ছোট কবিতা সংকলন ০২

পরিচয় ম্যাগাজিন
অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন

প্রকাশের তারিখ- ১৩ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩
লেখাগুলি কোন নাম্বার অনুযায়ী বা নির্বাচন অনুযায়ী সাজানো নেই। সকল কবি লেখা খুবই সুন্দর, তাই এমন কিছু কেউ মনে করবে না।


পরিচয় | সুশান্ত সেন

পরিচয় হলো পথে ঘাটে
পরিচয় হলো ছাদনা তলায়
পরিচয় হলো বুড়ি বালামের তীরে
পরিচয় হলো ইয়াঙ্গণে।
সেই পরিচয় এর রেশ ধরে
পৌঁছে গেলাম শ্যামবাজারের মোড়ে।
এখন দু চোখে ঘুম আসাতে
পরিচয়ের শেষ ফল - শূন্য ।
বেলা হয়ে গেলো বলে
দোকানিরা কখন ঝাঁপ বন্ধ করে 
চলে গেছে,
একটু ধুলুনি আসাতে
সে কথা জানা হলো না।
সবার সাথে পরিচয় করা বাকি রয়ে গেলো।

প্রমিস ডে | তপন মাইতি

ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে বলতে পারি
এটা শুধু কথার কথা মুখের কথা নয়
এই মাথা ছুঁয়ে বলছি;এই জিভ কেটে বলছি
গলার নলি ছুঁয়ে বলছি;তোমার দিব্যি দিয়ে বলছি
যেকোন আপদ বিপদ রাতে ভিতে
কঠিন পরিস্থিতি শক্ত মুঠিতে
এক পৃথিবী সাক্ষী রেখে বলছি
কখনও ছেড়ে যেতে পারব না
কখনও ছেড়ে যাবে না তো…

তিন সত্যি করে বলছি
দুঃখ কষ্ট সুখ সমৃদ্ধ যাই আসুক না কেন
সব অবস্থাতেই পাশে পাবে
কখনও অবিশ্বাসী হতে পারব না
কথা দিচ্ছি আমাকে তোমার কাছ থেকে কখনই
আলাদা করতে পারবে না।

আমাদের সম্পর্কের মাঝে
কখনও অনুভব করবে না ফাটল ধরেছে
কসম খাচ্ছি;নাকখদ খাচ্ছি
কারণে অকারণে আমাদের মাঝে
কোন টানাপোড়েনের নদী প্রবাহিত হবে না
প্রমিস প্রমিস প্রমিস….

জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত কাটাব দুজনে
প্রমিস প্রমিস প্রমিস….

আজ সেই দিন আসন্ন যে দিনের অপেক্ষায়
প্রতীক্ষার অবসান হয় কথা দেওয়ার দিন প্রমিস ডে।

পেরিয়ে এলাম আশি | সুমন পাত্র

ছুটছে লোক নিজের কাজে
ঝোড়ো হাওয়ার রেশ, 
হাঁটছি আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে
হয়না পথের শেষ, 
ঝাপসা হয়ে আটকে যায় 
দৃষ্টি যখন তখন, 
মুশকিল আমার হাঁটাচলা
চশমার কাঁচ নূতন, 
ছোট্ট ব্যাগে একটু জিনিস
তাও কনুই ধরে আসে, 
হাঁটুর ব্যথা দিয়েছে চাগাড়
কেউ নেই পাশে, 
বিদায় এতো করুণ কেনো
চোখের কোনে জল, 
বয়স যখন পেরোয় আশি
ফুরিয়ে আসে বল। 

নিয়ম মেনে ওষুধ খাওয়া
খাওয়ার আগে পরে, 
গ্লাসের জল খেতে গেলে
কিছুটা চলকে পড়ে, 
নেই যে দাঁত আগের মতোন
চিবিয়ে খাবো সব, 
অসহ্য লাগে ভীষণ
শুনতে কলরব, 
হঠাৎ হঠাৎ হাঁপিয়ে উঠি
দিনেও অন্ধকার, 
বুঝিয়ে দেয় বয়স এখন
হয়েছে আশি পার। 

ডানের জুতো বাঁয়ে পড়ি
বাঁয়ের জুতো ডানে, 
জামার বোতাম উল্টো পাল্টা
অনেক কিছুর মানে, 
বদলে গেলো, দিন যে অনেক
দেখলাম চেয়ে চেয়ে
সরে গেলো কাছের মানুষ
সরলো ছেলে, মেয়ে, 
সন্ধ্যা বেলা ঘুমিয়ে পড়ি
নিশুতি রাতে জাগি, 
নেই যে কোনো কাজের চিন্তা
নেই যে ভাগাভাগি, 
মিলিয়ে যায় আঁধার আবার
চাঁদ টা হয় বাসি
শরীর, মন জানান দেয়
পেরিয়ে এলাম আশি।

প্রতিবাদ ও প্রতিবাদী | কৃষ্ণেন্দু কুইলি

চারিদিকে ঘোর অন্যায় - অবিচার ;
প্রতিবাদী হলাম ৷
না পুলিশ না অন্য কেউ ,
রুখে দিল বউ ।
এতজন থাকতে তুমি কেন ?
ছেলেমেয়ে নিয়ে থাকতে হয় ; জানো ?
উপায় কি অগত্যা ......
চাইলেই কি প্রতিবাদ করা যায় !

বিদায়বেলা | মমতা শঙ্কর সিনহা(পালধী)
বিদায়বেলা ঝরাপাতারে বলে যাই 
আমি ছিলেম এতকাল তোমাদের খেলার সাথী----
আজ যাওয়ার কালে তুমি আমি পৃথ্বীর বুকে পাই শান্তির ঠাঁই,
যাই বিলীন হয়ে নবীনকে সকলের তরে আহ্বান করে----এটাই যে বিধাতার রীতি-নীতি।।।
জীর্ণ জীবন নিয়ে নাই বা রইলেম সকলের মাঝে----
বিদায়কালে বলি---আমি আসি---আমি আসি----দিয়ে সকলেরে ফাঁকি।।।।
তবে!!!কথা দিলেম----
আবার আমি ফিরব তোমাদের সকলের মাঝে নবরূপে,নবকলেবরে----নববর্ষে, নবহর্ষে----চিরনবীন হয়ে----তখন কি চিন্তে পারবে মোরে????
তবুও কালের নিয়মে সকলেরই যেতে হবে ভাই----
তাই আজ বর্ষবিদায় বেলায়----নতুন বছরকে আলিঙ্গন করে------নতুন তোমাকে ভালোবেসে সকলের মঙ্গলের তরে বিশ্বমাঝে তোমারে আমন্ত্রণ জানাই-----


মায়ের মুখ | শ্রীমতি মিঠু  

হাজার পাতার ভিড়ে একটি কুঁড়ি লাল
সে শান্ত মায়ের মুখ...
ঘোমটা দেওয়া লাজুক চোখ অমৃত স্বাদ অপার।
পাহাড় কষ্ট সহ্য করা আজন্ম লালিত বন্ধন।
রূপে ঋদ্ধ সৃষ্টিকুল।

অথচ কাঠ খড়ের তৈরি কাঠামোয় মাটির প্রলেপ দিয়ে মূর্তি রচনা করি, 
তারই প্রধান্য মুখ্য!!!

দশ যুগ তিলে তিলে হৃদ গহ্বরে বড়ো করে জীবনের সবটা দিয়ে পৃথিবীর আলো দান, 
সেই মায়ের মুখের হাসি কখনোবা ম্লান। 
নব পরিচয় পরিচারিকার, 
আর তার অন্যথা হলে 
ঠিকানা সেই বৃদ্ধাশ্রম.... 

মূর্তি মা-কে বিদায় দেওয়ার সময় সবাই চিৎকার করে বলি 'আসছে বছর আবার হবে, আবার এসো মা '।

আর বৃদ্ধাশ্রমে নাড়িছেঁড়া বন্ধন কেমন আছে, বেঁচে আছে কি আদৌ 
সে খোঁজ নেওয়ার সময় ও মানসিকতা তৈরি হলো না আজও...

গোধূলি | পীযূষ কান্তি সরকার

বিকালের কনে দেখা আলো
চুম্বন করে শিউলির ঠোঁট
গোধূলির ধূসর চাদরে মুখ ঢাকে।

কান্না | অনিমেশ বিশ্বাস

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
দেহচ্ছায়া বিলীন হয়ে কাঁদবে অরুণ দিবস শেষে
কাঁদবে আকাশমুক্তবায়ু কাঁদবে তরুণসবুজগাছা
কাঁদবে আমার বাল্যজীবন,শৈশবেরও রক্ত কাঁচা।

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
মেঘ ঘনিয়ে কাঁদবে আলো কালোছায়ার দ্বেষে
কাঁদবে আমার পথের ধারে,ছোট ছোট কুঞ্জ লতা
কাঁদবে গাছের দোল দোলানো ঝুলনের উচ্ছলতা।

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
ঘরের চারি দেওয়াল গুলো কাঁদবে ভালো-বেসে
কাঁদবে আমার কেদারাটি,বই সাজানোর ফলক
কাঁদবে আমার খাতা কলম,আরশিও সম মূলক।

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
ঘরের কোণে বাতি নিভে কাঁদবে জোনাক শেষে
কাঁদবে আমার ঘরের পিছন খোলা মাঠের হাওয়া
কাঁদবে আমার পশু-পাখির কুহু কুহু গান গাওয়া।

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
জলেরছটা মূর্ছা হয়ে কাঁদবে দিঘির কোলে ঘেঁষে
কাঁদবে আমার দিঘি জলে ছোটছোট চারাপোনা
কাঁদবে আমার জলতরঙ্গে তরীমাঝি আনাগোনা।

আগুন জ্বলে আমার দেহ ধূলি হবে এক নিমেষে
মায়া মোহে কাঁদবে কেহ বসে আছে দূরের দেশে
কাঁদবে আমার কাছের মানুষ, দূরের আপন-জন
কাঁদবে আপন নাড়ির টানও, মায়ের অবুঝ মন।

অন্তরের ভাষা | বাপী নাগ 

জীবনে অনেক কিছু পাল্টে
যেতে পারে আমাদের
কিন্তু এই যে মাতৃভাষা ভাষা
সে আমাদের অন্তরের

নিজেরই এই মাতৃভাষা কে
খুব যে ভালোবাসি।
এই দেশের বাইরে গেলেও
টানে কাছে আসি।

এই মাতৃভাষা মায়ের ভাষা
মাতৃভাষার এই গান।
অন্তরের ভাষা যে মাতৃভাষা
আমার মাতৃভাষা প্রাণ।

কবিতা হোক আমার নিজের
হৃদয়ের মাতৃভাষা।
সে তো আমার অন্তরের এক
নারীর যে মহাভাষা।

২১শে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা 
দিবস পালন হয়।
মাতৃভাষা মাতৃদুগ্ধের সমান
যা এই অন্তরে রয়।

শ্রুতি কটু | অরবিন্দ সরকার

শিশুরা মিথ্যা বলেনা, যা দেখে তা বলে,
প্রতিবাদ হারা পশু, বাহন জোয়ালে,
পাখপক্ষী টের পায়, আলোর সকালে,
চোরেদের সাক্ষী রয়, গাঁট কাটা ছেলে।

গাভীকে দোহন ছাঁদে, বাছুর গোয়ালে,
গয়লা ঢাকতে রব, বন্ধন চোয়ালে,
মায়ের দুধের ভাগে, শিশু বেদখলে,
চোখের সামনে চুরি, কান্না ভেজা জলে।

মানুষের টাকা চুরি, বিভিন্ন কৌশলে,
পশুদের বাসস্থান, উৎখাত সমূলে,
গালি গালাজের ভাষা, বেশ্যা বৃত্তি ছলে,
সমানাধিকার ছিলো, আদিম আমলে!

শিক্ষার ভবিষ্যৎ চিন্তা, শিক্ষিত মহলে,
দেশের ভাগ্য বিধাতা, কব্জা বাহুবলে!

হাফ প্যান্ট কাকা | স্বরূপ কয়াল
বড্ড নোংরা, হাফপ্যান্ট কাকা ।
হাড়ি, কড়াই সবই তেল- কালি মাখা ।
এমনিতে যাই না ধারে কাছে ।
কিন্তু রবিবার কিই বা উপায় আছে !
আশেপাশের, সব হোটেলই বন্ধ ।
যাই হোক ভালো মন্দ ,
বাধ্য হয়েই নিই খেয়ে ।
মন্দের ভালো ,খালি পেটে থাকার চেয়ে ।
কিই বা করা যাবে আর !
শত বলেও স্বভাব বদলাইনি তার ।
আগে তো ওর দোকানেই যেতাম ।
প্রায় প্রতিদিনই ওখানেই খেতাম ।
কিন্তু ওর ক্রমবর্ধমান অপরিচ্ছন্নতা দেখে ,
আনতে খাবার বাধ্য হলাম, অন্য হোটেল থেকে ।
কিন্তু এলে রবিবার, বাম চক্ষু নাচে ,
বাধ্য হয়েই যেতে হয়, ওই কাকার কাছে ।।

শিউলি মন, করে আনচান | কৃষ্ণদাস সরকার 

কি রকম আছো মনোহারিণী!
শীতের সকালে খুঁজেছি তোমায়
পূর্ণ করে নিশীথ যামিনী ।

কুয়াশা ভেজা প্রেমতরী
নোঙ্গর বেঁধেছে তোমার গাঁয়,
ঠান্ডা হাওয়া মেঘলা আকাশ,
শিউলি মন নীরবে কাঁদে
তোমার প্রসন্ন যাতনায়।

আমি যে তোমায় বড্ড ভালোবাসি,
তবু মাঝে মাঝে মনে হয়!
তুমি আছো তো আজও আমার পাশে!
তোমার সুরেলা কন্ঠ, মনমোহিনী রূপ
হৃদয়ের অন্দরে বেঁধেছে যে বাসা,
শীতের সকালে তোমার ঠোঁটের উষ্ণতা
অনুভব করি আমার স্বপনে।

 জানি ব্যস্ত তুমি তোমার অঙ্গনে!

স্মৃতি গুলো নাড়া দেয়,
আনচান করে মন,
তীর বেঁধা পাখি খুঁজে বেড়ায়
তোমার আঁচল,স্নেহের পরশ,
কুয়াশা আচ্ছন্ন মেঘের ভেলায় ।

পরিবেশ দিবস | অভিজিৎ দত্ত 

পরিবেশের সঙ্গেই জীবের জীবন 
ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত 
পরিবেশের ক্ষতি হলে 
জীবের ক্ষতি হবে ততো।

গরমের সময় মাত্রাতিরিক্ত গরম 
ঠান্ডার সময় অতিরিক্ত ঠান্ডা
আবার হঠাৎ,হঠাৎ প্রবল ঝড়ে 
প্রকৃতি চারপাশকে লন্ডভন্ড করে। 
ভেবে দেখেছো কী এই ব্যাপারটা?
কত ক্ষতি হলে পরিবেশের 
ঘটে এই বিপর্যয়টা। 

আবার বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে 
হিমবাহ গলছে দ্রুত 
তাই ঘটা করে পরিবেশ দিবস 
পালন করার সাথে,সাথে 
পরিবেশ বান্ধব হতে হবে সকলকে।
বিদ্যালয়স্তর থেকে এগিয়ে 
আসতে হবে প্রত্যেককে। 
সরকারকে করতে হবে বছরভর 
প্রচার  ও  সচেতনতা 
এরসাথে দরকার আইনের কঠোরতা।

ছোট কবিতা সংকলন ০২

লেখা পাঠানোর জন্য নিচের লিংকে ক্লিক করুন

➡️Check here ⬅️

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়