০৮ তম প্রকাশ- শারদীয়া উৎসব
ম্যাগাজিন......
০৮ তম প্রকাশ- শারদীয়া উৎসব
পরিচয় অনলাইন পত্রিকা
বারুইপুর,দক্ষিণ ২৪ পরগনা,পশ্চিমবঙ্গ,ভারতবর্ষ
শারদীয়ার প্রীতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
লিখেছেন ✍️✍️*
০১) সুতপা ব্যানার্জী(রায়) - দুর্গাপুর,পশ্চিম বর্ধমান - স্নেহের পরশ
০২) দেবারতি গুহ সামন্ত - হিন্দুমোটর,হুগলি - এ কেমন শারদীয়া?
০৩) ইন্দ্রজিৎ রায় - দিনাশ নগর,মুকুন্দাপুর - মায়ের আগমন
০৪) গৌর গোপাল পাল - লাভপুর.বীরভূম.পঃবঙ্গ,ভারত - শরৎ এলে
০৫) মনোজ চৌধুরী - ইংলিশ বাজার,মালদা - শারদীয়া
০৬) নীলেশ নন্দী - মধ্যমগ্রাম - উমা
০৭) অনিন্দ্য পাল - সোনারপুর,দঃ ২৪ পরঃ - এস মা
০৮) শান্তনু ঘোষ - বলাগড়,হুগলী - চিন্ময়ী
০৯) মহা রফিক শেখ - খড়গ্রাম,মুর্শিদাবাদ - শারদীয়া
১০) অরুণ কুমার দা - পশ্চিম বর্ধমান - প্রতি বছর,একই ছবি
১১) শুভব্রত ব্যানার্জি - দমদম,কলকাতা - কইলকাতার পুজো
১২) বাপী নাগ - চাকদহ লালপুর,নদিয়া - মা আসছে
১৩) প্রতীক হালদার - ডায়মন্ড হারবার,দক্ষিন ২৪ পরগনা - আশার আলো
১৪) কার্ত্তিক মণ্ডল - পশ্চিম মেদিনীপুর - শারদীয়ার স্বপ্ন ছবি
১৫) মনোজ কুমার রায় - করিমগঞ্জ , আসাম - দূর্গা আমার
১৬) পরিতোষ সরকার - পাটছাড়া,কোচবিহার - আগমনীর আগমনে
১৭) তপন মাইতি - মৈপীঠ কোস্টাল,দঃ ২৪ পরঃ - তপুর দুগ্গা
১৮) সুব্রত চক্রবর্ত্তী - দমদম জংশন,কলকাতা - শারদপ্রাতে
১৯) বদ্রীনাথ পাল - বাবিরডি,পুরুলিয়া - শরৎ এলো
২০) রিনি মান্না কীৰ্ত্তনীয়া - বাগপোতা রোড,কলকাতা - জগন্মাতার অৰ্চনা
২১) পীযূষ কান্তি সরকার - হাওড়া,পশ্চিমবঙ্গ - পুজোর দিনে
২২) রুচিরা সাহা - ইংলিশ বাজার,মালদা - তোমার আগমনী বার্তা
২৩) অনিমেশ বিশ্বাস - রানাঘাট,বঙ্কিম নগর,নদীয়া - আগমনে
২৪) গৌরীশংকর মাইতি - চণ্ডীপুর,পূর্ব মেদিনীপুর - পুজোর খুশি
২৫) শুভদীপ দত্ত প্রামানিক - নানুর,বীরভূম - তিথিকথা
২৬) নির্মল কুমার দে কাটোয়া,পূর্ব বর্ধমান - মা দূর্গার কাছে
২৭) রাণু বর্মণ - বেগম পুর কলোনী - বারুইপুর - মায়ের রূপ
২৮) শ্যামাপ্রসাদ সরকার - কলিকাতা,পশ্চিমবঙ্গ -তবুও বর্ষা নামে
২৯) শংকর ব্রহ্ম - গড়িয়া,কলিকাতা - হতচ্ছাড়ার প্রশ্ন
৩০) দেবাশীষ চক্রবর্তী - সুখচর,কলকাতা - নিরুদ্দেশ
৩১) সুস্মিতা চক্রবর্তী - কলকাতা - শরতের মেঘ
৩২) দেবযানী দত্তপ্রামাণিক - পুজো
৩৩) দুর্গাপুজো - কুশল রায় - অমরপুর গোমতি ত্রিপুরা
রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দুর্গার বোধন করেছিলেন দশরথ পুত্র রামচন্দ্র। এর
পর দুর্গার আরাধনা করে শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করেন তিনি।
ষষ্ঠী দিন । দেবী দুর্গাকে বোধনের দিন আজ। দেবীপক্ষে ষষ্ঠীতে দুর্গাকে বোধন
করে পুজো করেন রাম। দুর্গার বোধন ঘিরে পৌরাণিক কাহিনিও বিদ্যমান। কী ভাবে
মহাষষ্ঠী পালিত হয় জেনে নিন—
বোধন
এই শব্দটির অর্থ জাগ্রত করা। মর্ত্যে দুর্গার আবাহনের জন্য বোধনের রীতি
প্রচলিত রয়েছে। এ দিন কল্পারম্ভ দিয়ে শুরু হয় দুর্গার বোধন। ষষ্ঠীর
সকালেই এই প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। তার পর দশভূজার সামনে প্রার্থনা করা হয়
যে, ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত গোটা পূজা পর্বে যেন কোনও বিঘ্ন না ঘটে। এর পর
ঘট ও জলে পূর্ণ একটি তামার পাত্র মণ্ডপের কোণে স্থাপন করা হয়। এই স্থানেই
দুর্গা ও চণ্ডীর পুজো করা হয়। এর পর হয়, দুর্গার বোধন। তার পর অধিবাস,
আমন্ত্রণের পর্ব। বোধনের পর বিল্ব শাখার দেবীকে আহ্বান জানানো হয়। অশুভ শক্তি
দূরের জন্য ঘটের চারপাশে তীরকাঠিতে সুতো জড়িয়ে আমন্ত্রণ প্রক্রিয়া শুর হয়। এ
ভাবেই শেষ হয় মহাষষ্ঠীর আচার।
মহাষষ্ঠীর পুজোর সময় জেনে নিন এখানে--
- তিথি আরম্ভ : ২৩ আশ্বিন/১০ অক্টোবর, রবিবার (ইংরেজি মতে সোমবার)।
- সময় : রাত ২ টো ১৬ মিনিট।
- শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা ষষ্ঠী : সকাল ৯ টা ২৭ মিনিটের মধ্যে। কিন্তু বারবেলানুরোধে সকাল ৭ টা ২ মিনিটের মধ্যে।
- আবার সকাল ৮ টা ২৯ মিনিট গতে সকাল ৯ টা ২৭ মিনিটের মধ্যে শ্রী শ্রী দেবীর কল্পারম্ভ (তৃতীয় কল্প) এবং ষষ্ঠী বিহিত পুজো প্রশস্তা।
- শ্রী শ্রী দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ এবং অধিবাস : সন্ধ্যা ৬ টা ২০ মিনিট।
- তিথি শেষ : ২৪ আশ্বিন/১১ অক্টোবর, সোমবার।
- সময় - রাত ১১ টা ৫১ মিনিট।
বোধনের তাৎপর্য
এই আচারের একটি পৌরাণিক তাৎপর্য রয়েছে। প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী এ দিনই
স্বর্গ থেকে মর্ত্যে পদার্পণ করেন দেবী দুর্গা। সঙ্গে থাকেন তাঁর চার
সন্তান লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী। এদিন দুর্গার মুখের আবরণ উন্মোচিত
হয়। মনে করা হয়, বোধনের পর প্রতিমার মধ্যে প্রাণ প্রতিষ্ঠিত হয়।
এই বোধন আবার অকাল বোধন হিসেবে খ্যাত। হিন্দু শাস্ত্র মতে সূর্যের উত্তরায়ন
দেবতাদের সকাল। উত্তরায়নের ছয় মাসকে দেবতাদের এক দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
সকালে সমস্ত দেব-দেবীর পুজো করা হয়। আবার দক্ষিণায়ন শুরু হলে ছয় মাসের জন্য
নিদ্রা যান সমস্ত দেব-দেবী। এই দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত। রাতে দেব-দেবীর
পুজো করা হয় না। কিন্তু দক্ষিণায়নের ছয় মাসের মধ্যেই দুর্গাপুজো হয় বলে
বোধনের মাধ্যমে আগে দেবী দুর্গাকে ঘুম থেকে তোলা হয়। পুরাণে এর সঙ্গে একটি
কাহিনিও জড়িত। রাবণের সঙ্গে যুদ্ধের আগে দুর্গার বোধন করেছিলেন দশরথ পুত্র
রামচন্দ্র। এর পর দুর্গার আরাধনা করে শক্তি ও সৌভাগ্যের প্রার্থনা করেন
তিনি। অকালে দুর্গাকে জাগিয়ে তোলা হয়েছিল বলেই একে অকাল বোধন বলা হয়ে
থাকে।
মহাসপ্তমী
মহাসপ্তমী দিন। কলা বৌ স্নান করিয়ে, ঘট প্রতিস্থাপন করে পুজো শুরু।
সপ্তমাদি কল্পারম্ভ ও সপ্তমী বিহিত পূজা প্রশস্তা। পঞ্জিকামতে এবার ঘোটকে
আগমন দেবীর। কথিত আছে, দেবীর ঘোটকে আগমনের ফল ছত্রভঙ্গ। সপ্তমী
তিথি বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ২৫ আশ্বিন, মঙ্গলবার। ইংরেজি
ক্যালেন্ডার অনুসারে সপ্তমী ১২ অক্টোবর। ভোর ৪টে ০৩ মিনিট ০৫ সেকেন্ড
থেকে সপ্তমী শুরু হয়ে শেষ হচ্ছে ১টা ৪৬ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে।
লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিককে নিয়ে সপরিবারের দুর্গার বাপের বাড়িতে
আসার দিন। ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটে নবপত্রিকা স্নান শুরু হয়ে গিয়েছে। এরপর
দেবীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তারপর শাস্ত্রমতে ষোড়শ উপাচারে শুরু হবে
সপ্তমীর পুজো। করোনা আবহে যাবতীয় সতর্কতা মেনেই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর আবাহন
হবে বলে আশ্বাস উদ্যোক্তাদের। সাবেকিয়ানা থেকে থিম, উত্সবের রোশনাই
ছড়িয়ে আছে বাংলা জুড়ে।
শহরজুড়ে মহোত্সবের আবহ৷ উত্তর, দক্ষিণ, সব জায়গাতেই এক ছবি৷ সকাল থেকেই
ঠাকুর দেখার ভিড়৷ নতুন জামাকাপড়৷ নতুন জুতো ৷ হৈ-হুল্লোড়, খাওয়া-দাওয়া৷
উত্সবের আনন্দে ভাসছে শহর। থিম, সাবেকিয়ানা, নান্দনিকতায় মিলে-মিশে উদযাপনের
রঙ৷ বাঙালির সেরা উত্সব।
দেবিকে ন’টি রূপে কল্পনা৷ নয়টি বৃক্ষের মধ্যে দিয়ে দেবীর কল্পনায় পুজিতা উমা৷
নবপত্রিকার মধ্যে দিয়েই প্রকৃতির সঙ্গে দেবীর এক চিরন্তন সম্পর্ক স্থাপন হয়৷
নব পত্রিকা স্নানের পরে একে একে চক্ষুদান, প্রাণপ্রতিষ্ঠা৷ বাড়ির পুজো
হোক বা বারোয়ারি৷ সপ্তমীর সকালে সবাই উপস্থিত নদির ঘাটে৷ ঘটে করে গঙ্গার জল
নিয়ে গিয়ে তার সঙ্গে শিশির থেকে সমুদ্র নানা জল মিশিয়ে স্নান তারপর কলাবউকে
সাজিয়ে শুরু মহাসপ্তমীর পুজো৷ বনেদি বাড়িতে অবশ্য অনেকসময় এর সঙ্গেও
থাকে নিজস্ব কিছু রীতি বা প্রকরণ৷
গতকাল মহাষষ্ঠীতে মহানগরীর পথে দেখা যায় জনজোয়ার৷ মণ্ডপে মণ্ডপে চুটিয়ে
ঘুরলেন দর্শনার্থীরা ৷ চুটিয়ে খাওয়া দাওয়া৷ আর দেদার আড্ডা৷ উত্তর থেকে
দক্ষিণ, সর্বত্রই মণ্ডপে উপছে পড়া ভিড়, কোথাও করোনা বিধি মানা হল, কোথাও
করোনা শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন মানুষ উল্লাসে ৷ রাত যত গড়িয়েছে জনজোয়ার পরিণত
হয়েছে জনপ্লাবনে৷ আলোর রোশনাই মাখা শহরে আনন্দের স্রোত৷ হাসি, খুশি আর
হুল্লোড়৷
মহাঅষ্টমী
দুর্গাপুজোর অন্যতম আকর্ষণ হল মহাষ্টমী। ষষ্ঠী থেকে দশমী, এই চারদিনে বেশ
কয়েকবার দেবীর অঞ্জলি হয়। কিন্তু, অষ্টমী পুজোয় অঞ্জলি দেওয়ার জন্যই ভক্তরা
বেশি উৎসাহ দেখান। এজন্য সকাল থেকে উপবাস, সাতসকালে স্নান-সহ তাঁদের নানা
আচার পালন করতেও দেখা যায়। ঠিক কী কারণে, অষ্টমী তিথিকে এত গুরুত্ব দেওয়া হয়?
পুরাণ অনুযায়ী, মহাষ্টমীতেই দেবী দুর্গাকে নানা ধরনের অস্ত্র, পদ্মের
মালা, রত্নহার দিয়ে সাজিয়ে তুলেছিলেন দেবতারা। কারণ, পুরাণের মতে ভাদ্র মাসের
কৃষ্ণানবমী তিথিতে দেবতাদের তেজ পুঞ্জীভূত হতে শুরু করে। আর, সেই পুঞ্জীভূত
তেজ আশ্বিনের সপ্তমী তিথিতে বিশেষ রূপ ধারণ করে। সেই তেজের সাহায্যেই অষ্টমী
তিথিতে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীকে সাজিয়ে তুলেছিলেন দেবতারা।
সেই রীতি মেনে অষ্টমী তিথিতে দেবী দুর্গাকে বিশেষ রূপে এবং উপাচারে সাজিয়ে
তোলেন ভক্তরা। ২০২২ সালে অষ্টমী তিথি পড়েছে ৩ অক্টোবর (১৬ আশ্বিন)।
পূর্বাহ্ন সকাল ৯টা ২৯ পর্যন্ত। যদিও কালবেলার হিসেব অনুযায়ী, সকাল ৮টা ২৯-এর
মধ্যেই শারদীয়া দুর্গাদেবীর মহাষ্টম্যাদিকল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা
গ্রহণযোগ্য। তবে, মহাষ্টমী তিথি রয়েছে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। যদিও পঞ্জিকার ভেদে
মহাষ্টমী দুপুর ৩টে ৩৯ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত বলে জানানো হয়েছে।
কথিত আছে, মহাষ্টমীতে দেবীর পুজো করার সময় সঠিক নিয়ম মেনে চললে জীবনে কখনও
আর্থিক দিক থেকে অবনতি ঘটে না। সবসময় সাফল্য আসে। জীবনে বহুদূর এগিয়ে যাওয়া
সম্ভব হয়। ব্যবসা আর কর্মক্ষেত্রে বাধা দূর করতে অনেকে আবার অষ্টমীতে সূর্য
ওঠার আগে স্নান করে লাল কাপড় পরে দেবীর পুজো করেন।
দেবীকে লাল রঙের চুরি, পয়সা এবং বাতাস নিবেদন করেন। আবার অনেকে মহাষ্টমীতে
১১টি পিপল গাছের পাতায় ঘি ও সিঁদুর মিশিয়ে রামের নাম লেখেন। সেগুলো হনুমানের
চরণে অর্পণ করেন। ভক্তদের বিশ্বাস এতে জীবনের নানা বাধা কেটে যায়। সামাজিক
সম্মান বৃদ্ধি পায়।
মহানবমী
মহানবমীর সন্ধিক্ষণে যে পুজো হয়, তাকে বলে ‘সন্ধিপুজো’ (Sandhi Puja)।
সন্ধিপুজোয় দেবী দুর্গাকে (Goddess Durga) পুজো করা হয় চামুণ্ডা রূপে। বাঙালি
হিন্দুরা সন্ধিপুজোর উপাস করেন পবিত্রভাবে। এই পুজোয় ১০৮ টি পদ্ম (Lotus) ও
প্রদীপের (Oil Lamp) প্রয়োজন হয়। হিন্দুধর্মে সন্ধিপুজোর মাহাত্ম্য বিরাট।
অষ্টমী তিথি (Ashtami Tithi) শেষ হওয়ার শেষ ২৪ মিনিট এবং নবমী তিথি শুরু
হওয়ার প্রথম ২৪ মিনিটকে বলা হয় সন্ধিক্ষণ। পুরাণ অনুসারে, এই সময়েই মা দুর্গা
‘চণ্ড’ ও ‘মুণ্ড’ নামে দুই দোর্দণ্ড অসুরকে বধ করেছিলেন। চামুণ্ডা মহাশক্তির
এক ভয়াল রূপ। কথিত আছে, অসুররাজ শুম্ভ এবং নিশুম্ভের প্রধান দুই সেনানায়ক
ছিলেন ‘চণ্ড’ ও ‘মুণ্ড’। এই দুই ভয়ঙ্কর অসুরকে বধ করার জন্য দেবী চামুণ্ডা
রূপ ধারণ করেন।
চান্দ্রমাস অনুসারে এই সন্ধিক্ষণ পরিবর্তিত হতে পারে। দেখা গিয়েছে, কোনও বছর
সন্ধিক্ষণ রাত ৮টাতেও হতে পারে। আবার কোনও কোনও বছর ভোররাতেও হতে পারে
সন্ধিক্ষণ। নবমীর পুজোতেই মা’কে নৈবেদ্য দেওয়ার শেষ সুযোগ থাকে। সন্ধিপূজার
আয়োজনও করা হয় বিপুল। সন্ধিপুজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রীতি হল মাকে ১০৮ টি
পদ্ম এবং ১০৮ টি মাটির প্রদীপ নিবেদন করা। এছাড়া মা দুর্গাকে নিবেদন করা হয়
গোটা একটি ফল (ফল লাল রঙের হওয়া বাঞ্ছনীয়), জবা ফুল, শাড়ি, চাল, অলঙ্কার (যদি
কোনও ভক্ত নিবেদন করতে চান তাহলেই) এবং বেলপাতা। পুজোর উদ্যোক্তারা
নিজের মতো নৈবেদ্য সাজান। তবে ১০৮ টি পদ্ম এবং ১০৮ টি প্রদীপ জ্বালানোর রীতির
কোনও নড়চড় হয় না। প্রশ্ন হল, কেন মা দুর্গাকে সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্ম ও প্রদীপ
দেওয়া হয়?
পুরাণ অনুসারে, অষ্টমী তিথি ও নবমী তিথির মিলনকালে মা দুর্গা আবির্ভূতা হন
চামুণ্ডা রূপে। অন্যদিকে কৃত্তিবাসী রামায়ণ অনুসারে, পরম শক্তিশালী রাবণের
বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য মা দুর্গাকে শরৎকালে আশ্বিনমাসে আবাহন
করেছিলেন রামচন্দ্র। রামচন্দ্র দেবীর পুজোর জন্য ১০৮টি পদ্ম আনতে বলেন
হনুমানকে। হনুমান ১০৭টি পদ্ম আনতে সক্ষম হন। একটি পদ্ম মায়ার খেলায় অদৃশ্য
হয়। একটি পদ্মের অভাব দেখা দিলে রামচন্দ্র তাঁর পদ্মের সমান একটি চক্ষু
দান করতে উদ্যত হন। সেইসময় মা দুর্গা উদিত হন রামচন্দ্রের সামনে। তিনি
রামচন্দ্রকে আশীর্বাদ করেন। ষষ্ঠী তিথিতে রামচন্দ্র মা দুর্গার পুজো শুরু
করেছিলেন। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে রামচন্দ্র অস্ত্রলাভ করেন। অনেকের
মতে এই কারণেও সন্ধিপুজোয় ১০৮টি পদ্ম নিবেদনের রীতি প্রচলিত হয়েছে।
দশমী
দুর্গা পুজোর শেষ দিন দশমী। দশমীর দিন মায়ের বিদায়ের মধ্যে দিয়ে সমাপ্ত হয়
দুর্গা পুজো। তাই দশমী মানেই মন খারাপ। এবার মাকে বিদায় দেওয়ার পালা। উমা
তাঁর বাপের বাড়ি ছেড়ে পুনরায় পাড়ি দেন কৈলাসে। এই দিন মাকে বরণের পর শুরু
হয় সিঁদুর খেলা।
মহাষষ্ঠী থেকে মহানবমী আমরা ‘মহা’ এবং ‘শুভ’ কথাটা উচ্চারিত করি। কিন্তু
দশমীর দিন ‘বিজয়া দশমী’র শুভেচ্ছা জানাই। বিজয়ার দিনে এই যে সিঁদুর খেলায়
আমরা বাঙালিরা মেতে উঠি। বিজয় দশমীর দিন মহিলারা লাল পার সাদা শাড়ি পরে
সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। এর মাধ্যমে তাঁরা স্বামীর মঙ্গল কামনা করেন। কিন্তু
এই রীতির ইতিহাস এবং তাৎপর্য কি জানেন?
পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে বাপের বাড়ি
ছেড়ে মা দূর্গা পাড়ি দেন কৈলাসে স্বামীর কাছে। এই কারণেই এই তিথিকে ‘দশমী’
বলা হয়। কিন্তু দশমী বিজয়া কেন বলা হয় তার ব্যাখ্যাতেও উঠে আসবে পৌরাণিক
কাহিনি। পুরাণে মহিষাসুর-বধ কাহিনিতে কথিত রয়েছে যে মহিষাসুরের সঙ্গে মা
দুর্গার নয় দিন নয় রাত্রি যুদ্ধ হওয়ার পর দশম দিনে বিজয় লাভ করেন দেবী
দুর্গা। নারী শক্তির এই জয় লাভকেই ‘বিজয়া’ বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রীচণ্ডীর কাহিনি অনুযায়ী, দেবী আবির্ভূত হন আশ্বিন মাসের
কৃষ্ণাচতুর্দশীতে এবং মহিষাসুরকে বধ করেন শুক্লপক্ষের দশমীতে। তাই দশমীতে এই
বিজয়কেই বিজয়া দশমী চিহ্নিত করা হয়।
বাঙালিদের মধ্যে সিঁদুর খেলার ইতিহাস এখনও সঠিক ভাবে জানা যায়নি। তবে
জনপ্রিয় ফর্কলোর অনুসারে, গৃহিণীদের মধ্যে বনহোমি চালু করার জন্য জমিদার
বাড়ির দুর্গা পূজায় ২০০ বছর আগে এই সিঁদুর খেলার উৎসব শুরু হয়েছিল। আরেকটি
অন্য তত্ত্ব অনুসারে, সিঁদুর খেলার এই ঐতিহ্য দুর্গা পূজার মতই পুরানো। ধারণা
করা হয়ে এই রীতি প্রায় ৪০০ বছর পুরানো। সাধারণভাবে প্রচলিত বিশ্বাস
অনুযায়ী, যদি কোনও মহিলা সঠিক রীতি মেনে সিন্দুর খেলা খেলেন, তবে তিনি কখনই
বিধবা হবেন না, যেহেতু হিন্দু বিবাহ রীতিতে সিঁদুরদান একটি লৌকিক আচার।
ম্যাগাজিন


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন