ছোট কবিতা সংকলন ০৪
পরিচয় ম্যাগাজিন
অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন ০৪
প্রকাশের তারিখ- ২৭শে ফেব্রুয়ারি ২০২৩
কিছু ব্যক্তিগত কারণে এবং টেকনিক্যাল কারণে একটু দেরিতে প্রকাশ হলো আমাদের এই
চতুর্থ তম অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন কি, তাই সকল লেখক লেখিকা এবং
পাঠকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থী।
লেখাগুলি কোন নাম্বার অনুযায়ী বা নির্বাচন অনুযায়ী সাজানো নেই। সকল কবি লেখা
খুবই সুন্দর, তাই এমন কিছু কেউ মনে করবে না।
এমনটাই থাক | স্বপ্না মজুমদার
প্রেমটা না হয় অক্ষয় হয়েই থাক
মিলন হলেই তো হলো অন্য রূপ
প্রেম ভাষা পেল বেশ খানেক
পরিপূর্ণতার ছোঁয়ায়!
দীর্ঘ দিন একরকম অনুভূতি থাকে না,
কখনো একঘেয়েমি বেশ চেপে ধরে
আমি শুধু অটুট প্রেম খুঁজি
যেটায় তুমি আমি বেশ ছিলাম স্বতস্ফুর্ত!
ওই যে পাশাপাশি হাত ধরে পথ চলা,
নয় তো আড় চোখে তাকানো
বেশ অনুভূতি!
আলটপকা মনের আবেগে আপ্লুত অনুভূতি
প্রেমটা এমনই থাকে, রোমান্টিক ভাবে
মিলন হলেই তো একঘেয়েমিতে ছোঁবে!
রান্না ঘর আর বেডরুমে সীমাবদ্ধ জীবন
এমনটা নাই বা হলো,
প্রেমটা শুধু অক্ষত চিরন্তন আকর্ষণীয়
হয়েই শুধু থাক।।
বহিরঙ্গ | সুশান্ত সেন
বহিরঙ্গে সাফ সুতরো থাকি
দেখে যাতে মনে হয় ভাজা মাছটি
উল্টে খেতে জানে না।
খাওয়া কয় প্রকার ও কি কি
এবং রক্ত মাংস চিবিয়ে চিবিয়ে
কি রাক্ষস'ই কেবল খেতে পারে
এবং খাদ্য ও খাদকের মধ্যে সম্পর্ক কি ?
এই সব ভেবে ভেবে কর্দমাক্ত মন নিয়ে
মনে লালসা বপন করি।
কিন্তু বাইরে থেকে আপনি
কিছুই বুঝতে পারবেন না।
মরুভূমি | কাজল মৈত্র
তুমি যদি মরুভূমি হও
আমি তবে ক্যাকটাস
তুমি যদি মরীচিকা হও
আমি তবে চৈত্র পলাশ
তুমি যদি তৃষ্ণার্ত হও
আমি তবে মাতাল হাওয়া
চাতকের মতো প্রেম চাও
এনে দেবো মেঘের দাওয়া
তুমি যদি প্রেমহীন হও
আমি তবে শুষ্ক কূঁয়া।
একুশের স্মৃতি | সুব্রত চক্রবর্ত্তী
আজো আসে একুশে ফেব্রুয়ারি
ফিরে ফিরে আসে স্মৃতি
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসের মূল্যায়ন হয়
বাহান্নর সেই আত্ম বলিদানের সকাল।
ঢাকার রাজপথ হয়েছিল অবরোধ
উঠেছিল আওয়াজ ঘন ঘন
বাংলা ভাষার জন্য,এক কঠিন আন্দোলন
বাংলা ও মাতৃভাষার স্বীকৃতি চাই।
চারিদিকে ছড়িয়ে কালো মাথা
ওখানে মানুষ যেমন ছিল
ছিল নৃশংসতা ঘটানোর জন্য
খান সৈন্যদের নিঃশব্দ বিচরণ।
