুলু কুলু ধ্বনী!! শিশির আর ঘাসের সোহাগ খুঁজেছিলাম বসন্ত বাতাসে বার্তা বিনিময়ে, আমার বহিঃ প্রকাশ ছিল অনন্ত নীল নিলীমায় আমি স্বপ্নীল বর্ণনায় মনকে সাজিয়েছি শুধু তুমি বোঝো নাই!! আমি হৃদয় মুকুলে তোমায় রচনা করেছিলাম ভালোবাসার লুকোনো মিলন বার্তায় মনের প্রতিবিম্বতে শুধুই খুঁজেছি তোমায়, কাব্য রচনায় নীরবে জানিয়েছি ভালোবাসার প্রতিত্তর ঝড় শেষে ক্লান্ত পাখীর প্রত্যাবর্তন সিক্ত গাছের কুলায়।।

সামান্য অসামান্য - প্রবাল মুখোপাধ্যায়

ছবি
রম্যরচনা...... "সামান্য অসামান্য" প্রবাল মুখোপাধ্যায়    আকাশ গঙ্গায় সেদিন নক্ষত্রমণ্ডলীর সভা বসেছে। গুরুত্বপূর্ণ সভা। প্রধানমন্ত্রী বৃহদ্রথ সকলের ঘরে ঘরে বার্তা পাঠিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ে উপস্থিত হওয়া চাই, এই সভায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হবে। প্রায় সকলেই উপস্থিত হয়েছেন। তরুণ, প্রৌঢ়, বৃদ্ধ, যুবতী, কিশোরী, প্রায় নিষ্প্রভ হয়ে ওঠা বৃদ্ধা, মধ্য যৌবনেই নিভু নিভু জ্যোতিষ্ক সবাই আছেন। এমনকি সাড়ে চোদ্দ কোটি আলোকবর্ষ দূরে কোন্ এক নেবুলা থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু নক্ষত্রটিও এসে উপস্থিত হয়েছে। নক্ষত্ররাজ ভীমকেতু তখনও এসে পৌঁছননি। শিশু নক্ষত্রটিকে ঘিরে সকলেরই অসীম কৌতূহল। প্রত্যেকেই জেনে নিতে চায় এই নেবুলার অবস্থান ঠিক কোথায়। কতদিন সে এই নেবুলায় অবস্থান করেছে। গ্যাসীয় পিণ্ড আর মহাজাগতিক বস্তুকণা মিলে তার শরীর গড়ে তুলতে কত সময় নিয়েছে। নেবুলার কেন্দ্রে উত্তাপ ঠিক কতটা। জন্মমুহূর্তে তার ললাটে ঠিক কতটা পরমায়ু স্থির হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সামনের সারিতে মৃদু গুঞ্জন শোনা গেল। নক্ষত্ররাজ উপস্থিত হয়েছেন। চোখ তুলে শেষের সারি পর্যন্ত দেখে নিলেন। তাঁর দৃষ্টি যেন খানি...

পরিবার | সোনালী মুখোপাধ্যায়

ছবি
গল্পনাটক...... "পরিবার " সোনালী মুখোপাধ্যায় চরিত্র নিভাননী দেবী,(৭৫) মেজো ছেলে অর্পণ , ছোটো ছেলে অর্ঘ্য , বড় বউ মালিনী ,মেজ বউ সুদেশা, সদ্য বিয়ে হওয়া ছোট বউ পর্ণা ,নিভাননী দেবীর নাতি চোদ্দ বছরের পল্টু, নাতনি পাঁচ বছরের মনি।আর বাড়ির চাকর পঞ্চু (৬০) কাজের মেয়ে বিন্দু , তার ছোট তিন বছরের মেয়ে বিন্তি। দৃশ্য ১ আজ মুখার্জী বাড়িতে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। একান্নবর্তী পরিবারে এইসবে দুর্গাপুজো গেল ।বাড়িতে লোকে লোকারণ্য সকলে লক্ষ্মীপূজো সেরেই বাড়ি ফেরে প্রত্যেক বছর। সেই পুজো উপলক্ষেই বাড়িতে আজ হুলুস্থুল কাণ্ড। এবং এই বাড়ির সর্বময় কর্তী নিভাননী দেবী। বারান্দার সংলগ্ন একটা চেয়ারে নিভাননী দেবী বসে বসে সবার কাজ তদারকি করছেন এমন সময় বাড়ির সবসময়ের কাজের লোক পঞ্চু বাজার থেকে ফিরল, হাতে ব্যাগ। এই হতভাগা দেখি এদিকে আয় ,, (পঞ্চু এগিয়ে আসে ব্যাগটা হাত থেকে নিয়ে) বলি পান-সুপারি এনেছিস তো? আজ্ঞে কর্তা মা স্যান বুড়িকে বলে এসেছি। উফ.... এ তো আবার আন শুনতে ধান শুনছে... বেগুন আনতে বলেছিলেন?  (রেগে গিয়ে) তুই কি কানের মাথা খেয়েছিস? মাছের মাথা ?কে বলল আনতে? আজকে? বড় ছেলের ছেল...

বৈষ্ণব সাহিত্যের পঞ্চরস | সৌম্য ঘোষ

ছবি
প্রবন্ধ...... "বৈষ্ণব সাহিত্যের পঞ্চরস" সৌম্য ঘোষ          সমগ্র মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের যাবতীয় সৃষ্টির মধ্যে জনপ্রিয়তায় ও কাব্যমূল্য বিচারে বৈষ্ণবপদগুলিই যে সর্বোৎকৃষ্ট বিবেচিত হয়ে থাকে, এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। বৈষ্ণবপদের উদার মানবিকতাবোধ, মানব-মনের শাশ্বত আকৃতির সার্থক রূপায়ণ এবং ব্যক্তি প্রাণের স্পর্শে উজ্জীবিত এর গীতিধর্মিতাই বস্তুত বৈষ্ণব পদাবলীতে একটা সর্বজনীন আবেদন সৃষ্টি করে। সাধারণ পাঠকের দৃষ্টিতে পদাবলী সাহিত্য এইভাবে বিচারিত হলেও এগুলি মূলত গৌড়ীয় বৈষ্ণব সম্প্রদায়ের ধর্ম ভাবনা থেকেই উদ্ভূত হয়েছে। চৈতন্যদেব রাধাকৃষ্ণের উপাসনার মধ্য দিয়ে যে বিশেষ ধর্মীয় দর্শন ও তথ্যের জন্মদান করেছেন, তারই অনিবার্য ফলস্বরূপ উদ্ভব ঘটেছে অসংখ্য বৈষ্ণব পদের। অবশ্য চৈতন্যদেবের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি প্রসূত দর্শন ও তত্ত্ব প্রচারের বহু পূর্ব থেকেই বাংলায় রাধাকৃষ্ণের প্রেম অবলম্বনে বহু পদ রচিত হয়ে আসছিল, কিন্তু বিষয়বস্তুর বিচারে এগুলিও চৈতন্যোত্তর পদগুলি থেকে অভিন্ন হওয়াতে রসভোক্তারা উভয় জাতীয় পদ থেকেই সমান রস আহরণ করে থাকেন। তাই বৈষ্ণব পদাবলীর বিচারে সাধার...

বেলা পড়ে এলো | পরমেশ্বর গাইন

ছবি
বড় কবিতা...... "বেলা পড়ে এলো" পরমেশ্বর গাইন বনগাঁ উত্তর 24 পরগণা আমরা এখন সুড়ঙ্গ পথে..... চোখ খোলা আলোহীনে যাত্রী নীচের দিকে পা, উৎসাহে আবেগে খুটখাট আলাপনের প্রতিধ্বনি নিছক প্রেম আলাপের মতো অস্ফূটে যাত্রীর কল্পিত ছায়ার আগে। সব বাতি স্তম্ভে নীতি জ্ঞান  আলো দাতার অন্তরে মরে গেছে ন‍্যায় প্রভুর ভিন্ন সংযমে বরাদ্দ শুধু সঙ্গত সুড়ঙ্গ পথে জীবন পর্বের সায়হ্নে সূর্য‍্য দেখা তীর বেঁধা কাতর মরমে। কত কথায়, প্রতিশ্রুতির কলরবে রাত হয়েছিল ভোর রাঙা আলোয় হেসে ছিল খোকা বোধহয় সত‍্যতার বিভৎস‍্য গন্ধে আলো পেলো যারা আলোর মাঝে একান্ত নির্জনে সঙ্গ হারায়  নিশাচরের নিঃশ্বাস নিয়েছে কাঁধে। এখন সুড়ঙ্গ পথে আঁধার সমাধি আপন হীনে শেষ মেরুতে   আলিঙ্গনে আলোক বিন্দুরা বিদায় সম্ভাষণের ধূপ দীপে বসেছে শুভেচ্ছা আর সহনুভুতি বিলাতে।

সপ্ন যখন সত্য হয় | সামিমা ইয়াসমিন

ছবি
গল্প...... "সপ্ন যখন সত্য হয়" সামিমা ইয়াসমিন মুর্শিদাবাদ, পশ্চিমবঙ্গ গল্পটি শুরু হয় তানিয়া নামে একটি মেয়ের নেতৃত্ব দিয়ে যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের একটি ভালো কলেজে পড়ে। আর এই কলেজে অনেক ধনী ঘরের ছেলেমেয়েরা পড়তে আসে। কিন্তু খুবই কম ছাত্র-ছাত্রী আছে যারা গরীব ঘরের তবে তারা স্কলারশিপ এর মাধ্যমে এই কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। আর তাদেরই মধ্যে তানিয়া হলো একজন।  তার বাবা একটি কোম্পানিতে শ্রমিকের কাজ করে এবং মা গৃহকর্ত্রী। পর্যাপ্ত অর্থের অভাবে খুব কষ্টে তাদের পারিবারিক জীবন যাপন চলে। এমনকি তানিয়া নিজে একটি কেকের দোকানে কাজ করে যাতে করে তার পড়াশোনার খরচা তুলতে পারে এবং তাদের পারিবারিক আর্থিক সমস্যা দূর করতে পারে। তবুও তাদের এই দারিদ্রতা দূর হয় না। তার একটি ছোট ভাইও আছে, হামিদ। সে এখন ক্লাস টেনে পড়ে। তার ছোট থেকে একটা ইচ্ছা আছে যে সে বড় হয়ে একজন রিপোর্টার হবে । কিন্তু সে তার দিদির মত অতটা পড়াশোনাতে ভালো নয় তাই সে ভালো স্কুলে পড়ার সুযোগ পাইনি। কিন্তু তানিয়া ছোট থেকে মনে মনে ঠিক করে নিয়েছে সে বড় হয়ে একজন লেখিকা হবে। আর ছোট থেকেই তার এই লেখার অভ্যাস টি তাকে আরও উদ্য...