নাটক | মহাদেবের মান ভঞ্জন | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল

নাটক🎭......

"মহাদেবের মান ভঞ্জন"
ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
বড়জোড়া, বাঁকুড়া, পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 
চরিত্র লিপি
▪︎ পুরুষ 
১. মহাদেব - দেবাদিদেব।
২. কার্তিক - ঐ পুত্র।
৩. গনেশ - ঐ পুত্র।
৪. কংসনারায়ন - রাজা।

▪︎ স্ত্রী
১. ধরিত্রী - মাতা।
২. দুর্গা - দেবী দুর্গা।
৩. লক্ষী - ঐ পুত্রী।
৪. সরস্বতী - ঐ পুত্রী।

[ মঞ্চে স্নিগ্ধ আলো। পর্দা উন্মোচন হতে দেখা গেল দেবাদিদেব মহাদেব ধ্যান করছেন, শ্বেত
শুভ্র তুষার শৃঙ্গের উপর । চোখ বন্ধ।হাত দুটি সামনে প্রসারিত।]
[ বাইরে থেকে ভাষ্য পাঠ হবে ]

[ মহিষাসুরের অত্যাচারে অকুম্পিতা সসাগরা ধরিত্রী। মহিষাসুর বর পেয়েছে ব্রহ্মার নিকট 
অমরত্ব। কেবল একজন বিবাহিতা রমণীই
তাকে বধ করতে পারবে। ব্রহ্মা,বিষ্ণু, মহেশ্বরের
মিলিত আলোক শিখা হতে উৎপন্ন হলেন দেবী দুর্গা। মহাদেব বিবাহ করলেন।একে একে সমস্ত দেব দেবী অস্ত্র দিয়ে রনসাজে সজ্জিত করলেন।
কাত্যায়ন ঋষি তাকে পুত্রী রুপে গ্রহণ করে মহাদেব কে সম্পাদন করলেন।এবং মন্ত্র পাঠের দ্বারা দেবীর দেবী সত্ত্বা জাগ্রত করেন।
এই মর্তধামে পূজা শুরু হয় ১৫৭৬ সালে। মনুসং-
হিতার টিকাকার কুলকভট্টর পিতা উদয়নারায়ন
প্রথম দুর্গাপূজা করেন। এরপর উদয়নারায়নের নাতি কংসনারায়নের হাত ধরে পূজা শুরু হয়। ১৬১০ সালে কলকাতায় বেহালা শাঁখের বাজার
এলাকায় পূজা শুরু হয়।

এখন যে নাটিকটি পরিবেশন করবো আমরা সেটা
সম্পূর্ণ কাল্পনিক।

[ধরিত্রীর প্রবেশ 

ধরিত্রী:- বৎস - বৎস চক্ষু উন্মোচন করো ।আমি ধরিত্রী তোমার মাতা ।ধ্যান ভঙ্গ কর বৎস। [মহাদেব চোখ খোলেন ও উঠে দাঁড়ান। ]
মহাদেব :- প্রণাম মাতা।
 ধরিত্রী :- কল্যাণ হোক। কিন্তু বৎস একি তোমার আচরণ?
 মহাদেব :- ক্ষমা করবেন মাতা, আমি বুঝতে পারছি না আমার কোন আচরণে আপনি অসন্তুষ্ট? আমি কি কোন কারনে আপনাকে ব্যথিত করেছি মাতা!
ধরিত্রী :- হ্যাঁ বৎস তবে সরাসরি আমাকে নয়। ব্যথিত করেছো তোমার সহধর্মিনীকে ও মর্তবাসিকে ।
মহাদেব:- কিভাবে মাতা? এই অসত্য অভিযোগ আমার উপর বর্ষিত হচ্ছে কি কারনে!
 ধরিত্রী :- সত্যিই কি তুমি জানো না পুত্র? তুমি তো ত্রিকালদর্শি, তাহলে এই প্রশ্ন কি তোমার মুখে শোভা পায় বৎস?
 মহাদেব :- এ বিষয়ে চিন্তা করার অবকাশ পাইনি মাতা, আপনি দয়া করে বলুন ও এই শ্বেত ,শুভ্র, তুষার শিলার উপর উপবেশন করুন।

 [ ধরিত্রী বসেন ]

এবার বলুন মাতা।
ধরিত্রী :- তোমার এত অভিমান কিসের ?এই অভিমান তোমাকে শোভা দেয় না বৎস। 
মহাদেব :- কিসের অভিমানের কথা বলছেন মাতা? 
ধরিত্রী :- এখনো বুঝতে পারছনা বৎস! বেশ বুঝিয়ে বলছি, আজ পঞ্চমী কাল ষষ্টি ।আমার মেয়ে চার ছেলেমেয়েকে নিয়ে মর্তে গেছে ভক্তদের পূজা নিতে ও তাদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে।
মহাদেব :- হ্যাঁ মাতা আমি অনুমতি দিয়েছি। নন্দী ভৃঙ্গি রাজকীয় সোমারোহে দুর্গা ও আমার চার ছেলেমেয়েকে মর্তে পৌঁছে দিয়ে এসেছে। তাহলে কি মহিষাসুর পৌঁছেনি ?মহিষাসুরের এত সাহস হয় কি করে!
ধরিত্রী :- বৎস শান্ত হও। সবাই পৌঁছেছে। তুমি পৌঁছাওনি তাই পুজো হচ্ছে না । কংসনারায়ণ বলেছে সর্বাগ্রে শিবের পুজো না হলে দুর্গাপূজা কেমনে হবে। তাই তোমাকে মর্তে যেতে হবে বৎস। মহাদেব :- কংসনারায়ন আমার পরম ভক্ত তাই একথা বলেছে। 
ধরিত্রী :- না বৎস সমগ্র মর্তবাসি ও চাইছে সর্বাগ্রে তোমার পূজা নইলে পূজা অসম্পূর্ণ। এ পূজা হবে না।
মহাদেব :- ক্ষমা করবেন মাতা আপনার এই আদেশ পালন করতে আমি অক্ষম। 
ধরিত্রী:- কেন বৎস কেন ? সমগ্র মর্তবাসি তোমার ভক্ত ,শ্রাবণ মাসে সব ভক্তরা কত জল ঢালে তোমার মাথায়। হয়তো দু'একবার ঠান্ডাও লেগে গেছে তাও তুমি নিষেধ করনি, হাসিমুখে জটাতে জল ধারণ করেছো ।কুমারী মেয়েরা তোমার কে প্রসন্ন করার জন্য নিত্য পূজা করে। চৈত্র মাসে দিকে দিকে শিবের গাজন, ভক্তদের উপোস, বানফোড়া এই সবগুলোকে তুমি কোন গুরুত্ব দেবে না বৎস ?
মহাদেব :- গুরুত্ব দিই তো মাতা, ভবিষ্যতেও দেব। কিন্তু এখন দেবীর পূজা সেখানে আমি যাব না।
ধরিত্রী : - কেন যাবে না বৎস? মর্তবাসিত চাইছে তোমাকে সর্বাগ্রে ।
মহাদেব :- কিন্তু দেবী দুর্গা চায়না, তাই।

[ মা দুর্গা ,কার্তিক, গণেশ ,লক্ষ্মী ,সরস্বতীর প্রবেশ , সাথে বাহন গুলো]
দুর্গা:- তা তো আপনি বলবেনই দেবাদিদেব। এই মিথ্যা কথন আপনার মুখে শুনবো, স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি আপনাকে যেতে বলিনি? বলুন দেবাদিদেব ?
মহাদেব :- হ্যাঁ একবার বলেছিলে ,তাতে কোন আন্তরিকতা ছিল না।
দুর্গা :- মা - গো আমাকে আর কত বদনাম দেবেন! পায়ে ধরে সাধাসাধি করিনি ।
মহাদেব :- পায়ে ধরে সাধাসাধির দরকার ছিল না আন্তরিকতার সাথে বললেই যেতাম। তুমি জানো আমার আহার্য রন্ধনের জন্য অনেক লোক নিযুক্ত থাকলেও তোমার হাতের বন্ধন ছাড়া আমি গ্রহণ করি না।
দুর্গা:- তা জানবো না কেন দেব সবই জানি।
সারাদিন শ্মশানে- মশানে ঘুরে পরের দোরে ভিক্ষা নিয়ে আসেন ,সেই ভিক্ষান্ন রন্ধন করে দিই তাই গ্রহণ করেন ।ওই ভিক্ষান্নের দ্রব্য কেউ রন্ধন করতে চায় না। আমি আপনার মুখপানে চেয়ে রন্ধন করি। ওই পাঁচমিশালী চাউলের ভাত আমিও মুখে দিতে পারি না।
মহাদেব:- যাদের ভূত প্রেত দানা দত্য বলে ওরা আমার সবাই ভক্ত প্রজা, তারা দিনান্তে একবার খেতে পায় , বা কোন দিন রন্ধন হয়ই না এইভাবে বেঁচে থাকে। তাহলে আমি তাদের সর্বেশরবা হয়ে কেমন করে রাজি ভোগ গ্রহণ করব ,তাই আমি ভিক্ষা করে খাই। কিন্তু তোমাকে তো কোনদিন জোর করিনি যে তুমি ভিক্ষান্ন আহার করো। তোমাদের থাকার জন্য প্রাসাদ বানিয়ে দিয়েছি দাস-দাসী ,স্নানাগার ,পাকশালা, অলংকার, পরিধেয় বস্ত্র। তাও কি পাওনি বলো? এক্ষুনি পূরণ করে দেব।
দুর্গা:- আমার অভিযোগটা তো এখানেই। সব থাকতে আপনি প্রায় উলঙ্গ হয়ে ছাই ভস্ম মেখে শ্মশানে, অপরের দ্বারে ঘুরে বেড়াবেন কেন? রাজপ্রাসাদ থাকতে এই কৈলাস চূড়ায় খোলা আকাশের নিচে তুষারের উপর বসে থাকবেন কেন?
মহাদেব :- তোমার প্রশ্নের কিছু উত্তর দিয়েছি আর বাকিটা তো তুমি জানো।
দুর্গা :- হ্যাঁ জানি ।না খেয়ে খেয়ে বছরের পর বছর কঠিন তপস্যা করে বায়ুরোগ বাঁধিয়েছেন, তার জন্য বেলপাতা, বেল, সিদ্ধি, গাঁজা খান। আর আপনি কত নির্বোধ দেবতারা অমৃত খেলো গরল পান করলে আপনি ।মরতে বসেছিলেন আমি স্তন্যপান করিয়ে আপনার জীবন বাঁচিয়েছি।
ধরিত্রী :- তোমরা থাম কলহ থামাও সময় বয়ে যাচ্ছে।
স্বরস্বতী :- প্লিজ স্টপ মম এন্ড ড্যাড, প্লিজ স্টপ।
গণেশ :- পিতাশ্রী আপনি আমাদের সাথে চলুন। কার্তিক :- হ্যাঁ পিতা, অমত করবেন না আমাদের বাহনেরা ইন্দুর, ময়ূর, পেঁচা, হাঁস ,সিংহ এরাও অভুক্ত রয়েছে।
 লক্ষ্মী :- পিতা আপনার পায়ে ধরে নিবদন করছি চলুন। [ সবাই কর জোড় করে]
মহাদেব :- [ কারো কথায় কর্ণপাত না করে]
হ্যাঁ বাঁচিয়েছিলে অস্বীকার করিনা। কিন্তু তুমি একবারও ভাবলেনা তুমি মর্তে এতগুলো দিন থাকলে আমার আহার্য্যের কি হবে?
দুর্গা :- তার জন্যই তো যেতে বলেছিলাম। মহাদেব :- ওই কথার কথা।
 দুর্গা :- কথার কথা নয় ।এই পাহাড়ে বারো মাস পড়ে থাকতে আমার ভালো লাগেনা, আর আপনি এখান ছেড়ে নড়বেন না। কোন দেবদেবীর সাথে আলোচনা হবে সবাই ছুটে এখানেই আসেন। কাউকে শাস্তি দেবেন এখানে বসেই ত্রিশূল ছুঁড়ে দেন বা কোন দেবদেবীকে আদেশ দেন তারা শাস্তি বিধান করে।
মহাদেব:- হ্যাঁ তাই। তুমি জানো আমি এই আসন ছেড়ে উঠে গেলে প্রলয় চলে আসবে, তার প্রমাণ দক্ষযজ্ঞ ।আমি বিষ পান করেছি সবাইকে রক্ষা করার জন্য কারণ ওই বাসুকির বিষ পান করা কোন দেবতার পক্ষেই সম্ভব ছিল না। আর ক্রোধে আমার ত্রিনয়ন খুলে গেলে বিশ্বসংসার লয় হয়ে যাবে।
দুর্গা :- বেশ করেছেন ভালো করেছেন এবার আমার সাথে মর্তে চলুন ।
সরস্বতী :- প্লিজ ড্যাড্ ইউ মাস্ট কাম আদারওয়াইজ ইউ ইনজাস্টিস অফ দা পিপল ইন দ্যা মর্তলোক।

 [কংসনারায়ণের প্রবেশ]

কংসনারায়ন :- প্রণাম দেবাদিদেব ,প্রণাম মা
ধরত্রী, প্রণাম মা দুর্গা, প্রণাম আপনাদেরও। হে দেবাদিদেব, হে ভোলা মহেশ্বর আপনি প্রসন্ন হন। আর আমার সাথে মর্তে গমন করুন। আমাদের পূজা ভক্তি গ্রহণ করে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করুন।
মহাদেব :- আমি যাব না কংসনারায়ণ ।
কংসনারায়ন :- আমি আপনাদের সব কথোপকথন শুনেছি‌। আপনাদের পায়ে ধরে অনুরোধ করছি আপনারা সকলে চলুন। 
মহাদেব :- কি করে যাই ! উমা বলেও ওটা আমার বাপের বাড়ি। তাহলে তো বাপের বাড়ি থেকে আমন্ত্রণ আসা দরকার কমপক্ষে দেবীর তো বারংবার আমাকে বলা উচিত ছিল।
দুর্গা :- কি করে বলব ।আমি যাব রাজরানী বেশে আর আপনি যাবেন ছাই ভষ্ম মেখে অভিন্নস্থ জটা জুট ধারি হয়ে। তাই আমি বারংবার বলিনি।
সরস্বতী :- মম ইউ মিন পিতা আর তুমি ম্যাচ করছ না, বাট মম ড্যাড্ ইউ আর মেড ফর ইচ আদার।
কার্তিক- গণেশ - লক্ষ্মী :- ঠিক বলেছিস।
দুর্গা :- হ্যাঁ আমরা একে অপরের জন্য , পরিপূরক। তাই বলে একটা ভদ্রস্থ পোশাক পরবে না ব্যাঘ্র চর্ম খুলে পরিধেয় বস্ত্র পরিধানকরবেন না? কখন নেশায় আছেন কখন প্রকৃতস্থ আছেন বোঝা বড় দায়। যেতে যেতে যদি ব্যাঘ্র চর্ম খুলে পড়ে যায় । মা- গো আমি আর ভাবতে পারছি না।
[ সকলে হাসে ।মহাদেব রেগে যায়।]

মহাদেব :- আমি গমন করব না ,তাতে তোমার পূজা হোক বা না হোক ।
[ আবার ধ্যানে বসতে যাচ্ছিলেন কংসনারায়ন পায়ে ধরে]
কংসনারায়ন :- কুপিত হবেন না প্রভু কুপিত হবেন না । মায়েই তো আমাদের আদেশ দিলেন আমার স্বামী মহাদেব না এলে আমি পূজা নেব না। তাই তো নিতে এসেছি। আমরা মায়ের বাপের বাড়ির লোক এই দেখুন পান, সুপুরি ,গুড় দিয়ে আমন্ত্রণ করে সাথে করে নিয়ে যেতে এসেছি।
মা আপনি অমন করে বাবাকে ক্রোধান্বিত করবেন না। বাবাকে এই বেশেই মানায় ভাল। রাজকীয় বেসে গেলে মর্তবাসি চিনতে পারবে না। হে দেবাদিদেব আপনি যেমন বেসে আছেন তেমনি বেসেই নন্দীর পিঠে চেপে চলুন। এই দৃশ্য দেখতেই সকলে অভ্যস্ত।
মহাদেব :- বেশ তুমি যখন এত করে বলছ, পান সুপুরি, গুড় দিয়ে আমন্ত্রণ জানাচ্ছ তখন চলো গমন করা যাক। 
সরস্বতী:- হু র রে।

[ ধরিত্রীর প্রস্থান ।ডায়াসে সবাই উঠে যাবে দুর্গার মেড়ের মত দাঁড়াবে। দুর্গার মাথার উপরে যেন শিবের মুখটা দেখা যায়। কংসনারায়ণ পূজা করবে।]
আশ্বিনের শারদপ্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জুরি, ধরনীর বহিরাকাশে জাগরিত জ্যোতির্ময়ী জগন্মাতার প্রকৃতির আগমন বার্তা।। আনন্দময়ীর পদধ্বনি নিয়ে অসীম ছন্দে বেজে উঠে রূপলোকে ও রসলোকে, আনে নব ভাবমাধুরীর সঞ্জীবন।। তাই আনন্দিতা শ্যামলী মাতৃকার চিন্ময়ী কে মৃন্ময়ীতে আবাহন ।। আজ চিৎ- শক্তি- রূপিনী বিশ্ব জননীর শারদ মণ্ডিত প্রতিমা মন্দিরে মন্দিরে ধ্যান বোধিতা।।

মহামায়া সনাতনী শক্তিরূপা গুনময়ী।। তিনি এক তবু প্রকাশ বিভিন্ন —দেবী নারায়নী, আবার ব্রহ্মরুপা, শক্তি রুপা ব্রাহ্মণী ,কখনো মহেশ্বরী রূপে প্রকাশমানা, কখনো বা নির্মলা কুমারী রুপধারিনী, কখনো মহা বজ্ররুপিনী ইন্দ্রী,উগ্রা শিবদূতি, নিমুন্ডমালিনী ,মহাশক্তি পরমা প্রকৃতির আবির্ভাব হবে, সপ্তলোকে তাই আনন্দমগ্ন।।

হে ভগবতী মহামায়া, তুমি ত্রিগুনাত্মিকা, তুমি রজ গুনে ব্রহ্মার গৃহিণী বাগদেবী, সত্ত্বগুণে বিষ্ণুর পত্নী লক্ষী, তম গুনে শিবের বণিতা পার্বতী ।।আবার ত্রিগুনাতীত তুষারবস্থায় তুমি অনিবর্চনীয়া, অপার মহিমাময়ী পরমব্রহ্ম মহিষী; দেবীর ঋষি কাত্যায়নের কন্যা কাত্যায়নী; তিনি কন্যাকুমারী আখ্যাতা দুর্গি, তিনিই আদি শক্তি আগম প্রসিদ্ধ মুর্তিধারী দুর্গা, তিনি দাক্ষায়নী সতী, দেবী দুর্গা নিজ দেহ সম্ভূত তেজ প্রবাহে শত্রু দহন কালে অগ্নিবর্মা অগ্নিলোচনা।।

এই ঊষালগ্নে হে মহাদেবী , তোমার উদ্বোধনে বাণীর ভক্তির রসপূর্ণ বরণ কমল আলোক শতদল মেলে বিকশিত হোক দিক দিগন্তে ; হে অমৃত জ্যোতি, হে মা দুর্গা, তোমার আর্বিভাবে ধরণী হোক প্রাণময়ী – জাগো – জাগো —জাগো মা।।
                             গীত

"জাগো জাগো দুর্গা জাগো দশপ্রহরনধারিনী অভয়া শক্তি বলপ্রদায়নী তুমি জাগো ।
জাগো তুমি জাগো ।
প্রণমী বরদা, অজরা, অতুলা 
বহু বলধারিণী, বিপুলবারিণী, জাগো মা।
শরণ্ময়ী ,চন্ডীকা, শংকরী জাগো ,জাগো মা। জাগো অসুর বিনাশিনী, তুমি জাগো ।
জাগো দুর্গা জাগো দশপ্রহরণধারিণী 
অভয়া শক্তি বল প্রদায়িণী তুমি জাগো 
জাগো তুমি জাগো।।

দেবী চণ্ডিকা সচেতন চিন্ময়ী, তিনি নিত্যা, তার আদি নেই, তার প্রকৃত মূর্তি নেই ,এই বিশ্বের প্রকাশ তার মূর্ত্তি।
 নিত্য হয়েও অসুর পীড়িত দেবতা রক্ষণে তার আবির্ভাব হয়।। দেবী শাশ্বত অভয় বাণী—-
" ইত্থং যদা যদা বাধা দান বোত্থা ভবিষতি
তদা তদা বতীর্যাহং করিষ্যামারি সংক্ষয়ম।"

" মাতলো মাতলো রে ভুবন 
বাজলো বাজলো তোমার আলোর বেণী—---"

[ ধীরে ধীরে আলো নিভে আসে।দৃশ্যটি ফ্রিজ
হয়। ]
                ।। যবনিকা।।

নাটক | মহাদেবের মান ভঞ্জন | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
নাটক | মহাদেবের মান ভঞ্জন | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল

লেখক পরিচিত :-  ( সংগৃহীত)

আমি ডাক্তার হর্ষময় মন্ডল, পিতা ৺কুচিল চন্দ্র মন্ডল ,মাতা ৺ আনন্দময়ী মন্ডল, ২রা জুলাই ১৯৬৪ সালে বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার অন্তর্গত কাপিষ্টা গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া থানার অন্তর্গত বড়জোড়ায় বসবাস করি, শিক্ষিকা শ্রীমতী তাপসী মন্ডল ও একমাত্র পুত্র তপময় মন্ডল কে নিয়ে। পুত্র U.P.S.C সরাষ্ট্র মন্ত্রকে A.S.O পদে নিউ দিল্লি তে কর্মরত।
আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমি সবার ছোট। আমি সায়েন্স নিয়ে এইচ.এস পাশ করে হোমিওপ্যাথি পড়তে যাই রাঁচিতে। ওখান থেকে ডাক্তারি পাস করে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমার বাবাও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন।

 পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করি বাংলা অনার্স নিয়ে ।যখন ফাইনাল ইয়ার তখন হাই স্কুলের চাকরি পাই।
বর্তমানে চাকরিতে আছি ৩০.১১.২০২৩ এ অবসর গ্রহণ করবো।
 মাধ্যমিক দেওয়ার সময় থেকে লেখালেখি করি, এটা আমার বংশগত। বাবা ও বড় দাদা সাহিত্যিক ছিলেন উনাদের বইও আছে। 
বহু লিটিল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিলাম এখনো আছি।" দিক দিগন্ত" সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
 প্রচুর পুরস্কার পেয়েছি তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য "নবজাগরণ" থেকে "প্রেম অপ্রেম" গল্প গ্রন্থের জন্য "রাজা রামমোহন রায়" স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছি। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি।

আমি প্রায় সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করি, কবিতা, গল্প ,নাটক, যাত্রা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গীত রচনা করি। আমার নাটক "আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে " " প্রত্যাশা " অনুষ্ঠানে অভিনীত হয়।

আমার গল্পগ্রন্থ তিনটি বের হয়েছে যথাক্রমে "অপরাহের আলো" ," বৈশাখে বসন্ত"," প্রেম
অপ্রেম"; কাব্যগ্রন্থ "বিষণ্ণতায় একাকী"; যাত্রার বই "সুখের ঠিকানার খোঁজে " ,"আমি এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ " প্রভৃতি।
 যা লেখা জমে আছে এর দশ গুন বই হবে ।

আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী। গানের ট্রুপ আছে। চিকিৎসা আমার সমাজ সেবামূলক কাজ।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়