চির সবুজে ঘেরা বাংলা | এইচ.এম.সাজিদ

কবিতা......

"চির সবুজে ঘেরা বাংলা "
এইচ.এম.সাজিদ
বাংলাদেশ 

 বাঙালি দেখেছো কী? কখনো-বাংলা'র রূপ প্রকৃতি-
অপরূপে সৌন্দর্য ঘেরা! চিরসবুজ বঙ্গের লিলাভূমি! সবুজ-শ্যামল মাঠ-ঘাট-ক্ষেত-
কী অপূর্ব মায়াবী চিরসবুজ  বাংলা!  
বাঙালি হাসান কৃষকের ধান-শস্যের আবাদ ভূমি- 
যতই দেখিবে ততই হবে'ই মুগ্ধ আঁখি !
স্বাধীন বাঙালি'র পতাকার মতোই
কৃষকের ক্ষেতের লাল সবুজের তরমুজ!
আহ্ কী স্বাদ!বাঙালি কবি'র মুখেই আর ভিনদেশি জনতার ধ্বনিতেই_চিরসবুজ বাংলায়!!

বাঙালির গৌরব! হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-খ্রীষ্টান যতত্র
কবি'র অহংকার কবি'র গৌরব- জাতির অহংকার-
 চির সবুজ বাংলার গৌরব 
জীবন-রক্ত কেনা এ ভূমিতেই সোনা ফলে!!
দ্বীপ কুতুব গঞ্জের চাষি বেগম রোকেয়ার ক্ষেতে নানার শস্যদানা,কয়েরি রঙ্গে ভরা বেগুন আর লাল টমেটো-
কাঁচা-মরিচ,ফুলকপি-বাঁধাকপি, আলু-মূলা 
কত নানান বিচিত্র শস্যদানা-ফলফলাদি!
 কেবল এ গঞ্জে নহে সারা বাঙলাতেই ফলে।।

 বঙ্গের এসব বাংলার রূপসী কবি জীবনানন্দ দাশের কাব্যগ্রন্থ ও কবিতায় নাকি শুধুই পড়েছো আর শুনেছো জেনেছো! না__না__না, 
কবিগুরু নিজে তো এ বাংলার প্রকৃতির রূপ দেখেছেন
তাই তো তাহার  কাব্যগ্রন্থে  ছন্দে ছন্দে রচিয়েছে
চিরসবুজ বাংলার রূপ-রস,গন্ধ-মুগ্ধতা ও মাধুর্যতা !
বিখ্যাত কবিগুরু রা তো-  
চিরসবুজ বাংলার রূপ প্রকৃতির দেখেই কলম ধরেছেন- অমর করেছেন বাংলা সাহিত্য!

চিরসবুজ বাংলা বন-বৃক্ষ,গাছ-পালা,লতা-পাতা আর
বট বৃক্ষের কী মাধুর্য ও দৃশ্য! 
সেই বঙ্গের বটবৃক্ষের লতায় পাতায় আর গন্ডে
কত নানান বিচিত্র রঙের পাখি আনাগোনা!!
ঘুঘু, টুনটুনি,টিয়া,ময়না,দোয়েল,শালিকসহ নাম-
জানা_অজানা কত শত চেনাপরিচিত!
চিরসবুজ বাংলার প্রকৃতির,পাখপাখালির দৃশ্যবলি!!

পুকুর পাড়ের নারকেল গাছে ডালের খোসায় কাকের বাসা উদাস দুপুরে কত চেঁচামেচি!
উদাস মনে শুনতেই বড্ড ভালো লাগে তবে কত বিচিত্র কালো দেখিতে!
তেঁতুল গাছের মস্ত ডালে বসে আছে হলুদে পাখি-
কত সুন্দর দেখতে! কবি'র ঐ রং ছুঁয়তে যায় বার বার!

কবি দেখে ততই ব্যাকুল! দিশেহারা-হৃদয় পাগলপারা-
ছুঁতে চায় মন কবি'র বটবৃক্ষের খন্ডে শালিক পাখির বাসা!শালিকের ছানা গুলো পাকা মেলতে চড়ুই-
মুক্ত স্বাধীন চির সবুজ বাংলার প্রকৃতির স্বাদ পেতে-
আকাশে উড়াল দিতে মনখোশে!!

বর্ষার মেঘমালায়! আকাশে বিদ্যুৎ চমকানো মেঘে'র গুড় গর্জন আর মুষল ধারা বৃষ্টিতেই-
চাষা'রা ধানের বীজতলা থেকে বীজ উৎতুলন আর রোপণ- কৃষকের গাঁ'য়ে বাঁশ বেতের জুঁই
বর্ষার মুষলে প্লাবিত থৈ থৈ মস্ত মাঠে-
কী মাধুর্য দৃশ্য!চিরসবুজ বাংলার!
যেন মনে হবে_ সত্যি প্রকৃতির সাথে হারিয়ে যেতে-
পৃথিবীর মস্ত মানচিত্রে'র খন্ডে একমাত্র স্বাধীন,
  আমরাই বাঙালি জাতি_চিরসবুজ বাংলায়!!


আষাঢ়-শ্রাবণের অজর ধরা বৃষ্টিতে'ই মাঠ-ঘাট, শস্য-ক্ষেত, সাগর, নদী-নালা মুষলে প্লাবিত থৈ থৈ-
পদ্মা-মেঘনা-যমুনা- কর্ণফুলী ও 
বঙ্গবসাগরে'র ঢেউ মস্ত বড় উঁচুতে লাফিয়েই আবার  নিচে জল-ঢেই মিশিয়ে শান্ত হয়ে কি ভয়ংকর সাগর।
 নৌকা কী নাচানাচি-লাফালাফি, হাশিম মাঝি'র
 সাগরের তান্ডব দেখে, জেলে পাড়া'র রামকৃষ্ণ নায়া তো বেহুঁশ হয়ে পড়ে অজ্ঞান এখনও-
 একদিকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে 
ঐদিকে মাঝিমাল্লারাই আল্লাহ,রাসূল(স:)!ঈশ্বর-ভগবান জিকির মুখে মুখেই!!
সাধারণত বর্ষায় কালবৈশাখী ঝড়-তুফানে এ তান্ডব
দেখা দেয় বাংলায়!
এসব  বাঙালি'র ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রূপেই গন্য হতো- উৎসবে তবেই বাঙ্গালী জাতি সচেতন হতো
  প্রাণে বাঁচতে শিখতে অভাব আর ধরা দিতো না।।

বর্ষার মেঘমালা এমন করুণ নির্মম দৃশ্যবলি বাঙালি জাতি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বাঙালি হৃদয়ে হৃদয়ে। লাগাতার এক সপ্তাহ বা মাসের অর্ধেক আবার কখনো  পুরাটা মাস জুড়েই মুষলধরা বর্ষন। কেবলই দিন-মজুর,কুলি-কৃষকরা- 
বাঙালি জাতি'র_গবির অসহায় সাধারণ মানুষ, 
বর্ষার অভাবেই অতিষ্ট জন-জীবন দুঃখ-কষ্টে।
তবে ক-জনেই কপালে জুটতো -
বর্ষায় অভাবে পেটে ভাত ! 
চিন্তায়ই ঘুম হারাম,আহার মুখে দেয় না-
নেমে আসে জুড়েই বসে সংসারে অশান্তি!
এসব দৃশ্য চিরসবুজ বাংলার প্রকৃতির।।

চিরসবুজ বাংলার রূপ-রস প্রকৃতির রূপের প্রেমে পড়ে কবি ধরা খেয়েছেন।
আর তাই কবি'র ধরেছেন কলম_ছন্দে ছন্দে রচিয়েছে
অমর একখান কবিতা ""চিরসবুজ বাংলা"" !!

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়