ছোট কবিতা সংকলন ০১

 পরিচয় ম্যাগাজিন
অনু কবিতা ও ছোট কবিতা অনলাইন সংকলন 
+৯১ ৬২৯১২২৭৮৯৭        helps.porichoy@aol.com
প্রকাশের তারিখ- ১১ ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩
লেখাগুলি কোন নাম্বার অনুযায়ী বা নির্বাচন অনুযায়ী সাজানো নেই। সকল কবি লেখা খুবই সুন্দর, তাই এমন কিছু কেউ মনে করবে না।

কবিতার নাম|কবির নাম 

তুই আমার | জুয়েল রানা

তুই আমার এক নীরব সন্ধা বেলা,
আঁধার কালো রাত পেরিয়ে ভোর,
শিশির ভেজা একমুঠো ঘাস ফুল,
কেমন যেন মাতিয়ে রাখে তোর।
বইরি হাওয়া উড়িয়ে দিয়ে মেঘ,
তোর শহরে নামিয়ে আনে রোদ,
তুই আমার এক শীতল বৃষ্টি ফোটা,
অভিমানে একটু প্রতিশোধ।
চোখের আড়াল হলেই যেন তুই,
আমার কাছে কি যেন আর নেই,
তুই ছাড়া যে একলা লাগে খুব,
বিষন্নতা বুকের বা'পাশেই।
তোর দেখাতে পথ চলা হয় ভুল,
হঠাৎ করে একি সর্বনাশ, 
আমি যখন একলা থাকি খুব,
তোকে দেখতে কোলাহোল চারপাশ।

যদি কবিতাকে প্রশ্ন করি | মনোজ চৌধুরী

যদি কবিতাকে প্রশ্ন করি 
চাকাতে তাঁদের দমিত করা কি ঠিক? 
আঙুলের পাঁচখানা দাগ এঁকে দেওয়া কি ঠিক? 
তবে একবাক্যে বলবে..... হ্যাঁ
চামড়া ছিলে দেওয়া কি
তাদের ধর্ম নাকি অধিকার
তবু তারা নিঃসন্দেহে এগিয়ে এসে
লাঠির সরলরেখা চোখ বন্ধ করে 
হিসেব করে দিতে পারে। 
চামড়া মুখ হাড় দেহ আজ একাকী
তাদের সঙ্গী স্বপ্ন এবং ঘুমহীন চোখ
আর চারিদিক ছিটিয়ে দেওয়া 
এলোমেলো বাক্য
যেগুলো ভীষণ নিষ্পেষিত নীরিহ
তারা শুধু হাত বাড়িয়ে সকাল খুঁজে
বেঁচে থাকার.....।

ঈশ্বরী! | শ্যামাপ্রসাদ সরকার

অলৌকিক এক জ্যোৎস্নামায়ায়
আমার ঈশ্বরীর সাথে এখনও বিবাগী হতে চাই!
তাহলে হারিয়ে যাওয়ার মত এত আনন্দ
আর কে কখনও এনে দিতে পারত আমায়?
যখন সমস্ত লজ্জার খোলস সরিয়ে ক্রমশ,
সে ধারণ করবে আমার গার্হস্থবোধ,
তার দুটি কোমল জানুদেশ  এসে  শিখিয়ে নেবে
বিকল্প শরীরের সহজ  অতিক্রমণ!
এখনও তো দু'খানি রুটির মত
তার  চাঁদেরা জেগে থাকে আনখশির দৌত্যে.
তাই হে ঈশ্বরী! আমাকে ভোগীর মতন একাকী
আর ছেড়ে দিওনা কখনও, আজন্ম দ্রোহকালে 
বরং বিছিয়ে দিও অবর্থ্য অবয়ব মায়ার লাস্য
যেটুকু আমাকে শিখিয়ে নেবে উদাসীন সঙ্গম।

চোর বাবুদের রাজ্য | অরবিন্দ সরকার

যতো চোর ততো গলা, কান ঝালাপালা,
চোরের জন্য মিছিল,  বীর সম্বর্ধনা,
হীরের টুকরো সব, কেন্দ্রের লাঞ্ছনা,
চোর হ'লে পদ পাবে,  নাতো দূর শালা!
কয়লা গরু চাকুরী, বালির খাদান,
পুকুর জমি রেশন, ঘরে কাটমানি,
চোরের রাজ্যে এসব,  তুচ্ছ ভাত পানি,
মেলা খেলা মদে মৃত্যু, সবে অনুদান।
চোরকে বাবু বলাটা,  বঙ্গ শিষ্টাচার,
নারী গাড়ি বাড়ি নিয়ে, নেতা সম্প্রদায়,
মন্ত্রীর বাগান বাড়ি, ঘুষে অর্থ আয়,
বুড়োর ছুঁড়ি নজর, মজা আবদার। 
বিচার ব্যবস্থা বন্ধে, ঘটে অনাচার,
বিচারক খর্গহস্ত,  হাজতে পাচার।

প্রজাতন্ত্র কাদের! | দেবিকা দাস

 সেদিন যেবার প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস পালন হল
 মনের মধ্যে ছিল খুশির আস্ফালন,
 ভেবেছিলুম এই বুঝি মুক্তি পেলুম 
 পরাধীনতার গোলামী থেকে।
 এবার তবে অন্যায়ের প্রতিবাদ 
  করব জোর গলায়, 
  মুখ ফুটে মনের কথা বলব সবার মাঝে।
  কিন্তু না! ওই যে,পরাধীনতার 
    গোলামীতে অভ্যস্ত জীবন,
  পতাকা উত্তোলন সেরে ব্যাটা-ছেলেরা
    বাড়ি ফিরতেই, এক হাত ঘোমটা টেনে 
  শুরু করে দিলুম গোলামী,
    আর ব্যাটা-ছেলেদের কথা বলতে গেলে তো
  লজ্জায় মাথা কাটা যায়।
    পরদিন সকাল হতেই ছুটে গেল
  দেশীয় সাহেবদের গোলামী করতে,
    তিরঙ্গা পতাকা ছেড়ে ধরল ভীন রঙের পতাকা,
  রাস্তার মাঝে ছুটল একদল "ভোট দাও ভোট দাও"
  কিছু পরে আরেক দল, তাদের হাতে 
    আর এক রঙের পতাকা তারাও কইছে 
  "ভোট দাও ভোট দাও"।
    সাথে কি যেন কইছে সব; ভোট দিলে
  এই দেব ওই দেব,
  কান পেতে দরজার কোনে দাঁড়িয়ে শুনলুম,
  কিন্তু এদের মধ্যে কেউ তো কইছে না সেই কথা    
  "তোমরা আমায় রক্ত দাও 
  আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব"
  ব্যাটা- ছেলেরা বাড়ি ফিরতেই,
    শুধোলাম তাদের? অমনি ভারি গলায় বলে দিলেন   
  মেয়ে-মানুষের এত কৌতুহল কিসের?
  অবাক হয়ে ভাবলুম তবে প্রজাতন্ত্র কাদের!

ভালোবাসা ছিল | বাপী নাগ 

ভালোবাসার দাম দিলেনা
রইলে না কাছে।
কথা তো দিয়েছিলে তুমি
ভালোবাসা আছে।
কেন যে আমি ভালবাসি
কেন যে কষ্ট পাই
তুমিও যেমন এটা জানো
আমিও ঠিক তাই
তবু কেন আমি ভালোবাসি
তাও ভেজে চোখ।
এভাবে আমার বেঁচে থাকা
এটাই যে শো'ক।
কেন তোমায় ভালোবাসি
আমি তা জানিনা।
তোমায় তো ভুলে থাকতে
আমি যে পারিনা।
কেন তুমি ভালবাসলে না
আমায় যে ভালো।
আমায় কেন ভুলে গেলে
সেটা আমায় বলো।
আজ হয়তো দেখলে চিনবে 
না তুমি যে আমায়।
একটি গোলাপ ভালোবেসে 
দিয়েছিলাম তোমায়

বিপর্যয় |অভিজিৎ দত্ত 

চোখের সামনে দেখছি 
কত অন্যায়, অবিচার 
তেমন করে কোনও 
প্রতিবাদ দেখি না আর। 
শিক্ষিত বিবেক মনে হয় 
ধীরে,ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এবার। 
যে শিক্ষা ছিল 
ন্যায় ও প্রতিবাদের স্তম্ভ 
ধীরে,ধীরে হচ্ছে তা ভূলুণ্ঠিত 
প্রকৃত শিক্ষার অভাব আজ সর্বত্র 
তাই সব জায়গাই শুরু হয়েছে 
লুটেরা আর দূর্নীতিবাজদের রাজত্ব। 
আজ গুরুজনরা পাই না
তাদের প্রাপ্য সম্মান 
পিতা-মাতার হচ্ছে অসম্মান 
সমাজে বাড়ছে অনাচার আর ধর্ষণ 
এদিকে বাড়ছে পরিবেশের বিপর্যয়
তবুও মানুষ হচ্ছে না সচেতন 
এমনিভাবে চললে মানবসমাজের 
অস্তিত্ব থাকবে কতক্ষণ?

জীবন | সুশান্ত সেন

নাম না জানা পথে হাঁটতে গিয়ে দেখি
রক্ত কুসুমে রাস্তা ভরে আছে,
তার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে
নর ও নারী হাত ধরাধরি করে
আকাশের রং তখন গোলাপী
সমুদ্র জলে সবুজের ইশারা।
ওই দুই নর ও নারীর হাত ধরা
রক্তাক্ত আপেল খেয়েই সমুদ্র যাত্রা।
বোম্বাগড়ের রাজা যতই পাঁপড় ভাজা 
খান না কেন জ্ঞান ও জ্ঞানের পরিধির
সীমাবদ্ধতা স্বীকার করতেই হয়
দিনশেষে।
কি অকিঞ্চিৎকর এই জীবন।

আশা | কাজল মৈত্র

থাকুক ওদের নগ্ন আশা
দুয়ার এঁটে বসুক খাসা
চাইলে টাকা আসবে ঘরে
খাদ্য খাবার সব দুয়ারে
হাতের মুঠোয় অগাধ জ্ঞান
হাসতে শেখায় চীন জাপান
দিনরাত এখন সমান সমান
স্বাধীন আমরা পরাধীন প্রাণ।

দিশাহারা | সামিমা ইয়াসমিন

বিভ্রান্ত হয়ে আছি আজ আমি 
কবিতা লিখতে পারবো কি জানি? 
আটকে পড়ে আছি মাঝলাইনে 
শেষ করতে পারবো কি সারাদিনে?


লেখা পাঠানোর নিয়মাবলী

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়