গল্প | চন্দনা | প্রবাল মুখোপাধ্যায়
গল্প......
"চন্দনা"
প্রবাল মুখোপাধ্যায়
হাওড়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
খাঁচায় একটা চন্দনা ছিল। সে বেচারা একলা থাকতে থাকতে কেমন মনমরা হয়ে পড়েছিল।
কাঁচালঙ্কা ওর অত প্রিয় ছিল, সেই লঙ্কা ছুঁয়েই দেখত না। পালং শাক দাঁতে
কাটত না। আগে পাকা কলার টুকরো খাঁচার সামনে ধরলেই ঠোঁট বাড়িয়ে নিয়ে ছুট
লাগাত। আর বাটির জল ফুরিয়ে গেলে ছোট্ট দরজার কাছে এসে কলকল কলকল করে কত কি
বলত। দিব্যায়ন ঠিক টের পেয়ে যেত ও কী বলছে। সঙ্গে সঙ্গে গেলাসে করে জল এনে
বাটি ভর্তি করে দিত। একদিন দুপুরে খাঁচার পাশটিতে বসে পাকা পেঁপে সবে মুখে
দিয়েছে, টুসি ক্যাঁ ক্যাঁ করে ডেকে উঠল। দিব্যায়নের চোখ গেল চন্দনার দিকে।
মাথায় উঠল খাওয়া। বলল, কিরে টুসি, দিইনি বলে রাগ হয়েছে ? তারপর খাঁচার
দরজা খুলে গোটা চারেক টুকরো ওর বাটিতে দিয়ে তবে শান্তি।
সেই টুসি আজ দুদিন হল খাওয়া বন্ধ করেছে। স্পিকটি নট। বাটিতে দু'দিনের ছোলা
পড়ে আছে। জলে মুখ দেয়নি। দাঁড়েও বসে না। খাঁচার এককোণে চুপটি করে
দাঁড়িয়ে থাকে, চোখ বন্ধ। কাছে গেলে চোখ খুলে একবার দেখে নেয়, তারপর আবার
যে কে সেই। দিব্যায়ন বুঝল, গতিক সুবিধের নয়।
মা মন দিয়ে রান্না করছিলেন। ছেলের দিকে চোখ যেতে দেখলেন, চোখের কোণে চিকচিক
করছে জল। রান্না থামিয়ে ছেলেকে বুকে টেনে নিলেন। ছেলে বলল, মা, টুসি .......
। মা বুঝলেন, ছেলের কোনখানটায় ব্যথা জমে উঠেছে। কত্তাকে ডেকে বললেন, আজই
টুসির একটা জোড় এনে দিও। বেচারার সঙ্গী নেই বলেই অমন মনমরা হয়ে আছে। একজন
কেউ আসুক, দেখবে, দুটিতে মিলে কেমন দিব্যি ঝগড়া লাগিয়েছে। ওদের চীৎকারে তখন
কান পাতা দায় হবে।
সঙ্গী এল। টুসি খুশী। উঠে এসে দাঁড়ে বসল। চোখ খুলল। ঠোঁট বাড়িয়ে
কাঁচালঙ্কা নিল। তারপর দুটিতে মিলে কী ঝগড়াটাই না শুরু করল। মা রান্নাঘর
থেকে চেঁচিয়ে বললেন, ওরে, তোরা এবার থাম। ছেলে বলল, মা, ওরা কি দিনরাত শুধু
মারামারি করেই যাবে ? মা একটু হাসলেন। মনে মনে বললেন, ওরে, তুই যাকে মারামারি
বলছিস, ওকেই বলে সোহাগ। ওইটুকু আছে বলেই আমরা বেঁচেবর্তে আছি। নইলে কবেই
জীবনটা যেত শুকিয়ে।
লেখক পরিচিতি:-
লেখক ছোট থেকেই সাহিত্যে আগ্রহী। লেখালেখি করছেন দীর্ঘকাল। কবিতা, গল্প,
প্রবন্ধ, নাটক সমস্ত ধরণের লেখাই করে থাকেন। বিশ্বাস করেন, সহজ করে সহজ কথা
লিখতে পারলেই সে লেখা পাঠককে আকৃষ্ট করে। লেখার মধ্যে চিত্ররূপ ফুটিয়ে তুলতে
তিনি বিশেষ যত্নবান।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন