কবিতা | মনের শহরে | অসিত পাল
কবিতা......
"মনের শহরে"
অসিত পাল
বাংলাদেশ
বসতির একপাশ দিয়ে সরু রাস্তাটা
টেনে বয়ে গেছে সেই প্রান্তরে,
কতো সাজানো,গোছানো ছিল
তার আশ পাশ----
সারি বৃক্ষের গর্বিত শীর যেন আকাশ ছোঁয়া ৷
দু-ধারে ঘাসে আবৃত মাঠ,
মাঠের পাশ ঘেষে বয়ে চলা ,
আঁকা,বাঁকা ছোট্ট জল ভরা খাল;
নিরন্তন মনে সে পথেই হেটে চলেছি
তখনি মনের মধ্যে বিজলির ন্যয়!
চমকে গেল দেহের সমস্ত অন্দর মহল।
দু-চোখের অপলক দৃষ্টি সে যেন
আমাকে বিমহীত করে রেখেছে
সম্মহোনের ন্যয়!
কি দেখেছি আমি ? এ যে জান্নাতী হুর
বর্ননায় তার রুপের ঝলক!
যেন সৃষ্টি কর্তার নিজ হাতে বুনান,
হাজারো উপমায় হবেনা শেষ
তার বিশেষন;
আকুল এ মন তার প্রেমে যেন আমি!
দিশেহারা, নির্ভয়ে সমুখ পানে তার~
ও প্রিয়সী ওগো সরশ্বী করি যে আমাকে
কোরবান,
কি রুপ দেখালে মোরে? মনেতে বয়েছে
ঝড় তুফান !!
আর নাহি সয়ে নিরবতা! নাহি সহে দুর-পান!
উজাড়ে দিবো চরনে হেথা নিবেদিত এই প্রান;
আকুল পিপাসায় মরি আবেগ প্রেমের ক্ষনে,
ছুটিয়া গিয়েছে মনের ঘোড়া মন শহরের বনে;
মৃদু হাসিতে তার হৃদয় রক্ত খরন! জালামই !
চাহনিতে খুন যেন আমি আঁচল উড়াইয়া
দিলো যে সে সম্মতি।।
খুসিতে আত্মহারা এ মন, হাত বাড়ালাম অধীকার চাহিয়া!
নিমিশেই হৃদয় মাখা-মাখি, ছুটে চলা আবার
সেই পথে!
এবার যেন পৃথিবীটা একটু অন্যরকম!
রঙ্গীন স্বপ্নগুল ভাসছে দু-চোখে, আবেগের
কল্পনায় হারিয়ে যাই!
সেই তেপান্তর থেকে পাহাড়ের চুড়ায়!
কখনো বা নদীর মোহনায়, কেননা সে যে
আমার বাহুতেই ।।
তাই স্বপ্নটাও যে ডানা ছেড়ে উড়ছে
মহাকাশের দশ দিকেই,
কখনো তাকে নিয়ে তারার মেলায়, কখনো
বা ভাসে চাঁদের ভেলায়;
কখনো বা জোছনা সাথে আনাগোনা, কখনো
বা জোনাকির পিছু নেয়া।
যেন গড়েছে মনের ভীতর ছোট্ট একটি শহর,
মন শহরের বেঁচা কেনায় দুই মনের এক বহর;
অনুভুতির চওড়া পাশে হাজারো ফুল ফোটে,
দুই দেহের এক মনের কলি যেন মিলন ঘটে;
ছুঁয়ে গেল মন শহরের সর্ব অলি-গলি,
প্রেম বিতানে অন্তপাতে হতেও পারি বলী।।
সে যে হাত ধরিল মম ছাড়িবার নাহি চায়!
তখন যেন আমার এ হৃদয় খুসিতে আটখানা ,
নিজেকে চিমটি কেটে বিশ্বাস করলাম এটা কি সত্যি?
না চাহিতে মেঘ মিলিছে ভালে মোর বৃষ্টি
কি অপরুপ সৃষ্টি!
আমার আর কিছু চাওয়ার নাই শুকরিয়া
জানাই বিধাতাকে,
আমার মন শহরের রাজপ্রাসাদটা পূর্ন করিলেন
বলে।।
আমার হৃদয় আসনে বসে আসবে সেথা~
সুখের ফুলঝুরি ঝরে ভূরি ভূরি,
সে ফুলের গন্ধে ভাষি আনন্দে,
মন মহূয়ার অমৃত সুধা বাড়ায় শুধু প্রেমের খুদা;
অবশেষে সাজিয়েছি ফুলদানি, বসছে সেথা
মনের রানী!
বাঁকা সরু পথের ধারে চাইনা সেথা বারেক ফিরে,
আসন পেতে বসলো রানী এটাই হলো
প্রেমের বানী।।
আমার মনের শহরটা এখন পরিপূর্ন যাহা চাই তা
হাসিল করি!
ভালবেসে,প্রেম দিয়ে,আবেগ দিয়ে মনের সমস্ত
শক্তি দিয়ে!
তবেইতো সেই স্থানটা পূরন হবে ভালবাসায়!
যেমনটা আমার মনের শহর।।
কবির পরিচিতি:-
নাম :- অসিত কুমার পাল
লেখালেখি :- অসিত পাল
পিতা-স্বর্গীয় শচীন্দ্র কুমার পাল
মাতা :- স্বর্গীয় হরিপ্রিয়া পাল
জন্ম--০৬ .১২.১৯৫৬
জন্মস্থান--তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রাম মিরেশ্বরাই জেলায়(বর্তমানে বাংলাদেশ)
লেখাপড়া প্রথমে কলকাতা পরে উত্তর ২৪ জেলার বেলঘরিয়া এবং ভৈরব গাঙ্গুলী কলেজে l
উত্তর ২৪ জেলার রবীন্দ্রনগর নিমতা বাড়ি l
কোয়ালিটি কন্ট্রোল খাদ্য বিভাগ ( কোকাকোলা )দপ্তরে চাকরি পাওয়ার সূত্রে গুজরাটের গান্ধীনগর এ পোস্টিং l পরে সেখান থেকে পদোন্নতি হয়ে রাজধানী নতুন দিল্লিতে পোস্টিং । বর্তমানে কর্মরত অবসান এখানেই দক্ষিণ দিল্লিতে পাকাপাকি বসবাস শুরু হয় l
স্কুল কলেজ জীবন থেকেই সাহিত্যের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগ এবং সাহিত্য চর্চার শুরু l আট বছর বয়স হইতেই কবিতা লিখনির প্রতি আগ্রহ জন্মে এবং প্রথম লেখনি অনু কবিতা ‘ভোরের সকাল‘ তৎকালে নদীয়া জেলা এবং উত্তর ২৪ পরগনা জেলার কিছু ক্ষুদ্র পত্র পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয় l
তারপর কোন এক অজ্ঞাত কারণে লেখালেখি থেকে বিরত থাকা l
২০১৯ সালের ৩১ সে জানুয়ারি ৬২ বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করা l
সাহিত্য চৰ্চা টা মনের মধ্যেই ছিল l তাই আবার কলম ধরা l
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে নবজাগরণ সাহিত্য পত্রিকা হইতে সাহিত্য রত্ন সম্মান ২০২৩ প্রাপ্ত হয় ।
কবিতা, ছড়া,গল্প, অণু গল্প, বিভিন্ন ঘরানার কবিতার প্রতি অনুরাগ l তবে ছন্দ কবিতা বেশি ভালো লাগে l
২০২৩ সালে প্রথম কাব্য গ্রন্থ " কবিতাসন্ধানে "প্রথম খন্ড প্রকাশিত হতে চলেছে ২৫০ টা মজার কবিতা নিয়ে ।
গল্পের বই ,৩২ টা ছোট, অণু গল্প নিয়ে লেখনি সক্রিয় । ঐ সঙ্গে পঞ্চবান কাব্যগ্রন্থ যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত হয় হয় কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা ২২ এর কবি শঙ্খ ঘোষ মুক্ত মঞ্চে l
বর্তমানে অনেক সাহিত্য পত্রিকার সঙ্গে আমার লেখনি সক্রিয় জ্ঞানীগুণী বিচারক মন্ডলীর নিকট হইতে দৈনিক সেরার সেরা সম্মানে সম্মানিত আমি, কবিদের এত সুন্দর মন্তব্য আমার লেখনি কে আরো সক্রিয় করে তুলছে।
আমি একটা ভিডিও আপনাদের কাছে অগণিত সম্মান স্মারক হইতে কয়েকটা সম্মান স্মারক উপস্থাপনা করিলাম।
বাবা ও মা অনেকদিন আগেই প্রয়াত হয়েছেন l
দুই কন্যা l বড় কন্যা ন্যানো বায়োটেকনোলজিতে ডেকিন ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়া হইতে ডক্টরেট ডিগ্রী পাইয়াছে ২০২৩ সালে।
ছোট কন্যা ফাইন্যান্স এ গবেষণায় রত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইউনাইটেড স্টেট অফ আমেরিকাতে।
দুই কন্যাই অবিবাহিত। চাকুরীর জন্য পরীক্ষা দিচ্ছে।
আমার ধর্মপত্নী নতুন দিল্লি অখিল ভারতীয় আয়ু বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানে সরকারি হাসপাতালে নার্সিং সুপ্রটেন্ডেন্ট ছিল কারডিও ও নিউরো বিভাগে, বর্তমানে
দুজনেই অবসরপ্রাপ্ত।
বর্তমানে সাহিত্য জগতের মান উন্নয়নে লিপ্ত অনেক সাহিত্য ও পত্রিকার সঙ্গে আমার লেখনি সক্রিয় এবং কর্মরত জীবন হইতে খুবই ব্যস্ত ।তার মাঝেই সাহিত্য চৰ্চা অব্যাহত l বর্তমানে ফেসবুকের সঙ্গে যুক্ত এবং বহু অনলাইন পত্রিকা এবং মুদ্রিত পত্রিকায় গল্প কবিতা প্রকাশিত করি। আমার শেষ জীবন সাহিত্য সাধনা দিয়েই সমাপ্ত করিতে চাই।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন