কীচক বধ | শিবব্রত গুহ

প্রবন্ধ......

"কীচক বধ"
শিবব্রত গুহ
কোলকাতা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 

মহাভারত, যা ভারতীয় সভ্যতা ও
সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে
চলেছে, সেই সুদূর প্রাচীনকাল
থেকে। আমি আজ আপনাদের,
মহাভারতের যে কাহিনী শোনাবো,
তা মহাভারতের বিরাট পর্ব থেকে
নেওয়া  হয়েছে। কৌরবেরা কপটতার আশ্রয় নিয়ে, পান্ডবদের
পাশাখেলায় পরাজিত করে, তাঁদের,
বারো বছর বনবাস ও এক বছর অজ্ঞাতবাসে পাঠায়।

আবার এই অজ্ঞাতবাসের ব্যাপারে,
এক কঠিন শর্ত ছিল। তা হল, এই
এক বছর অজ্ঞাতবাস,  এমন ভাবে কাটাতে হবে, যাতে কেউ যেন পান্ডবদের চিনতে না পারে। চিনতে
পারলেই, আবার পান্ডবদের বারো
বছর বনবাসে কাটাতে হবে। বনবাসের বারো বছর,  তো,
অনেক কষ্টের মধ্যে দিয়ে,
পান্ডবদের কাটলো। এবার অজ্ঞাতবাসের পালা। তাই, কোথায়
কিভাবে গোপনে লুকিয়ে থাকা
যায়, তা নিয়ে পান্ডবেরা, এক নির্জন
স্থানে, বসে  পরামর্শ করতে থাকে।

অনেক পরামর্শ করার পরে, তাঁরা,
ঠিক করলেন, যে, নানা রকমের
কাজ নিয়ে, মৎস্যরাজ বিরাটের
রাজধানীতে,  এই এক বছর ছদ্মবেশে, কাটিয়ে দেবেন।

যুধিষ্ঠির হবেন, বিরাটের সভাসদ,
তাঁর নাম হবে কঙ্ক। ভীম হবেন পাচক, তিনি যে নামে পরিচিত হবেন, তা হল, বল্লব। অর্জুন
হবেন নপুংসক।  তিনি বিরাটের
রাজবাড়ির নারীদের, নৃত্যগীতের
শিক্ষক হবেন, নাম হবে, বৃহন্নলা।

নকুল কাজ নেবেন বিরাটের ঘোড়াশালায়, তাঁর নাম হবে,
গ্রন্থিক। সহদেব, বিরাটের গোশালায়
কাজে নিযুক্ত হবেন। তাঁর নাম
হবে, তন্তিপাল।

এবার আসি দ্রৌপদী কথায়। তিনি
বিরাটের রানীর কাছে, মালাগাঁথা,
চুলবাঁধা প্রভৃতি কাজ নিয়ে থাকবেন। তাঁর নাম হবে সৈরিন্ধ্রী।
এছাড়া,  পান্ডবদের আরও পাঁচটি গুপ্ত নাম ছিল।

সেগুলো হল - জয়, জয়ন্ত,
বিজয়, জয়ৎসেন ও জয়দ্বল।
পান্ডবেরা ছিলেন অত্যন্ত সৎ।
তাঁরা পায়ে হেঁটে,  অনেক পথ
পরিক্রমা করে, অবশেষে মৎস্য
দেশে এসে উপস্থিত হয়েছিলেন।

মৎস্য দেশের রাজধানীর কাছে এসে,  শ্মশানের ধারে,  একটি
বিরাট শমীগাছ দেখলেন তাঁরা।
তাঁদের সব দিব্য অস্ত্রশস্ত্রসমূহ
এক করে, নকুল,  ওই শমীগাছের
উঁচু ডালে, বেশ শক্ত করে,  বেঁধে
রেখে দিলেন।

তার সাথে,  শ্মশান থেকে একটা মড়া এনে,  বেঁধে দিলেন। যাতে দুর্গন্ধে ও ভয়ে,  কেউ যেন,
ওদিকে না যায়। তারপর,  তাঁরা
শহরে প্রবেশ করলেন।

যুধিষ্ঠির,  পাশার গুটি হাতে নিয়ে,
ব্রাক্ষ্মণ - এর ছদ্মবেশে,  বিরাট রাজার সামনে গিয়ে বললেন,
" মহারাজ, আমি একজন ব্রাক্ষ্মণ।
আমার নাম হল কঙ্ক। বিশেষ বিপদে
পড়ে, আজ আমি আপনার সাহায্যপ্রার্থী। আগে, মহারাজ যুধিষ্ঠিরের বন্ধু ছিলাম। এখন

আপনার কাছে এসেছি। আপনি
আমায় রাখুন। "

বিরাট রাজা, যুধিষ্ঠিরকে, তাঁর কাছে রাখলেন। তিনি রাজসভায়
পরম সুখে, দিন কাটাতে লাগলেন।
এভাবে, একে একে,  ভীম বিরাট রাজার প্রধান পাচকের কাজে,
অর্জুন, নপুংসকের বেশে, বিরাট রাজার কন্যা উত্তরা ও তাঁর সখীদের
নাচগান শেখানোর কাজে, নকুল
বিরাট রাজার, ঘোড়াশালার পরিচালনার কাজে, সহদেব বিরাট রাজার গোশালার প্রধান

পরিচালকের কাজে এবং  দ্রৌপদীর
বিরাট রাজার মহারানীর পরিচারিকার কাজে নিযুক্ত হয়েছিলেন।

এইভাবে,  বিরাট রাজার রাজ্য মৎস্যদেশে,  ভালোভাবেই,
পান্ডবদের,  অজ্ঞাতবাসের দশ
মাস কেটে গেল। সমস্যা শুরু হল, তারপর থেকে। দ্রৌপদীকে
নিয়ে হঠাৎ করে এক সমস্যা শুরু
হয়ে গেল। একদিন, বিরাট রাজার সেনাপতি কীচক, দ্রৌপদীকে দেখতে পেল। দ্রৌপদী ছিল

অসাধারণ সুন্দরী নারী। এবার,
কীচক সম্পর্কে কিছু কথা,
আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
কীচক ছিল একজন খুব বড় যোদ্ধা।  তার গায়ের জোর ছিল
খুব।

কিন্তু,  সে ছিল কামুক প্রকৃতির।
সুন্দরী নারী ছিল তার দুর্বলতা।
তার দাপটে মৎস্যদেশে, কেউ
তার মুখের ওপরে কোন কথা
বলতে পারতো না। এমনকি,
রাজা বিরাটও নয়।

দ্রৌপদীর রূপের আগুন, কীচকের
মনে কামাগ্নি প্রজ্জ্বলিত করলো।
সে দ্রৌপদীকে কাছে পাবার জন্য,
ব্যাকুল হয়ে উঠলো। সে উপযুক্ত
সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে
লাগলো। একদিন, দ্রৌপদীকে,
একা পেয়ে,  কীচক,  তাঁকে
লোভ দেখাতে শুরু করলো।
সে বলে, " হে সুন্দরী,  তুমি কেন
শুধু শুধু কষ্ট পাচ্ছো?  তোমার
এত কষ্ট আমি চোখে দেখতে পারছি
না। সুন্দরী,  তুমি আমার সাথে চলো। তোমাকে আমি খুব সুখে
রাখবো। তোমার কোন দু:খ আর

থাকবে না। তুমি জানো না, আমি
কত ধনী, তোমার ধন সম্পদ, দামী
বস্ত্র সহ,  যা যা লাগবে, আমি তোমাকে তাই তাই দেব। এইসব
ছোট কাজ তোমার জন্য নয়।
তুমি আমার সাথে গেলে, দাসদাসী
সব তোমাকে মাথায় করে রাখবে।
চলো, সুন্দরী,  তুমি আমার সাথে চলো।"

দ্রৌপদী, এসব শুনে খুবই বিরক্ত হল। কিন্তু,  মুখে কিছু প্রকাশ না
করে, শান্ত ভাবে, বললো, "
আমি ছোট কাজ করি। আমি

কিভাবে আপনার যোগ্যা হবো?
আমি কোনভাবেই আপনার যোগ্যা
নই। আমার কোন লোভ নেই। আমার ধন সম্পদ, দামী বস্ত্র
কিছুই লাগবে না। আমার তো
স্বামী রয়েছে, একজন নয়, পাঁচ
পাঁচজন। তাঁরা কিন্তু সদা সর্বদা আমাকে রক্ষা করেন। আপনি আমার থেকে দূরে থাকুন। আমাকে
আপনি পাবার চেষ্টা করলে, তাঁরা কিন্তু আপনাকে ছাড়বে না। তাঁরা
আপনাকে মেরেই ফেলবে। দোহাই,
আপনাকে, আপনি আমাকে আমার
মতো থাকতে দিন।"

কীচক কিন্তু,  এতসব কিছু শুনেও
চুপ করে থাকলো না। সে ছলে
বলে কৌশলে দ্রৌপদীকে, পাবার
চেষ্টা চালিয়ে যেতে লাগলো। এব্যাপারে,  তিনি বিরাট রাজার
রানীকে কাজে লাগালেন। তিনি
তাকে দায়িত্ব দিলেন, যে কোন
ভাবেই হোক, দ্রৌপদীকে তার কাছে
নিয়ে আসার, দ্রৌপদীকে মিষ্টি
কথায় রাজি করানোর।

রানী, মন্ত্রণা অনুসারে, একদিন,
দ্রৌপদীকে, পানীয় আনার জন্য
কীচকের বাড়িতে পাঠালেন।

দ্রৌপদী প্রথমে আপত্তি জানায়,
কিন্তু,  রানী,  তাঁকে, মিষ্টি কথায়
রাজী করায়। অগত্যা, দ্রৌপদীকে
যেতে হয়।

দ্রৌপদীকে দেখে তো,  কীচক
আনন্দে অস্থির হয়ে ওঠে। সে নানা
ভাবে তাঁর মন জয় করার চেষ্টা করতে থাকে। শেষে,  ব্যর্থ হয়ে,
যেই না,  দ্রৌপদীর হাত ধরে তাঁকে
কাছে টানতে গেছে, অমনি দ্রৌপদী,
দুহাতে তাকে, এমন ধাক্কা দেয়,
যে, দুরাত্মা,  চিৎপাত হয়ে পড়ে
যায়।

দ্রৌপদী তখন দ্রুত ছুটতে
শুরু করে। এদিকে, কীচক তো
ছেড়ে দেবার পাত্র নয়। সে দ্রৌপদীর পিছু নেয়। তারপর,
রাজসভায় গিয়ে, বিরাট রাজার
সামনেই, দ্রৌপদীর চুলের মুঠি
ধরে, এক লাথিতে, তাঁকে ভূপাতিত
করে দিল। বিরাট রাজা নিশ্চুপ
হয়ে বসে থাকলেন, এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করার সাহস তার  ছিল না।

যুধিষ্ঠির ও ভীম ছদ্মবেশে তখন,
রাজসভায় উপস্থিত ছিলেন।
তাঁদের মনে এসব দেখে খুব বেদনা হল। ভীম তো,  রাগে কাঁপতে
লাগলো। সে তখনই,  কীচককে,
বধ করতে চাইলো।

তা বুঝতে পেরে, যুধিষ্ঠির,  তাঁকে,
ইশারায় থামিয়ে দিলেন। বিরাট রাজার চোখের সামনে, এই অন্যায়
ঘটে গেল, অথচ, বিরাট রাজা,
কোনো প্রতিকার করলেন না।
দ্রৌপদী, কাঁদতে কাঁদতে এজন্য,
বিরাট রাজার নিন্দা করলেন।

রাজসভার অন্যান্য সভাসদেরা,
দ্রৌপদীর খুব প্রশংসা করলেন।
যুধিষ্ঠির তাঁকে অনেক ভালো ভালো বাক্য বলে, শান্ত করলেন।
দ্রৌপদী,  চোখের জল মুছতে
মুছতে অন্দরমহলে চলে গেলেন।

সেদিন গভীর রাতে, দ্রৌপদী,
চুপিচুপি বিছানা ত্যাগ করে,
সোজা ভীমের কাছে গেলেন।
কারণ,  ভীম ছাড়া,  এইসময় আর কেউ নেই তাঁর পাশে।

যে তাঁর মনের ব্যথা দূর করতে পারে। ভীমের গায়ে হাত দিয়ে
ডাকলেন, " মধ্যমপাণ্ডব,  ওঠো,
উঠে পড়ো।"

সেই ডাক শুনতে পেয়ে, ভীম
উঠে বসলেন। তখন দ্রৌপদী
ক্রন্দনরত অবস্থায় বললেন,
" পাপিষ্ঠ কীচক সভার মধ্যে,
আমাকে আঘাত করেছে। সে এখনো জীবিত আছে। আর তুমি
কি করে, নিশ্চিন্তে এভাবে নিদ্রা
যাচ্ছো?  এর থেকে আমার মরে
যাওয়া ভালো।

অভাগিনী বলে, এখনো জীবিত আছি। আমি কীচকের মৃত্যু চাই।
বলো, কবে তুমি তাকে, যমালয়ে
পাঠাবে?  কবে?  তা না হলে
আমি বিষ খেয়ে মরবো।"

ভীম তাঁকে আশ্বাস দিতে দিতে বললেন, " দ্রৌপদী, তুমি আর মনে
মনে এই ব্যাপারে কষ্ট পেয়ো না।
আমি তোমার মনের জ্বালা অনুভব করতে পারছি মর্মে মর্মে। রাজসভায়, যখন কীচক তোমার
সাথে অসভ্যতামি করছিলো,
আমার রাগ তখন শেষ সীমায়

গিয়ে পৌঁছেছিল। আমার তখন
ইচ্ছে করছিলো, যে, ওই ভরা
রাজসভায় কীচককে বধ করে,
তোমার অপমানের প্রতিশোধ নিই।
কিন্তু,  জ্যেষ্ঠ যুধিষ্ঠিরের নির্দেশে,
আমি নিশ্চুপ থাকলাম। পাঞ্চালী,
তুমি তো জান, আমি তোমার
অপমান সহ্য করতে পারিনা।

তুমি যা চাইছো, তাই হবে। তুমি
আর কেঁদো না। আগামী কাল
রাতেই, আমি কীচককে যমালয়ে পাঠাবো। আগামীকাল সকালে,
তুমি গোপনে, তার সাথে দেখা করে,

তাকে বলবে, সে যেন গোপনে,
আগামীকাল রাতের অন্ধকারে,
নাচগানের ঘরে, যায়। কারণ,  রাতের বেলা সেখানে কেউ থাকে না। সে ঘরে, একটা ভালো খাট ও
বিছানা আছে। আমি আগে থেকেই
সেখানে রইবো।"

দ্রৌপদী তখন নিশ্চিন্ত হল। সে
চোখের জল মুছে ফেললো,
তারপর যথাস্থানে ফিরে গেলো,
নি:শব্দে, আনন্দের সাথে।
পরের দিন প্রভাতে, দুষ্ট কীচক রাজভবনে এলো। এসে দ্রৌপদীকে
ডেকে বীরদর্পে বলে, " কিহে,
সুন্দরী,  দেখলে তো, এই মৎস্য
রাজ্যে, আমার, কত ক্ষমতা,  এখানে আমিই সর্বেসর্বা। এখানে আমি যা মনে করবো, তাই হবে।
গতকাল রাজসভায়, সবার সামনে,
তোমাকে কত আঘাত করলাম,
কেউ পারলো আমাকে বাধা দিতে!
পারেনি, আর পারবেও না কোনদিন। বিরাট তো নামেই রাজা।
কিন্তু,  এই রাজ্যে প্রকৃত রাজা হলাম, আমি।

আমার হাতেই আছে যাবতীয় ক্ষমতা।  কাজেই,  তুমি আমার
কথা মন দিয়ে শোন। তুমি আনন্দে
দিন কাটাবে। দাস দাসী, অর্থ,
দামী অলংকার,  সব,  সব তুমি
পাবে। "

দ্রৌপদী মৃদু হেসে বললো, "
কীচক!  তুমি যা বললে, তাই হবে।
তোমার ইচ্ছেই পূর্ণ হবে। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।
আমি এটাও, বুঝতে পেরেছি,
যে, এই মৎস্যদেশে, তোমার তুল্য
বীর ও শক্তিশালী পুরুষ,  আর

কেউই নেই। আজ রাতের বেলায়,
তুমি অতি গোপনে, নাচগানের
ঘরে যাবে, সেখানে রাতে কেউ
থাকে না। কিন্তু,  আবারও বলছি,
সাবধান, কেউ যেন টের না পায়।
টের পেলেই ঘটে যাবে মহা সর্বনাশ।
আমি আমার গন্ধর্ব স্বামীদের খুব
ভয় করি। তাঁরা যে প্রচন্ড রাগি।"

একথা শুনে, হাসি মুখে, কীচক
বলে, " তাই হবে, সুন্দরী। তাই হবে।"
- একথা বলে, কীচক সেখান থেকে প্রস্থান করলো।

কীচক বধ | শিবব্রত গুহ
কীচক বধ | শিবব্রত গুহ

দ্রৌপদীও,  মহা আনন্দে, গোপনে,
ভীমের কাছে গিয়ে, এই সংবাদ দিয়ে এল। ভীমও সব শুনে,  প্রবল
খুশিতে কীচক বধের প্রস্তুতি শুরু
করে দিল।

সেদিন, রাতের বেলায়,  ভীম আগে থেকেই,  নাচগানের ঘরে গিয়ে,
কাপড় মুড়ি দিয়ে, শুয়েছিল।
কীচক বেটা তো এসব কিছুই
জানে না। সে তো মনের আনন্দে,
বেশ রাত করে, সেখানে এসে হাজির হলো।

সেখানে অন্ধকারের মধ্যে, কাপড়ে
পুরো ঢাকা,  থাকা ভীমকে সে
দ্রৌপদী ভেবে ভুল করলো। তাই,
ভীমের গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে,  সে বলে, " সুন্দরী,
এত লজ্জা কিসের?  নারীরা বলে,
আমার মতো সুন্দর ও বলিষ্ঠ
পুরুষ কোথাও নেই। তোমার
তো গর্ব করা উচিত আমাকে
নিয়ে। "

ভীম মজা করে বললো, " আমিও
কোনদিন এত মধুর স্পর্শ পাইনি।"
এরপরে, সে এক ঝটকায়, গায়ের

কাপড় ফেলে দিয়ে, কীচকের
চুলের মুঠি ধরে বললো, "
পাপিষ্ঠ,  আজ আমি তোকে যমালয়ে পাঠাবো। তখন সৈরিন্ধ্রী
নির্ভয়ে চলাফেরা করতে পারবে।
আর তাই দেখে,  তাঁর  গন্ধর্ব
স্বামীরা যারপরনাই আনন্দিত হবে।
বুঝলি শয়তান।"

- একথা বলে, ভীম কীচককে ভয়ানক প্রহার করতে লাগলো।
তবে, কীচকো যেমন তেমন বীর
ছিল না। সেও প্রাথমিক ঝটকা
সামলে নিয়ে, ভীমের বিরুদ্ধে,

প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুললো।
শুরু হল এক ভীষণ সংগ্রাম।
এ বলে, আমায় দ্যাখ, তো
ও বলে, আমায়।

কিন্তু,  ভীমের কাছে কীচকের লম্ফ
ঝম্প বেশিক্ষণ টিঁকলো না।
ভীম তো আর যেমন তেমন বীর
ছিল না। তাঁর গায়ে ছিল দশ
হাজার হাতির বল।

ভীম কীচককে এমন মার দিলো,
যে, মারের চোটে, কীচকের মাথা,
হাত, পা, সব একেবারে, পেটের

ভেতরে ঢুকে গিয়ে, একতাল মাংস
পিন্ড - এর মতো হয়ে গেল।
ভীমের হাতে কীচক বধ,  এভাবেই সম্পন্ন হল। ভীম তারপর,  কীচকের
অন্তিম দশা, দ্রৌপদীকে দেখালো।
দ্রৌপদী তখন ফেললো, স্বস্তির
নি:শ্বাস।


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়