দেবীর অংশ | শুভব্রত ব্যানার্জি
নাটক......
"দেবীর অংশ"
শুভব্রত ব্যানার্জি
দমদম জংশন,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
চরিত্র – ভিখারি – ভজহরি, ভিখারির মেয়ে – কমলা, মন্দিরের পুরোহিত – ভট্টাচার্য মশাই, বাড়ির কর্তা – ধীরেন বাবু, বাড়ির গিন্নী – দিপ্তি দেবী, বাড়ির পুরনো চাকর - মধু।
প্রথম দৃশ্য – চরিত্র - বাড়ির কর্তা – ধীরেন বাবু, বাড়ির পুরনো চাকর - মধু
পুজোর ঢাক বাজঝে। বাড়ির কর্তা দালানে বসে পুজো দেখছেন। বাইরে (মঞ্চের পেছুন থেকে এই গান বাজবে) একজন ভিখারি মিষ্টি সুরে গান গাইতে গাইতে চলেছে। হঠাৎ, কর্তা মশাইয়ের মন চলে গিয়েছে গানের দিকে। মঞ্চে প্রবেশ করল বাড়ির পুরনো চাকর, মধু।
মধু – বাবু, আজ সন্ধি পুজো আর কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে। মা জিজ্ঞেস করে পেঠালেন, আপনি কি পুস্পাঞ্জলি কি দেবেন না দেবেন না?
ধীরেন – সেই বিয়ের পর থেকে তোর গিন্নী মা দেখেছে, আমাকে কোন দিন মায়ের পায়ে অঞ্জলি দিতে?
মধু – আমি তো কোন দিনই দেখি নি।
ধীরেন – কিন্তু এই দিনে প্রতিবছর একবার করে পাঠাবে জিজ্ঞেস করার জন্য।
মধু – আমি বলেছি। কিন্তু হাজার হলেন আপনারা মনিব, তাই আমিও আসি ওই ধর্ম পালন করতে আপনার কাছে।
ধীরেন – গিয়ে বল, আমি নিজের কাজে ব্যস্ত আছি। সময় পেলে মায়ের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে আসবো এখন। (কথাটা শুনে মধু চলে যাছিলো। হঠাৎ পেছুন থেকে ডেকে বললেন) এই মধু শোন একটু।
মধু – আজ্ঞে কর্তা?
ধীরেন – একটু আগে কে এতো মিষ্টি সুরে গান গাইছিলো রে?
মধু – (একটু চিন্তা করে) ওটা তো ভজহরি। আর তার মেয়ে কমলা। বেশ গায় বাবু। শুনলে একেবারে মন প্রাণ ভরে যায়।
ধীরেন – একবার ডেকে আনবি। সামনে বসে গান শুনবো।
মধু – এই কাজটা করতে পারবো না আমি। ওরা নীচু জাতের লোক। ওদের এখানে নিয়ে এলে গিন্নী মা খুব অশান্তি করবে। তাই জন্য তো ওরা, আমাদের বাড়ির চৌকাঠ পর্যন্ত মারায় না।
ধীরেন – (কথাটা শুনে ধীরেন উঠে দাঁড়ায়।) বাড়িতে মা এসেছে। আর ওরা ছোট জাত বলে, মায়ের কাছে এসে মায়ের গান গাইতে পারবে না? যদি তাই হয়, আমি এই মুহূর্তে পুজো বন্ধ করার আদেশ দিচ্ছি।
মধু – বাবু, এই কেলেঙ্কারি করবেন নি। আমি ওদেরকে ডেকে নিয়ে আসছি বাবু।
ধীরেন – হ্যাঁ, তাই যাও। আর কেউ যদি কোন কথা বলে, বলবে, আমার হুকুম এটা।
দ্বিতীয় দৃশ্য – ভিখারি – ভজহরি, ভিখারির মেয়ে – কমলা, বাড়ির কর্তা – ধীরেন বাবু, বাড়ির গিন্নী – দিপ্তি দেবী, বাড়ির পুরনো চাকর – মধু
দালানে ধীরেন বাবু বসে আছেন। মধু ভজহরি আর তার মেয়ে কমলাকে নিয়ে প্রবেশ করলেন।
মধু – এসো, এসো। ভিতরে এসো। (আসতে আসতে ভজহরি আর কমলা প্রবেশ করলো। বাবুকে দেখে জোড় হাত করে প্রণাম ঠুকল।)
ধীরেন – তোমরাই কিছুক্ষণ আগে গান গাইছিলে? বেড়ে কণ্ঠ বটে। তা আর না দাঁড়িয়ে শুরু করো তোমাদের গান। কথাগুলো যেন কি –
ভজহরি আর কমলা গান ধরে। মধু মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যায়।
কমলা - উমা এলো ঘরে মোদের আজকে মেয়ে হয়ে/ গরীব বাপের আলয় আজি ভরল আলোয় ছেয়ে।
ভজহরি- কী দেবো মা তোকে আমি ভেবেই নিজে মরি,/ পান্তা ভাতে আলুসিদ্ধ দিয়ে থালা ভরি।
আনন্দতে গ্রাস তুলে মা হাসি ছড়াস ভবে/ সকল দুঃখ কাঁধে তুলে মোচন করিস তবে।
কমলা - থাকরে মেয়ে মোদের মাঝে সারা বছর ধরে,/ ভুবন মাঝে ফেলবি আলো জীবন শূন্য করে।
অসুর যতো আছে শত মরবে যে তোর কোপে,/ দেবী বলে পুজবে লোকে নিজের জীবন সোঁপে।
ধীরেন – বাহ। বাহ। অপূর্ব। দেবী বলে পুজবে লোকে নিজের জীবন সোঁপে।
দিপ্তি – (বাইরে থেকে ঢুকতে) খুব তো বাহ বাহ করছ। এই ম্লেচ্ছ লোকগুলকে বাড়িতে এই ঠাকুর মন্দিরে ঢোকাতে তোমার একটুও বুকে বাঁধলো না। আবার এই পুজো গণ্ডার দিনে।
ভজহরি – আমি যাই কর্তা। সেই কারণেই আমি আসতে চাইছিলাম না। আপনারা হলেন বড়লোক মানুষ। আর আমরা পথের ভিখারি। আপনাদের সাথে কী আর আমাদের মানায়?
কমলা – চলো বাবা। আমাদের যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। অনেকটা পথ হাঁটলে, তবে আমাদের পেটের ভাত জুটবে। এখানে দাঁড়ালে, আমাদের রাত্রে না খেয়ে থাকতে হবে।
দিপ্তি – হ্যাঁ। যাও। আর কোন দিন যেন না দেখি তোমাদের।
ধীরেন – ভজহরি, কাল আমি তোদের সঙ্গে পথে পথে ঘুরে ভিক্ষে করবো। যে বাড়িতে মানুষের কোন মূল্য নেই, সেখানে আমি থাকতে পারবো না। আমি বাইরে থাকি। আমার কাছে কোন উঁচু নীচু বলে কিছু নেই।
দিপ্তি - তাহলে, এই বাড়িটাকে তুমি ভিক্ষিরিদের আবাসন করে ফেল। যতঃ সব।
ধীরেন – মা দুর্গা আমাদের সব কিছু দিয়েছেন। অর্থ, বাড়ি, গাড়ি, কিন্তু দেয় নি একটা সন্তান। তার পরেও তুমি যদি মানুষের জাত-পাত-উচ্চ-নীচ এই সব কিছু বিবেচনা করো, তোমার নরকেও ঠাঁই হবে না। এই কথা বলে দিলাম তোমায়, গিন্নী।
ভজহরি – আমি আসি বাবু। আপনি মহৎ চিন্তার মানুষ। তাই আপনি মানুষকে মানুষের পর্যায় ফেলেন।
ধীরেন – শোন, আজ তুমি আর মা, মায়ের সামনে যে গান গাইলে, মা দুর্গার যদি সুদৃষ্টি পরে, আজ তুমি এই ঠাকুর মন্দিরে তার ফল হাতে নাতে পাবে।
ভজহরি – মায়ের দয়া কার ওপর কখন পরে বোঝা কঠিন। বাবু, দয়া করে আমাদের আটকাবেন না।
ঠিক সেই সময় মধু দৌড়ে আসে। হাঁপাতে হাঁপাতে।
মধু – বাবু খুব সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে।
ধীরেন – কী হয়েছে?
মধু – ঠাকুরমশাই বললেন, পদ্মফুলের ঝাঁকিতে কিছু পদ্মফুল কম হয়েছে। উনি খুবই চঞ্চল হয়ে উঠেছেন। তাই আমি চললাম বাজারে ফুলের সন্ধানে। (মধু ফুলের সন্ধানে বেরিয়ে গেল)
দীপ্তি – আমার সামনে কাল পদ্মফুল গুনলো তো মধু। তখন তো একশো আটটা ছিলো। আজ কম পড়লো কেন?
ধীরেন – পাপ। পাপ। তোমাদের পাপের জন্যই তো, এই সব অঘটন ঘটে। যেদিন তোমরা নিজেদের এই কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে আসবে, সেদিনই জানবে দেবীর প্রকৃত আরাধনা হয়েছে। মনটাকে পরিষ্কার করো গিন্নী। মনটাকে স্বচ্ছ করো।
দীপ্তি – সব যেন আমার দোষ। নিজের কোন দোষ নেই যেন। নিজে যেন ধোয়া তুলসি পাতা।
ধীরেন – আমি যদি পাপ করে থাকি, তুমি বলতে চাইছো, পুস্পাঞ্জলি দিই না বলে, তাইতো।
দীপ্তি – হ্যাঁ। তা নয় তো কী। হাত তুলে কোন দিন ঠাকুরকে প্রণাম করতে পর্যন্ত করতে দেখলাম না।
ধীরেন –কিন্তু ঠাকুরের জন্য পুজোর ব্যবস্থা সেটা তো এই শর্মাই করে। সেটা তো কই বলছো না।
মধুর প্রবেশ। মুখ শুকনো করে।
ধীরেন –কি রে মধু ফুলের যোগাড় হলো।
মধু – না বাবু, ফুলের যোগাড় হয় নি।
ধীরেন – তাহলে উপায়?
ভজহরি – (দূরে বসে থাকা অবস্থা থেকে উঠে এসে) আপনাকে চিন্তা করতে হবে নি। মা কমলা যখন আছে, তখন তার ব্যবস্থা তিনি করে দেবেন।
ঠাকুর মশাই ভট্টাচার্য মশাইয়ের প্রবেশ -
ঠাকুর মশাই – কর্তা মশাই, এখুনি যদি পদ্মফুলের ব্যবস্থা না হলে সন্ধি পুজো অসম্পূর্ণ হয়ে থাকবে। আর এই পুজো সম্পূর্ণ না হলে, মঙ্গলের চেয়ে অমঙ্গল নেমে আসবে সংসারে।
মধু – আচ্ছা কর্তা, আমি তো শুনেছি, পুজোয় কোন কিছুর অভাব থাকলে, কাঞ্চনমূল্য দিয়ে সেই অভাবকে পুরণ করা যায়। তা, আমরা কি তাই করতে পারি না।
দীপ্তি – না। না। এই কথা মুখে আনাও পাপ। রামচন্দ্র পুজোর সময় পদ্মফুলের অভাব পড়েছিল বলে, নিজের চক্ষু দান করতে গিয়েছিলেন। আর সেই স্থলে টাকা দিয়ে। এ তো ঘোর পাপ।
ভজহরি – ঠাকুর মশাই, আপনাকে চিন্তা করতে হবে নি। মায়ের ফুল মা ঠিক ব্যবস্থা করে নেবেন।
তৃতীয় দৃশ্য – ভিখারি – ভজহরি, ভিখারির মেয়ে – কমলা, বাড়ির কর্তা – ধীরেন বাবু, বাড়ির গিন্নী – দিপ্তি দেবী, বাড়ির পুরনো চাকর – মধু [স্থান – পুজোর মণ্ডপে। স্টেজের মাঝখানে মা দুর্গার মুর্তি]
সকলে পুজো দেখছে। মায়ের দিকে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে।
ঠাকুরমশাই পদ্মফুল দিয়ে অর্পণ করছে।
থাকুরমশাই - আর বেশি সময় বাঁকি নেই। আমার এখনো গোটা পাঁচেক ফুল চাই।
মধু – এই যে ভজহরি, তুমি তো খুব বলছিলে মায়ের পুজোর ফুল মা নিজে ঠিক জোগাড় করে নেবে। কই হলো, তার জোগাড়?
ভজহরি – সবুরে মেওয়া ফলে গো। সবুরে মেওয়া ফলে। (দর্শকদের মধ্যে থেকে কমলা হাতে গোটা দশেক ফুল নিয়ে এগিয়ে আসছে।)
মধু – বাবু ফুল এসে গিয়েছে।
(সকলে মুখ ঘোরালো কমলার দিকে। কমলা ভিজে আবস্থায় মায়ের দিকে চেয়ে এসে ঠাকুর মশাইয়ের হাতে কিছু ফুল দিয়ে, বাঁকিটা নিজেই মায়ের পায়ে অর্পণ করে। ঢাক কাঁসর বেজে ওঠে।)
ধীরেন – দেখলেতো গিন্নী, মায়ের কী লীলা। তুমি যাদের কে নিচু বলে অগ্রাহ্য করতে, মা তাদের হাত থেকেই ফুল নিলেন। তুমি তো কই এতো পুজো আচ্ছা করো, মা কই তোমার হাত থেকে নিলেন না। স্বামীজি বলেছিলেন না, জীবে প্রেম করে যেই জন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর। আজ আমাদের যা ক্ষমতা আছে, আমরা আড়ম্বর করে বড় করে পুজো করতে পারি। কিন্তু আসল পুজো যেখানে করার, সেখানে আমরা পুজো না করে তিরস্কার করে, এড়িয়ে যাই। কাল আমি আরো একটা চমক দেব। অপেক্ষা করো। (ঠাকুর মশাইয়ের দিকে তাকিয়ে) কাজ শেষ হলে, একবার দেখা করে যাবেন ভট্টাচার্য মশাই।
চতুর্থ দৃশ্য –
চরিত্র - মন্দিরের পুরোহিত – ভট্টাচার্য মশাই, বাড়ির কর্তা – ধীরেন বাবু
(বাড়ির কর্তা বসে আছেন নিজের মনে। পেছুন থেকে ভট্টাচার্য মশাই উপস্থিত হলেন।)
ঠাকুর মশাই – কর্তা আমাকে ডেকেছিলেন।
ধীরেন – আরে ঠাকুর মশাই, আসুন। বসুন। (ঠাকুর মশাই সামনের চেয়ারে বসতেই বললেন) বলছি, কাল আমি কুমারী পুজা করবো। আর তার ব্যবস্থা করতে হবে আপনাকে।
ঠাকুর মশাই – ভালো ক্তহা। কিন্তু, সে তো এলাহি কাণ্ড। আর একদিনের মধ্যে এর আয়োজন করা বেশ কঠিন। তবে, পুজোর উপকরণ নয় ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কিন্তু কুমারী পুজোর জন্য একজন কুমারী তো লাগবে। তার কোন চিন্তা করেছেন? ব্রাহ্মণ পরিবারের কন্যা হতে হবে। নচেৎ নয়।
ধীরেন – ওই চিন্তাটা নেই বলেই তো, আমি আপনাকে তার ব্যবস্থা করতে বললাম। ব্রাহ্মণ পরিবারের কথা বলছেন ভট্টাচার্যি মশাই। আজ নিজের চোখের সামনে দেখেও মায়ের রূপের মহিমা এখনো উপলব্ধি করতে পারলেন না কী?
ঠাকুর মশাই – মায়ের লীলা কোথায় কী ভাবে দেখতে পাবো, তা আমরা কেউই জানি না।
ধীরেন – আর, ব্রাহ্মণ বলছেন। আসল ব্রাহ্মণ কে, বলতে পারবেন?
ঠাকুর মশাই – যার পিতার গলায় উপবিত্ত আছে। যে গায়িত্রী মন্ত্রের অধিকারী। যে নারায়ণ সেবার অধিকারী।
ধীরেন – ভট্টাচার্য মশাই, নিয়ম রীতি আনুযায়ী আপনি একশো ভাগ ঠিক। আপনি পুজো আচ্ছা জানেন। তাই আপনি পৌরহিত্য করেন। আমিও ব্রাহ্মণ। আমি কিন্তু পুজো পাঠ জানি না। আমি ব্রাহ্মণের ছোট ছোট কাজগুল করে দিতে পারবো। কিন্তু নারায়ণ পুজো করতে বললে, দুবার ভাববো। কারণ আমি পরের হিতার্থে পুজো করতে আপারক।
ঠাকুর মশাই – তাহলে, কালকের কুমারী কে হবে?
ধীরেন – আজ মায়ের পুজা সমাপন করতে যে আমাদের কমলালয় থেকে ফুল এনে দিয়েছে, সেই মেয়েটি।
(দীপ্তির প্রবেশ)
দীপ্তি – বলছিলাম কী।
(কর্তার কাছে এসে)
দীপ্তি – আমি বাইরে থেকে সব শুনেছি। আমিও কর্তার সঙ্গে এক মত। আপনি আর না করবেন না।
ঠাকুর মশাই – আপনারা স্বেচ্ছাচারী করবেন বলে, আমাকেও তার সঙ্গে তাল মেলাতে হবে, এমন ব্রাহ্মণ আমি নই। তাই এই মুহুর্তে আপনাদের মন্ডপ আমি ত্যাগ করতে বাধ্য হলাম।
দীপ্তি – ঠাকুর মশাই। যাবেন না আপনি। আমাদের বিপদে ফেলে মায়ের পুজো শেষ না করে যাবেন না।
(ভট্টাচার্য মশাই চলে গেলেন)
দীপ্তি – কি হবে এবার। মায়ের পুজো কী ভাবে শেষ হবে।
ধীরেন – চিন্তা কোরো না গিন্নী। মায়ের পুজো মা নিজেই ব্যবস্থা করে নেবেন। মায়ের ওপর ভরসা রাখো।
দীপ্তি – কিন্তু পুজো কী করে সমাপন ঘটবে।
ধীরেন – আমি আছি তো। যে শিক্ষা আমার আছে, তাই দিয়ে নবমী আর দশমীর কাজ সেরে ফেলতে পারবো।
দীপ্তি – আর, তোমার ওই কুমারী পুজো।
ধীরেন – সেই শিক্ষাও আছে। কোন কমতি হবে না।
(শেষে দেখা যায়, বাড়ির কর্তার হাতে ভিক্ষুক ভজহরির মেয়ে কমলাকে বরণ করে কুমারী পুজা শেষ হলো।)
শুভব্রত ব্যানার্জি, কলকাতার বাসিন্দা। ছোটবেলা কেটেছে হলদিয়া নগরে। সেন্ট জেভিয়ার্স হাই স্কুল হলদিয়া থেকে মাধ্যমিক ও হলদিয়া গভর্নমেন্ট স্পনসারড বিবেকানন্দ বিদ্যাভবন বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে চলে আসি কলকাতায়। তারপর কলেজ, বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা- যেমন আঁকা, নাটক, অভিনয় ইত্যাদি। সরকারী চাকরির জ্ন্য পরীক্ষার কম চেষ্টা করি নি। কিন্তু কোন দিন দ্বিতীয় রাউন্ডে ডাক পর্যন্ত আসে নি। বাবা চাকরি থেকে অবসর নিয়ে চলে এলেন নিজের বাড়িতে। আমি বেসরকারি অফিসে কাজ করতে শুরু করি। এখন একটা নাম করা সোনার ব্যবসায়ী দোকানের হিসাব রক্ষক হিসেবে কাজ করেছি। জীবন যুদ্ধ চালাতে চালাতে লেখা লেখি করি। কিন্তু সব ছিল অর্ন্তনিহিত। বহিপ্রকাশ হয়েছে 2020 সালে মাত্র। কবিতা, ছোট গল্প, ছড়া দিয়ে আত্মপ্রকাশ করে থাকি। বর্তমানে আমি চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গেও যুক্ত।
লেখা পাঠানোর জন্য আহ্বান
👇


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন