আঁধারের পূজারী | তাপস দাস

কবিতা......

"আঁধারের পূজারী"
তাপস দাস
নদীয়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 
কবে সবার আসবে আলো?
 সেদিন বাঁচি কিবা মরি!
তাইতো আলোক বর্ষব্যাপী আমি তিমিরের পূজারী।
এসো হে অন্ধকার,গভীর তিমির অন্ধকার।
মৃদু সিগ্ধতা দূর করে নেমে এসো এবার।
কল্যাণময়ীগণ আলোর আহ্বান করছে সবাই।
আমার আর আলাদা করে ডাকার প্রয়োজন নাই।
আলো আর আঁধার মিলেই তো ভুবন গড়া।
নেমে এসো বিশ্বময় হে তিমিরের ফোয়ারা।
পৃথিবীর শেষ আলোর বিন্দু টুকু নিভিয়ে দাও।
আমার দৃষ্টিকে অন্ধকারে ঢেকে নাও।
আমায় পাঠিয়ে দাও মাতৃগর্ভের নিশ্চিন্ত তিমির দেশে।
নয়তো চিতায় উঠিয়ে দাও সতীদাহের ন্যায় জীবন্ত লাশের বেশে।
সভ্যতার আলোর নামে মানবতার এই অন্ধকার।
নিতে পারছি না আমি আর।
তাই আমি আজ অন্ধকারের পূজারী।
কারো কাছে হয়তো বা মুখোশ ধারী।
অন্ধকার,অন্ধকার, অন্ধকার।
আগমন হোক এবার তোমার।
বুকে জরিয়ে ধরো ভূমি আর সিন্ধু।
খুঁজে নিতে দাও আধারের মাঝে একটু আলোর বিন্দু।
পাতাল পুরীর হে মহারানী, 
তুমি দাও ঢেলে সব গ্লানি।
তবেই তো আমরা পারবো আবার ঘুরে দাঁড়াতে নতুন করে।
হিংসা বিবাদ স্বার্থ ভুলে সবাই সবার হাতটি ধরে।
আলো পেয়ে পেয়ে আমি হয়ে গেছি বড্ড অহংকারী,
নিজেই জানিনে কখন আমি প্রকৃত আর কখন মুখোশধারী।
তাই আলোকে সড়িয়ে নাও।
একটু ফিরে চাও।
আলোর রয়েছে নানান রং,
গিরগিটির ন্যায় সাজি নানান সং।
কারো পথে আলো আর কারো অন্ধকার।
চাইনা আমি এই দিচারিতার মৃদুময়তার।
আমার দাবিতে জানিনা আমি জিতি কিবা হারি।
চির কালী ব্যাপী আমি থাকবো আঁধারের পূজারী।
আঁধারের পূজারী | তাপস দাস

কবির পরিচিতি-

তাপস দাস।পিতা মৃত বংশী দাস। মাতা তুলসী দাস। জন্ম কুড়ি জুন। নদীয়া জেলার হরিনঘাটা থানার নগরউখড়া নামক গ্রামে বসবাস। 2017 সালে বাংলা এম.এ পাশ এবং বি.এড করার পর আর্থিক কারনে বর্তমানে মাঠের কাজের সাথে যুক্ত। লোকনৃত্য, মঞ্চ নাটকের প্রতি ভালোবাসা এবং কিঞ্চিত পারদর্শিতা রয়েছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়