ভাগ্যের লিখন - স্বপ্না মজুমদার

গল্প......

"ভাগ্যের লিখন"

স্বপ্না মজুমদার

এসেছে বসন্ত।ফাগুন ছড়িয়েছে দখিনা বাতাস।পলাশ শিমুল পাঁপড়ি মেলেছে। মনেতে ভারি উচ্ছাস!!
সমীরণ আজ বন্ধুদের সাথে যাচ্ছে শান্তিনিকেতন।
একটা বড়ো গাড়ি ভাড়া নিয়ে সবাই মিলে চলেছে,হৈ হুল্লোড় করতে করতে। শান্তিনিকেতনে বহুবার এসেছে সমীরণ। খুব ভালো লাগে শান্তিনিকেতনের বনছায়া পরিবেশ। শরীর মন জুড়িয়ে যায়।
সারাদিন ঘোরাফেরা শেষে বাড়ি ফেরার পালা। সন্ধ্যা পার হয়েছে অনেকক্ষন।এখন রাত আটটা হবে হয়তো।পথ মধ্যে আলোর রোশনাইয়ে সাজানো বিয়ে বাড়ি।
ভিড়ে ভর্তি রাস্তা। পুলিশ নিয়ন্ত্রন করছে সব। সমীরণরা চার বন্ধু। গাড়ি থামাতেই হলো ড্রাইভারকে। সমীরণরা নেমে এসে জানতে চাইলো এক অচেনা মানুষের কাছে।
---- কি হয়েছে এখানে?
----- আর বলেন কেনো। আজ রমেশদার মেয়ের বিয়ে।
আমরা সব নিমন্ত্রিত। বেশ আনন্দেই সব চলছিল।অনেক কষ্ট করে বিয়ে দিচ্ছিলেন রমেশদা। প্রাইমারি স্কুলের রিটায়ার্ড টিচার।যথা সর্বস্য দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিলেন। একটু আগে খবর এলো পাত্রের গাড়ি রেল গেট খোলা থাকায় লাইন ক্রশ করার সময়,ট্রেন চলে আসে।কেউ দেখেনি।ভয়ঙ্কর আ্যকসিডেন্ট।স্পটেই সবাই মারা গেছে।
-------- সে কি? তারপর?
--------- এখানে খবর আসতেই বাড়িময় কান্নাকাটি। মুহূর্তে বাড়ির পরিবেশ বদলে গেলো। রমেশদার হার্টের প্রবলেম আগে থেকেই ছিল।এমন খবর শুনে বুকে হঠাৎ চাপ ব্যথা,অজ্ঞান হয়ে যায়।সবাই ধরাধরি করে নিয়ে যায় হসপিটালে।ডাক্তার বলেন ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।
চিকিৎসা চলছে।কি হবে কেউ জানে না। ওদিকে বৌদিও থেকে থেকে অজ্ঞান হচ্ছে।জয়ী মানে জয়ীতা একটা কথাও বলছে না সেই থেকে।শক্ত হয়ে বসে আছে।
----- সত্যিই খুব কঠিন সময় যাচ্ছে পরিবারটার ওপর দিয়ে।
----- এর ওপর পুরোহিত বলছেন রাত বারোটা তেত্রিশে শেষ লগ্ন। এই সময়ের মধ্যে বিয়ে না দিলে মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হবে। এই সময়ের মধ্যে পাত্র কোথায় তেমন।
দু একজনকে মেয়ের মামা হাতজোড় করে রিকোয়েস্ট করেছিলেন। কিন্তু তাদের ঘরের লোক রাজী নয়। বলছে মেয়ে অলুক্ষনা।তারা এই মেয়েকে ঘরে নেবেন না।
------- তাহলে পরিস্থিতি তো খুব খারাপ।
সমীরণ সব শুনে বলে,--- ঘড়িতে এখন নটা দশ। বারোটার অনেক দেরি আছে।আমি যদি মেয়েটিকে বিয়ে করি,,
তাহলে কি আপত্তি হবে? 
----- এ তো অতি উত্তম প্রস্তাব। তুমি এসো আমার সাথে।
মেয়ের মামার সাথে কথা বলতে হবে।
ভেতরে যায় সমীরণ ও বন্ধুরা।মামার সাথে কথা হয় সব রকম। সমীরণ জানায় সে সদ্য পাশ করে প্লেসমেন্টে একটি প্রাইভেট কোম্পানীতে চাকরি পেয়েছে। বাড়িতে বাবা, মা ছোটো বোন আছে।ছোটো একটি বাড়িও আছে।জাতিতে কায়স্থ।এই আমার পরিচয়।
মামা বলেন,----- খুব সুন্দর।ভগবান তোমায় এখানে এনেছেন বাবা।আমার তো কোনো আপত্তি নাই। তবে তোমায় চিনি না জানি না।সব তোমার মুখের কথাই শুনলাম। তুমি বসো বাবা। আমার দিদি খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জামাইবাবুর অবস্থাও ভালো নয়। একটি মেয়ে দিদির। ভাগ্নি আমার খুব সুশীল, শিক্ষিতা ও সুন্দরী।ওর মতো ভালো মেয়ে হয় না। তুমি ঠকবে না বাবা।
আমি বাড়ির ভেতরে যাই। সবাইকে জানাই।তারপর আসছি।এ বিয়ে হবে।
বাড়ির ভেতরে যান মামা প্রদীপ বাবু। দিদিকে সব বলেন,সবাই শোনে।কারো কোনো আপত্তি নেই। শুধু জয়ীতা বলে,--- মামা, আমার ভাগ্যে যা হবার হবে। তবে দয়া আমার পছন্দ নয়। আমি ওনার সাথে কথা বলতে চাই।
----- বেশ বেশ তাই বল্ মা। তবে এটুকু বলছি মা।ও খুব ভালো ছেলে বলেই মনে হলো।তুই সুখী হবি। আপত্তি করিস না।তোর বাবা শুনলে সুস্থ হয়ে উঠবে।
এরপর একটি ঘরে জয়ীতা ও সমীরণের মধ্যে কিছু কথা হয়। জয়ীতা খুশি সমীরণের ভাবনায়। শুধু বলে বাড়িতে ফোন করুন।মা বাবার মতামত নিন। ওনারা রাজী হলে আমার আর কোনো আপত্তি নেই।
সমীরণ আগেই ফোন করে সব জানিয়েছে বাবা মাকে।
প্রথমে আপত্তি করলেও পরে সহানুভূতিশীল হয়েছেন।
বিয়েতে মত দিয়েছেন। জয়ীতা বলে,--- আমি কি একটু কথা বলতে পারি?
------ বলুন।অবশ্যই পারেন।কাল তো ও বাড়িতেই উঠতে হবে।
জয়ীতা ফোনে কথা বলে বাড়ির সকলের সাথে কিছুক্ষণ। ওপার থেকে আশীর্বাদ করে সমীরণের মা বলেন," কাল এসো আমার ঘরের লক্ষী হয়ে। আমি বরণডালা সাজিয়ে রাখবো।"
আর কোনো বাঁধা নেই। বিয়েবাড়িতে আবার আনন্দের সানাই বেজে ওঠে। ভালো ভাবে বিয়ে হয়ে জয়ীতা সমীরণের সাথে শ্বশুর বাড়ি যায়।সমীরণের বন্ধুরা বলে,----- শান্তিনিকেতন ঘুরতে এসে বন্ধুর বিয়ে।এটা উপরি পাওনা হলো বেশ।
কিছু দিনের মধ্যে রমেশ বাবু সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরেন।
তবে একটা সাইড প্যারালাইসিস হয়ে যায় । দীর্ঘ চিকিৎসা করতে হবে। ফিজিওথেরাপি করতে হবে। তবে তিনি ভীষন খুশি ও আনন্দিত তার একমাত্র মেয়ে আজ খুব সুখী হয়েছে।।

ভাগ্যের লিখন - স্বপ্না মজুমদার


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়