প্রকৃত শিক্ষা | সুমিতা চৌধুরী

গল্প......

"প্রকৃত শিক্ষা"
সুমিতা চৌধুরী 
হাওড়া,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 

    স্কুলে তুতুনের হাতের কাজ ভীষণ ভালো বলে, ওদের ক্লাসের সবাই তাদের যতো হাতের কাজের হোমটাস্ক সবই ওকে দিয়ে করিয়ে নেয়। তুতুনও বন্ধু হয়ে বন্ধুদের না বলতে পারে না কিছুতেই। 

   স্কুলের দিদিমণিরা যদিও তার এই পরোপকারী স্বভাবের জন্যই তাকে ভালোবাসেন এবং অবশ্যই তার কার্যগুণেও। পড়াশোনায় যেমনই সে ভালো, তেমনই সবরকম হাতের কাজে সে পারদর্শী। সে যা কিছুই করে খুব মন দিয়ে করে, মন দিয়ে শেখে। তার শেখার আগ্রহ সত্যিই শিক্ষণীয়। তাই সব স্যার ম্যামেরই সে একান্ত প্রিয়পাত্রী।

   
    হাফিয়ার্লি পরীক্ষার সময়, ওয়ার্ক এডুকেশন পরীক্ষায়, দিদিমণি দেখলেন, সবার হাতের কাজ এতো সুন্দর সুন্দর হলেও, তুতুনেরটা নিতান্তই সাদামাটা। সবারটা করতে গিয়ে নিজেরটা ভালো মত করার সময়ই ছিল না যে তুতুনের। 

   কিন্তু দিদিমণির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় তিনি সবটা বুঝে, তুতুন ছাড়া ক্লাসের আর কাউকেই ওয়ার্ক এডুকেশনে পাশ করালেন না। 
  
   যথারীতি রেজাল্ট দেখে সবাই প্রশ্ন করলো দিদিমণিকে। তিনি বললেন,"তোমাদের সবার হাতের কাজ তো একা তুতুনই করে দিয়েছে। তাই একা ও ই সব নম্বর পেয়েছে। তোমরা কেউই কিছুই করোনি, তাই ফেল করেছো। তুতুন করে দেয় বলেই তোমরা নিজেরা না শিখে ওর ভালো মানুষীর সুযোগ নেবে, এটা তো কখনোই ঠিক নয়। তোমরাও শেখো, চেষ্টা করো, কে বলতে পারে তুতুনের থেকে ভালো তোমরা করতে পারবে না। যদি চেষ্টাটুকুও করতে তাহলেও আমি নম্বর দিতাম সেই প্রচেষ্টার। কিন্তু তোমরা ফাঁকিবাজ,সুযোগসন্ধানী, তাই নম্বর দিইনি। স্কুলে ভালো কিছু শিখতেই তোমরা আসো, খারাপ কিছু শেখার উদ্দেশ্যে নয়। স্কুল মানে শিক্ষামূলক প্রতিষ্ঠান। আর তাই তোমাদের সেই উচিৎ শিক্ষা দিতে আমি বাধ্য হলাম। এবার থেকে আশা করি তোমরাও সবাই সাগ্রহে সবকিছু শিখবে, আর শিখলে, চেষ্টা থাকলে, অবশ্যই পারবেও। আমিও নম্বর দেবো মুঠো মুঠো। আর সেদিন তোমাদের থেকেও বেশি খুশি আমি হবো, জেনো। কারণ, আমি সেদিনই বুঝবো, তোমরা স্কুলে প্রকৃত শিক্ষা পেয়ে বেড়ে উঠছো। তোমরা পারলে তবেই জানবে স্কুলও নাম করতে পারবে। তাই শুধু তোমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎই নয়, স্কুলের ভবিষ্যৎও নির্ভর করছে তোমাদের হাতেই। আমি জানি তোমরা পারবে, আর তোমাদের হাত ধরে স্কুলও সগৌরবে পথ চলবে।"

   দিদিমণি চলে যাওয়ার পরও দিদিমণির উচ্চারিত শব্দগুলো যেন প্রতিধ্বনিত হতে লাগল ছাত্র-ছাত্রীদের মনেই শুধু নয়, পুরো ক্লাসঘরেই। যেন সেই কথার রেশই নিয়ে গেল সবাইকে এক নতুন আলোর পথে, আত্মবিশ্বাসের সাথে।


লেখিকা পরিচিতি- লেখিকা সুমিতা চৌধুরীর জন্ম পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার সালকিয়ায়। বর্তমান নিবাস, হাওড়ার লিলুয়ায়। পিতা শ্রী সলিল চ্যাটার্জি ও মাতা শ্রীমতি অরুণা চ্যাটার্জির জ্যেষ্ঠ সন্তান তিনি। ছোটবেলা থেকেই বাবা, জেঠুদের দেখেই লেখার প্রতি অনুরাগ জন্মায়। তাঁদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণাতেই লেখায় হাতেখড়ি সেই ছোটবেলাতেই। পরবর্তীতে স্বামী প্রয়াত শ্রী বুলবুল চৌধুরীর সান্নিধ্যে ও অনুপ্রেরণায় সাহিত্য জগতে প্রবেশ। অধুনা বিভিন্ন সাহিত্য পত্রিকায় ওনার লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। ইতিমধ্যে তাঁর একক কাব্যগ্রন্থ "রৌদ্র- ছায়া"ও সগৌরবে প্রকাশিত হয়েছে।

লেখা পাঠানোর জন্য আহ্বান 
👇

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়