হঠাৎ উঠলো আওয়াজ
চলছে এলোপাথাড়ি বুলেট
বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা,দেয় বুক পেতে
বাংলা ভাষার জন্য লুটিয়ে পড়লো বাংলার মাটিতে।
সালাম,বরকত,শফিউল,রফিক,জব্বর
ও সাথীরা সবাই,নীরব হয় একসময়
রাষ্ট্রসংঘ শুনে নীরব,বাংলা ভাষা স্বীকৃতি পায়
অমর একুশ পালিত হয় বিশ্বে,ভাষা ও শহীদ দিবস।
চমকে ধমকে ঠমকে ঠমকে,
ব্রেনের ব্যাটারি জানান দিচ্ছে,
ফুরিয়ে আসছে প্রাণশক্তি,আ্যাবাউট টু ডাই,
বাকশক্তি বিপর্যয়।।
অবাংলী | দেবারতি গুহ সামন্ত
আজ,একুশে ফেব্রুয়ারি,
আন্তজার্তিক মাতৃভাষা দিবস,
আ মোলো যা,আমার মাতৃভাষা তো বাংলা,
চেষ্টা করছি বাংলা বলার,প্রচুর আটকাচ্ছে।
বাংরেজি লেখার স্টাইলটা খুব ভালো রপ্ত করেছি,
একটু হলেও কি অসম্মান করছি বাংলাকে?
ওই যে বললাম,বাকশক্তি বিপর্যয়,
জীভ জড়িয়ে আসছে,ব্রেনডেথ,বাংলার চিরতরে সমাধি।।
একটু একটু মনে পড়ছে,ছোটবেলার কথা,
এই ভাষাতেই প্রথম মা ডেকেছিলাম,
কর্ণকুহরে বাংলা তখন ছিল শ্রতিমধুর,
ছোটদের রূপকথা তখনো হয়ে ওঠেনি ফেয়ারি টেলস।
পাস্তা পিৎজায় কখন যেন চাপা পড়ে গেছে,
বাংলা মায়ের হাতের বাঙালি রান্না,
ইংরেজদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বাংলা পুরোপুরি জলাঞ্জলি,
ছিলাম গাইয়া,ব্যাকডেটেড,মরছি সাহেব হয়ে।।
ভাষা দিবস | কৃষ্ণেন্দু কুইলি
প্রিয় একুশে ফেব্রুয়ারী
ঠেলিয়া ঊষার দ্বার ,
দুঃখে মোড়া সুখের দিন
ফিরে এলো আবার ৷
যে কথাটি সারা বছর
লুকিয়ে করে বাসা
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস
আমার মাতৃভাষা ৷
মহা শিবরাত্রি | বাপী নাগ
সবার ঘরে পালিত হচ্ছে
মহা শিবরাত্রি
করব যে মহাদেবের পূজা
শুভ এই রাত্রি
শিব পার্বতীর পবিত্র প্রেম
শিবের বিবাহ আজি।
শিবরাত্রি উপবাসে আমরা
আজ আনন্দ খুঁজি।
পুষ্পে পুষ্পে যে সজ্জিত
আজ দেবালয়।
সারারাত ধরে পূজা হবে
কতো আলোয়।
ঘৃতের প্রদীপ জ্বলে শঙ্খ
ও ঘন্টা বাজে।
আজ আনন্দ শিবরাত্রির
নানান কাজে।
দেবো মাথায় গঙ্গা জল
সঙ্গে বেলপাতা।
দেবো যে আকন্দ মালা
তুমি যে অন্নদাতা।
সারাদিন ধরে ধর্মীয় রীতি
অনুসারে পূজা হয়।
এই মহা শিবরাত্রির দিনে
শিবরাত্রি পুজিত হয়।
তুমি পিতা তুমি পরমেশ্বর
সাবার আদি দেব।
তুমিই অন্তর তুমি যে শিব
আমাদের মহাদেব।
গানসিঁড়ি | শ্যামাপ্রসাদ সরকার
বৃন্দাবনী সারং মেখে
স্নান করেছ?
ঠোঁটের মধ্যে রামকেলি আর,
বুকের মধ্যে বিলাসখানি!
কোমল ঋষভ গান্ধারে ওই,
নাভীর মূলে শুদ্ধ স্বরে
মল্লারে তো খুঁজছ আমায়,
মেঘলা আকাশ মনোহরায়...
চোখের কোলে বেহাগ জমে
কন্ঠে জড়াও বসন্ত্ বাহার,
কোন ইশারায় ডাক পাঠালে,
খুলবে নিজের বন্ধ দুয়ার ?
মেঘ করেছে আকাশ জুড়ে,
উন্মনা তার ভীষণ ভার!
চমক দিয়ে অশনি জ্বলে
চিকন গলার আমনকার!
বন্দিশেতে বন্দী করে,
চুম্বনেতে প্রহর পার,
মেঘ করেছে আজকে তোমার,
ভেজাক সে আজ অঝোর ধার...
নতুন প্রভাত | অনিল দাঁ
ঘাসের বুকে জমে থাকা শিশির বিন্দু
হিরের কুচির মতো জ্বলজ্বলে চোখ
প্রতিদিন সরে যায় ডানা মুড়ে রাত
ফিরে আসে নতুন প্রভাত।
শিবরাত্রি | অরবিন্দ সরকার
শ্মশানে মশানে ঘোরে শিব মহারাজ,
বাঘের ছালে বসন গঞ্জিকা সেবন,
ত্রিশুল ডমরু হাতে নিশি জাগরণ,
জীব কল্যাণ সাধনে উপস্থিত আজ।
মশা মাছি উপদ্রবে জ্বলে ধূপকাঠি,
প্রদীপ জ্বালিয়ে আলো চলে আরাধনা,
বেলপাতায় সন্তুষ্ট পূরণ বাসনা,
ঘড়া ভরা জল ঢেলে মাথা ঘাঁটা ঘাঁটি।
উপোসী মহিলা তারা শিবের সামনে,
ভোগ নৈবেদ্য সাজিয়ে পূজা ফলফুলে ,
শিব খায়না বলেই তার পদমূলে,
বাড়ীতে উপোস শিব সে থাকে পেছনে।
পতি জ্যান্ত সদা শিব দর্পণ নয়নে,
পরিবারে শান্তি হোক দুজন মিলনে।
বন্ধু- তুমি | উৎপল মুখোপাধ্যায়
বন্ধু তুমি আছো বোলে
এখনোও সূর্য- মুখি ফুলের দিকে
চেয়ে চেয়ে আনন্দ আর খুশিতে
হই ডগমগ।
তোমারই জন্য হাসনু- হানা- গোলাপ-'রজনীগন্ধা- বেলি
বারোমাস নানান ফুল কলিতে
ভ্রমর আসে ছুটে।
বন্ধু তোমারই প্রেরণায় আমি কাব্য লিখি আপন মহিমায় ।
যে যত যন্ত্রনা দিক ভ্রুকুটি করুক আমায়
তোমার মর্ম গাঁথায় সব যাই ভুলে।
বন্ধু তোমার একটু স্পর্শ
ঐশ্বরিক শক্তি জোগায় আমার মনে;
এখনো তোমার ভালোবাসায় পৃথিবী টাকে নিজের স্বপ্ন-পুরি
কোরে তুলি ।
বন্ধু শুধু তোমাকেই আপন কথা বলি,
বাকি কাউকেই বললে
অতি-কথন হয় ।
তোমার কাছে সর্বস্ব উজাড় কোরে
আমি কৃতার্থ হই আপন মহিমায়__ বন্ধু সব কিছু তোমারই জন্য
আনন্দ-ঘন আমার আত্মায়।
উৎসব লহরী আর উচ্ছ্বাস
সর্বক্ষণ শোক-দুঃখে আশ্বস দেয়
তোমার ছোঁয়ায় ।
ঘন- ঘটা মেঘ জমলে
যখন ময়ূর-ময়ূরী কত্থক আর কথাকলি নৃত্য শুরু করে
আমার কাব্য শুরু তখনই তোমার জন্যই বন্ধু গো......... !!!!!
