নাটক | শেষ দৃশ্য | ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
নাটক......
"শেষ দৃশ্য"
ডাঃ হর্ষময় মণ্ডল
বাঁকুড়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
• চরিত্র লিপি
▪︎ পুরুষ
০১) মৃগাঙ্ক শেখর গাঙ্গুলী - কারখানার মালিক।
০২) অয়ন - মৃগাঙ্কর পুত্র।
০৩) নীতিন - রুমার বাবা
▪︎ স্ত্রী
০১) বিপাশা - নীতিনের স্ত্রী
০২) রুমা - নীতিনের কন্যা
[মৃগাঙ্কর বাড়ি, মদ খেয়ে টলতে টলতে বাড়ি ঢোকে মৃগাঙ্কর স্ত্রী দূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল। মৃগাঙ্কর বাড়িতে একটা আরামকেদারা থাকে যেটাতে মৃগাঙ্ক বসে]
মৃগাঙ্ক:- ইডিয়ট গুলো কাজে ফাঁকি দিতে পারলে আর কিছু চায় না। আমার নামও মৃগাঙ্ক শেখর গাঙ্গুলী ,সবাইকে মাইনে দিচ্ছি চুষে নেবো, নিংড়ে নেবো প্রত্যেকটি কর্মচারীকে।
[রুমে ঢুকে দড়াম করে দরজা লাগিয়ে দেয়।]
রুমা :- ইদানিং মদ খাওয়ার মাত্রা বাড়িয়েছে। আজ তো মাত্রাতিরিক্ত মাতাল ।আমার বাবাও এরকম ভাবে মদ খেয়ে বাড়ি ফিরতো। ভুলতে পারিনা সেই রাতের কথা।
পূর্বের স্মৃতি মনে পড়ে যায়—------
[নীতিন প্রবেশ মত্ত অবস্থায় ]
নীতিন :- এই হারামজাদি কোথায় গেলি? সামনে আয় নইলে তো আমাকে জানিস, না এলে বেশি মার খাবি এলে একটু কম মার খাবি। মোট কথা তোকে না মেরে আমার ঘুম হয় না। মনে হয় কি একটা কাজ বাদ পড়ে গেল।
[ভয়ে ভয়ে বিপাশা রুমে প্রবেশ করে
ঘরে ঢুকতেই চুলের মুঠি ধরে নীতিন ]
এই তো শালী এসেছিস।
[ গালে চড় মারে চুলের মুঠি ছাড়ে না]
বিপাশা :- আঃ আঃ আঃ লাগছে। মাগো মরে গেলাম ,ছাড়ো আমার খুব লাগছে।
[আরো কিল, চড় , ঘুসি মেরে মেঝের উপর ফেলে বুকের উপর বসে চুল ছিঁড়তে থাকে বিপাশার]
নীতিন : হাঃ হাঃ হাঃ ! কি আনন্দ কি আনন্দ যেমন করে কৃষ্ণ কংসকে বধ করেছিল তেমনি ভাবে তোকে বদ করব তুই বেঁচে আছিস বলে বাসন্তীকে ঘরে তুলতে পারছি না।
বিপাশা:- কোনদিন ওই প্রতিতাপল্লীর বাসন্তীকে বাড়িতে এনো না। বাইরে যা পারছো করো। বাড়িতে এনো না। আঃ আঃ মরে গেলাম ,আমাকে ছেড়ে দাও আমাকে ছেড়ে দাও।
নীতিন :- তোর পরামর্শ মত কাজ করব নাকি রে শালী ? কাকে ঘরে তুলব, না তুলব না সেটা আমি ঠিক করবো, তুই বলার কে? এ বাড়ি আমার, যাকে খুশি আনবো। বাসন্তীর কাছে তুই কিছুই না। বাসন্তীর কি ফিগার জানিস !দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। আর তোকে দেখলে গা জ্বলে পুড়ে যায়।
[ আরও মারতে থাকে, বিপাশা চেঁচাতে থাকে আর নীতিন অট্টহাস্য করে]
আর সেই ঠুমকাওয়ালী তোর মেয়েটা রুমা সে কোথায় ডাক তাকে। এই রুমা রুমা এদিকে আয়। আজ তোকে রেপ করে মেরে ফেলবো।
সেদিন পালিয়ে গেছলি আজ পালাতে পারবি না। এই দেখ সদর দরজায় তালা দিয়ে এসেছি কাঠি আমার পকেটে। আগে তোর মাকে মারি তারপর তোর ব্যবস্থা করছি। কুড়ি বছর বয়স হয়ে গেল
ধুমসী মেয়ে ।না না তোকে মারবো না তোকে রেপ করে বাসন্তীর কাছে বেঁচে দেবো। করোনার জন্য তিন মাস বেতন নাই। তোকে বেচলে এক লাখ তো পাবোই দিব্যি আমার বাসন্তীর হেসে খেলে বছর খানেক কেটে যাবে।
[রুমার প্রবেশ। একটা দরজার হুড়কো এনে সজোরে মাথায় মারে নীতিনের ।নীতিন লুটিয়ে পড়ে। রক্ত বের হয় গলগল করে। রুমা নীতিনের পকেট থেকে চাবিকাঠি নিয়ে বলে ]
রুমা :- মা আমি চললাম তুই ও কোন দিকে চলে যা নইলে এই শয়তান জানোয়ারটা তোকে আমাকে কাউকে বাঁচতে দেবে না চলে আয় মা চলে আয় ।
[ রুমার প্রস্থান । রুমা ছুটতে ছুটতে একটা বাসস্ট্যান্ডে আসে]
হ্যা এটা বাসটেন্ডই বটে। লুকাবার সঠিক জায়গা। যেদিকের বাস আসবে চেপে যাবো। ঘুটঘুটে অন্ধকারও কেউ সহজে দেখতে পাবে না। হে ঠাকুর একটা যেন বাস আসে।[ কাঁদতে থাকে]
[ মৃগাঙ্কো গাড়ি চালিয়ে কারখানা থেকে বাড়ি ফিরছিল। গাড়ির লাইটে রুমাকে দেখতে পায়। গাড়ি থামায় ও রুমার কাছে যায়]
মৃগাঙ্ক :- এই তুই এই নির্জন বাসস্ট্যান্ডে অন্ধকারে একা একা বসে কাঁদছিস কেন? কি হয়েছে তোর? কি নাম তোর ?
[ কান্না আরও বেড়ে যায় ]
আহ্ কান্না থামা। আমার হাতে এত সময় নেই যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তোর কান্না শুনবো। নাম ঠিকানা বলবি নইলে চললাম ।বলবি না তো? ঠিক আছে পুলিশকে ফোন করছি।
রুমা :- [ উঠে এসে মৃগাঙ্কর পায়ে ধরে ] না বাবু পুলিশকে ফোন করবেন না ।আমার নাম রুমা। আমার কেউ কোথাও নেই, কোন ঘর বাড়ি নেই। এতদিন যাদের বাড়িতে কাজ করতাম তারাও মেরে ধরে এই রাতে তাড়িয়ে দিল। কোথায় যাবো বাবু। তাই কাঁদছি।
মৃগাঙ্ক :- ঠিক আছে আয় আমার সাথে গাড়িতে ওঠ।
[ পূর্বের কোথায় ফিরে যায় ]
রুমা :- সেদিনও লোকটা মদ খেয়েছিল গন্ধ পেয়েছিলাম। প্রতিদিনেই খায়, কিন্তু এরকম বেহেড মাতাল হয় না। অনেকক্ষণ হয়ে গেল দরজা ও লাগিয়ে দিয়েছে কি অবস্থায় আছে দেখতেও পাচ্ছিনা। কি যে করি! দেখি দরজাটা ঠেলে।[ দরজা ঠেলতেই দরজা খুলে গেল]
এইতো দরজা খুলে গেলো। ইস জামা প্যান্ট জুতা কিছুই খোলেনি। খুলে দেবো !যদি রেগে যায় ?কি করে জানতে পারবে হুসই তো নেই। দেখি এই তো বেল্ট খুলে ফেললাম, জুতা মোজা খুললাম এবার জামা কি করে খুলবো !প্যান্ট খুলবো না বাবা।
দেখি জামা খুলি। একি করছেন বাবু আমি রুমা ছাড়ুন ছাড়ুন । আঃ কি রোমাঞ্চ আমিও আর পারছি না । [ মিলন ]
সাত বছর পর
[ মৃগাঙ্ক অফিস বের হবে ডাইনিং টেবিলে খেতে বসলো। একজন অপরিচিত মহিলা খেতে দিল। রুমা কাছেই দাঁড়িয়েছিল]
মৃগাঙ্ক :- এই কে তুমি?
রুমা :- বাবু এ আমার মা।
মৃগাঙ্ক:- মা! তুই যে বলেছিলি তোর কেউ কোথাও নেই?
রুমা :- হাঁ বাবু, মা বাবার অত্যাচারে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছলো। আজ সাত বছর কোন যোগাযোগ ছিল না তাই ভেবেছিলাম আত্মহত্যা করেছে। অয়নকে স্কুলে দিতে গিয়ে মাকে দেখতে পাই ও সাথে নিয়ে আসি।
মৃগাঙ্ক :- এটা কি তোর বাপের বাড়ি? যে যখন যাকে খুশি নিয়ে আসবি নিজের ইচ্ছেমতো আমার পারমিশনে প্রয়োজন বোধ না করেই? রুমা :- কাল পারমিশন নিতাম কিন্তু কি করে নেবো! আপনাকে ফোন করা নিষেধ ,তারপর যখন রাতে ফিরলেন তখন—--
মৃগাঙ্ক :- ঠিক আছে, এখন বলছি তাড়িয়ে দে। এখানে স্থান হবে না।
রুমা :- দয়া করুন বাবু। অসহায় মা কোথায় যাবে! আপনার কোন ক্ষতি করবে না কেবল ভাত কাপড়ের বিনিময়ে সব কাজ করবে। এমনকি আপনার যে ফুলের বাগানটা আছে ওটা আবার ফুলে ফলে ভরিয়ে তুলবে আমার মা।
মৃগাঙ্ক :- তার কোন দরকার নেই ।
রুমা :- একটু ঠান্ডা মাথায় ভাবুন বাবু, অয়নকে স্কুলে দিতে যাওয়া নিয়ে আসা বাড়ির কাজ একজন থাকলে সুবিধা হয়। আর সবথেকে বড় কথা মায়ের থেকে বিশ্বস্ত লোক কোথায় পাবো? আমাকেও বাড়ির সর্বত্র তালা দিয়ে বের হতে হবে না।
মৃগাঙ্ক :- বেশ যদি বেচাল দেখি তো ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বার করে দেবো।
[ খাওয়া হয়ে গেছিল মৃগাঙ্ক উঠতেই স্কুল ড্রেস পরে অয়ন এসে জাপটে ধরে মৃগাঙ্ককে]
অয়ন :- বাবা বাবা আজ স্কুলে গার্জিয়ান মিটিং আছে তুমি যাবে না বাবা?
[মৃগাঙ্ক অয়নকে দূরে ঠেলে দেয় বিপাশা ধরে নেয় অয়নকে]
মৃগাঙ্ক :- ( চিৎকার করে) কে তোর বাবা। আমি বলেছি না আমাকে বাবা বলে ডাকবি না। রুমা তোকে বলেছিনা আমি বের হওয়ার সময় ওই জারজাতকটা যেন আমার সামনে না আসে। আর যদি ভুল হয় তাহলে হয় সবগুলোকে খুন করে দেবো নইলে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেবো। আর আজকে তোর বাবা বলার শাস্তির নমুনা দিচ্ছি।
[ বেল্ট খুলে মারতে যায় ।বিপাশা বেল্ট ধরে নেয়]
বিপাশা :- এ আপনি কি করছেন একটা দুধের শিশুকে বেল্ট দিয়ে মারতে যাচ্ছেন ?
মৃগাঙ্ক :- কি তোর এত বড় সাহস আমার কাজে বাধা দিস।
বিপাশা :- খারাপ কাজে বাধা দিই, ভালো কাজে নয়। অয়ন কি অন্যায় বলেছে? আপনি অস্বীকার করলেই তো সম্পর্ক বদলে যায় না। আমি মানছি আপনি অপ্রকৃতস্থ অবস্থায় ভুল করেছেন।
বেশ তো ডাক্তারি পরীক্ষা করালেই তো বোঝা যাবে কার ছেলে, তখন তো স্বীকার করতে বাধা থাকবেন ।
মৃগাঙ্ক : ওঃ কি ভুল আমি করেছি ।আসলে খেলটা খেলেছিস রুমা তুই। সাত মাসের সময় জানতে পারলাম তুই প্রেগন্যান্ট ।
রুমা:- আমি তো বলিনি আপনাকে
মৃগাঙ্ক:- না তুই বলিস নি। কেন বলিস নি? রুমা:-আপনার সাথে কথা বলার সময় পাই কখন? সব সময় আপনার তিরিক্ষি মেজাজ। রাতে মত্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। সকালে কানে মোবাইল নিয়ে কথা বলতে বলতে বেরিয়ে যান। মাসে দশে ইচ্ছে গেলে ব্রেকফাস্ট করেন না হলে না ।রাতে এসে শুয়ে পড়েন ।আপনার ঘরে ঢোকার অনুমতি নেই । তাহলে কখন জানাবো বলুন তো?
মৃগাঙ্ক :- সেদিন গেছিলি কেন?
রুমা :- সেদিন আপনার অবস্থা খুবই খারাপ ছিল।
মৃগাঙ্ক:- ওঃ । তোর বমির শব্দ শুনতে না পেলে তো আমি কিছুই জানতে পারতাম না। যখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম তখন সব হাতের বাইরে চলে গেছে এ্যাবোরশন করালে তোদের প্রাণ সংশয় হতো কোন ডাক্তার রিস্ক নেয়নি। তাই আজ এদিন দেখতে হচ্ছে। কিন্তু আমি এদিন বেশিদিন দেখবো না ।তোরা তিনজনে জোট বেঁধেছিস তো তোদের তিনজনকেই শেষ করে দেবো।
বিপাশা :- দেখুন শেষ করে দেওয়া এত সহজ নয় জন্ম-মৃত্যু কোনটাই মানুষের হাতে নেই ।তাই বলছিলাম সত্যকে স্বীকার করুন আর ঠান্ডা মাথায় ভাবুন তো আমরা কি আপনার কোন ক্ষতি করেছি বা করছি। রুমা কি কোনদিন স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবি করেছে? অয়ন ছোট ও বোঝেনা তাই বাবা বলে ডেকেছে। অয়ন আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে যখন যুবক হবে তখন আপনি বার্ধক্যে পৌঁছে যাবেন, তখন কি পরিণাম হবে ভেবে দেখেছেন ।
[ মৃগাঙ্গ আরামকেদারায় বসে পড়ল। কিছুক্ষণ পর বলে]
মৃগাঙ্ক :- আপনি ঠিক বলেছেন মা।
বিপাশা :- মা!
মৃগাঙ্ক :- আমার স্ত্রীর মা আমার সন্তানের দিদিমা তো মাই। তাছাড়াও যে জ্ঞানচক্ষু খুলে দেয় সে তো মা-ই [ প্রণাম করে ] আমার ভুল হয়ে গেছে মা আমায় ক্ষমা করে দিন ।অয়নকে কোলে নেয় অয়ন আর একবার বাবা বলে ডাক একবার। আমার পাষাণ হৃদয়টা ঠান্ডা হোক।
অয়ন:- বাবা বা - বা।
তিন মাস পর
[ রুমার পোশাক পরিচ্ছদে আমূল পরিবর্তন ]
রুমা :- সেই নির্দয় মানুষটা যে এমন ভাবে বদলে যাবে ভাবতেও পারিনি। আজ তিন মাস মদ ছোঁয়নি। এখন জোর করে ঠেলে কারখানায় পাঠাতে হয়। অয়নকে পোড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে। মা মা করে পাগল করে তুলছে আমার মাকে। আমাকে সুযোগ পেলেই বা রাতে আদরে আদরে ভরে তুলছে। আজ মাকে জয়চন্ডী পাহাড়ের পূজা দিতে নিয়ে গেছে। এখন আমি খুব সুখী খুব। কোন কিছুর অভাব রাখেনি। ছেলে এখন গাড়িতে স্কুল যাতায়াত করে। হে ঠাকুর আমার এ সুখ যেন বজায় থাকে। কিন্তু ওরা এখনো পুজো দিয়ে ফিরছে না কেন? বলল ছ'টা সাত'টা নাগাদ ফিরে যাবে। দশটা বাজতে চলল একটা ফোনও করেনি বা আমিও ফোনে ওদের পাচ্ছিনা। দেখি আর একবার ফোন করে।
[ মদ খেয়ে টলতে টলতে প্রবেশ মৃগাঙ্কর ]
তুমি এসে গেছো? এ কি? তুমি আমার মদ খেয়েছো? মা কোথায়?
মৃগাঙ্ক:- হাঃ হাঃ হাঃ আজ আমার বড়ই খুশির দিন প্রথম মিশন সাকসেস তাই মদ খেয়েছি। তোর মাকে পাহাড় থেকে ঠেলে ফেলে মেরে দিয়েছি।
রুমা :- কি! কি বলছেন আপনি ?
মৃগাঙ্ক :- বিশ্বাস হচ্ছে না তো? বিশ্বাস হবার কথাও নয় তোর মাকে তিন মাস ধরে মা ডেকেছি প্রণাম করেছি। তোর ওই বেদো ছেলেটাকে ছেলে বলেছি বাবা ডাক শুনেছি ।তোর সাথে সহবাস করেছি। বিশ্বাস করবি কি করে!আরে বোকাচোদা মেয়ে মানুষ সব অভিনয় ছিল। বুঝতে পেরেছিলাম তোর মাই যত নষ্টের গোড়া, তাই অভিনয় করে কৌশল করে এই দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিলাম। স্থানীয় লোকের সহযোগিতায় তোর মায়ের লাশ জ্বালিয়ে তবে আসছি তাই এত দেরি, এই দেখ ভিডিও।
( রুমা কাঁদতে কাঁদতে ভিডিও দেখে)
ব্যাস অনেক দেখেছিস অনেক কেঁদেছিস আর দেখে কেঁদে কাজ নেই ।এবার তোদের পালা। মার্ডারের ছক করাই আছে কেবল সময়ের অপেক্ষা।
[ টলতে টলতে নিজের রুমের দিকে যাচ্ছিল ]
রুমা :- হ্যাঁ এইতো দরজার খিলটা পেয়েছি। রান্নাঘরের গামছাটা জড়িয়ে নিই। হ্যাঁ এইতো হয়ে গেছে ।
[ সজোরে মারে। মৃগাঙ্ক মুখ থুবড়ে মেঝেতে পড়ে যায়। বুকে দমা দম ঘা মারে। মুখে কানে রক্ত বার হয় । ]
ব্যাস কাজ হয়ে গেছে। হার্ট বাস্ট করে গেছে । থাক এখন পড়ে।। অয়নকে ডাকি অয়ন অয়ন?
অয়নের প্রবেশ
অয়ন :- কি বলছো মা?
[ অয়ন কে মৃগাঙ্কর আরামকেদারায় বসায়]
অয়ন:- মা তুমি বাবার চেয়ারে বসাচ্ছ কেন?
রুমা :- (মোবাইলে নাম্বার মেলাতে মেলাতে বলে) এই দেখ এটা কারখানার ম্যানেজারের নাম্বার হেলো করেই কেঁদে কেঁদে বলবি বাবা খুব মদ খেয়ে এসে দেওয়ালে দরজায় ঠক্কর খেতে খেতে খাটের কানায় লেগে বুক গেদে মেঝেতে পড়ে গেছে। প্রচুর রক্ত বের হচ্ছে। মা ঘনঘন মুর্চ্ছা যাচ্ছে। আপনি তাড়াতাড়ি আসুন ও কারখানার আরো লোক নিয়ে চলে আসুন বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। হাঃ হাঃ হাঃ হাঃ
নাট্যকার পরিচিতি:-
আমি ডাক্তার হর্ষময় মন্ডল, পিতা ৺কুচিল চন্দ্র মন্ডল ,মাতা ৺ আনন্দময়ী মন্ডল, ২রা জুলাই ১৯৬৩ সালে বাঁকুড়া জেলার গঙ্গাজলঘাটি থানার অন্তর্গত কাপিষ্টা গ্রামে জন্মগ্রহণ করি। বর্তমানে বাঁকুড়া জেলার বড়জোড়া থানার অন্তর্গত বড়জোড়ায় বসবাস করি, শিক্ষিকা শ্রীমতী তাপস্বী মন্ডল ও একমাত্র পুত্র তপময় মন্ডল কে নিয়ে। পুত্র I. T . O নিউ দিল্লি তে কর্মরত।
আমরা পাঁচ ভাইবোন। আমি সবার ছোট। আমি সায়েন্স নিয়ে এইচ.এস পাশ করে হোমিওপ্যাথি পড়তে যাই রাঁচিতে। ওখান থেকে ডাক্তারি পাস করে প্র্যাক্টিস শুরু করি। আমার বাবাও হোমিওপ্যাথি ডাক্তার ছিলেন।
পাশাপাশি পড়াশোনা শুরু করি বাংলা অনার্স নিয়ে ।যখন ফাইনাল ইয়ার তখন হাই স্কুলের চাকরি পাই।
বর্তমানে চাকরিতে আছি ৩০.১১.২০২৩ এ অবসর গ্রহণ করবো।
মাধ্যমিক দেওয়ার সময় থেকে লেখালেখি করি, এটা আমার বংশগত। বাবা ও বড় দাদা সাহিত্যিক ছিলেন উনাদের বইও আছে।
বহু লিটিল ম্যাগাজিনের সাথে যুক্ত ছিলাম এখনো আছি।" দিক দিগন্ত" সাহিত্য পত্রিকার সহ-সম্পাদক।
প্রচুর পুরস্কার পেয়েছি তার মধ্যে বিশেষ উল্লেখযোগ্য আপনাদের সংস্থা "নবজাগরণ" থেকে "প্রেম অপ্রেম" গল্প গ্রন্থের জন্য "রাজা রামমোহন রায়" স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছি। যদিও শারীরিক অসুস্থতার কারণে যেতে পারিনি।
আমি প্রায় সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ করি, কবিতা, গল্প ,নাটক, যাত্রা, উপন্যাস, প্রবন্ধ, গীত রচনা করি। আমার নাটক "আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে " " প্রত্যাশা " অনুষ্ঠানে অভিনীত হয়।
আমার গল্পগ্রন্থ তিনটি বের হয়েছে যথাক্রমে "অপরাহের আলো" ," বৈশাখে বসন্ত"," প্রেম
অপ্রেম"; কাব্যগ্রন্থ "বিষণ্ণতায় একাকী"; যাত্রার বই "সুখের ঠিকানার খোঁজে " ,"আমি এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ " প্রভৃতি।
যা লেখা জমে আছে এর দশ গুন বই হবে ।
আমি একজন সঙ্গীত শিল্পী। গানের ট্রুপ আছে। চিকিৎসা আমার সমাজ সেবামূলক কাজ।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন