পোস্টগুলি

প্রবন্ধ লেবেল থাকা পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

আন্দামানে বাংলা মাধ্যমের দৈন্যদশা | সামসুজ জামান

ছবি
অ্যাওয়ার্ডস - ০৩ প্রবন্ধ...... "আন্দামানে বাংলা মাধ্যমের দৈন্যদশা " সামসুজ জামান কোলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারত আন্দামানের বাঙ্গালীদের বর্তমান ভাষাগত অবস্থা নিয়ে দুই চার কথা লেখার সুযোগ পেলাম। খুব গভীর তত্ত্বকথার মধ্যে না গিয়ে গল্পচ্ছলে সেই অবস্থার কিছুটা পর্যালোচনা করার চেষ্টা করছি। এ কথা সকলে বিদিত আছেন আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ ৫৭২ বিচ্ছিন্ন দ্বীপের সমষ্টি। তবে বর্তমানে কেবলমাত্র ৩৮ টি দ্বীপে বসবাস করার উপযুক্ত পটভূমি ও পরিবেশ বিদ্যমান। কোনও কোনও দ্বীপ এখনো  প্রায় দুর্গম। সে যাই হোক কবি অতুল প্রসাদ সেনের কথায় -- "নানা ভাষা নানা মত নানা পরিধান / বিবিধের মাঝে দেখ মিলন মহান।// এই কবিতার সার্থক প্রতিচ্ছবি দেখা যাবে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে। এখানে বর্ণ, ভাষা, ধর্ম সমস্ত কিছুর অপূর্ব এক সম্মিলন ঘটেছে। কিন্তু এটাও বাস্তব যে এই মিল মিশে ধর্ম, রাজনীতি, ভাষা, সংস্কৃতি, শিল্প, সংগীত - সবকিছুই যেন তার স্বতন্ত্রতা হারিয়ে ফেলেছে এবং বলাই বাহুল্য একটা আন্দামানের নিজস্ব সংস্কৃতির ভাবধারা গড়ে উঠতে চেয়েছে এসবের মাঝে। প্রথমে কথা প্রসঙ্গে শুনেছিলাম পরে স্বচক্ষে দেখেছি যে...

নেতাজি - বেবি চক্রবর্ত্তী

ছবি
প্রবন্ধ...... "স্বরাজ আমার সাধনা নিরবে বলি নেতাজি" বেবি চক্রবর্ত্তী বারুইপুর,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  অশ্রু আধারে অনন্ত শক্তি দীপ্ত শিখা স্বদেশ চিত্রে বীরের সংকল্প। সর্বস্ব ত্যাগে যাযাবর জীবন উৎসর্গ মহান ব্রতে ভারতের হোমাগ্নিশিখায়। এ যেন জননীর হৃদয়ে জলন্ত স্বদেশপ্রেম। তিনি হলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ভারতকে ভালোবাসে অস্থিমজ্জাগত বিবেকানন্দের প্রতিধ্বনি '' ভারত আমার, জননী আমার, ধাত্রী আমার "----- এই ধৃতিকেই তিনি নিজ জীবনের স্তরে স্তরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। তিনি বলেন পড়াশুনাতেই সমস্ত শক্তি যেন নিঃশেষ না হয়ে যায়।তোমাদের লক্ষ্য হোক মাতৃভূমির কল্যাণ, সর্বদা মনে রেখো, সমগ্র ভারতই তোমার দেশ। আর এই দেশের বর্তমান প্রয়োজন কর্ম। জ্ঞান, শক্তি, সুখ ও ঐশ্বর্য লাভের জন্য চেষ্টা কর। এগুলিই যেন তোমাদের জীবনের লক্ষ্য হয়। আর যখন সংগ্রামের আহ্বান আসবে তখন যেন তোমরা নিদ্রায় মগ্ন থেক না।  এই স্বদেশের কাছ থেকে আমরা সব পেয়েছি -------- জীবন, আহার, বন...

ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা | শংকর ব্রহ্ম

ছবি
প্রবন্ধ...... "ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা" (federico del Sagrado Corazón de Jesús García Lorca) কবি, নাট্যকার, এবং থিয়েটার পরিচালক শংকর ব্রহ্ম কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ                  ফেদেরিকো গার্সিয়া লোরকা, তাঁর এই স্প্যানিশ নামের মধ্যে, প্রথম বা পৈতৃক উপাধি হল গার্সিয়া এবং দ্বিতীয় বা মাতৃ পরিবারের নাম লোরকা। ফেদেরিকো দেল সাগ্রাডো কোরাজন দে জেসুস গার্সিয়া লোরকা ৫ই জুন ১৮৯৮ সালে, দক্ষিণ স্পেনের গ্রানাডা থেকে ১৭ কিমি পশ্চিমে একটি ছোট শহর ফুয়েন্তে ভ্যাকেরোসে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা, ফেদেরিকো গার্সিয়া রদ্রিগেজ, গ্রানাডার কাছে উর্বর ভেগা (উপত্যকা) এবং শহরের কেন্দ্রস্থলে একটি আরামদায়ক ভিলা সহ একটি সমৃদ্ধ জমির মালিক ছিলেন। গার্সিয়া রদ্রিগেজ চিনির শিল্পে উন্নতির সাথে তার ভাগ্যের উত্থান দেখেছেন। গার্সিয়া লোরকার মা ভিসেন্টা লোরকা রোমেরো ছিলেন একজন শিক্ষক।             ...

কীচক বধ | শিবব্রত গুহ

ছবি
প্রবন্ধ...... "কীচক বধ" শিবব্রত গুহ কোলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ  মহাভারত, যা ভারতীয় সভ্যতা ও সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে চলেছে, সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকে। আমি আজ আপনাদের, মহাভারতের যে কাহিনী শোনাবো, তা মহাভারতের বিরাট পর্ব থেকে নেওয়া  হয়েছে। কৌরবেরা কপটতার আশ্রয় নিয়ে, পান্ডবদের পাশাখেলায় পরাজিত করে, তাঁদের, বারো বছর বনবাস ও এক বছর অজ্ঞাতবাসে পাঠায়। আবার এই অজ্ঞাতবাসের ব্যাপারে, এক কঠিন শর্ত ছিল। তা হল, এই এক বছর অজ্ঞাতবাস,  এমন ভাবে কাটাতে হবে, যাতে কেউ যেন পান্ডবদের চিনতে না পারে। চিনতে পারলেই, আবার পান্ডবদের বারো বছর বনবাসে কাটাতে হবে। বনবাসের বারো বছর,  তো, অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে, পান্ডবদের কাটলো। এবার অজ্ঞাতবাসের পালা। তাই, কোথায় কিভাবে গোপনে লুকিয়ে থাকা যায়, তা নিয়ে পান্ডবেরা, এক নির্জন স্থানে, বসে  পরামর্শ করতে থাকে। অনেক পরামর্শ করার পরে, তাঁরা, ঠিক করলেন, যে, নানা রকমের কাজ নিয়ে, মৎস্যরাজ বিরাটের রাজধানীতে,  এই এক বছর ছদ্মবেশে, কাটিয়ে দেবেন। যুধিষ্ঠির হবেন, বিরাটের সভাসদ, তাঁর নাম হবে কঙ্ক। ভীম হবেন পাচক, তিনি যে নামে পরিচিত হবেন, তা হল, বল্লব। ...

সুকুমারী ভট্টাচার্য | শংকর ব্রহ্ম

ছবি
প্রবন্ধ...... "সুকুমারী ভট্টাচার্য" (ভারতীয় গবেষক) শংকর ব্রহ্ম কলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ             আদি নিবাস চিত্রা নদীর তীরে শিঙে-শোলপুর গ্রাম হলেও, ১৯২১ সালের ১২ই জুলাই মেদিনীপুরের মামাবাড়িতে সুকুমারী দেবীর জন্ম হয়। তার পিতা-মাতার নাম যথাক্রমে সরসীকুমার দত্ত - (পিতা), শান্তবালা দত্ত - (মাতা)।        কথিত আছে তার পিতামহ বিপিনবিহারী দত্ত আচারের অত্যাচারে শিশুবেলার এক খেলার সাথী-র মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেন।          একাদশী বলে জ্বরাক্রান্ত বালবিধবাকে জল পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। হিন্দু সমাজের অযৌক্তিক আচার ব্যবহারে বীতশ্রদ্ধ হয়ে কলকাতায় এসে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত হন তিনি। ছাত্র জীবনের প্রথম কয়েক মাস মেদিনীপুরে কাটিয়েই সুকুমারী কলকাতায় চলে আসেন। সেখানে ক্রাইস্ট চার্চ স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা। পরে সেন্ট মার্গারেট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক। এরপর সংস্কৃতে সাম্মানিক...