অকৃত্রিম বন্ধন | মিঠুন রায়
গল্প......
"অকৃত্রিম বন্ধন"
মিঠুন রায়
ত্রিপুরা,ভারতবর্ষ
পরিবারের নানা বাঁধা এড়িয়েও বি এ পাশ করেছে শায়ন। অবশ্য এনিয়ে তাকে অনেক
কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে।সৎ মায়ের সংসারে শায়নকে তার বাবা ছাড়া আর কেউ পছন্দ
করে না। কিন্তু বাবার কথা,তাদের পরিবারে শেষ কথা নয়।ছোট বোন রিয়াকে শায়ন
খুব স্নেহ করে। কিন্তু রিয়া যেন ভিন্ন স্বভাবের মেয়ে।অনেকটা মায়ের
মতই।শায়নের মায়ের তখন মৃত্যু হয়, তখন তার বয়স সবে মাত্র ছয়।এক প্রকার
বাধ্য হয়েই ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসেন
শায়নের বাবা। মাধ্যমিকে প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হয় শায়ন।প্রতিনিয়ত
পরিবারের কাজকর্মে হাত লাগাতে হয় শায়নের। তবুও অদম্য ইচ্ছা শক্তির জেরে সে
বি এ পাশ করেছে।তার ইচ্ছা এম.এ ক্লাস পর্যন্ত পড়াশোনা করার। কিন্তু সৎ মা
চান,সে তার বাবার সাথে ব্যবসায় হাত লাগাক।এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে
পরিবারে দ্বৈরথ। অবশেষে সে মায়ের একগুঁয়েমির নিকট হার মানতে বাধ্য হয়।এম.এ
পড়ার স্বপ্ন গাছে চড়িয়ে বাবার সাথে পারিবারিক ব্যবসায় যোগ দেন।
এভাবেই কেটে গেছে বেশ কয়েকটি বছর। ইতিমধ্যে রিয়ারও বিয়ে হয়ে
গেছে।পাত্রের নাম অলক।শায়নের দুই বছরের ছোট। খুব ভালো ছেলে।অলক,শায়নকে খুব
সম্মান করে। কথাপ্রসঙ্গে অলক জানতে পারল শায়নের এম.এ পড়ার করার অসমাপ্ত
ইচ্ছের কথা। অনলাইনে নোট সংগ্রহ করে সে শায়নকে ভর্তি করিয়ে দিল
ডিসটেন্সে।দু বছর বাদে শায়ন রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করল।স্বপ্ন পূরণের
প্রধান কারিগর অলককে সে বুকে টেনে নিল।ছেলের প্রত্যাশিত সাফল্যে আজ আনন্দিত
বৃদ্ধ পিতা।কেননা, সন্তানের সাফল্যে মে মা-বাবার এমনিতেই আনন্দ হবার কথা।
কিছুদিন বাদে সরকারী চাকরী পেল শায়ন। কিন্তু এ কি, শায়নের সৎ মা রে
অসুস্থ।অনেক পরীক্ষার পর ধরা পড়ল মায়ের তে দুটো কিডনি বিকল হয়ে গেছে।কে
দেবে কিডনি। অন্ততঃ একটি কিডনি পেলেও রোগীকে বাঁচানো যেত।কথাটা কানে আসতেই
রিয়া সাফ জানিয়ে দিল,মাকে তার কিডনি দান করা সম্ভব নয়।তার একটা পরিবার
আছে, ভবিষ্যত আছে। এগিয়ে এল শায়ন। রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় নিজেই রাজী
হলেন মায়ের জীবন বাঁচাতে একটি কিডনি দান করার।অলকের তৎপরতায় সরকারি
হাসপাতালে দুজনের অপারেশন সম্পন্ন হল।জ্ঞান ফেরার পর শায়ন দেখল সে শুয়ে আছে
মায়ের পাশের বিছানায়।মায়ের চোখ দিয়ে পড়ছে অবিরাম বারি ধারা। আসলে
সন্তানের সাথে মে মায়ের অকৃত্রিম বন্ধন রয়েছে,তার অস্বীকার করার উপায় মে
নেই।

দারুণ লিখেছেন
উত্তরমুছুন