মুক্ত পৃথিবী | মৃত্তিকা রায়

কবিতা......

"মুক্ত পৃথিবী"
মৃত্তিকা রায়
বর্ধমান,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 

পিশাচরূপে মানবজাতি করেছিলো কত অত্যাচার,
কিছুই বলোনি একটা দিনও হয়েছিলে তুমি নির্বিকার। 
আমরা মাগো সন্তান হয়েও, তোমার ব্যথা বুঝিনি, 
কোথায় তোমার দুঃখ আছে, একটা দিনও খুঁজিনি।
নিজের স্বার্থে দূষণে-দূষণে তোমায় আঘাত করেছি, 
সহ্যের একটা মাত্রা আছে, কেউকি কখনো ভেবেছি?
তাইতো মোরা মানবজাতি হয়েছিলাম জব্দ, 
করোনা থেকে, মুক্তি পেতে জনজীবন স্তব্ধ। 
বায়ু দূষণ,শব্দ দূষণ কিছুই করতে পারিনি,
ঘরে থেকেই লড়েছি মোরা,হার যদিও মানিনি। 
হরিণ,ময়ূর,ডলফিনদের করেছি কত অবহেলা,
তারা কত স্বাধীন হয়েছিল পেয়ে পরিবেশ খোলামেলা। 
আকাশ বাতাস মুক্ত ছিল, প্রাণ ভরে বায়ু পাচ্ছিলাম, 
আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই বিশুদ্ধ শ্বাস নিচ্ছিলাম।
প্রকৃতির ধারা কালবৈশাখী কতদিন পরে দেখলাম,
ব্যস্ত পৃথিবী,শান্ত হয়েছে জ্যোৎস্না রাতে বুঝলাম। 
বউকথা-কও কোকিলরা সব,এক সুরে গান গাইছিল।
কল কল করে, স্নিগ্ধতা ভরে গঙ্গা জল বইছিল। 
কত শত গাছ গজিয়ে ছিলো যে ,গাছ কাটার ছিলোনা কোনো ভয়,
সবুজে সবুজ হয়েছিল ধরা, ছিল না তো কোনো ভূমিক্ষয়।
কত তারাদের দেখেছি যে মোরা নীলাকাশে উঁকি মারতে, 
দূষণমুক্ত হয়ে পৃথিবীকে, নতুন করে জাগতে। 
সবুজ বরণ নীলাম্বরী এই পৃথিবীই চাই, 
সুস্থ হয়ে বাঁচার মতো, আনন্দ আর নাই।
মুক্ত পৃথিবী | মৃত্তিকা রায়
কবির পরিচিতি-
আমি মৃত্তিকা রায়। 
আমি পশ্চিমবঙ্গে নিবাসী পূর্ব বর্ধমান জেলার, কাটোয়া থানার অন্তর্গত দাঁইহাটের বাসিন্দা।
আমি দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।দাঁইহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে পাঠরতা। 
 বাবা সিদ্ধার্থ শংকর রায় এবং মা ঝুমা রায়।

অত্যন্ত নামকরা ❝দাশু রায়ের পাঁচালী❞ -কথা প্রায় কারোর ই অজানা নয়।

সেই প্রখ্যাত দাশরথি রায়ের বংশের একজন আমি। 
আমার, সামান্য লেখালিখির ক্ষমতা তাঁর আশীর্বাদেই পাওয়া।

ছোটো থেকেই(৮-৯ বছর বয়স থেকে) আনমনে বেশ অনেক কিছু লিখতাম,তখন কারো তেমন চোখে পড়েনি।
২০২০ সালে করোনার সময় থেকে, কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে লেখালিখি শুরু করলে,তা সকলের বেশ পছন্দ হয়।
যা আমার লেখালিখির ইচ্ছাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
আমি আমার প্রিয় ব্যক্তিদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে লেখালিখি করি।প্রকৃতি পরিবেশ ফুল পাতা নিয়ে লিখতেও বেশ ভালোবাসি।
প্রায় ৩-৪ বছরে প্রায় অনেক অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেছি।
আমি একদিকে একজন নৃত্যশিল্পী,অন্যদিকে কবিতা লিখতে খুব ভালোবাসি।
সত্যি বলতে লিখবো বলে কখনো লিখতে বসি না,মনে যখন ছন্দ আসে,তখন ই পেন খাতা নিয়ে বসে পড়ি,কখনো কখনো যখন হাতের কাছে পেন খাতা থাকে না,তখন ফোনে মেসেজ এর মত কবিতা লিখে ফেলি। 
ফেসবুকে,পাওয়া কয়েকটি অনলাইন প্রতিযোগিতায়, স্বরচিত কবিতায় অংশগ্রহণ করে, আন্তর্জাতিক স্তরে পুরস্কার পেয়েছি। 
বয়স এখন সবে সতেরো,
আশা করছি,কবিতা লেখা আমার যেন মনে-প্রাণে মিশে থাকে সারা জীবন, এটাই আমার ভালোবাসা,ভালোথাকা-র একমাত্র ভরসা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়