অনুতাপ | রুচিরা সাহা

গল্প......

"অনুতাপ"
রুচিরা সাহা 
ইংলিশবাজার,মালদহ,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ 
নীলাঞ্জনাদের পাশের বাড়ি ছিল সমরেশ জেঠুর। সেই বাড়িটি বিক্রয় করে সমরেশ জেঠু চলে গেলেন ছেলের কাছে। ছেলে থাকতো ব্যাঙ্গালোরে। বাড়িটি কেনেন একজন শিক্ষক মহাশয়।তিনি আনন্দ স্যার নামেই পরিচিত। তিনি ছিলেন ভীষণ রকমের গম্ভীর প্রকৃতির লোক। সবাই ভয় ও পেতো। স্ত্রীর নাম আরতি। আরতি কাকিমা খুব মিশুক ছিলেন। রান্না, গান, সেলাই সব কিছুতেই ছিলেন পারদর্শী। তাঁদের দুইছেলে। বড়ো ছেলে অতনু, ছোট ছেলে অতীশ। অতনু কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে, আর অতীশ 
উচ্চমাধ্যমিক দেবে। সমরেশ জেঠু চলে যাবার পর নীলাঞ্জনার খুব খারাপ লাগতো। বাড়িটিতে ছিল কুল গাছ,পেয়ারা গাছ, একটি শিউলি ফুলের গাছও ছিল। নীলাঞ্জনার বাবাকে সমরেশ জেঠু ছোট ভাইয়ের মতোই ভালো বাসতেন, নীলাঞ্জনাও সমরেশ জেঠুর কাছে নানান আবদার করতো। সমরেশ জেঠুর একটি মেয়ে ছিল, যথা সময় বিয়েও দেন, কিন্তু বিয়ের পর থেকে মেয়েটির উপর  চলত নানান অত্যাচার, একদিন এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে আত্ম হত্যা করে। এর পর থেকে সমরেশ জেঠু মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। বয়সও হয়েছিল কাজেই বাড়িটি বিক্রি করে ছেলের কাছে চলে যান। প্রতিনিয়ত যোগাযোগ থাকতো পাড়ারপড়শীদের সাথে ও তাঁর বন্ধুবান্ধবদের সাথে। তবে সেই সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল ল্যান্ডফোন কিংবা চিঠির মাধ্যমে।এদিকে অতনু পুজোর ছুটিতে বাড়িতে এসেছে। পাড়ার পুজো মণ্ডপে নীলাঞ্জনাকে দেখে প্রথম, অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো। নীলাঞ্জনার পরণে নতুন  ফিরোজা রঙের চুড়িদার, চুল গুলো এলোমেলোভাবে উড়ছিলো। বাড়িতে এসে অতনু আনমনা হয়ে রইলো, সারারাত ঘুমোয় নি। পরেরদিন আবার মণ্ডপে গিয়ে হাজির অতনু যদি সেই মেয়েটিকে এবার দেখতে পায় যদি। না, দেখতে পায় নি।ছুটিতে বাড়ি এসেছে তবে পাড়াতে খুব বেশি বন্ধু নেই যে কয়জন আছে তাঁদের সাথে কাটছে পুজো। অনেকদিন পর বাড়িতে মায়ের হাতের রান্না খাওয়া। এলো দেওয়ালী। সব বাড়িগুলো আলোয় সেজে উঠেছে, এই আলোক সজ্জা দেখার জন্য অতনু ছাদে উঠলো, পাশের বাড়ির দিকে তাকিয়ে খুব বিস্ময় বোধ করে মেয়েটি মোমবাতি জ্বালাছিল। মুখটি আবছা দেখা গেলো। পরদিন অতনু পাড়ায় বেরিয়েছে গল্প করছে হঠাৎ পুজো মণ্ডপে দেখা মেয়েটি কে দেখে। এবার সে বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে মেয়েটিকে অনুসরণ করতে লাগলো, দেখে তার পাশের বাড়িতে ঢুকলো নিজেও বাড়ি চলে আসে। পরেরদিন পরিষ্কার হয় যে মেয়েটিকে সে দেখে ছিল সে নীলাঞ্জনা। অতনুর মায়ের সাথে নীলাঞ্জনার মায়ের ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। অতনু রোজ বিকেলে বাড়ির ছাদ থেকে দেখত। ছুটি শেষ এবার কলকাতায় যেতে হবে রাতে ট্রেন। বিকেলবেলা একটি চিঠি ঢিলের মধ্যে মুড়িয়ে ছুঁড়ে দেয় নীলাঞ্জনার বাড়ির ছাদে। নীলাঞ্জনা পেছন ফিরে দেখে অতনু দাঁড়িয়ে আছে ওদের বাড়ির ছাদে। নীলাঞ্জনা সরে যায় একটু দূরে কিছক্ষন পরে অতনু চলে যায়। এবার নীলাঞ্জনা চিঠিটি পড়ে মনে মনে হাসে। সমরেশ জেঠু চলে যাওয়ার পর নীলাঞ্জনা খুব বেশি ওই বাড়িটির দিকে তাকাতো না, কিন্তু অতীশের সেতার বাজানো শুনতো। অতীশের থেকে এক বছরের জুনিয়র ছিল সে। এখন আবার নতুন করে বাড়িটির দিকে তাকানো শুরু হলো।ডিসেম্বর মাসে বড়ো দিনের ছুটিতে বাড়ি এলো অতনু।নীলাঞ্জনার বাড়ির সামনে একটি ফাঁকা মাঠ ছিল, সেখানে ঘুড়ি ওড়ানো, ব্যাটমিন্টন ,গুলি খেলতো পাড়ার ছেলেরা। অতনু ব্যাটমিন্টন খেলত, আর নীলাঞ্জনা ছাদ থেকে দেখতো। সেইবার বড়দিনের দিন পাড়ার কয়েকটি পরিবার মিলে পিকনিকের আয়োজন করে। সেখানে কথা হয় অতনুর সাথে নীলাঞ্জনার। অতনু জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে আবার চলে যায় কলকাতায়। এরপর শুরু হয় পত্রলেখালেখি।অতীশ এখন বি. এস. সি. পড়ে আর প্রতিদিন সকালসন্ধ্যায় নিয়মিত সেতার বাজাতো।এইভাবে দেড় বছর কেটে গেলো। নীলাঞ্জনা এখন কলেজে পড়ে। অতনু ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে নতুন চাকুরী পেয়েছে। অতীশ সেবার চন্ডিগড়ে সেতার বাজানোর জন্য গিয়েছিলো। টেলিভিশনে দেখা যাবে অতীশকে পাড়ার সকলেই আনন্দিত।সন্ধ্যে সাতটার সময় অতীশের অনুষ্ঠান দেখা গেলো। চন্ডিগড় থেকে ফিরে আসার কয়েক দিন পর জ্বর হয়, ওষুধ খেয়ে ঠিক হয়ে গেলো। নীলাঞ্জনা গান শেখে পড়াশুনার পাশাপাশি। মাঝে মধ্যেই যেতো সেতারের শুনতে। একটা স্নেহের সম্পর্ক তৈরী হয়ে গিয়েছিলো বাড়ির সবার সাথে। পরে অতনুর বাবা মা জানতে পারে ওদের সম্পর্ক সম্বন্ধে এবং অতনুর মা নীলাঞ্জনার মাকে বলে নীলাঞ্জনাকে তাঁর বড়ো পুত্রবধূ করবেন। নীলাঞ্জনার বাবার আপত্তি ছিল, কারণ পাশের বাড়ির ছেলের সাথে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যায় না। এই নিয়ে অনেক যুক্তি দেখান নীলাঞ্জনার বাবা। কিন্তু সব যুক্তি  অগ্রাহ্য করে অতনু আর ভালোবাসা আরও গভীর হতে থাকলো। নীলাঞ্জনা শুধু ছুটির দিনগুলোর জন্য অপেক্ষায় থাকে, একটু পাশে বসে কিংবা সামনাসামনি কথা তো হবে। দুজন দুজনের বাড়িতে আবাধে যাতায়াত করতো। অতীশ বি. এস. সি. ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছে। হঠাৎ কয়েকদিন ধরে ও জ্বরে ভোগে। আনন্দ বাবু ডাক্তার দেখাচ্ছেন কিন্তু ভালো হয় না। অতনু এসে কলকাতায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে যায় মুম্বাইতে। কিছুদিন পরে ফিরে আসে। বাড়িতে সবাই  চুপচাপ রয়েছে। অতীশ ইদানিং সেতারটা আগের মতো আর রোজ বজায় না। অতীশের শরীর কয়েকদিনের মধ্যে আরও খারাপ হতে থাকে। নীলাঞ্জনার মা জিজ্ঞাসা করলে শুধু চোখের জল ফেলতেন অতনুর মা। নীলাঞ্জনা এই তিন বছর হলো অতীশকে রাখী বাঁধে, নীলাঞ্জনার কোন ভাইবোন ছিল না কাজেই অতীশদার হাতে রাখী বাঁধতো। পেতো জেমস আর চকলেট। সেদিন ছিল রাখী পূর্ণিমা নীলাঞ্জনা সুন্দর ফুলের রাখী কিনে নিয়ে গেছে অতীশের জন্য, বাড়িতে ঢুকতেই অতনু অশ্রু সিক্ত নয়নে দাঁড়িয়ে আছে, ভেতরে অতনুর মার বুকফাটা কান্না দরজার সামনে এসে থমকে যায়। অতনুর বাবা বাড়িতে ছিলেন না তখন। অতনু তার বাবাকে ইস্কুল থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। অমন গম্ভীর প্রকৃতির ভদ্র লোক একেবারে ছোট শিশুর মতো কেঁদে ওঠেন। অতনু নীলাঞ্জনাকে জানাই নি যে অতীশের ল্যাং ক্যান্সার হয়েছে। নীলাঞ্জনা অতীশের নিথর হাতের উপর সেই রাখীটি রেখে দেয়। পাড়ার লোকেরা এসে এসে দেখে যাচ্ছে। সন্ধ্যার সময় অতীশর সৎকার করা হলো। সন্ধ্যা হলেই সেতারের ঝংকারে বাড়িটি মুখরিত হত, হঠাৎই সব স্তব্ধ হয়ে গেলো। নীলাঞ্জনার নিজের মনকে বারবার প্রশ্ন করে কেন অতনু অতীশের রোগের কথা লুকিয়ে রেখেছিল। অতনুর সাথে কথা বন্ধ করে দেয়। পুত্র শোকে শোকাহত আনন্দ স্যার আর আরতিজেঠিমা।প্রায় তিন সপ্তাহ ইস্কুলে গেলেন না আনন্দস্যার , আরতি জেঠিমা ঠিক মতো খাওয়াদাওয়া করতেন না ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এদিকে অতনু নিজের চাকুরী বাঁচতে কলকাতায় চলে যায়। সেখানে দুটো ঘরের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতো।
বছর ঘুরতে না ঘুরতে পুত্র শোকে অতনুর মা মারা যান।আনন্দ স্যার স্ত্রী আর পুত্র শোকে একেবারেই ভেঙে পড়লেন। অতীশের সেতারটা রোজ মুছে রাখতেন। আরতি জেঠিমা মারা যাওয়ার পরে অতনু বেশ কয়েক দিনের ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে। কলকাতা থেকে অতনু নীলাঞ্জনাকে পত্র লিখতো, কিন্তু নীলাঞ্জনা ওকে কোনো পত্র লিখতো না একেবারেই যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলো কিন্তু মাঝে মধ্যে আনন্দ স্যারের খোঁজ খবর নিতো। এদিকে একদিন পত্র আসে সমরেশ জেঠুর। নীলাঞ্জনা তার বাবার কাছে থেকে নিয়ে পত্রটি পড়ে। খুব কষ্ট পেয়েছিল। কারণ সমরেশ জেঠুকে তার পুত্রবধূ একেবারেই সহ্য করতে পারছিলো না, একটি নাতনি আছে তার। ভেবে ছিলেন শেষ বয়সে ছেলের কাছে থাকবেন কিন্তু সেটা আর হলো না সমরেশ জেঠুর এখন নতুন ঠিকানা হলো একটি বৃদ্ধাশ্রম। নীলাঞ্জনার বাবাও মা দুজনেই খুব কষ্ট পেয়েছিলেন। অতনু নীলাঞ্জনার বাড়িতে গেলে নীলাঞ্জনা কোনো কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। নীলাঞ্জনার বাবার সাথে বেশ কিছক্ষন কথা বলে চলে যায়।অতনু বুঝতে পারছে না নীলাঞ্জনার কেন এতো রাগ অভিমান।ছুটি শেষ অতনু চলে যাবে দেখা করতে আসে নীলাঞ্জনাদের বাড়িতে। নীলাঞ্জনার ঘরের দরজার সামনে বেশ কিছুক্ষন দাঁড়িয়ে রইলো। অতনুর কোনো প্রশ্নের জবাব দিলো না। অতনু এগিয়ে গিয়ে নীলাঞ্জনার হাতটি ধরতেই নীলাঞ্জনা এক ঝটকায় নিজের হাতটি ছাড়িযে নেয়। অতনু চলে যায় কলকাতায়, যাবার আগে নীলাঞ্জনার বাবাকে অনুরোধ করেছিলো তার বাবার একটু যেন খোঁজখবর রাখেন, তিনি সামনের বছরে চাকুরী থেকে অবসর গ্রহণ করবেন তাঁকে একেবারে কলকাতায় নিয়ে যাবে।নীলাঞ্জনার বাবা তাকে আশ্বাস দেয় এবং মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেন। নীলাঞ্জনার বাবা  এতদিন অতনুর সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে রাজি ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি ঠিক করেন নীলাঞ্জনা বি. এ. পাশ করলেই অতনুর সাথে বিয়ে দিয়ে দেবেন। তিনি অতনুর প্রতি বড্ড মায়ায় পড়ে যান। কিন্তু নীলাঞ্জনা কিছুতেই রাজি না এই বিয়েতে। নীলাঞ্জনা ভেবেছিল যে সত্যি কথাটা লুকিয়ে রাখে, হয় তো ভবিষ্যতে আরও কিছু হতে পারে, তাছাড়া নীলাঞ্জনা নিজের শহর ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে থাকবে না, সে একটি মাত্র মেয়ে দূরে চলে গেলে তার বাবা মাকে কে দেখবে,। একদিন নীলাঞ্জনার বাবা ঠিক করে সমরেশদা কে গিয়ে একটু দেখে আসবেন বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে। সঙ্গে ছিল নীলাঞ্জনার মা নীলাঞ্জনা,অতনুরবাবা।আশ্রমটির চারিদিকে নানান রকমের গাছপালা,কত রকমের পাখি। বেশ কয়েক জন বয়স্ক ভদ্রলোক রয়েছেন। ঘাসের উপরে চেয়ার এনে দেওয়া হলো বসলো সবাই নীলাঞ্জনা সমরেশ জেঠুকে দেখে জড়িয়ে ধরে। সমরেশ জেঠুর চেহারা আগের থেকে এখন অনেক অনেক খারাপ হয়েছে। আনন্দ স্যারকে তার বাড়ির সবার কথা জিজ্ঞাসা করতেই আনন্দ স্যারের চোখ দুটো জলে ভরে ওঠে। তারপর সব ঘটনা খুলে বলেন।  বেশ কিছক্ষন গল্প করার পরে আবার সবাই ফিরে যান।আনন্দ স্যার শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অতনু আসে তার বাবাকে কলকাতায় নিয়ে যেতে তিনি যেতে চাইলেন না। ওই এক মাসি সকালে এসে সব কাজ করে দিয়ে যায়, তিনি নিজেই রান্না করে খেতেন যেদিন যা পারতেন। পাড়ার লোকজন ছিল ভরসার। হয় তো সমরেশ জেঠুর অবস্থা দেখে তিনি অতনুর কাছে যেতে রাজী হন নি। একদিন আনন্দ স্যার বাজারে যান রাস্তায় তিনি মাথা ঘুরে পড়ে যান তাঁর কোনো এক পরিচিত ছাত্র তাঁকে তুলে বাড়িতে পৌঁছে দেন। এদিকে অতনু হঠাৎই নাকি বিয়ে করেছে তার এক সহকর্মীকে। কিন্তু মাত্রদেড় বছরের মাথায় তাঁদের ডিভোর্স হয়ে যায়। অতনু অন্য একটা কোম্পানিতে কাজ নিয়ে দিল্লী চলে যায়। নীলাঞ্জনা এম. এ. পাশ করেছে এক ডাক্তারের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের দিন আনন্দ স্যার সকালে এসে আশীর্বাদ করে যায় দুজনের চোখে জলে ভরা। চোখ মুছে তিনি চলে যান। অতনুর সাথে আর কারো যোগাযোগ ছিল না। আনন্দ স্যার বাড়িটি কোনো এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দান করে নিজের পেনশনের টাকা অবলম্বন করে চলে যান কাশী। সেখানে কী ভাবে শেষ জীবনটা কাটালেন তা কেউ আর জানেন না।এদিকে নীলাঞ্জনার বাবা মায়েরও বয়স হয়েছিল তাঁরাও ইহলোক ত্যাগ করেছেন। নীলাঞ্জনা তার বাবার বাড়িটির নীচের তলাটি ভাড়া দেয় আর দোতলাটি ফাঁকাই রয়েছে, মাঝে মধ্যে যায় ছুটি কাটাতে।প্রায় কুড়ি বছর পার হয়ে গেছে নীলাঞ্জনার বিয়ে হওয়া। একদিন শিয়ালদা স্টেশনে প্লাটফর্মে অপেক্ষা করছে নীলাঞ্জনা ট্রেন আসার জন্য ট্রেন একটু লেট্ ছিল প্রচুর ভিড় হঠাৎই চোখে পড়লো অতনুকে। অতনু একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে নীলাঞ্জনার দিকে। এর পরে ট্রেনটি চলে আসে সবাই ট্রেনে উঠার জন্য ঠেলাঠেলি করে ভিড়ের মধ্যে নীলাঞ্জনাও ট্রেনে উঠে পরে কিন্তু কোন কামরায় উঠেছে সেটা বুঝতে পারলো না। যেখানে ট্রেনটি থামছে নীলাঞ্জনা দেখার চেষ্টা করছিলো অতনুকে।চুপচাপ বসেছিল জানালার দিকে তাকিয়ে, জল খাবে বলে ব্যাগ থেকে জলের বোতলটি বের করে মুখে দিতে যাবে তাকাতেই দেখে অতনু দাঁড়িয়ে, নীলাঞ্জনার দিকে তাকিয়ে চলে গেলো।জল তেষ্টা ভুলে গেলো বোতলটা আবার ব্যাগে রেখে দেয় নীলাঞ্জনা। তারপর নীলাঞ্জনা দুটো স্টপেজ পরে থামে ট্রেনটি হঠাৎ জানলার পাশ দিয়ে অতনু চলে যাচ্ছে নীলাঞ্জনা তাকাতেই শুধু হাত নাড়লো তারপর অদৃশ্য হয়ে গেলো কয়েকটি স্টপেজ পরে নীলাঞ্জনাও নেমে বাড়ি যায়,সন্ধ্যার সময় বাড়ি পৌঁছায়। স্নান সেরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে অতনুর কথা ভাবে। কত চেহারার পরিবর্তন হয়ে গেছে, আগের মতো এখন আর সেই জৌলুস নেই চেহারার।
কী করে এখন, কোথায় থাকে নানান প্রশ্ন আসে মনে। নীলাঞ্জনার ও বয়স হয়েছে সারারাত শুয়ে শুধু অতনুর কথা মনে পরলো। এরপর প্রায় ছয় সাত মাস পেরিয়ে গেছে। প্রতিদিনের মতো সেদিনও সকালে চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে খবরের কাগজ পড়ছিলো,  একটি পাতায় দেখে ট্রেনের ধাক্কায় একব্যক্তির মৃত্যু প্রথমে বুঝতে পারে নি তারপর নিচে ছবিটা দেখে টপটপ করে অশ্রু ঝরতে লাগলো,কারণ মৃত ব্যক্তিটি আর কেউই নয় তাকে ভালোবেসে ছিল সেই অতনু। জীবনের হিসেব আজকে আর কিছুতেই মিলাতে পারছে না। সব যেন এলোমেলো হয়ে গেল। কেনই বা সে অত অভিমান করেছিলো,যদি একটিবার তার ডাকে সাড়া দিতো, তাহলে অতনুর হয় তো এই পরিনাম হতো না নিজেকে চরম অপরাধী ভাবতে লাগলো। চোখ থেকে চশমাটি খুলে ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে বসে রইলো দুই চোখ দিয়ে অনবরত অশ্রু বিন্দু গড়িয়ে পড়ছে আজ। সারাদিন একবিন্দু জল স্পর্শও করলো না। চোখ দুটো ফুলে লাল হয়ে গেছে।রাতে নীলাঞ্জনার স্বামী বাড়ি এলো রমামাসি খাবার সব ঢেকে রেখেছে। নীলাঞ্জনা চোখে মুখে জল দিয়ে এসে বসলো, খুব বিধ্বস্ত, ক্লান্ত দেখছিলো। নীলাঞ্জনা আজকে তার স্বামীর সব কথা শুধু শুনে যাচ্ছে কোনো উত্তর দিতে পারছে না।
নিজের বিবেক বার বার দংশন করতে লাগলো।

লেখা পাঠানোর জন্য আহ্বান 
👇

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়