২১শে ফেব্রুয়ারি | ছায়া দাস
বাংলা আমার মাতৃভাষা,
বাংলায় করি বাস।
বাংলায় আমি লিখি কবিতা,
নানান অনুষ্ঠানে মেতে উঠি বারোমাস।
কত মায়ের রক্তে রাঙানো -
২১শে ফেব্রুয়ারি।
শত মায়ের চোখের জলের দাম,
কেউ কি দিতে পারি।
জল ছাড়া যেমন মাছ বাঁচে না,
মানুষ বাঁচে না অক্সিজেন ছাড়া।
বাংলা ছাড়া আমরা যেন,
ফনির মতো হই মনিহারা।
আ মরি বাংলা ভাষা | কে দেব দাস
তোমার ভাষা, আমার ভাষা, তোমার আমার মায়ের ভাষা, আ মরি বাংলা ভাষা।
ও মা, তোর ভূবনে আলো করে জন্ম যেথা নিলাম,
তোর জঠরে জন্ম নিয়ে "মা" বলে যে প্রথম ডাকটি দিলাম।
ও মা, "এপার, ওপার কোন পারে তে জানিনা,
ও আমি সবখানেতেই আছি।
গাঙ্গের জলে ভাসিয়ে ডিঙ্গা, ও আমি দুই নদীতে মাঝি"।
" দুঃখ, সুখের বুকের মাঝে একিই যন্ত্রনা,
ও মা তোর, দুই চোখে দুই জলের ধারা মেঘনা, যমুনা"।
ও মা, স্বার্থন্বেষী দানবরা তোর হৃদয় খানি ভেঙ্গে করলো খান খান,
কেমন তারা পাষাণ বল মা, বাংলা মায়ের অংঙ্গচ্ছেদে মিটলো না তাঁদের আশ।
মাঝ দরিয়ায় মাঝি,মল্লার দাঁড় বেয়ে যায়... গানে, গানে, ভাটিয়ালীর টানে,
ও মা তোর ভাষাতেই গাই যে তাঁরা বাংলা মায়ের গান।
"একিই আশা ভালোবাসা, এক হৃদয়ের একিই ভাষা" আ মরি বাংলা ভাষা।
মাতৃভাষা জাতির পরিচয়, মাতৃত্বের পরিচয়,
ভাব বিনিময়ের পরিচয়, ভাতৃত্ববোদের পরিচয়।
মাতৃভাষা একটি জাতির ধারক, বাহক, একটা জাতির অস্তিত্ব।
মাতৃভাষার জন্য যে জাতি আত্মবলিদান দিতে পারে, সে জাতি বাঙালি।
"রফিক, সালাম, বরকত, জব্বার, শফিউর" তোমাদের শৈয্য , তোমাদের পরাক্রম, তোমাদের
রক্তে রাঙ্গানো অমর একুশে ফেব্রুয়ারি চিরস্মরণীয়।
তোমাদের মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগকে সেলাম জানাই নতমস্তকে।
এ পারে ও মাতৃভাষার জন্য আসামের বরাক উপত্যকায় ১৯ শে মে ১৯৬১ যে ১১ জন শহীদ
হয়েছিল তাঁদেরকেও অনুরুপ ভাবে স্মরণ করি।
যে জাতি প্রাণের আহুতি দিয়ে, সমগ্ৰ মানব জাতির জন্য মাতৃভাষার অধিকার আদায়
করতে সক্ষম হয়েছে, সমগ্ৰ বিশ্বকে পথ দেখিয়েছে, সে জাতি, একমাত্র বাঙালি
জাতি।
তাই বিশ্ব মাতৃভাষা দিবসের উপলক্ষে নত মস্তকে স্মরণ করি "আমার ভাইয়ের রক্তে
রাঙ্গানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি"
প্রেম আসেনি | ইকাবুল সেখ
বহু বসন্ত পার করে এলাম
প্রেমের হওয়া গায়ে মাখলাম প্রেম পেলাম না।
সঙ্গহীনতাই আজ একাকী বই নিয়ে দাঁড়িয়ে,
আটপৌরে চেয়ে দেখি শুধু ধুলোর প্রলেপ।
মাতৃভাষা | অভিজিৎ দত্ত
বাংলা মোদের মাতৃভাষা
বাংলা মোদের গর্ব
বাংলায় তাই কথা বলা আমাদের পছন্দ ।
বাংলায় কথা বলার অধিকার
একদিন ছিল না পূর্ব বাংলার
তারজন্য জীবন বাজি রেখে
তারা করেছিল মরণপণ লড়াই
শেষ পর্যন্ত শাসকের কাছ থেকে
বাংলা ভাষায় কথা বলার
অধিকার করেছিল আদায়।
একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা জন্যে
প্রাণ দিয়েছিলেন অনেকে
রফিক, সালাম, বরকত, জাব্বারের
লড়াই হয়নি বিফল
সারা বিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে আজ
মাতৃভাষা দিবস হচ্ছে পালন।
আমরা বাংলাভাষী | মনোজ কুমার রায়
আমরা বাংলাভাষী বাংলার ছবি দেখি,
আমরা আত্মবিশ্বাসী হয়ে প্রত্যাশায় থাকি।
আমরা ঐক্যতার বাঁধনে লক্ষ্য স্থির করি,
আমরা সাম্যতার গানে সাক্ষ্য দিতে পারি।
আমরা বাংলাভাষী তবু ও আমরা ভিন্ন,
আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী তবু ও আমরা বিছিন্ন।
আমরা অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ে আছি,
আমরা কারাগারে থেকে ও মুক্তি এনেছি।
আমরা বাঙ্গালী এই ভাষায় কথা বলি,
আমরা কাঙ্গালী নই সুপ্ত আশায় চলি।
আমরা ইতিহাস গড়ে রেখেছি তার মান,
আমরা নিঃশ্বাস ফেলিয়া করি গুণগান।
একুশ উনিশের অবদানে বাংলায় বুলি,
ভাষা শহীদদের স্মরণে আজ ও চলি।
অমর একুশ উনিশে বেদনায় বিধুর করে,
সবুজ পতাকা রাঙ্গা প্রাতে মর্মর সুর ধরে।
যাদের আত্মত্যাগে বাংলায় কথা বলি,
তাদের যেন দুহাত ভরে দেই পুষ্পাঞ্জলি।
বাংলা ভাষার মাধুর্য সবার মন কাড়ে,
তাই তো বাংলা বিশ্বের বুকে ঝড়ে পড়ে।
বাংলা ভাষা শান্ত নিলয়ে আবেগে মোড়ে,
এ পৃথিবীতে অনেক ভাষাভাষী জুড়ে।
ভাষার বিনিময়ে দূর থেকে কাছে টেনে,
ভাষা হৃদয় ছুঁয়ে সুর ধরে আপন মনে।
কিছু পাওয়ার আশায় | দীপান্বিত পান্ডে দীক্ষিৎ
কিছু করে যাওয়ার দায় ও তো বর্তায়,
কে কি দিলো করলো নাই বা গেলাম সেই তালিকায় ৷
একটু কিছু অন্যরকম হয়ে
রেখে যায় গোপন সীমারেখায় ,
জানি মুল্যহীন তবুও তা সত্য একান্তই নিজের ৷
চোখ মুখ নাক কান জীভ
স্বাদ ভাষার পরশ |
এগুলো দিয়ে তো হয় অনেক৷ ভালোদেখা ভালোশোনা ভালোবলা
বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি ৷
সবের আগে অর্থ তো অবশ্যই ,
তারপরে চলে আসে প্রত্যাশা৷
যে টা পাওয়ার আশায় মানুষ ছুটে বেড়ায়,
ভালবাসা আর শান্তির আশ্রয়।
কান্না | আশীষ হাজরা
শিশু কাঁদে নারী কাঁদে
কাঁদে অভাজন
পেটের ভিতর ক্ষুধা নিয়ে
কাঁদে আপনজন,
দুনিয়া জুড়ে কান্না দেখে
কান্না গেলাম ভুলে
চোখের জল শুকিয়ে গেল
মন পাখি যায় চলে ৷
কেউবা আছে দুয়ারএঁটে
কেউ পথে মাঝে
নিরন্ন কেউ কাঁদছে দেখ
কেউ আরামে মজে ৷
এভাবে দেশ চলবে কদিন
বদলাতে যে হবেই ৷৷
নির্জন ভ্রামণিক | মৌসুমী ভৌমিক
প্রতিটি কবিতা লেখার আগে
শব্দের কাছে আঁজলা পেতে দাঁড়াই
সে ও নিঃশব্দে নেমে এসে হৃদয়পুঞ্জে পুঁতে দেয়
আশ্বাসী অক্ষরের উপবন।
হাত বাড়াই, অসম্ভব নির্জনতায় ভ্রামণিক হয়ে উঠি
শব্দের সহজ ইচ্ছে বেয়ে নেমে আসে
রাঙা সূর্যাস্তের বর্ণে
কিংশুক ।
মনে হয়, এ জ্যোৎস্না, এই নক্ষত্রের আলোর
বন্যায় আমার দহন কিংবা জন্ম।
স্বপ্ন পরি | তপন মাইতি
দাঁড়িয়ে ছিলে বন্ধুদের সাথে
চোখ ঘুরিয়ে দেখলে চোখ
কোটরের রাত আসছে নেমে রাতে
স্ট্যাটাস দেওয়া অভ্যেস শোক।
মসলিনের শাড়িতে ভাল লাগে
অন্ধকার ঘর কাটে রাত
ফাঁকা মনে বাংলা পড়ি একাই
হৃদয় জয়ে বাজিমাত।
স্বপ্ন পরি স্বপ্নে ঘোরে যেন...
স্বপ্ন পরি স্বপ্নে শুধু কেন?
আগামীদিন | রুচিরা সাহা
সমুদ্রের ঢেউয়ের পর ঢেউ
আছড়ে পরে বেলাভূমিতে,
নুড়ি পাথরের মতো ভেসে আসে
হৃদয়ের বিবর্ণ অতীত।
অনুভূত হয় এক অব্যক্ত যন্ত্রনা,
ভেসে ওঠে একএকটা প্রতিচ্ছবি;
নয়ন অশ্রু সিক্ত নোনা জলে।
যাক না, মুছে চিরতরে অতীত
সমুদ্রের ওই ঢেউয়ের সাথে,
কিন্তু সে যে আরও শক্ত হয়ে
আঁকড়ে থাকে হৃদয়তটে।
আঁধার রাতে সমুদ্রের স্বচ্ছ ঢেউয়ে
আবার অতীতকে বিসর্জন না দিয়েই
বর্তমানের কোমল হাতটি ধরি।
অতীত আর বর্তমানের হাত ধরে
বেলাভূমিতে সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছি,
রয়েছে অসংখ্য পদচিহ্ন।
ভবিষ্যৎ জানবে আমি তো ছিলাম ;
সুদীর্ঘ কাল অপেক্ষামান।
শিকল | রাণু বর্মণ
নারী শৃঙ্খল বেড়ি পায়ে
সংসারের অন্ধ কারাগারে ,
নিয়মের চাবুকের আঘাতে
পদে পদে লাঞ্চিত।
বিকৃত হয় নারী দেহ
যৌন পল্লীতে ঠাঁই ,
গুন্ঠনে ঢাকে সমাজ
ওঠে ভাঙনের ভয়।
ফুলসজ্জার ঘরে অন্য পুরুষ
আঁধারে চাপা কান্নায়,
স্বামী ভাসুর পালা করে
শরীরের ক্ষুধা মেটায়।
রক্তাক্ত জঠর বিচার চায়
সমাজ রূপায়নদের কাছে,
আর কতদিন এমনি ভাবে
সমাজ ডুববে রসাতলে!
লেখা পাঠানোর জন্য নিচের Check here ক্লিক করুন

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন