ছোট কবিতা সংকলন ০৬

পরিচয় ম্যাগাজিন

অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন ০৬
যোগাযোগ করুন:- +৯১ ৬২৯১২২৭৮৯৭         
ইমেইল এড্রেস:- helps.porichoy@aol.com
প্রকাশের তারিখ:- ১৯শে মার্চ ২০২৩

লেখক সূচি 
ফুরিয়ে যাওয়া | পূর্ণা
বসন্তের অপেক্ষায় | কে দেব দাস
রূপান্তর | শংকর ব্রহ্ম
পরিক্রমা | কৌশিক গাঙ্গুলী
পলের মালা | সুমিতা চৌধুরী
হোল হোলি | দেবারতি গুহ সামন্ত
ফাগুন হাওয়া হাওয়ায় | শুভব্রত ব্যানার্জি
বসন্ত-বন্দনা | সুমিত মুখার্জী
অজানা বসন্ত | মৃন্ময় মন্ডল
রঙের ছোঁয়া | অনিমেশ বিশ্বাস
Festival of Colours | Sanjoy Banerjee 
বসন্ত এসে গেছে | পীযূষ কান্তি সরকার 
রোগের ছড়াছড়ি | প্রতীক হালদার 
অবলুপ্ত | স্বরূপ কয়াল
রং যেন মোর মর্মে লাগে | ইন্দিরা গাঙ্গুলী
কুরবানী | সামসীরেজা মালী
আমার দোল | অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
নারী তুমি | সুব্রত চক্রবর্ত্তী
নস্ট্যালজিয়া | গৌতম নায়েক
যাতা কলে | পরমেশ্বর গাইন
ফুরিয়ে যাওয়া | পূর্ণা
যা ফুরিয়ে যায় সেটা ফেরে না আর,
ফুরিয়ে গেলে আর তো সে ফেরে না,
ফুরিয়ে গেলে যে হারিয়ে যেতে হয়,
ফুরিয়ে যেতে থাকলে..হারিয়ে যাবেই যাবে সে নিশ্চয়ই,
ফুরিয়ে যেতে তবু কেন ভয় আর ?
ফুরিয়ে গেলেই শেষ,সেতো মোটেই নয়,
ফুরিয়ে যেতে যেতে.. আবার ফিরে আসা যায়,
ফুরিয়ে কিছুই যায় না,
ফুরিয়ে যাবার আগেই নব জন্ম হয় !!

বসন্তের অপেক্ষায় | কে দেব দাস
ছুটেযায় আঙ্গিনায় ভ্রমিয়ে, 
শুনে তোমার পদধ্বনি।
একি হায়! 
তোমায় যে হেরি না হেথায়!

তোমার চপল চরণধ্বনী,
বাজে মোর হৃদয় বীণায়।
আমি আনমনে বসে রই 
তোমার অপেক্ষায়।

সম্ভিত ফিরে পায় যখন, 
ফিরি তোমার অনুভূতি নিয়ে।
দিনযায়, রাতযায় ---
আমি একা বসে নিরালায়।

তোমার আশে বসে রই, 
বেলায় অবেলায়।
তুমি যে আসবে ফাগুনে, 
রাঙ্গিয়ে দিতে মোরে স্বপ্নেবিভোরে।

পলাশ ফুলের সুবাসে, 
তোমায় পাবো পাশে, বসন্তের শেষে।
অপেক্ষার হবে অবসান, তোমার পরশে।

চূর্ণবিচূর্ণ হবে মানঅভিমান, 
ঘূচিয়ে দুরত্বের ব্যবধান।
তোমার ছোঁয়াতে হবে খানখান, 
ভূলে গিয়ে পূঞ্জিভূত মানঅভিমান।

রূপান্তর | শংকর ব্রহ্ম
দুরাচারী থেকে থেকে 
একদিন রত্নাকরের ইচ্ছে হলো খুব
সদাচারী হতে হবে,
বল্মিক খেয়ে ফেলল কামনা বাসনা তার 
আঁকুপাঁকু প্রাণের সঞ্চার হলো মনে
জ্ঞানের উন্মেষে
ধীরে ধীরে বাল্মিকী হয়ে উঠলো সে
অন্ধকার শেষে।

পরিক্রমা | কৌশিক গাঙ্গুলী
 ছিঁড়ে ফেলো নীতি বোধ আজকের বালকেরা , আজকের বালিকারা কেনে স্টারের ফটো , আনন্দলোক । সিরিয়াল দেখে দেখে সংসার যাপন , বড় আর শিশুদের মাথা খায় টিভির রঙিন বিজ্ঞাপন । দুর্নীতি আকন্ঠ সব শাসকদের দাপট , পাবলিক নয় ভোট জেতায় হিংস্র কামট । তাই তারাই সম্পদ ভালমানুষেরা আপদ । রাজনীতিতে এখন পচা গন্ধ ছড়ায় , পদে পদে স্খলন যে পা মাড়ায় । নিম্ন মধ্যবিত্ত বড় অসহায় দেশের সরকার তাদের ভাতে মারতে চায় । ক্ষমতাবানরা দেয় মিথ্যা আশ্বাস , প্রতিটি রাজ্যে আজ অরাজকতার চাষ । ভবিষ্যত নিয়ে নানা সংশয় চারিদিকে হীরকরাজাদের জয় । সবকিছু জানো হে জনগণ ছিঁড়েছে নীতি ও বোধ আজকের সুবোধ বালকেরা , বালিকারা কিনেছে দেখো দামী স্মার্ট ফোন ।  

পলের মালা | সুমিতা চৌধুরী
কখন না জানি কে অজান্তে হারিয়ে যাবে,
ঝরা পাতাদের দলে অচিরেই নাম লেখাবে, 
চুকে যাবে সব দেনা পাওনার হিসেব, 
জীবন খাতাটা রেখে অর্ধসমাপ্ত বেহিসেব, 
তাই আজ সব পলগুলো যত্নে ভরি মুঠোয়, 
মুক্তোর মতো সংরক্ষণ করে মালা গাঁথি মনের সুতোয়।।

হোল হোলি | দেবারতি গুহ সামন্ত
আংশিক নয়,
হোল হোলি খেলতে চাই আমি,
হোল,যার অর্থ গোটা,পুরোটা,
শূন্য নয় মোটেও।

রঙ মাখামাখি,ভাঙ ঘাঁটাঘাঁটি,
নেশায় বুঁদ,অন‍্য জগত,
সাদা জামায় রঙের ছিটে,
রক্ত লাল আবিরে লজ্জিত মঙ্গল গ্রহ।

হোল হোলি খেলা সার্থক,
মিস করিনি কিছুই,
ফ্রম হুলি টু হোলি,
পুড়ছে ন‍্যাড়া,পুড়ছে বুড়ির ঘর।

ফাগ গুলালে পরিপূর্ণ বৃন্দাবন,
রাধা কৃষ্ণের ডুয়েট যুগলবন্দী,হোরি হ‍্যায়।।

ফাগুন হাওয়া হাওয়ায় | শুভব্রত ব্যানার্জি
ফাগুন মাসে হৃদয় ভাসে
পলাশ দোলে গাছে,
পাতার ফাঁকে কোকিল ডাকে
মধুর লাগে কাছে। 

আবির লালে মায়ার জালে
ছড়ায় ভানু আলো,
মাটির থেকে আকাশ দেখে
হৃদয় লাগে ভালো। 

বায়ুর তালে পাদপ ডালে
কৃষ্ণচুড়া নাচে,
শিমুল বেলি বাহার মেলি
পাতায় ভরা গাছে। 

আবির খেলা রঙের মেলা
মাতবে লোকে সবে,
আনন্দেতে উঠবে মেতে
খুশির দিনে তবে।

আজকে মনে প্রেমিক সনে
উঠছে ভেসে ছবি,
প্রেমের তরে জীবন ভরে
লিখছে যারা কবি।

বসন্ত-বন্দনা | সুমিত মুখার্জী
চলার পথের ধারে দেখি লালফুলের বাহার
শুধাই আমি, নাম জানো কি তার?
উত্তর না পাই, নামটি থাকে অজানাই
তবু তার রং মনে-প্রাণে আনে বসন্ত
আকাশে-বাতাসে ছড়ায় যেন আবিরের সুগন্ধ
বসন্ত আর প্রেম কোনো এক নিবিড় সুত্রে বাঁধা
গাছের ডালে কোকিলের তাই কুহুস্বরে গলা সাধা
আমিও এবার শোনাতে পারি বসন্ত-বন্দনা
গলা ছেড়ে গাইব তবে বাহার রাগে তারানা
তাইতো আমায় ঠাই দিও ভাই আনন্দ-সভার মাঝে
এলাম আবার বার্তা নিয়ে বসন্ত-সভার মাঝে
মন যে আমার অশোক, পলাশ, শিমুল রঙ্গে সাজে।

অজানা বসন্ত | মৃন্ময় মন্ডল
যুবক যুবতীর মনে খুশির কলরব
রং বেরঙের আবীর মেখে পালিত হয় বসন্ত উৎসব 
চারিদিকে নানা রঙের আবীর খেলা 
ফুলে ফুলে এই বসন্তে ভ্রমরের মেলা 
পলাশ শিমুল ফুলে প্রকৃতি সাজে
আকবর শুধু যোধা কেই খোঁজে
ফাগুনে মনে জেগে ছিল প্রেমের স্নিগ্ধতা
বসন্তে আকবরের মন শুধু প্রেমময়তা 
হৃদয় দিয়ে রাঙাও রং-বেরঙের আবীর হাতে 
যোধা-আকবর বসন্ত উৎসবে মাতে
যুবক যুবতীর এই বসন্তের খেলা
ফুরিয়ে যাবে সন্ধ্যা বেলা ..
হৃদয় দিয়ে রাঙাও আবীর হাতে 
সম্পর্ক যে কটা দিন থাকে....?
বসন্তের গোধূলিতে ছিল সাজানো রাঙানো মুখখানা
কখন যে মুছে যাবে তা কার‌ও নেই জানা..?

রঙের ছোঁয়া | অনিমেশ বিশ্বাস
আজ ফাগুনের হাওয়ায় দোলে
বন শিমূল ও পলাশ,
কোকিলের সুরে গাছেরা ভোলে
ঝরা শল্কপাতার নাশ।

সবুজ দিগন্তের আলোর রেখা
উঠেছে যবে মেতে,
দূরহতে যায় রঙিনআলো দেখা
পুচ্ছ রাঙা উৎসবেতে।

আজ নীল আকাশে রঙিন ভেলা
ভাসছে মেঘে মেঘে,
দীন পাখিরা পুলকে করছে খেলা
তপ্ত আলোয় জেগে।

আজ রঙ বসন্তের রবির শিখা
জ্বলছে আরো রঙে,
মোর প্রেম বসন্তের অটুট লিখা
থাকুক রাগের ঢঙে।

আজ রঙ বসন্তের প্রেম ফাগুনে
লাগুক প্রেমের ছোঁয়া,
দুঃখ যত ছাই,হয়ে যাক আগুনে
হৃদয়ে উড়ুক পুলক ধোঁয়া।

Festival of Colours | Sanjoy Banerjee 
Holi
Festival of Colours
Holi
The Festival of Peace
Holi
Festival of Love 
Holi
The Festival of Harmony and Amity.
Holi
variety of Colours 
Colours of Spring
Holi 
The culture of Harmony in the life of all.
Holi
The Festival is Songs
Rabindrasangeet and Nazrul Geeti.
Holi
The Vasant Utsab
Spring Festival 

we love the Great Indian Cultural Festival of Holi. 
Enjoy and calibrated with joy and Love. 

বসন্ত এসে গেছে | পীযূষ কান্তি সরকার 
কোকিলার ডাকে জেগে উঠল শিমুল,
ফাল্গুন এসে গেছে নেই কোনো ভুল।
পলাশ জেগেছে আগেই বীণাপানির সুরে,
আগুনের রঙে রাঙা দিগন্ত জুড়ে।
কচি পাতার জলের আজ নবীন-বরণ --
দুলে দুলে ডালিয়ার বসন্ত-স্মরণ।
আমের মুকুল জাগায় মৃদুমন্দ বাতাস
সূর্যের আবিরে সাজে নীলাভ আকাশ।

রোগের ছড়াছড়ি | প্রতীক হালদার 
আবর্জনায় ভরছে সমাজ 
দূষণ ও সঙ্গে আছে,
রোগ গুলো তাই হু হু করে 
আসছে ধেয়ে কাছে।

যেদিক তাকাও দেখতে পাবে
রোগের ছড়াছড়ি,
ওষুধ সবার সঙ্গী এখন 
নিয়ম কড়াকড়ি।

প্রেসার-সুগার-থাইরয়েডে 
জব্দ সবাই হচ্ছে,
যখন যাকে পাচ্ছে কাছে
তাকেই চেপে ধরছে।

রোগীর লাইন যাচ্ছে বেড়ে 
ডাক্তার নাজেহাল,
অসচেতন তবুও মানুষ 
করে না কোনো খেয়াল।

এমনি করেই যাচ্ছি হেরে
দিনের পর দিন,
হুঁশ ফেরে না তাইতো সবার
হচ্ছে আয়ু ক্ষীণ।

নিজেদের ভুলেই নিজে 
করে চলেছি ক্ষতি,
রোজ রোজ বদলাচ্ছে তাই
জীবনের এই গতি।

অবলুপ্ত | স্বরূপ কয়াল
মনে যা কিছু স্বপ্ন ছিল সুপ্ত ,
ঘুম ভেঙ্গে দেখি সবই অবলুপ্ত ।
একটু ধৈর্য ধরতে পারতে ।
তারপরেই না হয় আমার হাত ছাড়তে ।
সময় বয়ে গেল নিজের পায়ে দাঁড়াতে দাঁড়াতে ,
এই ফেলে আসা দিনগুলোর মাঝে ,
 হল তোমাকে হারাতে ।
আজ তুমি বধুর সাজে ,
বসে আছো পালকি মাঝে ।
তোমার সিঁথিতে আজ অন্যের সিঁদুর ।
আর আমার মনে বাজে বিষাদের সুর ।
জীবনটা একাকী বিরহ বিধুর ।
আমি তো ছিলাম, তোমারই স্বপনে মগ্ন ।
এরই মাঝে এসে গেল, তোমার বিয়ের লগ্ন ।
তোমারই স্বপনেই, ছিলাম মশগুল , দিবারাত্র ।
কিন্তু আজ ,অন্য কেউ , তোমার ছাতনা তলার পাত্র ।
আমি চেয়েছিলাম তোমার সাথে ,
 সারা জীবন চলতে ।
আমি কি রাগ কিংবা কষ্ট পেতাম তাতে ,
যদি একবার ঘুম থেকে ডেকে তুলে বলতে ।
তোমাকে নিয়ে পালিয়ে যেতাম অনেক অনেক দূরে ।
লিখে দিতাম আমার নাম তোমার সিঁথিতে সিঁদুরে ।
পূর্ণতা পেল না আমার ভালোবাসা ।
হলো না এ জীবনে আর , তোমার কাছে আসা।

রং যেন মোর মর্মে লাগে | ইন্দিরা গাঙ্গুলী
এলো এলো দোল এলো 
সবাই মিলে খেলবো মোরা 
আবির আর রং নিয়ে মাতবো 
মোরা রং য়ের খেলায় ।
বসন্তের সেরা উত্সব হলো 
দোল আর হোলি ।
রাধাকৃষ্ণর রং খেলার দিনে 
আমরা সবাই মিলে মিশে রং 
খেলবো আনন্দে আর সুখে শান্তিতে ।
রং যেন মোর মর্মে লাগে 
আমার সকল কর্মে লাগে ।
লাল, সবুজ, কমলা রঙের ছোঁয়া লেগেছে আকাশ বাতাসে ।
এসো সবাই মিলে রং য়ের এই 
উত্সবে মেতে উঠি আনন্দে ।

কুরবানী | সামসীরেজা মালী
কুরবানির ঈদ এলো মুসলিমের দ্বারে
হবে কুরবানি, কত প্রানী , আল্লারি তরে।
শুধু পশু কুরবানি করিলে কবুল হবে না গো ভাই
মনের পশুটাকে তুমি আগে করো গো জবাই ।
পিতা ইব্রাহিম কুরবানির কথা শুনিল হঠাৎ এক রাতে
পরদিন সকালে একশত উট করিলো জবাই নিজ হাতে।
এতেও খোদার মেটেনি মনের গ্লানি
বললো খোদা দাও গো পিতা 
তোমার প্রিয় জিনিসকে কুরবানি।
পরদিন নবী একশত দুম্বা আবার দিলো যে কুরবানি
এতেও খোদার মিটলো না যে মনের গ্লানি।
বললো খোদা দাও গো পিতা
তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিসকে কুরবানি।
অবশেষে দিলো পিতা তার প্রিয় সন্তানকে কুরবানী।

আমার দোল | অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
            ঘরের কোনে জমেছে রোদ
         কিছু অনাথ শিশুর হয়েছে ক্রোধ;
      ছোট্ট গ্ৰামে কেই বা করবে রঙের বাহার
   দু-বেলা দু-মুঠো জুটছে না ঠিক মতো আহার।
      তাই তো দিচ্ছে না কেউ করো দেহে রং
  এই মিছে শহরে তারা তো সাজছে প্রতিদিনই সং।
 কোথায় গেলে পাবো রেহাই এই রঙের থেকে দূরে?
বাচ্চা শিশুদের আর্তনাদ যাচ্ছে না তাদের গানের সুরে,
        রাতের আঁধারে আমরা থাকি একা
দিনের আলোতে আমাদের পশুদের সাথে হয় দেখা।
দূর আকাশের এক ফালি চাঁদ নেমেছে এই জলে
  বাচ্চা অনাথ শিশু গুলো সব ধুলো মেখে খেলে।
  পলাশ বনের লাল আবিরে ফুল নিয়ে যাবে এসে;
মেঘের কোনায় রং বেরঙের প্রজাপতি যাবে ভেসে-ভেসে।
  ক্লান্ত হওয়া চরন দুটি থাকবে আমার ঘাসে,
রং মাখা সব মানুষ গুলো সরে গেলেও থেকো আমার পাশে।

নারী তুমি | সুব্রত চক্রবর্ত্তী
মা তোমার কোলে এসে এই পৃথিবীকে দেখলাম 
শিক্ষা তুমি দিলে এমন,নারী জাতি অসাধারণ
নিজেই তুমি দুর্গা,কালি,লক্ষ্মী,সরস্বতী
তুমি দেখালে,নারী হলো সর্বংসহা রূপী।

তোমার মুখের হাসি হয় না মলিন মাগো
ছেঁড়া কাপড় শত ছিন্ন,সংসার তো নয় ভিন্ন
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত,সেবা করেই যাও
একলা তুমি দশভূজা,নৌকা তুমি সবার।

রাত করে বাড়ি ফিরলে,উৎকন্ঠা তোমার
বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকো,উদাস দুটি নয়ন
ঘরে ঢুকলে তোমার মুখে ছড়িয়ে পড়ে আলো
আঁধার কেটে যায় মনের,যতো দুঃখ ছিলো।

তুমি যখন হয়ে পর নিজেই অসুস্থ
তখন দেখি নিজেই হও,নিজের কবিরাজ 
টোটকা ওষুধ দিয়ে চালাও,চিকিৎসা তোমার 
মা ; তোমার মতন কে আছে সংসারে,সহনশীলা এমন !

নারী হলো মা,বোন,স্ত্রী,কন্যা -- নারীও তো মানুষ
তাহলে,পণ প্রথার বলী কেন হয়,ধর্ষকরা নেয় জীবন 
মাগো,কেবল নারী দিবস উপলক্ষে,নারীর এতো মান
তবে কেন ঘরে বাইরে,হয় মাগো,নারীর অপমান ।

নস্ট্যালজিয়া | গৌতম নায়েক
আয় না রমেশ, আয় জহর সীমা
আয় মৌসুমী ক্লাসে আবার বসি, 
আয় একসাথে গল্প করি, পড়ি
ঝগড়া করি, হোক না মন কষাকষি। 
ধীর পায়ে গদাই বাবু বলবেন এসে
রোল কল হবে, অ্যাটেনশন্ প্লিজ, 
ভূগোল ক্লাসে ভূজঙ্গ বাবুর গল্প
মাথা মুন্ডহীন কি সব হিজিবিজবিজ। 
পালা করে আসবেন দিলিপ বাবু
সন্তোষ বাবু কাশি বাবু সরসী বাবু, 
ক্লাসের মধ্যে ঘুরবে চিরকুট গুলি
বকা খাবে লাস্ট বেঞ্চার বোকা হাবু। 
মাস্টারের দোকানে টিফিন খেয়ে 
বসবো আজও আড্ডায় সেই বারান্দায়, 
টিফিন শেষে আসবেন বিশ্ব বাবূ
আসবেন মদন বাবু ও স্যার কানাই। 
দুই নারায়ণ বাবু আর অমিয় বাবু
নীতি নিষ্ঠ, বাসবেন বড়ো ভালো। 
শুনেছি দারোয়ান কেষ্ট কাকু নাকি
বাজে কাজে মুখ করেছেন কালো। 

মনটা বড় ছটফট করে, জানিস
তোরা, শিবানী নীলিমা নিমাই
ব্যস্ততার এই মধ্য গগনে এসে
মরুদ্যান একটুও খুজে না পাই। 
কত স্যার চলে গেছেন সুদূরে চির
বিলীন হয়েছে দূর গগনে রমেশ, 
সুর তাল লয় কেটে গেছে জানিস, 
রয়ে গেছে শুধু শেষ গানেরই রেশ। 
মারপিট আর করবো না কক্ষনো
নেব না আর তোদের সাথে আড়ি, 
বুঝতে শিখেছি অনেক কিছু এখন
হয়ে গেছি ঘোরতর সংসারী। 
আর একবার ইচ্ছে করে বড়ো মনে 
ছুট্টে যায় স্কুল ড্রেসে শ্রেণীকক্ষে, 
আর একবার নিঃশ্বাস নিই প্রাণভরে
হাফ ছেড়ে ধরে রাখি তারে এ বক্ষে। 

যাতা কলে | পরমেশ্বর গাইন
পথে ভীড়, ধূলো বালির সাথে
দাবি অধিকার বাতাসকে
জুড়ে নিয়েছে গুজবের মুখোশ তুলে

মনে হয় গন্তব্য অনেক দূর.... 
নাভিঃশ্বাসে ব্যথার গুড়ো আলাপন 
কঠিন কলরবে দিয়েছে বাঁধন খুলে। 

কাছে পিঠের ছোট বড় রায়বাহাদুর
রাজ কাজের গভীরে বধিরে ..... 
মধ্যান্তরে তাচ্ছিল্য এতিমখানায় গুঞ্জনে

সভাসদ, পারিষদের কল্পতরু...... 
পথের ভীড়, সমাবেশে ভাঁটা
কণ্ঠ নেমে গেছে নিচের সোপানে। 

"অধিকার" অসহায়ে নোঙরখানার পাটাতনে
দাম্ভিকের পায়ের ছাপ বুকে পিঠে
ললাটে গণতন্ত্র নিয়েছে এঁকে

গুটি কতক চাঁচালো কণ্ঠ তীক্ষ্ণতায় 
প্রাচীরে ফাটলে ফাটলে আলো দেখেছে
জঠোরের যন্ত্রণায় জীবন রেখে। 

রাজ কাজে রাজকীয় ঝড়
এতিমখানায় কল্পতরু অরণ্যের রোদনে 
বেঁকে গেছে আমজনতার তাচ্ছিল্যে

গন্তব্য মনে হয় খুব কাছে..... 
সামনে বিকৃত মুখের স্যাঁতসেঁতে ভূগোল
কলঙ্কিত ইতিহাস আজ লেখকের চোখের জলে।

ছোট কবিতা সংকলন ০৫

লেখা পাঠানোর জন্য আহ্বান 👇

✅️ আমাদের whatsapp পরিবার....
✅️ ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেজ....
✅️ যুক্ত হন আমাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পরিবারের.....
✅️ আমাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট....

ধন্যবাদ জানাই 🙏🏻
টিম পরিচয় ম্যাগাজিন

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়