কার আশ্রয় কোথায় | রানা জামান

গল্প......

"কার আশ্রয় কোথায়"
রানা জামান

গেটের ভেতরে গাড়িটা ঢোকার সাথে সাথে রিশিকা রহমান মুচকি হাসলেন। জিপটা পোর্চে ঢুকে থামলে শাফায়াত রেজাক মার দিকে তাকিয়ে বললেন, এখানে নামতে হবে, মা।

রিশিকা রহমান বললেন, আজই আমাকে এখানে রেখে রাখি বাপ?

শাফায়াত রেজাক বললেন, না, মা। তোমাকে নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছি।

রিশিকা রহমান বললেন, আমি এখানে আগেও এসেছি।

কেনো এসেছিলে, মা?

দেখতে এসেছিলাম।

শাফায়াত রেজাক জিপ থেকে নেমে এদিকে এসে দরজা খুলে বললেন, নামো, মা। আমরা আজকে এখানে ঘুরেফিরে ভালো করে দেখবো।

রিশিকা রহমান গম্ভীর মুখে জিপ থেকে নেমে বললেন, কোনদিকে যেতে হবে?

প্রথমে ভেতরে যাবো। এর ভেতরটা খুব সুন্দর। চমৎকার একটা বাগান আছে।

জানি!
যেনো শুনতে পায় নি এমনভাবে শাফায়াত রেজাক বললেন, এসো, মা।

মাকে পাশে নিয়ে শাফায়াত রেজাক বৃদ্ধাশ্রমটির ভেতরে ঢুকলেন।

বৃদ্ধাশ্রমটির নাম মায়ের কোল বৃদ্ধাশ্রম। স্ট্যাটাস ফোর স্টার! সেকারণে খরচ বেশ বেশি। ঐ শ্রেণীর বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্য কোনো সমস্যা নেই। প্রতিটি কক্ষ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত; ডাইনিং রুম, মিনি অডিটোরিয়াম ও সম্মেলন কক্ষও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত। খাবার নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অবস্থানরত বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের ইচ্ছে অনুযায়ী খাবার দেয়া হয়। টাকা ওঁদের- খাবার দেবে না কেনো পছন্দমতো!

শাফায়াত রেজাক ভেতরের বারান্দায় মাকে নিয়ে দাঁড়ালেন। বারান্দার পরে বেশ বড় বাগান। বাগান না বলে এটাকে পার্কও বলা যায়। বেশ বড়। বাগানের সীমানা ঘিরে ওয়াকওয়ে আছে। যারা সকালে বিকালে বা নিজ সুবিধামতো সময়ে হাঁটতে চান, হাঁটতে পারেন। বাগানে বৃক্ষজাতীয় গাছের মধ্যে ওয়াকওয়ে ঘেঁষে নারকেল গাছ আছে; প্রত্যেকটা গাছে ডাব ঝুলছে। ইচ্ছে অনুযায়ী বৃদ্ধ-বৃদ্ধাগণ ডাব খেতে পারেন। বাগানে বিভিন্ন ফুলগাছ ও ঝাউগাছ আছে। এই সকল গাছের ফাঁকে পর্যাপ্ত পরিমাণে বসার জন্য কুশন লাগানো কাঠের বেঞ্চ, শোবার জন্য কিছু বিছানা এবং দোলনা আছে।

রিশিকা রহমান বললেন, আমি সেদিন এ পর্যন্ত এসে চলে গিয়েছিলাম। খুব সুন্দর না বাগানটা শাফায়াত?
শাফায়াত রেজাক বললেন, তুমি কি বুঝতে পারছো এটা কোটিপতিদের আশ্রম। এখানে কোনো কিছুর অভাব নেই। আমি যতদূর শুনেছি, এখানে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা স্বেচ্ছায় আসেন। এসো মা, কয়েক জনের সাথে আলোচনা করি; তাহলে প্রকৃত অবস্থা জানা যাবে। ঐ বেঞ্চে বসে এক জোড়া বৃদ্ধ-বৃদ্ধা কথা বলছে। ওরা স্বামী-স্ত্রী হতে পারে, না-ও হতে পারে।

রিশিকা রহমান নির্বিকারভাবে বললেন, চল!

দু'জন ধীর পায়ে ঐ দুই বুড়ো-বুড়ি কাছে এলেন। দু'জনের মাঝখানে দাবার বোর্ড। ওদের দিকে তাকালে শাফায়াত রেজাক বললেন, উনি আমার মা, নাম রিশিকা রহমান। আমার বাবাকে চিনতে পারেন। ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট রজব রহমান। কিছুদিন আগে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

পৌঢ় ভদ্রলোকটি বললেন, অবশ্যই চিনি! আমরা সেমিনার সিম্পোজিয়ামে অনেক আলোচনা করেছি।

মুখোমুখি বসে থাকা পৌঢ়াকে দেখিয়ে শাফায়াত রেজাক বললেন, উনি নিশ্চয়ই আপনার ওয়াইফ?

জ্বী।
কিন্তু আপনারা বৃদ্ধাশ্রমে কেনো? বাড়িতে কী সমস্যা?

মুচকি হেসে পৌঢ় ভদ্রলোকটি যা বললেন তা এরূপ:

একজন সফল ব্যবসায়ী তিনি। কিন্তু বয়স বসে থাকে না। পয়ষট্টি পার হবার পরে হার্ট অ্যাটাক হলে বাইপাস করাতে হলো সিঙ্গাপুরে গিয়ে। ব্যবসা ধরে রাখার মতো দেহের অবস্থা থাকলো না ওঁর। তিন ছেলেমেয়ে বিদেশ থেকে এসে ব্যবসা হাতে নিয়ে বড় ছেলে রিয়াজ মা-বাবাকে নিয়ে গেলো জার্মানি। ভালোই লাগছিলো ওঁদের জার্মানিতে- শুধু সর্বক্ষণ শীতের কাপড় পরে থাকাটা বিরক্তিকর লাগছিলো। তিন মাস যাবার পরে ওঁরা বুঝতে পারলো প্রিয় বড় পুত্র এবং ওর জার্মান স্ত্রী ওঁদের অঘোষিত গর্ভনেস/বাসার কেয়ারটেকার বানিয়ে ফেলেছে। ওঁদের আর ভালো লাগছিলো না বড় পুত্রের বাসায়। মেয়ের বাসায় বেড়াতে যাওয়া যায় কয়েকদিনের জন্য; কিন্তু দীর্ঘদিন থাকা যায় না। তাই হাইতি না গিয়ে দু'জন চলে গেলেন ছোটছেলের কাছে রাশিয়া। ওখানে আরো শীত এবং পরিস্থিতি বড় ছেলের বাড়ির মতোই হতে থাকলো।

বাংলাদেশকে বড্ড বেশি মনে পড়তে লাগলো দু'জনের। ছয় ঋতুর কী চমৎকার একটি দেশ। হেমন্তের নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া তুলনাহীন। এর পরে শীতকালটা খুব উপভোগ্য। বসন্তকালটা হেমন্তের মতোই নাতিশীতোষ্ণ। গৃষ্মকালে দেশি ফলের সমারোহ; আর বর্ষাকাল কী মনোরম মাঠ-প্রান্তর জল থৈ থৈ। শরৎকাল কাশের বনে বাতাসের ঢেউ কাব্যভাব আনে সবার মনে।

চলে এলেন বাংলাদেশে একদিন। গুলশানের বাড়িটা পোড়োবাড়ির মতো হয়ে গিয়েছিলো প্রায় এক বছরে। ওঁদের জন্য সমস্যা হয়ে গেলো নির্জনতা তথা একাকীত্ব। শ শ কাজের মানুষ রাখা যায়; কিন্তু ওদের সাথে সময় কাটানো যায় না। গুলশান পার্কে একদিন সকালে বুড়ো-বুড়ি হাঁটতে থাকলে এক পরিচিত শিল্পপতি এই বৃদ্ধাশ্রমের খোঁজ দিলেন। একদিন দেখতে এসে বেশ ভালো লাগলো। এখানে সবাই পারিবারিক পরিবেশে থাকছে; কোনো দুশ্চিন্তা নেই কারো। চলে এলেন এখানে একদিন। ভালো আছেন, খুব ভালো আছেন এখানে।

উভয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে শাফায়াত রেজাক মাকে বললেন, অনেকে এখানে একা আছেন। একজনের কাছ থেকে জানি কেনো এখানে এসেছেন এবং কেমন আছেন?

দু'জন এক বৃদ্ধার নিকটে গেলেন। বৃদ্ধার নাম আইভি খান। আইভি খান দোলনায় দোল খাচ্ছিলেন। চোখ মুদে রেখে উপভোগ করছেন দোল।

রিশিকা রহমান বললেন, আণ্টি কি ঘুমিয়ে দোল খাচ্ছেন?

আইভি খান দোল না থামিয়ে চোখ বন্ধ রেখে বললেন, ঘুমিয়ে গেলে দোলনায় দোল দিচ্ছি কিভাবে?

এটা অটোমেটিক ইলেক্ট্রিক দোলনা। স্পিড সেট করে অন করলে দোল দিতে থাকে।

দোলনার ব্রেক কষে দোলনা থামিয়ে তাকালেন আইভি খান। রিশিকা রহমানের দিকে তাকিয়ে বললেন, বুদ্ধিমতী! কী উপকারে আসতে পারি তোমাদের?

ওদের আসার কারণ শুনে আইভি খান বললেন:

আমার শিশু পছন্দ হলেও শিশুদের মল-মুত্র-বমি একদম পছন্দ না! সেকারণে কাউকে কিছু না বলে বিয়ের আগেই অপারেশন করে ফেলে দিলাম ইউটেরাস ফ্যালোপিয়ান টিউবসহ। বড়লোকের বেটির বিয়ে হয়ে গেলো এক শিল্পপতির পুত্রের সাথে। পুত্র ইংল্যান্ড থেকে এমবিএ পাস করে বাবার ব্যবসায় ধরলো হাল। আমি চিন্তাহীন। বাচ্চা হবার কোনো সম্ভাবনা নেই আমার! আমার উভয় পরিবার বাচ্চার জন্য উদগ্রীব। দুই বছরেও আমি প্রেগনেণ্ট না হওয়ায় উভয়ের পরীক্ষার কথা উঠলো।

আমার উদাসীনতায় পার হলো আরো এক বছর। একদিন রাতে গোমর ফাঁস করলে আমার স্বামী বেচারা এই শক সইতে না পেরে হার্ট অ্যাটাকে মারা গেলেন তখনই। বিয়ে নিয়ে আর মাথা ঘামাইনি! আনন্দ-উল্লাসে কাটতে থাকলো দিন। বুড়ো হতে থাকলাম। একদিন অনুভব করলাম আমি একা। তখন আমার বয়স ষাটোর্ধ। বাসায় প্রচুর চাকরবাকর। কিন্তু ওরা পারিবারিক পরিবেশ দিতে পারে না। বৃদ্ধাবস্থায় হাসিখুশিতে সময় কাটানোর জন্য পারিবারিক পরিবেশ দরকার। এই বৃদ্ধাশ্রমের খবর পেয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে চলে এলাম। অনেক অনেক ভালো আছি এখানে!

দু'জন আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে শাফায়াত রেজাক মাকে বললেন, এবার একজন বৃদ্ধের কাছে যাবো।
রিশিকা রহমান কিছু বললেন না। ছেলের এই কাণ্ডে তিনি বেশ মজা পাচ্ছেন। শাফায়াত রেজাক একজন বৃদ্ধের কাছে গেলেন যিনি আস্তে আস্তে সাইক্লিং করছেন। শাফায়াত রেজাকের কথা শোনার পরে বৃদ্ধ ভদ্রলোক সাইক্লিং অব্যাহত রেখে বললেন যে-

ভদ্রলোকের নাম দেলোয়ার হায়দার। তাঁর সংসারে কোনো অশনি সংকেত ছিলো না। দুই পুত্রকে নিয়ে চার জনের সংসার। টাইলসের হোলসেল ব্যবসা। মালয়েশিয়া থেকে টাইলস এনে বিক্রি করেন পাইকারি। লাভের কোনো কমতি নেই। টাকা জমতে থাকে বাংলাদেশের ব্যাংকে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটা কেনেন এবং গুলশানে একটা এপার্টমেণ্ট কিনে বসবাস শুরু করেন। দুই পুত্রকে উচ্চতর ডিগৃ অর্জনের জন্য বিদেশে যাবারের কথা বললে ওরা রাজি হয় না। বাংলাদেশে থেকেই বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে উঁচু বেতনে প্রাণ গ্রুপে চাকরি পেয়ে যায়। ছোটটা মাস্টার ডিগৃ পাস করে বিসিএসের মাধ্যমে চাকরি পেয়ে যায় পুলিশ সার্ভিসে। দুই পুত্রের একত্রে বিয়ের আয়োজন করা হয়। কবুলের আগে পুত্রদ্বয়ের মা নাহারিন সৈয়দ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেলে বিয়ের আসরে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। বিয়ে তো আর হতে পারে না ঐদিন। চল্লিশ দিন পরে ঐ কমিউনিটি সেণ্টারেই দুই ছেলের বিয়ে হয়। দুই পুত্র বৌ নিয়ে চলে যায় নিজ নিজ কর্মস্থলে অর্থাৎ ঢাকার বাইরে। দেলোয়ার হায়দার এপার্টমেণ্টে একা। ব্যবসার ফাঁকে ফাঁকে পালা করে দুই পুত্রের কাছে গিয়ে থাকতে শুরু করেন; কিন্তু দুই পুত্রের কোনো বাসাকেই আপন মনে হয় না। মনে হয় অল্পদিনের অতিথি। তাই ২/৩ দিন গেলেই হাফিয়ে উঠেন। অফিসে ও বাসায় বেশ লোক থাকলেও পারিবারিক পরিবেশ হয় না। একা একা ক্রমে হাফিয়ে উঠতে থাকেন তিনি। একদিন চলে যান নিজ গ্রামের বাড়িতে। ভেবেছিলেন ছেলেবেলার সাথিরা সবাই গ্রামেই আছে। অধিকাংশ ইন্তেকাল করেছেন, একজন ছাড়া অন্যরা এখনো চাকরিতে আছেন। একজন গ্রামে আছেন, নাম শুকুর আলী- লেখাপড়া করতে না পারায় গ্রামে থেকেই বাবার সাথে কৃষিকাজে হাত লাগান। খবর পেয়ে শুকুর আলী দেখা করতে আসেন দেলোয়ার হায়দারের সাথে। দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পরে দেখা হওয়ায় বেশ খুশি হন; কিন্তু ছেলে-নাতি-পুতি থাকায় ছেলেবেলার মতো বৃদ্ধ সহপাঠীকে গ্রামে পেয়েও তেমন আগ্রহ পান না বারবার আসার মতো এবং দীর্ঘ সময় থেকে আড্ডা মারার মতো। বিষন্ন মনেই দেলোয়ার হায়দার একদিন চলে আসেন গ্রাম থেকে ঢাকা। সেই একাকিত্ব কুড়ে কুড়ে খেতে থাকে ওঁকে। ছেলেদের বাসায়ও যাবার টান অনুভব করেন না। দেলোয়ার হায়দারের মনের অবস্থা বুঝতে পেরে ঐ বাজারের এক স্যানিটারি সামগ্রি ব্যবসায়ী ওঁকে দ্বিতীয় বিয়ের পরামর্শ দেন। কথাটা সাথে সাথে উড়িয়ে দিলেও আস্তে ধীরে চিন্তায় ঢুকতে থাকে। পৌঢ় ও বৃদ্ধ বয়সে সার্বক্ষণিক সাহচর্য দিতে পারে একমাত্র লাইফ পার্টনার: নারীর ক্ষেত্রে স্বামী এবং পুরুষের ক্ষেত্রে স্ত্রী। ঐ ব্যবসায়ীর কথার যথার্থতা বুঝতে পেরে মনের দ্বিধা কাটিয়ে একদিন ডাকেন দুই পুত্রকে বাসায়-পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনীদের বাদ দিয়ে। ঢাকার বাইরে থাকায় পনেরো দিন পরে এক ছুটির দিনে ওরা আসে। দেলোয়ার হায়দার দ্বিতীয় বিয়ের কথা বলতেই দু'জন এমনভাবে এক ঝটকায় দাঁড়ায় যেনো ওদের সামনে কোনো বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দেয়া হয়েছে হঠাৎ। বাবাকে বকাঝকা না দিলেও বুঝাতে থাকে এভাবে: এই বয়সে বিয়ে করার কী দরকার; মনের অর্থহীন দ্বিধা ঝেরে ফেলে যতদিন ইচ্ছা পালাক্রমে ওদের বাসায় থাকলেই হয়। ওদের কথা না মেনে দেলোয়ার হায়দার ওদের বুঝাতে চেষ্টা করলে 'বুড়ো বয়সে ভীমরতি ধরেছে!' বলে দুই পুত্রই ধুপধাপ হেঁটে বেরিয়ে যায় বাড়ি থেকে। দেলোয়ার হায়দারের দ্বিতীয় বিয়েতে দুই পুত্র বা ওদের পরিবারের কেউ আসে না। পুত্রদের কেউ দেলোয়ার হায়দারের মনের অবস্থা বুঝে নি। দেলোয়ার হায়দার দুই পুত্রকে ত্যাজ্য করে দেন। এদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর পূর্বের স্বামী বিগত হলেও তিন সন্তান আছে: দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এই সন্তানদের টান এড়াতে না পেরে আলোচনা করে দেলোয়ার হায়দারের নিকট থেকে তালাক নিয়ে চলে যান দ্বিতীয় স্ত্রী তথা আকলিমা রুবায়েৎ। বিয়ের সময় আকলিমার নামে একটি এপার্টমেণ্ট রেজিস্ট্রেশন করে দিতে হয়েছে ওঁকে; তালাকের সময় দেনমোহরের দশ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে মহা বিপর্যয় ঘটে যায় দেলোয়ার হায়দারের জীবনে। এবং ওঁকে করে যায় আরো একা। একদিন এই বৃদ্ধাশ্রমের কথা জানতে পেরে চলে আসেন দেখতে এবং ভর্তি হয়ে যান। পরিহাসের বিষয় হলো কিছুদিন আগে ওঁর প্রাক্তণ দ্বিতীয় স্ত্রীও চলে এসেছে এখানে।

পৌঢ় ও বৃদ্ধ বয়সের একাকীত্ব বা বিপর্যয় নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবার জীবনে ঘটতে শুরু করেছে, বিশেষ করে শহুরেদের বেলায়। পাশ্চাত্য সংস্কৃতির যত বিস্তার ঘটছে এদেশে ততো এই সংকট প্রকট হচ্ছে। এই সংকট থেকে উত্তরণ নিকট কেনো দূর ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না। রিশিকা রহমান ভাবতে ভাবতে ছেলের পাশাপাশি হাঁটছেন। বৃদ্ধাশ্রমের প্রধান ফটক পেরোতে গিয়ে থেমে গেলেন। ছেলেকে বললেন, তুই বা বৌমা কখনো আমাকে বৃদ্ধাশ্রমে আসতে বলবি না বা দিতে চাইবি না। তোরা দু'জন চাকরি করিস। বাসায় পালাক্রমে কাজের লোক থাকলেও নাতি-নাতনিদের নিয়ে আমার একটা দুশ্চিন্তা থেকেই যায়। পৌঢ় বা বৃদ্ধ বয়সে দুশ্চিন্তা করতে কার ভালো লাগে, বল? এই বৃদ্ধাশ্রমের তিন জনের কথা শুনে আমার উপলব্ধি বদ্ধমূল হলো যে পৌঢ় বা বৃদ্ধ বয়সে দুশ্চিন্তাহীন ও পারিবারিক পরিবেশ পেতে চাইলে এরকম বৃদ্ধাশ্রমের বিকল্প নেই। আজ আমি এখানে এডমিট হয়ে যাবো। তোরা সময় পেলে নাতি-নাতনীদের নিয়ে এখানে বেড়াতে আসিস। আর মাঝেমধ্যে আমিও যাবো তোর বাসায়। বিশেষ দুই ঈদে অবশ্যই যাবো!


লেখা পাঠানোর জন্য আহ্বান 
👇

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়