ছোট কবিতা সংকলন ০৩

 পরিচয় ম্যাগাজিন
অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন

প্রকাশের তারিখ- ১৮ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩
লেখাগুলি কোন নাম্বার অনুযায়ী বা নির্বাচন অনুযায়ী সাজানো নেই। সকল কবি লেখা খুবই সুন্দর, তাই এমন কিছু কেউ মনে করবে না।

   
 

মানুষ কল্পনা তে'ই বেশি সুখি! | তনুশ্রী মন্ডল

"তোমাকে বলা হয় না এমন দু'চারটে কথাকে,
গলা টিপে হত্যা করি আমি রোজ এখন এমন কয় একশো ব্যথাকে!
খুব যে কঠিন কাউকে ভুলে যাওয়া এমনটা কিন্তু নয়,
মাঝে মধ্যে মন খারাপ গুলো কে হয়তো একটু সবার থেকে লুকিয়ে নিলে'ই হয়!

তুমি একদিন কাছে টানবে বলে তোমার পায়ের কাছে আমিও আর পড়ে থাকি না, 
কারণ শত মানুষ আমাকে বুকের ওপর স্থান দিয়ে হঠাৎ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে!
আমি শুধু তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি, 
সাত পাঁচ জ্ঞান না করে ভালোবেসেছি বলে'ই ভালোবাসি!
তুমি এটা ভুল জানো যে স্বাবলম্বী মানুষরা সংসার চায় না! 
তবে আর একটা ঠিক জেনে নাও,
যে তাঁরা আর পুনরায় কারোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে ভাঙ্গতে চায় না!"

শেষ-ছায়া | অনিমেশ বিশ্বাস

আমার দেহের শেষ ছায়াটি মিশিয়া গেল আঁধারে মলে
বসিয়া রহি আমি নিশি-দিন,কভু যদি ওঠে জ্বলে।

ক্লান্তপথের পথিক আমি,চাহিয়া থাকি সেই আশেতে
অরুণ রঙের রাঙা দীপ্তি রাঙাবে যবে আকাশেতে।

আঁধারসাথে আপনছায়া,সেও আজি ছলনা করে
বৈধ যতই সরল ছায়া,নিষিদ্ধ ছায়ায় মারা পড়ে।

চুপটি করিয়া থাকি পড়ে মোর সঙ্গী ছায়ার লাগি
প্রহরে প্রহরে বিরল অচেতন সারা নিশিতে জাগি।

শেষ দিবসের শেষ আলোটি কেহ যদি রাখে পুঁজি
আমার দেহের শেষছায়াটি,সেদিন আমি পাবখুঁজি।

ছাইয়ে শিবের ছায়া | দেবারতি গুহ সামন্ত

শূণ‍্য থেকে পূর্ণ,পূর্ণ থেকে শূণ‍্য...
সন্ধ‍্যা নামছে,শাঁখে ফু,
শ্মশানকালী জেগেছে,জ্বলছে চিতা,
দাউ দাউ,দাউ দাউ,যেও না কাছে।

পুরনো শরীরের খোলসে অগ্নিকাণ্ড,
ছাই ভস্ম মাটিতে মিশছে,নতুন গাছের জন্ম।
অস্থি বিসর্জনে আত্মার মুক্তি,আহ্ কি শান্তি,
নতুন মাতৃজঠরের অনুসন্ধান শুরু।

মন্দিরে ঘন্টা বাজছে,ঢং ঢং ঢং ঢং,ঝোড়ো হাওয়া,
ঘুম ভেঙেছে ত্রিশুল ধারী শিবের,বাজছে ডমরু।
জ্বলজ্বলে নাগমনির আলোয় পুনরায় গর্ভসঞ্চার,
এক্ষুনি প্রলয় শুরু হবে,মহাপ্রলয়,শিব,শান্ত হও।।

তুমিই অন্ত,আরম্ভও তুমি,গায়ে ছাই মাখছ,
তাকিয়ে দেখ শ্মশানকালিকে,তান্ডবলীলায় ব‍্যস্ত,
তোমারই অর্ধাঙ্গীনি শান্ত,নির্মল পার্বতীর প্রতিরূপ,
নাগিনের নৃত‍্যোল্লাসে তোমাদের রচিত বৃত্ত সম্পূর্ণ,অসমাপ্ত প্রেম।।

লীলা খেলা | স্বাগতা রায়

জন্মভূমি মোদের গরব মোদের অহংকার
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাখেলা দেখি বারংবার।
উত্তরে হিমালয়ের উচ্চ চূড়ায় শ্বেতশুভ্র বরফ
দক্ষিণে সাগর তরঙ্গে মায়াবী ঢেউ খেলে উফ্।

পূর্বে ছোট্ট বাংলাদেশ সবুজ ঘাসে ঘেরা দেশ
পশ্চিমে মরুভূমির তপ্ত বালুকার নেই শেষ।
গ্রীষ্মকালে কালবৈশাখী ঝড় তান্ডব চালায়
বর্ষাকালে দুপুর সিক্ত অনুরণন বারিধারায়।

শরৎকালে শিউলি সুবাস মুগ্ধতায় মুড়ে রাখে
হেমন্তে নীলা আকাশ পাকা ধানের রঙ মাখে।
শীতের আগমনে শান্তিপুরে ভগবানের রাসমেলা  
বসন্তে আবীরে শ্রীকৃষ্ণ রাধার প্রেমের লীলাখেলা।

কলিকালের কুরুক্ষেত্র | কৌশিক গাঙ্গুলি 

আসুন যুধিষ্ঠির এই কলিকালে সসম্মানে জায়গা নিন দুর্মতি দূর্যোধনের পাশে , সত্য এখন মিথ্যার তূণীরে বাধা দিবাস্বপ্ন , শকুনি নিত্যসময় পাশার ঘুটির কারসাজিতে প্রশাসনের ঝুঁটি ধরে করে অসহায় - 
আজকাল প্রতিদিনই কুরুক্ষেত্র দুঃসময় । 
ভীস্মের প্রতিজ্ঞা বোকারাও করেনা এখন , অন্ধ ধৃতরাষ্ট্র প্রত্যেক ঘরে উসকে দেয় ভীমদের মৃত্যু গহ্ববরে । 
তৃতীয় পান্ডব আশ্রয় পায় রাজছত্রতলে , দ্রৌপদী ভাঙন আনে সুখী যৌথ পরিবারে । 
ভীষন কদর এখন কর্ণের ব্যাবসায়ী মহলে , কবচকুন্ডল বেঁচেন গল্পের মোড়কে চড়াদামে । 
শুনুন ব্যাসদেব আমার কথা স্বাক্ষী চতুর কৃষ্ণ , আর একলব্য দেবে না অঙ্গুলি বিসর্জন , তার অস্ত্র সাধনা চলে নিরন্তর গোপনে । 
আজকের মহাভারতে তার ভূমিকা অন্য ইতিহাস লিখবে , বিবেক থেকে বাস্তবে ঝলসাবে শাণিত ইস্পাত ..... । 

সন্দেহ | ইন্দ্রজিৎ রায়

আশায় করে ভালোবাসা।
ভাঙ্গলে করবে কি!
অবিশ্বাসের দানা বাঁধলে,
প্রতিবেশীরা করবে কি!
অবিশ্বাসের দানা বাঁধে,
সন্দেহ আর বিভেদ থেকে।
বিভেদের আগুন চরমে উঠলে,
সংসারে তখন ভাঙ্গন ধরে।
অশান্তির জ্বালা অসহ্য হলে,
ঘুনে মনে বাসা বাঁধে।
বুকের পাঁজর ভাঙ্গতে থাকে,
সইতে না পেরে সংসার ছাড়ে।
মায়া মমতা তুচ্ছ তখন,
কারো কথা মনে না ধরে।

একবার যদি ভাঙ্গন ধরে,
কোন ঔষধে ই কাজ না করে।
ডাক্তার বদ্বি রোগের কারণ,
নির্ণয় করতে ব্যর্থ তখন।
কোন চিকিৎসাতেই হয় না কাজ,
মনের ঔষধ হয়নি আবিষ্কার।

অবশেষে বিচ্ছেদের পালা,
ভালোবাসাতে ছাই ঢালা।
জীবনে আসে কালো ছায়া।
মরুভূমিতে জল খোঁজা!
বিচ্ছিন্ন জীবনে পদার্পণ করে,
ভালোবাসা পালায় জানালা দিয়ে।

শুধুই দেব | পিউ সাহা বাড়ৈ

তোমার অবহেলা নাকি আমার ভালোবাসার জোছনা আঁকে
চাঁদ-তাই মাঝে মাঝে মুচ্ছা যায়
অনুরাগী লিপিকারা খুঁজে পাইনি মেঘ বালিকার ঘর
আজ তাই তুই হয়েছিস অন্যের মন পোড়ানি জ্বর। 
স্তবকেরা মাপছে এক যুগ
 চারিদিক নিশ্চুপ, 
ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো
তৃষ্ণা রোগে কাঁদে। 
কিছু অভিমান, 
কিছু রজনীর গল্প
আজও ভাবায় সংগোপনে
রাস্তারাও খবর রাখে না বেখেয়ালে
অঙ্গার যোজনে মনের ভুল শ্বাসমূলে! 
কবুতর আগেই উড়ে গেছে খোলা আকাশে
একলা মন, একলা চিঠি
মন গহীনের ক্ষণিকের প্রত্যাশার সঞ্চার;
যেখানে নাকি আজ আলো পৌঁছানো বারণ
চোরাবালিতে তৈরি ভাঙ্গা সংসারে দাম দেবে না জানি
তবুও মুক্তটাকে আগলে রেখেছি ঝিনুকের খোলসে
স্রোতের আঘাতে রক্তাক্ত আমার হৃদয়
ফিরে দেখো নি কখনোই 
জলোচ্ছ্বাসে ডুবে যায় পায়ের ঐ ছাপে
সাক্ষী হয়ে রয় ভাঙাচোরা ঐ বইয়ের তাক, 
আজীবন জড়িয়ে ধরে থাকতে চাই
 ওই পুরনো ঝাড়বাতি গুলির মত। 
শীতলপাটি বিছিয়ে দিও মন পবনে
শব্দ চাষির ছন্দের মিল নাই বা হল
ঠোঁটে লেগে থাকা তোমার খুশিটাকে না হয় তার নামেই খুলো।
নিজের অভিযানগুলো নিজেই সামলে নেব ব্যর্থতার হিসাব নিকাশে। 
চাইবো না কিছুই,
শুধুই দেবো-শুধুই দেবো।

জীবন মানে | গৌর গোপাল পাল

জীবন মানে অনেক কিছু
দুঃখ ব্যথা হাসি!
জীবন মান উঁচু-নীচু
সবকে ভালবাসি!!

জীবন মানে প্রহর জাগা
আসার আশায় থাকা!
জীবন মানে ভালো লাগা
ভালবাসায় ঢাকা!!

জীবন মানে বিরহ ব্যথা
দুঃখ কান্না শোক!
জীবন মানে নানা কথা
কত রকম লোক!!

ভালোবাসার দিন | অরবিন্দ সরকার

প্রেমিক প্রেমিকা নয় শুধু এই দিনে,
ভালোবাসার দিবসে ভাগ সর্বজনে,
ক্ষুদ্র,বৃহৎ নয় কিছু শ্রদ্ধা প্রেম মনে,
ভালোবাসা শান্তি আনে পলকের ক্ষণে।

বাপ মা আপনজন প্রণাম চরণে,
গুরুজন স্নেহাশীষ অম্লান বদনে,
ফুল শিশু পশু পাখি মঙ্গল সেখানে,
একটি গোলাপে স্বপ্ন প্রেম নিবেদনে।

অচেনা অদেখা ইচ্ছা মৃত্যু বিষপানে,
ফুলে হয়না পিরিত পাপড়ি বিহনে,
গোলাপ শুকিয়ে যাবে চেয়ে পথপানে,
একটি দিনে সফল হয়না জীবনে।

প্রিয়জনকে শুভেচ্ছা ভালোবাসা মানে,
অপাত্রে ফুলের শোভা বাড়ে নাকো দানে।

সাথি | দেবাশীষ চক্রবর্তী 

রোদের স্নেহ গায়ে মেখে
একটা কোকিল ডাকছে একা,
চাইছে বোধহয় আকুল হয়ে;
মনের সাথির একটু দেখা।

আমিও আছি অপেক্ষায়
কখন ফোনে জানাবে সে,
দরজা খোলো তাড়াতাড়ি 
এইতো আমি গেছিই এসে।

শিশুর দুঃখ | ছায়া দাস

ভোরের বেলা ঘুম ভাঙে না মা,
              কিভাবে যাব স্কুল।
স্কুলে গিয়ে ঘুমের ঘোরে,
              করে ফেলি সব ভুল।

যখন অ আ পড়াই দিদিমনি,
    ABC পড়ি তখন আমি।
দিদিমনি যখন বলেন লিখতে,
     চলে যায় আমি তখন খেলতে।

দিদিমনির বকুনি শুনে,
      কাঁদতে থাকি বসে বসে।
সব শিশুরাই এমন করে,
       কী যে হবে অবশেষে।

এসব কথা শোনার পরে,
     মা যে থাকে, বেজায় চটে।
লেখাপড়ায় আমি খুবই ভালো,
     পাই না ভয় মোটে।

বড্ড পঁচা ঘুমের রানী,
    ঘুমের কাঠি চোখে বুলিয়ে।
ঘুমের দেশে নিয়ে গিয়ে,
    বৃথা করে দেয়,সব ভুলিয়ে।

লাল গোলাপ | রুচিরা সাহা 

স্নিগ্ধ জোছনার মায়াবী আলোয়,
খোলা বাতায়নে নিশ্চুপ আমি আজ ;
সরসিজ ন্যায় তব আঁখি যুগল
ভেসে ওঠে বারংবার।
তোমার দেওয়া সেই লাল গোলাপটি,
আজও স্মরণ করায় অতীতের স্মৃতিকে।
হোক না শুষ্ক,বিবর্ণ,রয়েছে তব পরশ ;
যা হীরের অলংকারের থেকেও
অনেক অনেক বেশি মূল্যবান আজও।
এক কালবৈশাখী ঝঞ্ঝার আঘাতে
ভেঙেছিল মোর হৃদয়,
তব আলয়খানি আর সেই ফুল বাগিচা
খুঁজি বারবার,সেও বদলে গেছে।
সিক্ত নয়নে অভিমানী দেখে শুধু
সেই শুষ্ক লাল গোলাপটিকে।
দীর্ঘ সাতাশ বছর পরে আবার দেখা;
কতগুলো বসন্ত পেরিয়ে এসে,
জীবন তরী আজ মাঝ দরিয়ায় 
তবুও রয়েছো মোর হৃদয়ের অলিন্দে।

সত্যি কথা বলো | স্বরূপ কয়াল

দেখতে দেখতে হয়ে গেল ষোল ,
এবার তো প্রিয়ে খোল ,
তব হৃদয় দুয়ার ।
কতদিন বলো অপেক্ষা করবো আর ?
তুমি বলেছিলে সেই বার ,
তুমি নাকি কচি খুকি ।
ভালোবাসা তখনও মনে দেয়নি উঁকি ।
তুমি তখন সবে সপ্তম শ্রেণীতে ।
বাধ্য হয়েছিলাম মেনে নিতে ।
কিন্তু এখন তো মাধ্যমিক পাশ ।
এখনও কি করবে নিরাশ ?
আজ তোমায় উত্তর দিতেই হবে ।
পিছু আমি ছাড়বো তবে ।
মাঝ দরিয়ায় আছি ঝুলে ।
না এ কূলে, না ও কূলে ।
অপেক্ষায় রয়েছি চার বছর ধরে ।
আজ বলতেই হবে মোরে ,
তোমার মনে , কী আছে গোপনে ।
আমায় ঝুলিয়ে রেখো না অকারনে ।।

প্রেম | অভিজিৎ দত্ত 

প্রেম এসেছিল জীবনে
হঠাৎ করে যেমন করে
স্বপ্নেরা আসে নিদ্রাতে।

ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা
তৃষ্ণার্ত চাতকের ন‍্যায় প্রেমিকাকে 
একটু দেখার ব‍্যাকুলতা।

প্রেমের সমুদ্রে সাঁতার দিয়ে
মনে ভরে গিয়েছিল খুশিতে 
মনে হয়েছিল স্বর্গ বুঝি
আছে এইখানেতে।

হঠাৎ ঘটলো দুর্ঘটনা 
স্বপ্ন আমার হল শেষ।
আজ আমি হারিয়ে ফেলেছি
আমার নিজের পরিচয় ।
প্রেম ই ছিল আমার 
জীবনের সর্বস্বময়।

ব্যথা | সুশান্ত সেন

অসীম ব্যথায় মুখ খোল শ্রাবণের মেঘ
ধরা দাও পাখির খাঁচায়
পাখা ঝাপটানো শোনা যাক 
দূর থেকে
দূর থেকে কেঁপে কেঁপে উঠুক
বন্যার জল।
বন্যা হলে ব্রহ্মপুত্র ভেসে গেলে
হস্তির বৃংহন শোনা যাবে নাকি 
আর্তনাদ হয়ে শ্রাবণের বুক ছিঁড়ে
সন্ধ্যার মাঝ - পথ জুড়ে !
সেখানে তখন সরাইখানারা সব
ভেসে গেছে ধুয়ে গেছে 
দিগন্ত জলের কাছে মাথা নত
করে থাকে অস্তগামী রবির কিরণ।

অযাচিত | কৃষ্ণেন্দু কুইলি

শুনে তার কথা গুলো মনে বড় দয়া হয় ,
ডেকে বলি কর কি ? দুঃখ কি অতিশয় ?
বাড়িতে কে কে আছে মাতা পিতা সজ্জন ,
মামা কাকা পিসি মাসি আপনার প্রিয়জন ?
থাক কোথা খাও কি রোজ স্কুলে যাও কি ,
জামাপ্যান্ট বই খাতা পেন্সিল চাও কি ?
শুনে সে অমনি চটপট দিল লাগা হন্টন ,
পিছু নিয়ে ডেকে বলি , শোন বাবা পল্টন !
কিবা তোর প্রয়োজন বল মোরে কি কি চাই ?
ফিক করে হেসে বলে , ওসবে ভড়কাই ৷
আছে কি লাগেনা পড়াশুনা বোধ বই বুদ্ধি
পেলে যা বাহবা দেবে লোকে নিন্দুকশুদ্ধি I

বিউগল | শংকর ব্রহ্ম

কিছু শব্দ ঝরে যায়, কিছু শব্দ ডানা মুড়ে বসে 
হলুদ পাতার মতো কিছু শব্দ উড়ে যায় খসে,
এমন সে কোন শব্দ নক্ষত্রের মতো ফুটে থাকে
তুমি কি দেখেছো তাকে কৃষ্ণচূড়ার মিহি ফাঁকে?

যখন সৌজন্য হারায় সব মাটির নীচে সন্ত্রাসে
দেখেছো কি, অন্ধকার কি ভাবে যে উঠে আসে
যখন স্তব্ধতা গিলে খেতে আসে কামুকের গ্রাসে
তখন শুনেছো কিছু শুদ্ধতার গভীরে আশ্বাসে?

আমার ঠোঁটের থেকে যে শব্দ ফুটেছে একদিন
আজ সেই শব্দ দেখো পৃথিবীকে করে প্রদক্ষিণ
আর তারই উচ্চারণে বৃক্ষ লতা অকারণ কাঁপে
শুধু দেখে চেয়ে থাকে, গভীর মনের গূঢ় তাপে
সেই শব্দ 'ভালবাসি' নক্ষত্রের মতোই উজ্জল
বিগলিত শব্দরাশি হেসে বেজে যায় বিউগল।

বসন্তে যে রং ঝরে | মনোজ কুমার রায়

এসেছে বসন্ত পলাশ ডাঙ্গায়-
ফুটেছে কত শত,রক্ত রাঙ্গা পলাশ ফুল?
মাট চৌচির মেঘলা আকাশ তাকায়,
কোকিলের কন্ঠস্বরে উদ্ভাসিত মুকুল।

বসন্তের রং ঝরে নিবীড় ও ছায়ায়-
মৌমাছির গুঞ্জন শুনি ঐ পুষ্প তলায়।
পাহাড় কোলে ঝর্ণা ধারা দুকূল জড়ায়,
গোধূলির রক্তিম আভায় ধরা শোভা পায়।

নির্জন পথে কারো সঙ্গে হয়নি দেখা,
চারদিকে বন্ধুর পথ প্রকৃতির রূপ রেখা।
ফুটেছে রং বেরঙের ফুল পাহাড় কোলে,
ভেঙ্গেছে নদীর কূল স্রোতের কবলে।

বসন্ত এলে বুঝি  বসন্ত যে রং ঝরে-
বসন্ত যে প্রাণ খুলে ভালবাসার বরে।
কোকিল বসেছে ডালে মন খুলে গান ধরে,
ভ্রমর ভ্রমরা বলে বসন্ত যে রং ঝরে

একাকিত্ব | সুব্রত চক্রবর্ত্তী 

তুমি এসেছিলে এ ধরায়
করতে মানুষের উপকার
লোক শিক্ষা দিয়ে গেলে
মনে কজন রেখেছে ?

পৃথিবীটা আজ বদলে গেছে
শিক্ষার নেই কোনো দাম
ভালোবাসার অধিকার হারিয়ে গিয়েছে
একাকিত্ব আজ করেছে গ্রাস।

সত্য, সুন্দর | স্বপ্না মজুমদার

কতোটা কাছে গেলে 
ভালোবাসি কথাটা বলা যায়
ভালোবাসা কি শুধু স্পর্শেই 
অনুভূত হয়,

অদৃশ্য পথে যদি আসে 
সেই হৃদয় ছোঁয়া,কানায় কানায় 
পূর্ণ ভালোবাসা
সে কি তবে ভালোবাসা নয়?
মনের আকুতি,
হৃদয় সিংহাসনে প্রেমের পূজা
কি হতে পারে না?

প্রকৃত ভালোবাসা মনের মন্দিরে
পূজিত কি হয় না কখনো?
ভালোবাসা যে চির সুন্দর
পবিত্র, চিরন্তন সত্য
বলে মনে হয়।।

নাটকের কুশিলব | দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ

এই পৃথিবীর বিশাল নাট্যশালায়
নাটকের আমি ছোট্ট অভিনেতা ৷
বিচিত্রময় রহস্যেঘেরা সব কুশিলব,
প্রত্যেকেই নিজনিজ ভূমিকাতে অনড় ৷
যা হচ্ছে তা ভালো যা হবে তাও ,
পরিণতি যা ই হোক নাটকের অংশ৷
শান্তির দূত হয়ে আসেন ঈশ্বর,
নৌকার কান্ডারী ভোলা ভান্ডারী ৷
শুধু  সমর্পন আর হাত ধরে থাকা ,
মন বোঝা না বোঝার উপরে ৷

ছোট কবিতা সংকলন ০৩

লেখা পাঠানোর জন্য নিচের Check here ক্লিক করুন
➡️ Check here ⬅️

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়