ছোট কবিতা সংকলন ০৫
পরিচয় ম্যাগাজিন
অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন ০৫যোগাযোগ করুন:- +৯১ ৬২৯১২২৭৮৯৭
ইমেইল এড্রেস:-
helps.porichoy@aol.com
প্রকাশের তারিখ:- ০৫ই মার্চ ২০২৩
সূচিপত্র:-
ডাকনাম | ইকাবুল সেখকষ্টের দিন | বাপী নাগফাগুন এলো | বিপ্লব গোস্বামীআলোওতা নাতি | প্রদীপ কুমার লাহিড়ীচেতনায় মড়ক | মুস্তাক আহমেদশেষে ফিরে দেখা | তাপস পান্ডাকাগজফুল | লিটন শব্দকরগল্প কথা | সুমিতা চৌধুরীকচিপাতার আবির্ভাব | আনন্দ বক্সীশ্রদ্ধা | ইন্দ্রজিৎ রায়ফাগুনের দোলায় | সুব্রত চক্রবর্ত্তীসত্য কথা | শংকর ব্রহ্মফাগুন হিল্লোল | পূজা সিংহ রায়সবেবরাত | সামসীরেজা মালীঅনেক আলোর নীচে | পরমেশ্বর গাইনভুলতে পারছি না | স্বরূপ কয়ালবসন্তকাল | অভিজিৎ দত্তপ্রকৃতি প্রেমিক | কাজল মৈত্রসপ্তগ্রাম | সুশান্ত সেন
ডাকনাম | ইকাবুল সেখ
ডিঙি পাড়ি দিয়ে
তোমার শহরে এসেছিলাম
ডাক নামে পাড়ার মোড়ে মোড়ে
জিজ্ঞাস করেছিলাম বহুবার
কেউ তোমায় চিনতে পারেনি।
বনস্পতির মাঝে অচেনা গাছের মতো
অদেখা চাঁদের গায়ের দাগের মতো
লুকিয়ে ছিলে অন্তরালে তুমি।
ডাকনামে ডেকেছি-
খুঁজে পাইনি।
একটা দাগের ভীষণ অভাব-
জীবনের দাগ।
নামের দাগ।
দাগ রেখে যাও।
কষ্টের দিন | বাপী নাগ
ডেকো না তুমি আমায় ফিরে
ছিলে মনের অন্তরে।
ভাসিও না তুমি আমার মাঝে
রয়েছি একলা ঘরে।
অবহেলায় চোখে অশ্রু ঝরে
কাঁদি যে চুপিসারে।
চোখেরই জল দিলে না মুছে
দেখলে না আমারে।
ছিলাম যে তোমার পথ চেয়ে
গেলে একা রেখে।
তোমার পথ চলা দেখি চেয়ে
চেয়ে পিছু থেকে।
রাত যায় দিন আসে ঘুম আর
আসে না যে আমার।
কত ভালবেসে ছিলাম খুঁজে
পাবে হৃদয়ে তোমার।
পরে না মনে তোমার আমায়
আমি নেই অন্তরে।
থাকবো আমি তোমার মাঝে
রব না দেশান্তরে।
সব আশা আমার এই অন্তরে
জীবনে নেই কেউ।
কষ্টের বাসা বেঁধেছে জীবনে
আবেগের-ই ঢেউ ।
ফাগুন এলো | বিপ্লব গোস্বামী
ফাগুন এলো পাপিয়ার ঐক্যতানে
ফাগুন এলো কোকিলের কুহু গানে।
ফাগুন এলো কবি-লেখকের মননে
ফাগুন এলো রকমারি পুষ্প কাননে।
ফাগুন এলো প্রেমিকার উদাস মনে
ফাগুন এলো দূর শিমুল-পলাশ বনে।
ফাগুন এলো ঐ দোল-বসন্তের গানে
ফাগুন এলো রাধা-কৃষ্ণের বৃন্দাবনে।
আলোওতা নাতি | প্রদীপ কুমার লাহিড়ী
আমার সোনা বেদান্ত সোনা
ছোট্ট আমার আলোওতা এক
নাতি!!
ছেলের ঘরে জন্ম তার জ্বলে শত শত
বাতি !!
সাত চড়ে রা কাটেনা জল ভরা তার
চোখে !!
আদরকোরে নি কোলে কে তবে মোকে রোখে!!
সেই ছেলেটি কবে জানি এত বড় হয়ে
গেল !!
জিপু দাদার হাত দুটি তে সে শক্ত বাঁধন দিল !!
হায়রে কপাল সেত আজ আমেরিকা
বাসী !!
একলা বসে আমি এখন বাজাই ঘন্টা
কাসি !!
চেতনায় মড়ক | মুস্তাক আহমেদ
চেতনায় মড়ক লেগেছে,না কি;
মোড়কের চেতনা?
সংশয় নাকি সন্দেহ ,
এ প্রশ্ন থেকে তুমিও নিজেকে মুক্তি দিতে পারো না।
বারংবার জেগেছে একথা মনে।
সংগঠিতভাবে খুন, লুঠতরাজ, রাহাজানি ধর্ষণ ;
ইতিহাস খ্যাত বর্গীরা ও সম্প্রতি লজ্জিত।
ধর্ষিতার যোনির চাপ চাপ রক্ত,
আড়ষ্ট করেনি কি তোমাকে? প্রশ্ন রাখে কালের কাছে ? কিন্তু..
বিবেকের আর্তি- আকুতিতে আজ অন্তঃসত্ত্বা।
নিদাঘ যন্ত্রণায় কালবিলম্ব ভবিষ্যৎ বাতায়নিক ;
নিবিড়, নিঠুর,নিরবচ্ছিন্ন আর অনাসৃষ্টিতে।
চোখের লালা ঠিকরে পড়ে পৈশাচিক দৃষ্টিতে।
কদর্য সংস্কৃতির জননী রূপে ভূষিত,
ক্ষয়িত মূল্যবোধ।
থরে থরে সাজানো যত পুরস্কার।
এমনকি সবকটি নিলে ও
সব চুপ... কেননা
বিকৃত মনস্ক আর
মড়ক লাগা চেতনা,
স্থির কম্প।
শেষে ফিরে দেখা | তাপস পান্ডা
ফিরে এসো বিরতি মেশিনে মানুষ চলে
কালো মাথা পিষে পিষে তেল হয়, ট্যাক্স কলে,
নেতা - নেতি তেল খায়,পায়ে মেখে,হাই তোলে,
ফেত্রা, যাকাত আছে, আরো যতো অনুদান,
সুখ ব্যাচা ব্যবসার,টাকাতে জগৎ চলে।
আসল টা ভুলে ভরা,সব শেষে দুঃখী মুখ,
তাহলে যে,সেই ফেরা, বৃথা যাওয়া খুঁজে সুখ,
দিলেই যে ফিরে আসে,সুখ বা দুঃখ হোক,
যে জাতি হারিয়ে স্রোত ,তার বেলা শুধু শোক,
মুক্তিতে বাধা আছে, যুক্তিই কাঁটা তার,
সৃষ্টির কারিগর,সব শেষে ধরে হাত,
কতোই না তোষামোদ,মন্দির ,মসজিদে
ফিরে এসো লকডাউন,মাথাটার বোঝা ভার।
হেঁটে যাওয়া সময়টা,আসেনা যে আর ফিরে,
চঞ্চল কৈশোর মোবাইল হাতে হাঁটে,
মধ্য বয়স দেখি , খিট খিট, ঘড়ি দ্যাখে,
কবে শেষ হবে সব,পাকা চুল হাসি মুখে।
নদীকথা | অরুণ কুমার দাঁ
জলের ধারে একটা মন
তৃষ্ণাবুকে দাঁড়িয়ে আছে,
ধূ ধূ বালি পায়ের নীচে
তবু, কেমন স্বপ্ন আঁকে !
ঢেউ ছিল কী অন্য চোখে
জলের ফেনা গোড়ালি ছোঁয়
তবুও, সেই নদীর কাছে
সব অভিমান জমা আছে !
ফাগুন হাওয়া হাওয়ায় | শুভব্রত ব্যানার্জি
ফাগুন মাসে হৃদয় ভাসে
পলাশ দোলে গাছে,
পাতার ফাঁকে কোকিল ডাকে
মধুর লাগে কাছে।
আবির লালে মায়ার জালে
ছড়ায় ভানু আলো,
মাটির থেকে আকাশ দেখে
হৃদয় লাগে ভালো।
বায়ুর তালে পাদপ ডালে
কৃষ্ণচুড়া নাচে,
শিমুল বেলি বাহার মেলি
পাতায় ভরা গাছে।
আবির খেলা রঙের মেলা
মাতবে লোকে সবে,
আনন্দেতে উঠবে মেতে
খুশির দিনে তবে।
আজকে মনে প্রেমিক সনে
উঠছে ভেসে ছবি,
প্রেমের তরে জীবন ভরে
লিখছে যারা কবি।
আজ আমি বৃদ্ধ | অর্পিতা মুখোপাধ্যায়
তুমি আজ নেশাগ্ৰস্ত পাগল পুরুষ,
নতজানু করি তোমার ও চরনে
একবার তুমি ফিরে এসো
আমার দীর্ঘায়ু
মরনে।
কতবার তোমায় ডেকেছি
দাওনি তুমি আমার ডাকে সারা;
বারংবার তুমি মুখ নিয়েছো ফিরায়ে
আজ কেনো তবে খুঁজে চলেছো?
এই নীল আকাশের বৃদ্ধ তারা।
অটুট বাঁধন ছিন্ন করে আজ
পশুর সাথে দিন কাটে রোজ।
ক্লান্ত হওয়া এই বৃদ্ধ
শরীরের,
নেয় না আর কেউ
খোঁজ।
লোভ,লালসা
মুক্তি দিয়ে
এসো কোনো একদিন আমার এই দাঁড়ে।
বৃদ্ধ
দেহের ভঙ্গুর হাড় গুলি
থাকবে অপেক্ষারত
অগ্নিদগ্ধ চিতার
ও পারে।।
কাগজফুল | লিটন শব্দকর
কাগজফুল কথা শোনেনি, সময় ফুরিয়ে-
শহরের বুকে পাথরের ফলক গুনে গুনে
স্ক্রিন জুড়ে কামনার স্তুতি
নিবিড় আগুন শার্সি ছু্ঁয়ে
শ্মশানে বাসা বেধেছিল
পঙক্তিরা অস্থিচর্মসার বুকে বসতে চেয়ে
পেলো মাংসগন্ধি রবিবার, শীৎকার,
কাছেপিঠে কোথাও পাথর কঁকিয়ে ওঠে;
অভ্যস্ত কোলাব্যাঙ
জানালার দু'ধারে কাগজফুল
রাতভর পছন্দসই স্ক্রিপ্ট শোনায় অন্য কেউ।
গল্প কথা | সুমিতা চৌধুরী
সীমাহীন আশকারা আজ, কথাদের পাড়ায়,
শব্দেরা মেলেছে ডানা, মিলতে তারাদের জলসায়।
হাসনুহানা গন্ধ ঢেলেছে, রূপোলি চাঁদের পসরায়।
জীবনও কিছু গল্প লিখেছে, মিলনের মোহনায়।
ফেরারী বাতাস ডেকে ফেরে বুঝি, "আয়", "আয়"।
আখরগুলো আগল ভাঙে, সম্মোহনের ইশারায়।।
কচিপাতার আবির্ভাব | আনন্দ বক্সী
শীতের রুক্ষতার দিন বিদায় নিয়ে এলো ফাগুন
গাছের রিক্ত শাখায় কচিপাতার আবির্ভাব
প্রকৃতিকে করে তুলছে ক্রমেই প্রাণবন্ত
বসন্তদূতের কুহু কুহু ডাক ভেসে আসছে কানে।
উত্তুরে বায় ফিরে গ্যাছে দখিনা পবনের হাতে রিলে রেসের ব্যাটনটা দিয়ে।
পলাশ-শিমুল-কৃষ্ণচূড়ার সৌজন্যে বনের মাঝে রঙের হিড়িক,দু'হাত তুলে ডাকছে যেন আয়
চলে আয় আমার কাছে
নয়ন ভরে উপভোগ কর আমাদের সৌন্দর্য।
আম গাছের ডালে আম্রমুকুলের রমরমা
মধু সন্ধানে অলির নিত্য আনাগোনা।
কাঞ্চন ফুল মেলেছে তার দল
শান্ত-নরম প্রকৃতি, নেই কোন ঝড়ের পূর্বাভাস।
অদ্ভুত এক খুশি মনের মধ্যে খেলা করছে সারাদিন
বনের মত মনেও যে আজ ধরেছে রঙ
মন চাইছে তোমায় কাছে পেতে
এসো গল্প করে কাটাই কিছুক্ষণ।
শ্রদ্ধা | ইন্দ্রজিৎ রায়
শ্রদ্ধা যদি করতে হয়,
শ্রদ্ধা যদি জানাতে হয়,
জানাও অন্তর থেকে।
শ্রদ্ধা প্রকাশ ভাষায় হয় না।
হয় না লোক সমাজের ভিড়ে।
শ্রদ্ধা ভক্তি অন্তরের ব্যাপার,
প্রকাশ কর তা অন্তরালে।
গুরুজনেরা যেখানেই থাকুক,
দূরে কিংবা কাছে।
ইহলোকে বা পরলোকে।
পরীজনদের মঙ্গল কামনায়,
সর্বদাই তাঁদের মন কাঁদে।
দুঃখ পাওয়ার প্রয়োজন নেই।
সময় হলে সকলেই যাবে!
আটকে রাখার উপায় নেই!
এটাই পৃথিবীর বাস্তব নিয়ম!
মানতে হবে তা সকলকেই।
ফাগুনের দোলায় | সুব্রত চক্রবর্ত্তী
ফাগুন এলো রাঙিয়ে দিয়ে
পলাশ,শিমুল ফোটে
কৃষ্ণচূড়া আগুন দিল জ্বেলে
নীলাকাশের গায়ে গায়ে।
কোকিল ডাকে মধুর সুরে
দক্ষিণা বাতাস যায় বয়ে
দোলের আবির উঠবে মাথায়
কৃষ্ণ নাম করে গোঁসাই।
তোমার হৃদয় উঠুক দুলে
প্রেমের খেলা খেলতে হবে
ঋতুরাজ বসন্ত এসেছে
বরণ করে নাও তারে।
পাহাড় থেকে সমতল হয়ে
আবিরের রঙে রাঙিয়ে দিয়ে যায়
নতুন দিনের আলো ফোটে
ফাগুন এলো বসন্ত নিয়ে।
সত্য কথা | শংকর ব্রহ্ম
কবি হলে অনেক কথা
মিথ্যে বলা যায় না
সত্য কথা বলুক কবি
অনেকে তা চায় না,
সত্য কথা বলার স্বভাব
তবু কবির যায় না
কবি হলে সত্য কথা
চেপে রাখা যায় না।
ফাগুন হিল্লোল | পূজা সিংহ রায়
ঋতুর ফেরে বসন্ত আসে,
ধূসর করে সবুজেরে বরণ।
মরা চামড়ার খোলস বর্জ্য;
নব প্রণোদিত রুপের বসন।
রক্তিম পলাশে ফাগুনের মায়াবী চাহনি;
দাপুটে বিষন্নতার হাত ছাড়িয়ে
উচ্ছল প্রেমকে তুমিমুখী ছোটায় যমজ অশ্বিনী।
জোর খাটালে মন পরাধীন,
স্বতঃস্ফূর্ততার সম্মান আপোসহীন।
কোকিল কুহুর রোমাঞ্চ শিহরণ
জোড়ালো করে মনপাখির পিঞ্জরামুক্তির আবেদন।
ফাগুন হিল্লোলে রুদ্রপলাশ,
সহে না আর কোনো পরবাস।
আম্রকুঞ্জের ঘ্রাণ মেখে
মনপাখি যে দিয়েছে পাড়ি।
বিনা বাহানায় নিও চিনে,
তুমি যে আঁধারেও চেনো আমার পড়নের শাড়ি।
সবেবরাত | সামসীরেজা মালী
ঝরে পড়ছে খোদার রহমত,
দেখো দিনরাত,
আসিছে মাহে সবেবরাত।
সেদিন এলো আজ খুশিরি দিন,
এলো আজ আমাদের মাঝে।
ও খুশিরি দিন এলো আজ আমাদের মাঝে।
সবাই অপেক্ষায় ছিলো এই ভুবন,
এলো সেই দিন নিয়ে রহমতেরি বর্ষন।
পুলকিত এই বসুন্ধরা,
পেয়ে এই দিনটা।
সারা বিশ্ব করে ঝিলমিল
এলো সবেবরাতের দিন।
কচিকাচারা সব মাতোয়ারা।
ওগো কিসমাতের কিসমাত
এলো আজ দুনিয়াতে।
এলো সবেবরাত এলো আজ দুনিয়াতে।
অনেক আলোর নীচে | পরমেশ্বর গাইন
অশ্রু শুকিয়ে গেছে .....
এখন কলঙ্কের দাগ এঁকে বেঁকে
ভাগ্যের চোরা বালির বাঁকে
অন্ধকারে ক্ষণাস্থায়ী আত্মার নিঃশ্বাসে
কালবৈশাখীর ছন্দে মরণ সেজে
পৃথিবীর ভোর ছুঁয়ে গেছে।
দিবালোকে বিষ্ণু চক্রের উল্টো পুরাণে
সরলতার নাভিশ্বাস......
ঢেকে ফেলেছে অহল্যার জন্মগত বিশ্বাস।
অশ্রু শুকিয়ে গেছে........
বাঘ সিংহের তর্জন গর্জনে
অনুভূতি,সহনুভুতির অকাল প্রয়ানে।
পরের পর্ব মৃত্যু এখন আতঙ্ক - অরণ্যে
পাপ পূণ্যের সময় ধরে নয়
প্রতিহিংসার পাষণ্ডতায়
বিবেক বির্সজনে নিশাচর সমাজপতি
উড়ো বাতাস,ঝড়ো বৃষ্টি আজ দণ্ডপতি
অশ্রু তাই শুকিয়ে যাওয়ার পেল অনুমতি।
আলো আর আলোর আভায় .........
যন্ত্রণারা সাদা কথার মুক্তো হাসিতে
অশ্রুর হয়ে জেগে রবে যুগোল আঁখিতে।
ভুলতে পারছি না | স্বরূপ কয়াল
যতই ভাবি নতুন ছন্দে গড়বো জীবন ,
পুরানোকে কিছুতেই ভুলতে পারছে না মন ।
বারেবারে আসছে ফিরে হৃদয়ের ক্ষত ।
ভুলতে চেষ্টা করছি যত ,
ঘুরেফিরে আসছে তত ,
সম্মুখে মোর ।
সবার জীবনে এলো ভোর ,
কিন্তু আমার জীবনে শুধুই রাত্রি আঁধার ।
নিজেকে সামলাতে চেষ্টা করেছি বারবার ।
কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ সামলাতে ।
ঘুম ভেঙেও দুঃস্বপ্ন কাটলো না প্রভাতে ।
যে দুঃস্বপ্ন ঘুমাতে দেয় নি আমায় রাতে ,
দিনেও পিছু ছাড়ছে না কিছুতেই ।
এ যন্ত্রনা হতে মুক্তি বুঝি নেই ।
জীবন রচেছি তাই করুন ছন্দেই ।
বসন্তকাল | অভিজিৎ দত্ত
ফাল্গুন-চৈত্র, দুই মাস বসন্ত
বসন্তকাল এলে পরে
প্রকৃতি তার অপরূপ রূপ
সকলের কাছে মেলে ধরে।
কোকিলের ডাক
শিমূল, পলাশের বাহার
আমাদের সকলকে মুগ্ধ করে।
শীতের রুক্ষতাকে ঝেরে ফেলে
বসন্তে প্রকৃতি নবরূপে সাজে
চারিদিকে আনন্দের হিল্লোল বাজে।
আমের মুকুল আসে এই সময়েতে
দোল উৎসব হয় এই মাসেতে।
বসন্তের মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া
প্রাণ দেয় জুড়িয়ে।
নানারঙের উৎসবে ও ঘটনাতে
বসন্ত দোলা দেয় হৃদয়েতে।
প্রকৃতি প্রেমিক | কাজল মৈত্র
প্রকৃতি আমার প্রেমিক হবে
বৃষ্টির হাত ঝড়া
মেঘের ডাকে চাঁদ হাসবে
প্রেমিক রাতের তারা
সবুজ পাতায় রোদ নামবে
মৌমাছি দেয় হানা
পূর্ণিমার এই আলোর উৎসবে
ছিনিয়ে নীল জোছনা
নদী নামে পাথর প্রসবে
নারী আজ ঝর্ণা।
সপ্তগ্রাম | সুশান্ত সেন
কোনোদিন কি সপ্তগ্রামে জন্মেছিলাম,
কোনোদিন কি ভাসিয়েছিলাম সপ্তডিঙা !
কড়ি নিয়ে করেছিলাম দরাদরি
বাঘের মুখে পড়েছিলাম সুন্দরবনে
পাল রাজারা করেছিলেন সভাসদ
উজির হয়ে দিয়েছিলাম মন্ত্রণা !
পর্তুগিজ দস্যুরা যখন এলো
ইতিহাস বদলাতে
হিংসার রাজত্ব করতে
যখন দাস ব্যবসা জমজমাট
তখন কি একজন মেচ্ছকে'ও
মৃত্যুর দরজা দেখাতে পেরেছিলাম !
না পালিয়ে গিয়েছিলাম জঙ্গলে
ভয় পেয়ে!
এখন ত জাবর কাটার সময়
তাই করে চলেছি সময় পেলেই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন