রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ১৪২৯
লেখাপড়ার "পরিচয়" ওয়েবসাইট সংকলন
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে ১৪২৯
পরিচালনায়:- লেখাপড়ার"পরিচয়" ম্যাগাজিন/প্রকাশনী
প্রকাশ:- ২৫ শে বৈশাখ,১৪২৯ (৯ই মে,২০২২)
বিষয়:- তোমার মনের রবি ঠাকুর
বিভাগ:- অনুকবিতা-কবিতা,অনুগল্প-গল্প,প্রবন্ধ, নাটক-শ্রুতি নাটক,ছড়া এবং অঙ্কন চিত্র।
সম্পাদক ও সভাপতি
মিলন পুরকাইত ও বিমান প্রমানিক
৬২৯১২২৭৮৯৭ ও ৮৩৭১৯৮১২৯৫
অনুকবিতা-কবিতা:-
দীপ্ত সাহিত্যাকাশ
আনন্দ বক্সী
ভোরের রবি মেললো আঁখি
বিহগ দিলো ডাক
বছর ঘুরে এলো আবার
পঁচিশে বৈশাখ।
ক্লাব-প্রাঙ্গণে গড়া মঞ্চে
বাজছে রবির গান
'কবি প্রণাম' শুরু হবে
চেষ্টাটা আপ্রাণ।
মঞ্চ-মাঝে রবির ছবি
সজ্জিত ফুল মালায়
ছোট্ট মিনু দেখছে চেয়ে
তা অপার মুগ্ধতায়।
শুধায় মাকে, 'এ কোন্ ঠাকুর?
কোন্ মন্দিরে থাকেন?
পুরোহিত কি করবে পুজো?
উঠবে ধ্বনি শাঁখে?'
বললো মায়ে,'রবি ঠাকুর,
থাকেন না মন্দিরে
বড় হবার সাথে সাথে
জানবে ধীরে ধীরে।
কাব্য-ছড়া-গল্প-গানে
সদা বিরাজমান
বিশ্বজোড়া ভক্তগণের
হৃদয়ে অবস্থান।
এ ঠাকুরের পুজো করতে
লাগেনা পুরোহিত
তাঁকে পুজোর উপকরণ
কাব্য-নৃত্য-সঙ্গীত।
এক রবিতে আলোকিত
এ জগৎ বারোমাস
আর এই রবির সৃষ্টি ছটায়
দীপ্ত সাহিত্যাকাশ।'
লেখক পরিচিত -
গ্রাম-বেলিয়াডাঙ্গা,ডাক-দক্ষিণ বারাশত, থানা-জয়নগর, জেলা-দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সূচক ৭৪৩৩৭২।
শিশু রবি
শুভব্রত ব্যানার্জি
ছোট থেকে বৃদ্ধ বৃদ্ধা তোমার অনুরাগী,
তরুণ- তরুনী, কিশোর কিশোরী, কেউ যায় না বাঁকি।
প্রেমিক- প্রেমিকা, পূজারী- পূজারিণী সবার মধ্যে তুমি।
ঋতু বৈচিত্রে সেখানেও তুমি - নানা রূপে নানা সাজে।
গানে কবিতায়- তুমি মহারাজ,
ছোট গল্পে- তুমি যুবরাজ,
কত ভাণ্ডার ছিল গো তোমার,
এই বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ড মাঝে।
সাহিত্য কুলের তুমি দেবরাজ,
সিংহাসনে রাজা তোমাকেই সাজে।
তোমার স্থান অক্ষয় হোক চিরকাল
যুগে যুগে কালে কালে।
আমার আঙিনায় শ্রেষ্ঠ তুমি শিশুকালে শিশুমাঝে,
তুমি ছিলে তাই শিখেছি সদাই- বীরপুরুষ কিভাবে মানুষ হবে।
রক্ত ঝরিয়ে করেছ লড়াই জোড়া দিঘীর সেই মাঠে,
পাড়ার লোকেরা বলেছিল সবাই-
'ভাগ্যিস খোকা ছিল মায়ের সাথে।'
চাঁপা হয়ে তুমি লুকোচুরি খেলতে
তোমার মায়ের সাথে দিনে রাতে,
তোমার মায়ের আবার খোকা হতে তুমি,
সন্ধ্যা নামার কালে।
কত প্রশ্ন তুমি করেছ বারেক,
তোমার মায়ের কাছে,
শ্রেষ্ঠ উপহার পেয়েছে তুমি
পূজার ছুটির মাঝে।
ঝুলিতে তুমি রেখেছিলে হাতি,
কাবুলিওয়ালার কাঁধে,
সময়কালে ভুলেছিল মিনি
ফিরে দেখা হয়েছিল তার বিয়ের কনের সাজে।
মামা ভাগ্নের টান ছিল ভারি,
গ্রামের দূরন্ত ছেলে ফটিকের প্রতি-
সেও হারাল প্রাণের ছেলেটাকে কালের দোষে
মমতা হিনা নারীর অত্যাচারের বেড়াজালে।
আপন সন্তান করল বিসর্জন - জমিদারের ঘরে
পিতৃ হৃদয় তুমি বিরহে- ভাসিয়েছিলে অশ্রু নয়নে।
লোভী মনি মনিকা এসেছে ফিরে
কঙ্কাল হয়ে রাতের অন্ধকারে,
প্রাপ্তি ছিল তার সোনার গহনা
তাহার স্বামীর নিকটে।
জাতি ধর্ম বিভেদ লিখেছ
তুমি গোড়াকে নিয়ে,
ব্রাহ্মণত্বের অহংকার করেছ নিরসন
গোড়া উপন্যাসে।
তুমি ছিলে মানুষ উনিশ শতকের,
তোমার দৃষ্টি ছিল ঋষির মত-
যুগে যুগে তোমার লেখনী থেকে ,
পাবে মুক্ত বাতাসের স্পর্শ।
কত সহস্র রচনা আছে তোমার,
নাগ পাশের মত ছড়িয়ে,
শান্তিনিকেতনের ইঁটের গাঁথুনির
ইতিহাস আছে লুকিয়ে।
তোমার মত পিপাসা নেই সাহিত্য সম্ভারের,
আমরা শুধু রসপলব্ধ জীব এই সংসারের মাঝে।
কলম নিয়ে করি বড়াই মোরা
মহাকবির আচরণে,
তোমার লেখাই পুনরাবৃত্ত ঘটে,
আপন ভাষার মাধুর্যে।
ক্ষমা করো নবেল বিজয়ী,
ক্ষমা করো মহারাজ,
'তোমার আসন শূন্য আজি' -
ওহে অধিরাজ।
লেখক পরিচিত -
শুভব্রত ব্যানার্জি
123A/1D দক্ষিণ সিঁথি রোড, দমদম জংশন,
কলকাতা - 700030।
অঙ্কন শিল্প-
আমার মনের রবি ঠাকুর
শিল্পী- আশীষ কুন্ডু
অনুকবিতা-কবিতা:-
কবি রবি
দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ
প্রেমের কবি মনের রবি আত্মার আত্মীয়,
তোমার জন্য এত গান এত কবিতা ভাললাগা ভালবাসা সবই খুব প্রিয়৷
তোমাকে পেয়ে জীবনে এত রং এত রূপ মাধুর্যের বর্ণনা ৷
হাত এত সচল মন এত কোমল পদ্মের পাতার মতো টলটল জল ৷
অনুভুতি গুলো স্পর্শকাতর সুক্ষ সুতোর মতো কোষে কোষে ৷
তোমার আশিষে ছন্দ গন্ধ
সুর তাল আর জীবনের গানে জড়িয়ে নিবিড় ৷
তোমারই জন্য অন্তর আত্মায় জেগে ওঠে মন প্রাণ ,
সত্যের সাথে আসলের হয় পরিচয় জীবন দেবতাকে নিবেদনের গান ৷
কত রং কত ঢং মেখে থাকা
ছবিগুলো কেমন আবছা জলের কাছে ৷
অথচ তুমি আছো সেই স্রস্টার মাঝে মনের দেবতা হয়ে সবেরই মাঝে ৷
দুঃখসুখ আনন্দ বেদনা একান্ত মনে ধরাপড়ে অনুভবে I
কত না আপন করে পেয়েছিলে তাকে দেখেছিলে অপলকে বুঝে ছিলে হৃদয় দিয়ে একান্ত ভাবে,
সবটায় পাই তোমারই গানে একান্ত ভাবে অন্তর অনুভবে ৷
কি বাণী কত দরদে বেঁধেছিলে সব গান একটি শব্দ ও যায় না ছাড়া প্রতিটি সচল মুহুর্তে ৷
প্রভুকে ডাকি তোমারই গানে মানে খুঁজে পাই তোমার ভাবে সবখানে শুধু তুমি তুমি সর্বদা আছো সাথে ৷
নূতন করে জানবে পৃথিবী আসল রবির মানে ৷
লেখক পরিচিত-
দীপান্বিতা পান্ডে দীক্ষিৎ (গৃহবধূ )
পিতা শ্রীগৌরাঙ্গ প্রসাদ দীক্ষিৎ (প্রাক্তন শিক্ষক)
মাতা শ্রীমতি রানী দীক্ষিৎ
জন্ম -22-11-1970
শিক্ষা -গ্র্যাজুয়েট বর্ধমান বিশ্ব বিদ্যালয় ৷ জন্মস্থান-বাঁকুড়া জেলার মালিয়াড়াতে বিবাহসুত্রে আসানসোল ৷
লেখিকা (কবিতা ছড়া প্রবন্ধ ও আবৃত্তিকার) স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখির সাথে যুক্ত ৷দীপ্তি ও হিরন্যজল পত্রিকা দুটিতে প্রথম লেখা প্রকাশ '
দীপ্তির সাথে এখনও যুক্ত ' |বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে লেখালেখি ৷ বিভিন্ন মঞ্চ থেকে আবৃত্তি | আসানসোলের সুপ্রিয়া সাহিত্য পত্রিকাতে সহসম্পাদক হিসাবে কয়েক বছর যুক্ত ছিলাম। কলকাতার নব দিগন্ত পত্রিকাতে লেখা প্রকাশ।তাপউত্তাপ সমিধ শিল্পসাহিত্য মনোহর সংহিতা পত্রিকা রাঢচেতনা অতসী যোধন শিল্প সাহিত্য মঞ্চ শিল্পাঞ্চল সংবাদ আরো অনেক পত্রিকার সাথে যুক্ত আনন্দবাজারের ছোটোদের পাতাই লেখা ৷বর্তমানে র সুখী গৃহকোনে প্রথম পত্রিকাতে লেখা ' প্রকাশ |সংবাদ প্রতিদিনের কলামে লেখা প্রকাশ ৷ স্মারক সম্মান ও অনেকপ্রশংসা পত্রে সম্মানিত। করোনা কালে মোবাইলের মাধ্যমেবিভিন্ন পত্রিকা সুত্রে অনেক গুলি সাহিত্য পত্রে যুক্ত ৷ সেখান থেকে ও সম্মান পত্রে সম্মানিত ' ৷
রবি
খুশি কর
রবি তুমি সবার কবি,
বিশ্বজোড়া ভুবন খ্যাতি।
জন্ম নিলে জোঁড়াসাকোর ঠাকুর পরিবারে,
ঠাকুরদা মস্ত বড় জমিদার
ইয়া বড় বড় গোঁফ তার।
জন্ম নিলে মাতৃগর্ভে
বড়ো হলে ঝি এর কোলে।
মাতৃস্নেহ কি তুমি পাওনি,
পিতৃস্নেহ সে কি জানোনি ।
একা একা ঘরের কোণে
লুকিয়ে লুকিয়ে কাঁদতে,
জানালা দিয়ে গাছ, পুকুর পাখির ডাক শুনতে।
জ্বরের ঘোরে হাতড়ে তুমি,
বিছানা ছেড়ে উঠতে
হন্যে হয়ে তুমি তোমার মাকে খুঁজতে।
প্রবল জ্বরে তুমি যখন একা একা বকতে,
তখন দরজার পাশে শুধু একবার আবছা আলোয়
তোমার মাকে দেখতে।
এটুকুই যা সুখ তখন।
তোমার জীবনে যত ব্যাথা
তুমি দাওনি কাউকে বুঝতে,
লুকিয়ে রেখেছো বক্ষমাঝে।
আর সেগুলো অজান্তেই ঝড়ে পড়ছে তোমার কবিতাতে।
রবি তুমি সবার কবি
ভুবন জোড়া তোমার খ্যাতি।
লেখক পরিচিত-
খুশি কর
গ্ৰাম কাকনান,পোস্ট বন্দর,জেলা হুগলী,থানা খানাকুল,পিন 721212
বর্তমানে নেতাজি মহাবিদ্যালয় এ বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়ছি।
ছোটখাটো ম্যাগাজিন এবং অনলাইন ম্যাগাজিন এ লিখেছি।
"জোড়াসাঁকোতে ঠাকুর"
অরবিন্দ সরকার
প্রতিমা নয় পদবী এই পরিবারে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মেছেন পুরে,
জমিদারি বংশে বড়ো সঙ্গীতের সুরে,
লেখাপড়া কাব্য ছড়া বাড়ীর অন্দরে।
জমিদারি দেখাশোনা তারি মাঝে সৃষ্টি,
গল্প উপন্যাস গীত কাব্যে দূরদৃষ্টি,
বিশ্বদরবারে কবি বাঙালির কৃষ্টি,
নোবেল বিজয়ী তিনি মাথে পুষ্পবৃষ্টি।
বিশ্বভারতী নামেতে বিশ্ববিদ্যালয়,
বোলপুরে লালমাটি বিশ্বে পরিচয়,
গীতবিতান রচনা ছাতিমতলায়,
সঞ্চয়িতা ছোটগল্প বাউল পাড়ায়।
বাঙালি সম্মানে ভাটা নোবেলের চুরি,
চোরের কিনারা নাই, বঙ্গে বাটপারি।
লেখক পরিচিত-
অরবিন্দ সরকার
পিতা মৃত অশ্বিনী সরকার,মাতা মৃতা মহামায়া সরকার, জন্ম পয়লা এপ্রিল উনিশশো পঞ্চান্ন মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দি থানার অন্তর্গত ভাটরা গ্রামে। পরবর্তীতে বহরমপুরের বাসিন্দা। হাইস্কুলের বাংলার মাষ্টারমশাই। অল্পবয়সেই সঙ্গীতে হাতে খড়ি ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ। রম্যরচনা, গল্প, কবিতা , ভ্রমণ কাহিনী লেখেন।এ পর্যন্ত সাতখানি বই প্রকাশিত হয়েছে।অ থেকে হ পর্যন্ত অক্ষর দিয়ে আদ্যাক্ষর কবিতামালার স্রষ্টা কবি। বর্তমানে স্পন্ডিলাইটিস রোগী। শুয়ে শুয়ে মোবাইলে কষ্ট করে লেখালেখি সাহিত্যকে ভালোবেসে। পড়াশোনা - অমৃতকুণ্ড কৃষ্ণ কামিনী বিদ্যামন্দির ও কৃষ্ণনাথ কলেজ বহরমপুর থেকে।
প্রণমী তোমায়
পিঙ্কি ঘোষ
তোমার উপন্যাসের নায়িকা হতে চাই রবি কবি!
আবারও ফিরে এসে তুলে নাও তোমার কলম,
তোমার খোলা হাওয়ায় আমার ইচ্ছেরা-
পাল তুলে আপনমনে নিরুদ্দেশে দিক পাড়ি।
লেখক পরিচিত-
১৯৯৪ সালের ২৫ শে মার্চ কলকাতায় জন্মগ্রহন। ২০১৫ সালে কলকাতা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে দর্শনে এম.এ. পাশ করার সাথে নিয়মিত কবিতা ও প্রবন্ধ লেখা অব্যাহত থাকে।বর্তমানে প্রান্ত বার্তা সাপ্তাহিক সংবাদ পত্রের কলকাতা ও ২৪ পরগণা জেলার সাংবাদিক এবং প্রান্ত বার্তার সাহিত্যের পাতার সম্পাদক। বাঙলার লেখা-ই-ম্যাজিন,শতানিক,প্রান্ত বার্তা,বঙ্গ সাহিত্য পত্রিকা, অখিল ভারতীয় ভাষা পর্ষদ,আন্তর্জাতিক সাপ্তাহিক পলাশ সাহিত্য পত্রিকা,আলেখ্য পত্রিকা, নীলাঞ্জনা প্রকাশনা,কালপুরুষ, একালের কবিতা সহ বহু ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হচ্ছে এবং দেশের বাইরেও বহু পত্রিকায় নিয়মিত লিখছেন।
রবীন্দ্র জয়ন্তী
সায়ন্তন সরকার
পঁচিশে বৈশাখ
রাত্রি হল ভোর।
আজি মোর
জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী,
প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি
হাতে করে আনি
দ্বারে আসি দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।
দিগন্তে আরক্ত রবি;
অরণ্যের ম্লান ছায়া বাজে যেন বিষণ্ন ভৈরবী।
শাল-তাল-শিরীষের মিলিত মর্মরে
বনান্তের ধ্যান ভঙ্গ করে।
রক্তপথ শুষ্ক মাঠে,
যেন তিলকের রেখা সন্ন্যাসীর উদার ললাটে।
এই দিন বৎসরে বৎসরে
নানা বেশে ফিরে আসে ধরণীর ‘পরে—
আতাম্র আম্রের বনে ক্ষণে ক্ষণে সাড়া দিয়ে,
তরুণ তালের গুচ্ছে নাড়া দিয়ে,
মধ্যদিনে অকস্মাৎ শুষ্কপত্রে তাড়া দিয়ে,
কখনো বা আপনারে ছাড়া দিয়ে
কালবৈশাখীর মত্ত মেঘে
বন্ধহীন বেগে।
আর সে একান্তে আসে
মোর পাশে
পীত উত্তরীয়তলে লয়ে মোর প্রাণদেবতার
স্বহস্তে সজ্জিত উপহার—
নীলকান্ত আকাশের থালা,
তারি ‘পরে ভুবনের উচ্ছলিত সুধার পিয়ালা।
লেখক পরিচিত-
রবীন্দ্রনাথ
অভিজিৎ দত্ত
রবীন্দ্রনাথ, তুমি সত্যিই ছিলে
এক বিষ্ময়কর প্রতিভা
গান,নাটক, লেখা,ছবি ও কবিতা
সবেতেই ছিল তোমার
বিষ্ময়কর প্রতিভার ছোঁয়া।
তুমি ছিলে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, দার্শনিক
তুমি ভীষণ ভালোবাসতে প্রকৃতিকে
চেয়েছিলে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য
করে আমাদের গড়ে তুলতে।
তুমি বুঝেছিলে নগর সভ্যতার
ভয়াবহ পরিণামের কথা
তাই তো বলেছিলে,দাও ফিরে সে অরণ্য
লহ এ নগর।
তুমি ছিলে ভারত তথা এশিয়ার
প্রথম নোবেল বিজেতা
বিশ্বভারতী,শান্তিনিকেতন সহ
অনেক কিছুরই প্রতিষ্ঠাতা।
তুমি আমাদের আশা ও ভরসা
তোমার গান ও লেখা থেকেই পাই
জীবনে এগিয়ে চলার প্রেরণা।
লেখক পরিচিত-
![]() |
| অভিজিৎ দত্ত |
মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জে জন্ম। পেশা শিক্ষকতা, নেশা সাহিত্য চর্চা।স্কুল জীবন থেকে লেখালেখির শুরু।একাধিক পত্র, পত্রিকায় লিখেছেন বা লিখে চলেছেন। ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কাব্যগ্রন্থে এ পর্যন্ত পাঁচটি বই এ তার লেখা বেরিয়েছে।তার নিজস্ব কাব্যগ্রন্থ, কাব্যের ঝংকার, এবার বইমেলায় বেরিয়েছে।লেখালেখির জন্য একাধিক পুরষ্কার, শংসাপত্র ও সম্মাননা পেয়েছেন ও পাচ্ছেন। তার নির্বাচিত রচনাবলী, চেতনা,প্রকাশের অপেক্ষায়।বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
![]() |
| রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর অঙ্কন শিল্পী- সৃজা বক্সী |
অনুভবে বিশ্বকবি
"মুরারি"
তোমার কবিতায় স্বর্গীয় প্রেম,
নিকষিত হেমের মত;
আর যত যত বৈষয়িক বোধ,
সবটাই তার লোকশিক্ষায় রত।
ধান নদী মাঠ থেকে চন্দ্র সূর্য তারায়,
সবখানেই তোমার কবিতা অমৃত ধারায়;
জীবনের বোধ গুলো সূক্ষ্ম হতে হতে,
সূক্ষ্ম বোদ্ধার উত্তরণ দিয়েছে জগতে।
বিকৃত লালসার জৈবিক উন্মাদনা,
কোথাও নেই তোমার কবিতায়;
সবই যেন পরিমল পরিপাটি,
রাজা প্রজার সম বেদনায়।
স্বর্ণ বৈভব যথার্থ প্রেমে,
নেমে এসেছে ধূলির ধরণীতে;
কবিতা হয়েছে জীবন সম্ভূত রসধারা,
স্বর্গ থেকে মর্তে যাবার মিলন তরীতে।
পঁচিশে বৈশাখটা তাই দেহ মনের উন্মাদনা,
একটা খেয়ালী মন অর্ধেক প্রকৃতি অর্ধেক কল্পনা;
আকণ্ঠ ডুবে যাই তোমার রসময় কবিতায়,
খেয়ালী আর হেঁয়ালীতে এ দেহ হয়ে ওঠে কবি হৃদয়।
আমি ফুল হই পাখীর কণ্ঠ ধার নিই,
নারীর হৃদয়টাকে পাঁজরে বসাই;
তার পর গণ্ডুষ ভর্তি জলের মত অঞ্জলিটা,
পঁচিশে বৈশাখের পায়ে সাজাই।
আমার অঞ্জলিটাই মন্ত্র পড়ে,
বিশ্বকবির সকল কীর্তি জুড়ে;
পঁচিশে বৈশাখ আর একবার এসনা,
আমাদের গাঁয়ের সোনাদীঘির পাড়ে।
লেখক পরিচিত-
অচেনা বৈশাখ
রিয়া বৈদ্য
চেনা হয় না বৈশাখী ঝড়,
খুব চেনা মন জানে,
কালো অন্ধকার, মেঘের ঘর।
কোমল নিদ্রায় ঘুম ভাঙে না,
ক্ষোভ জাগে না বৈশাখে।
জমলো সদাই মন,,,রাঙে না,
লোভ রাখে না-মেঘ মল্লারে ।
পাহাড় সমান রোদ আবার ।
অচেনা বৈশাখ, নাই চেনা জানা,
অ'গলা, কারন! কী যায় গোনা?
লেখক পরিচিত-
![]() |
| রিয়া বৈদ্য |
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সোনারপুর থানার প্রতাপনগর অঞ্চলে বৈদ্য পাড়া কুস্তিয়া গ্রামের দেবাশীষ বৈদ্য ও মানসী বৈদ্যের জ্যেষ্ঠা কন্যা রিয়া বৈদ্য। আমি একজন প্রতিবন্ধী । আমার জন্ম- ১৯৯৯ সালের ৪ঠা জানুয়ারী ।পড়াশোনা-মাধ্যমিক ২০১৪ সালে এবং উচ্চমাধ্যমিক ২০১৬ সালে খড়ম্বা বাণী বিদ্যালয়ে।কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত সুশীল কর কলেজের সাধারণ বিভাগ থেকে স্নাতক পাশ করেছি ২০২০সালে।বর্তমানে আমি বাড়িতে ছোটো বাচ্চাদের পড়াই এবং একটু লেখালেখি করি।ছোটোবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ।আমার প্রথম কবিতা 'দিব্য আছি' প্রকাশ পায় 'আভাতি' পত্রিকায় ২০২১ সালে।তারপর যথাক্রমে বিভিন্ন পত্রিকা, পেজ,গ্রুপ থেকে প্রকাশিত হয় আমার কবিতা।সেগুলি হল-'বহ্নিপতঙ্গ','আলোর ঠিকানা সাহিত্য','পাহাড় থেকে সাগর সাহিত্য','বার্তা- ভারতী সাহিত্য পত্রিকা',পরিচয় প্রকাশনী'ইত্যাদি।
![]() |
| রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর অঙ্কন শিল্পি- মৌসুমি পুরকাইত। |
গুরু
রূপো বর্মন
পাইতাম যদি দেখিতে তোমারে,
দু নয়নে নয়ন রাখিয়া,
ভবের মায়ায় দিতাম বাধিয়া।
মৃত্যু রেখা তুলিতাম আমি,
সর্বদা হইতাম তব অন্তর্যামী।
কাব্য মাঝে করিতেছো বিরাজ,
তুমি বিনা ছিন্ন সাজ।
আরেকটিবার এসো হে গুরু,
পদধূলিতে করিবো জীবন শুরু।
তব ছোঁয়া পাবার আশায়,
স্মরণ করি সাধু ভাষায়।
কাব্য রসে সজ্জিত রবি,
জগৎ বিখ্যাত নাম বিশ্বকবি।
দু নয়নে নয়ন রাখিয়া,
ভবের মায়ায় দিতাম বাধিয়া।
মৃত্যু রেখা তুলিতাম আমি,
সর্বদা হইতাম তব অন্তর্যামী।
কাব্য মাঝে করিতেছো বিরাজ,
তুমি বিনা ছিন্ন সাজ।
আরেকটিবার এসো হে গুরু,
পদধূলিতে করিবো জীবন শুরু।
তব ছোঁয়া পাবার আশায়,
স্মরণ করি সাধু ভাষায়।
কাব্য রসে সজ্জিত রবি,
জগৎ বিখ্যাত নাম বিশ্বকবি।
রাখিতাম প্রেমের নিরাকার পিঞ্জরে।
লেখক পরিচিত-
| রূপো বর্মন গ্রাম - মৌজগাঁও ,পোষ্ট - বসিয়ান,থানা - রায়গঞ্জ,জেলা - উত্তর দিনাজপুর ,পিন - 733156 |
প্রবন্ধ -
জীবনস্রোতে রবীন্দ্রনাথ
মিঠুন রায়
রবীন্দ্রনাথকে বাদ দিয়ে আজকের দিনেও জীবনমুখী সংস্কৃতির কথা ভাবা যায় না।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আধুনিক বাঙালির মননে ও সৃজনে জ্যোতিময় এক প্রতীক।বাঙালির প্রাণের মানুষ তিনি।বিশ্বসাহিত্য আসরে তিনি মাতৃভাষাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করে বাংলা ও বাঙালিকে এক মর্যাদার আসনে বসিয়েছেন।সাহিত্য,চিত্রকলা বা সংস্কৃতি সর্বত্রই ছিল তাঁর অবাধ বিচরণ।তিনি আমাদের একান্ত আপনজন।আমাদের জীবনযাপনের প্রতিটি ক্ষেত্র মসৃণ করার জন্য,মানুষ হয়ে ওঠার জন্য রবীন্দ্রনাথ কলম ধরেছেন বারবার।কবির প্রেম,পূজা,প্রকৃতি পর্যায়ের গান আমাদের ঋদ্ধ করে।চারপাশের ঘোর কলুষতা,অমানিশা থেকে একদন্ড শান্তি পেতে আমরা আশ্রয় করি রবীন্দ্রনাথকে।তিনি আমাদের চেতনার দ্রোহপুরুষ।তিনিই আমাদের প্রকৃত আদর্শ পুরুষ।চরম দুঃখে,পরম সুখে তাঁকে চাই।তাঁর সাহিত্য সৃষ্টি দেশ,কাল ও পাত্রের গন্ডি অতিক্রম করে এক অপরূপ সৌন্দর্য বিকশিত হয়েছে।
আসলে রবি ঠাকুরের জীবন নানাবৈচিত্র্যে ভরা।ষাট বছরের জন্মদিনে কবি যখন প্রবাসে যান,তখন চালস্ ফিয়ার এন্ডুজকে লেখা এক চিঠিতে যা লেখেন তাতে এই অপরিহার্যতার কথা বোঝা যায়,"রাজনীতি আমার স্বভাবকর্মের বিরুদ্ধে।অথচ এমন দুর্ভাগা দেশে জন্ম যে রাজনীতির উওেজনা থেকে নিজেকে দূরে রাখা কঠিন।তিনি তাঁর লেখায় উল্লেখ করেছেন যে,সাম্রাজ্য নিশ্চয়ই আমাদের ক্ষতি করেছে এবং আমাদের মধ্যে বিরোধ জাগিয়ে ও জিইয়ে রাখছে,কিন্তু সেই অজুহাতে নিজেদের কুসংস্কার ও দুর্বলতাকে প্রশ্রয় দিলে আমাদের লড়াইটা সমান তালে হবে না এবং তাতে আমরা কোনওমতে জয়ী হতে পারব না।কারণ,যুদ্ধটা এক ও অবিভাজ্য।
রবীন্দ্রনাথ প্রকৃতির কবি।প্রকৃতির সব ঘটনায় তাঁর চোখে তাৎপর্যপূর্ণ।তাঁর ভাবনাও ছিল কঠিন।মরা গাছের ডালে আগুন জ্বালালে তা লেলিহান শিখা তৈরি করে।কবি এই ঘটনায় ভাবছেন আগুন আকাশের দিকে হাত তুলে নাচছে।তাই তিনি এমর্মে লিখেছেন--
"আধারের তারা যত
অবাক হয়ে রয় চেয়ে
কোথাকার পাগল হাওয়া বয় ধেয়ে"
কবির কবিতাগুলো আজকের দিনেও আমাদের নতুন করে বাঁচার প্রেরণা দেয়।তিনি আমাদের শিখিয়েছেন-"চিও যেথা ভয় শূণ্য উচ্চ যেথা শির"।সময়ের প্রবাহে জীবন নদে চলার ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ এক অপরাজেয় ব্যক্তিত্ব।আমরা চিরকৃতজ্ঞ এই মহামানবের কাছে।আমাদের মেধা ও মননে তিনি সদাই বিরাজমান।
লেখক পরিচিত-
রবীন্দ্র জয়ন্তীর জন্য অভিভাষণ-
হে নূতন
বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র
আবার বছরান্তে এসেছে এক নতুন রবি কিরণে
পঁচিশে বৈশাখ।
এই কবি প্রনামে আসুন গঙ্গা জলে সেই গঙ্গার পূজা করি আমাদের প্রানের দেবতার। যে পূজার প্রচলন করে বিশ্বকবি বন্দীলেন তার-ই কালে কালে সৃষ্ট স্রোতসিনী সৃষ্টির বন্দনা আপন কবিতায় -
"পঁচিশে বৈশাখ "
রাত্রি হল ভোর।
আজি মোর
জন্মের স্মরণপূর্ণ বাণী,
প্রভাতের রৌদ্রে-লেখা লিপিখানি
হাতে করে আনি
দ্বারে আসি দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ।
দিগন্তে আরক্ত রবি;
অরণ্যের ম্লান ছায়া বাজে যেন বিষণ্ন ভৈরবী।
শাল-তাল-শিরীষের মিলিত মর্মরে
বনান্তের ধ্যান ভঙ্গ করে।
রক্তপথ শুষ্ক মাঠে,
যেন তিলকের রেখা সন্ন্যাসীর উদার ললাটে।
এই দিন বৎসরে বৎসরে
নানা বেশে ফিরে আসে ধরণীর ‘পরে—
আতাম্র আম্রের বনে ক্ষণে ক্ষণে সাড়া দিয়ে,
তরুণ তালের গুচ্ছে নাড়া দিয়ে,
মধ্যদিনে অকস্মাৎ শুষ্কপত্রে তাড়া দিয়ে,
কখনো বা আপনারে ছাড়া দিয়ে
কালবৈশাখীর মত্ত মেঘে
বন্ধহীন বেগে।
আর সে একান্তে আসে
মোর পাশে
পীত উত্তরীয়তলে লয়ে মোর প্রাণদেবতার
স্বহস্তে সজ্জিত উপহার—
নীলকান্ত আকাশের থালা,
তারি ‘পরে ভুবনের উচ্ছলিত সুধার পিয়ালা।
রবীন্দ্র রচনাবলীর পরতে পরতে আপ্ত স্মৃতিমেদুর আনন্দ বিষাদের সৃজনশীল আত্ম বিভোর বয়ঃবৃদ্ধ রবীন্দ্র উদ্ভাসিত হলেন আপন কবিতায় চরণের বয়ানে,তারই ভাস্বর রূপ জীবন মুকুরে প্রতিভাত কিংবা ক্যানভাসে আঁকা ছবির মতোই-
তাই কবি লিখলেন তার
‘নবজাতক’ কাব্যগ্রন্থে "জন্মদিন"কবিতায়-
জন্মদিন
তোমরা রচিলে যারে
নানা অলংকারে
তারে তো চিনি নে আমি,
চেনেন না মোর অন্তর্যামী
তোমাদের স্বাক্ষরিত সেই মোর নামের প্রতিমা।
বিধাতার সৃষ্টিসীমা
তোমাদের দৃষ্টির বাহিরে।
কালসমুদ্রের তীরে
বিরলে রচেন মূর্তিখানি
বিচিত্রিত রহস্যের যবনিকা টানি
রূপকার আপন নিভৃতে।
বাহির হইতে
মিলায়ে আলোক অন্ধকার
কেহ এক দেখে তারে, কেহ দেখে আর।
খণ্ড খণ্ড রূপ আর ছায়া,
আর কল্পনার মায়া,
আর মাঝে মাঝে শূন্য, এই নিয়ে পরিচয় গাঁথে
অপরিচয়ের ভূমিকাতে।
সংসারখেলার কক্ষে তাঁর
যে-খেলেনা রচিলেন মূর্তিকার
মোরে লয়ে মাটিতে আলোতে,
সাদায় কালোতে,
কে না জানে সে ক্ষণভঙ্গুর
কালের চাকার নিচে নিঃশেষে ভাঙিয়া হবে চুর।
সে বহিয়া এনেছে যে-দান
সে করে ক্ষণেকতরে অমরের ভান--
সহসা মুহূর্তে দেয় ফাঁকি,
মুঠি-কয় ধূলি রয় বাকি,
আর থাকে কালরাত্রি সব-চিহ্ন-ধুয়ে-মুছে-ফেলা।
তোমাদের জনতার খেলা
রচিল যে পুতুলিরে
সে কি লুব্ধ বিরাট ধূলিরে
এড়ায়ে আলোতে নিত্য রবে।
এ কথা কল্পনা কর যবে
তখন আমার
আপন গোপন রূপকার
হাসেন কি আঁখিকোণে,
সে কথাই ভাবি আজ মনে।
(১৩৪৬ সনের পঁচিশে বৈশাখ পুরিতে বসে)
মানব ঠাকুর রবি ঠাকুর যে পাঠক মননের মন মন্দিরের দেবতা হিসেবে পূজিত তা বিলক্ষন জানতেন বলেই তার এই কবিতার অবতারণা -
জীবনের প্রতিটি জন্মদিন কি অনিবার্য ভাবে যেন রবীন্দ্রনাথ কে অনির্বচনীয় জীবনী শক্তিতে উজ্জ্বিবীত করে আরও প্রানবন্ত করে।তাইতো তিনি লিখতে পারেন
‘সেঁজুতি’ কাব্যগ্রন্থে
"জন্মদিন" কবিতায়
দৃষ্টিজালে জড়ায় ওকে হাজারখানা চোখ,
ধ্বনির ঝড়ে বিপন্ন ওই লোক।
জন্মদিনের মুখর তিথি যারা ভুলেই থাকে,
দোহাই ওগো, তাদের দলে লও এ মানুষটাকে--
সজনে পাতার মতো যাদের হালকা পরিচয়,
দুলুক খসুক শব্দ নাহি হয়।
সবার মাঝে পৃথক ও যে ভিড়ের কারাগারে
খ্যাতি-বেড়ির নিরন্ত ঝংকারে।
সবাই মিলে নানা রঙে রঙিন করছে ওরে,
নিলাজ মঞ্চে রাখছে তুলে ধরে,
আঙুল তুলে দেখাচ্ছে দিনরাত;
কোথায় লুকোয় ভেবে না পায়, আড়াল ভূমিসাৎ।
দাও-না ছেড়ে ওকে
স্নিগ্ধ -আলো শ্যামল-ছায়া বিরল-কথার লোকে,
বেড়াহীন বিরাট ধূলি-'পর,
সেই যেখানে মহাশিশুর আদিম খেলাঘর।
ভোরবেলাকার পাখির ডাকে প্রথম খেয়া এসে
ঠেকল যখন সব-প্রথমের চেনাশোনার দেশে,
নামল ঘাটে যখন তারে সাজ রাখে নি ঢেকে,
ছুটির আলো নগ্ন গায়ে লাগল আকাশ থেকে--
যেমন করে লাগে তরীর পালে,
যেমন লাগে অশোক গাছের কচি পাতার ডালে।
নাম ভোলা ফুল ফুটল ঘাসে ঘাসে
সেই প্রভাতের সহজ অবকাশে।
ছুটির যজ্ঞে পুষ্পহোমে জাগল বকুলশাখা,
ছুটির শূন্যে ফাগুনবেলা মেলল সোনার পাখা।
ছুটির কোণে গোপনে তার নাম
আচম্কা সেই পেয়েছিল মিষ্টিসুরের দাম;
কানে কানে সে নাম ডাকার ব্যথা উদাস করে
চৈত্রদিনের স্তব্ধ দুইপ্রহরে।
আজ সবুজ এই বনের পাতায় আলোর ঝিকিঝিকি
সেই নিমেষের তারিখ দিল লিখি।
তাহারে ডাক দিয়েছিল পদ্মানদীর ধারা,
কাঁপন-লাগা বেণুর শিরে দেখেছে শুকতারা;
কাজল-কালো মেঘের পুঞ্জ সজল সমীরণে
নীল ছায়াটি বিছিয়েছিল তটের বনে বনে;
ও দেখেছে গ্রামের বাঁকা বাটে
কাঁখে কলস মুখর মেয়ে চলে স্নানের ঘাটে;
সর্ষেতিসির খেতে
দুইরঙা সুর মিলেছিল অবাক আকাশেতে;
তাই দেখেছে চেয়ে চেয়ে অস্তরবির রাগে--
বলেছিল, এই তো ভালো লাগে।
সেই-যে ভালো-লাগাটি তার যাক সে রেখে পিছে,
কীর্তি যা সে গেঁথেছিল হয় যদি হোক মিছে,
না যদি রয় নাই রহিল নাম--
এই মাটিতে রইল তাহার বিস্মিত প্রণাম।
আলমোড়ায় থেকে, ২২ বৈশাখ, ১৩৪৪ সনে এই কবিতা লিখেছেন।
যে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহ থেকে শিলং পাহাড়ের চূড়ায় বসে জিজ্ঞাসা করেছিলেন "কালের যাত্রার ধ্বনি শুনিতে কি পাও আর দেখেছিলেন তার রথকে নিত্য উধাহ হতে।সেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন আপন জন্মদিনে
‘স্ফুলিঙ্গ’ কাব্যগ্রন্থের কবিতায়
জন্মদিন আসে বারে বারে
মনে করাবারে--
এ জীবন নিত্যই নূতন
প্রতি প্রাতে আলোকিত
পুলকিত
দিনের মতন।
প্রতি প্রাতের প্রকৃতিক রবির মতোই বিশ্বমাটির ধূলায় থাকতে চাওয়া এই রবির প্রতিটা জন্মদিনেও এক নতুন আশায় পুলকিত করে তারই অনুরণন অনুরণিত হতে দেখি কবিতায় কবিতায়।
‘শেষ লেখা’ – কাব্যগ্রন্থে তাই কবি লিখতে পারলেন-
আমার এ জন্মদিন-মাঝে আমি হারা
আমি চাহি বন্ধুজন যারা
তাহাদের হাতের পরশে
মর্ত্যের অন্তিম প্রীতিরসে
নিয়ে যাব জীবনের চরম প্রসাদ,
নিয়ে যাব মানুষের শেষ আশীর্বাদ।
শূন্য ঝুলি আজিকে আমার;
দিয়েছি উজাড় করি
যাহা-কিছু আছিল দিবার,
প্রতিদানে যদি কিছু পাই
কিছু স্নেহ, কিছু ক্ষমা
তবে তাহা সঙ্গে নিয়ে যাই
পারের খেয়ায় যাব যবে
ভাষাহীন শেষের উৎসবে।
শান্তিনিকেতনের উদয়নে বসে ৬ মে ১৯৪১ সনের সকালে কবি এই কবিতা রচনা করে জানিয়েছিল আপন জন্মদিনের ইপ্সিত আকাঙ্খা।
আবার
‘জন্মদিনে’ কাব্যগ্রন্থের কবিতার কোলাজের মধ্যে থেকেই লিখেছেন -
সেদিন আমার জন্মদিন।
প্রভাতের প্রণাম লইয়া
উদয়দিগন্ত-পানে মেলিলাম আঁখি,
দেখিলাম সদ্যস্নাত উষা
আঁকি দিল আলোকচন্দনলেখা
হিমাদ্রির হিমশুভ্র পেলব ললাটে।
যে মহাদূরত্ব আছে নিখিল বিশ্বের মর্মস্থানে
তারি আজ দেখিনু প্রতিমা
গিরীন্দ্রের সিংহাসন-'পরে।
পরম গাম্ভীর্যে যুগে যুগে
ছায়াঘন অজানারে করিছে পালন
পথহীন মহারণ্য-মাঝে,
অভ্রভেদী সুদূরকে রেখেছে বেষ্টিয়া
দুর্ভেদ্য দুর্গমতলে
উদয়-অস্তের চক্রপথে।
আজি এই জন্মদিনে
দূরত্বের অনুভব অন্তরে নিবিড় হয়ে এল।
যেমন সুদূর ওই নক্ষত্রের পথ
নীহারিকা-জ্যোতির্বাষ্প-মাঝে
রহস্যে আবৃত,
আমার দূরত্ব আমি দেখিলাম তেমনি দুর্গমে-
অলক্ষ্য পথের যাত্রী, অজানা তাহার পরিণাম।
আজি এই জন্মদিনে
দূরের পথিক সেই তাহারি শুনিনু পদক্ষেপ
নির্জন সমুদ্রতীর হতে।
(উদয়নের ছায়া সুনিবিড় ঘরে বসে নীলিমায় নীল আকাশে ভাসমান সাদা মেঘপুঞ্জের ক্যানভাস কে নবপ্রভাতের রবি যেমন দুর্গমতা ছাড়িয়ে রঞ্জিত করে মাটির এ রবি তেমন ভাষা সাহিত্যের দুর্গমতা কে লঙ্ঘন করা অভিপ্রায়ে ২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪১ - সকালে লিখলেন এই অনবদ্য কবিতা।
আরও একবার ব্রাহ্ম রীতি পালনকারি কবি ১৩৪৭ সালে তাঁর আশি বর্ষীয় জন্মদিন-র আগের দিন মংপুর শৈলবাসে বসে লিখলেন-
কাল প্রাতে মোর জন্মদিনে
এ শৈল-আতিথ্যবাসে
বুদ্ধের নেপালী ভক্ত এসেছিল মোর বার্তা শুনে।
ভূতলে আসন পাতি
বুদ্ধের বন্দনামন্ত্র শুনাইল আমার কল্যাণে--
গ্রহণ করিনু সেই বাণী।
এ ধারায় জন্ম নিয়ে যে মহামানব
সব মানবের জন্ম সার্থক করেছে একদিন,
মানুষের জন্মক্ষণ হতে
নারায়ণী এ ধরণী
যাঁর আবির্ভাব লাগি অপেক্ষা করেছে বহু যুগ,
যাঁহাতে প্রত্যক্ষ হল ধরায় সৃষ্টির অভিপ্রায়,
শুভক্ষণে পুণ্যমন্ত্রে
তাঁহারে স্মরণ করি জানিলাম মনে--
প্রবেশি মানবলোকে আশি বর্ষ আগে
এই মহাপুরুষের পুণ্যভাগী হয়েছি আমিও।
এখানে থেকে কবি তার জন্মদিনে পাহাড়ের পাহাড়ি শুভেচ্ছা শুভকামনার পূজায় বিহ্বলঘন হয়ে লিখলেন
অপরাহ্নে এসেছিল জন্মবাসরের আমন্ত্রণে
পাহাড়িয়া যত।
একে একে দিল মোরে পুষ্পের মঞ্জরি
নমস্কারসহ।
ধরণী লভিয়াছিল কোন্ ক্ষণে
প্রস্তর আসনে বসি
বহু যুগ বহ্নিতপ্ত তপস্যার পরে এই বর,
এ পুষ্পের দান,
মানুষের জন্মদিনে উৎসর্গ করিবে আশা করি।
সেই বর, মানুষেরে সুন্দরের সেই নমস্কার
আজি এল মোর হাতে
আমার জন্মের এই সার্থক স্মরণ।
নক্ষত্রে-খচিত মহাকাশে
কোথাও কি জ্যোতিঃসম্পদের মাঝে
কখনো দিয়েছে দেখা এ দুর্লভ আশ্চর্য সম্মান।
মহামতি মননশীল বিশ্ববরেণ্য কবি তার সেঁজুতি’ কাব্যগ্রন্থের কবিতা কোলাজে রেখে গেলেন তাঁর আত্মদর্শি প্রজ্ঞায় -
কালিম্পং এর গৌরীপুর-ভবনে থাকা কালিক ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৫সালে জন্মদিন নিয়ে লিখলেন "জন্মদিন"
আজ মম জন্মদিন। সদ্যই প্রাণের প্রান্তপথে
ডুব দিয়ে উঠেছে সে বিলুপ্তির অন্ধকার হতে
মরণের ছাড়পত্র নিয়ে। মনে হতেছে কী জানি
পুরাতন বৎসরের গ্রন্থিবাঁধা জীর্ণ মালাখানি
সেথা গেছে ছিন্ন হয়ে; নবসূত্রে পড়ে আজি গাঁথা
নব জন্মদিন। জন্মোৎসবে এই-যে আসন পাতা
হেথা আমি যাত্রী শুধু, অপেক্ষা করিব, লব টিকা
মৃত্যুর দক্ষিণ হস্ত হতে, নূতন অরুণলিখা
যবে দিবে যাত্রার ইঙ্গিত।
আজ আসিয়াছে কাছে
জন্মদিন মৃত্যুদিন, একাসনে দোঁহে বসিয়াছে,
দুই আলো মুখোমুখি মিলিছে জীবনপ্রান্তে মম
রজনীর চন্দ্র আর প্রত্যুষের শুকতারাসম--
এক মন্ত্রে দোঁহে অভ্যর্থনা।
প্রাচীন অতীত, তুমি
নামাও তোমার অর্ঘ্য; অরূপ প্রাণের জন্মভূমি,
উদয়শিখরে তার দেখো আদিজ্যোতি। করো মোরে
আশীর্বাদ, মিলাইয়া যাক তৃষাতপ্ত দিগন্তরে
মায়াবিনী মরীচিকা। ভরেছিনু আসক্তির ডালি
কাঙালের মতো; অশুচি সঞ্চয়পাত্র করো খালি,
ভিক্ষামুষ্টি ধূলায় ফিরায়ে লও, যাত্রাতরী বেয়ে
পিছু ফিরে আর্ত চক্ষে যেন নাহি দেখি চেয়ে চেয়ে
জীবনভোজের শেষ উচ্ছিষ্টের পানে।
হে বসুধা,
নিত্য নিত্য বুঝায়ে দিতেছ মোরে-- যে তৃষ্ণা, যে ক্ষুধা
তোমার সংসাররথে সহস্রের সাথে বাঁধি মোরে
টানায়েছে রাত্রিদিন স্থুল সূক্ষ্ম নানাবিধ ডোরে
নানা দিকে নানা পথে, আজ তার অর্থ গেল কমে
ছুটির গোধূলিবেলা তন্দ্রালু আলোকে। তাই ক্রমে
ফিরায়ে নিতেছ শক্তি, হে কৃপণা, চক্ষুকর্ণ থেকে
আড়াল করিছ স্বচ্ছ আলো; দিনে দিনে টানিছে কে
নিষ্প্রভ নেপথ্যপানে। আমাতে তোমার প্রায়োজন
শিথিল হয়েছে, তাই মূল্য মোর করিছ হরণ,
দিতেছ ললাটপটে বর্জনের ছাপ। কিন্তু জানি,
তোমার অবজ্ঞা মোরে পারে না ফেলিতে দূরে টানি।
তব প্রয়োজন হতে অতিরিক্ত যে মানুষ তারে
দিতে হবে চরম সম্মান তব শেষ নমস্কারে।
যদি মোরে পঙ্গু কর, যদি মোরে কর অন্ধপ্রায়,
যদি বা প্রচ্ছন্ন কর নিঃশক্তির প্রদোষচ্ছায়ায়,
বাঁধ বার্ধক্যের জালে, তবু ভাঙা মন্দিরবেদীতে
প্রতিমা অক্ষুণ্ন রবে সগৌরবে; তারে কেড়ে নিতে
শক্তি নাই তব।
ভাঙো ভাঙো, উচ্চ করো ভগ্নস্তূপ,
জীর্ণতার অন্তরালে জানি মোর আনন্দস্বরূপ
রয়েছে উজ্জ্বল হয়ে। সুধা তারে দিয়েছিল আনি
প্রতিদিন চতুর্দিকে রসপূর্ণ আকাশের বাণী;
প্রত্যুত্তরে নানা ছন্দে গেয়েছে সে "ভালোবাসিয়াছি'।
সেই ভালোবাসা মোরে তুলেছে স্বর্গের কাছাকাছি
ছাড়ায়ে তোমার অধিকার। আমার সে ভালোবাসা
সব ক্ষয়ক্ষতিশেষে অবশিষ্ট রবে; তার ভাষা
হয়তো হারাবে দীপ্তি অভ্যাসের ম্লানস্পর্শ লেগে,
তবু সে অমৃতরূপ সঙ্গে রবে যদি উঠি জেগে
মৃত্যুপরপারে। তারি অঙ্গে এঁকেছিল পত্রলিখা
আম্রমঞ্জরীর রেণু, এঁকেছে পেলব শেফালিকা
সুগন্ধি শিশিরকণিকায়; তারি সূক্ষ্ম উত্তরীতে
গেঁথেছিল শিল্পকারু প্রভাতের দোয়েলের গীতে
চকিত কাকলিসূত্রে; প্রিয়ার বিহ্বল স্পর্শখানি
সৃষ্টি করিয়াছে তার সর্বদেহে রোমাঞ্চিত বাণী,
নিত্য তাহা রয়েছে সঞ্চিত। যেথা তব কর্মশালা
সেথা বাতায়ন হতে কে জানি পরায়ে দিত মালা
আমার ললাট ঘেরি সহসা ক্ষণিক অবকাশে,
সে নহে ভৃত্যের পুরস্কার; কী ইঙ্গিতে কী আভাসে
মুহূর্তে জানায়ে চলে যেত অসীমের আত্মীয়তা
অধরা অদেখা দূত, বলে যেত ভাষাতীত কথা
অপ্রয়োজনের মানুষেরে।
সে মানুষ, হে ধরণী,
তোমার আশ্রয় ছেড়ে যাবে যবে, নিয়ো তুমি গণি
যা-কিছু দিয়েছ তারে, তোমার কর্মীর যত সাজ,
তোমার পথের যে পাথেয়, তাহে সে পাবে না লাজ;
রিক্ততায় দৈন্য নহে। তবু জেনো অবজ্ঞা করি নি
তোমার মাটির দান, আমি সে মাটির কাছে ঋণী--
জানায়েছি বারংবার, তাহারি বেড়ার প্রান্ত হতে
অমূর্তের পেয়েছি সন্ধান। যবে আলোতে আলোতে
লীন হত দড়যবনিকা, পুষ্পে পুষ্পে তৃণে তৃণে
রূপে রসে সেই ক্ষণে যে গূঢ় রহস্য দিনে দিনে
হত নিঃশ্বসিত, আজি মর্তের অপর তীরে বুঝি
চলিতে ফিরানু মুখ তাহারি চরম অর্থ খুঁজি।
যবে শান্ত নিরাসক্ত গিয়েছি তোমার নিমন্ত্রণে
তোমার অমরাবতী সুপ্রসন্ন সেই শুভক্ষণে
মুক্তদ্বার; বুভুক্ষুর লালসারে করে সে বঞ্চিত;
তাহার মাটির পাত্রে যে অমৃত রয়েছে সঞ্চিত
নহে তাহা দীন ভিক্ষু লালায়িত লোলুপের লাগি।
ইন্দ্রের ঐশ্বর্য নিয়ে হে ধরিত্রী, আছ তুমি জাগি
ত্যাগীরে প্রত্যাশা করি, নির্লোভেরে সঁপিতে সম্মান,
দুর্গমের পথিকেরে আতিথ্য করিতে তব দান
বৈরাগ্যের শুভ্র সিংহাসনে। ক্ষুব্ধযারা, লুব্ধ যারা,
মাংসগন্ধে মুগ্ধ যারা, একান্ত আত্মার দৃষ্টিহারা
শ্মশানের প্রান্তচর, আবর্জনাকুণ্ড তব ঘেরি
বীভৎস চীৎকারে তারা রাত্রিদিন করে ফেরাফেরি,
নির্লজ্জ হিংসায় করে হানাহানি।
শুনি তাই আজি
মানুষ-জন্তুর হুহুংকার দিকে দিকে উঠে বাজি।
তবু যেন হেসে যাই যেমন হেসেছি বারে বারে
পণ্ডিতের মূঢ়তায়, ধনীর দৈন্যের অত্যাচারে,
সজ্জিতের রূপের বিদ্রূপে। মানুষের দেবতারে
ব্যঙ্গ করে যে অপদেবতা বর্বর মুখবিকারে
তারে হাস্য হেনে যাব, বলে যাব, "এ প্রহসনের
মধ্য-অঙ্কে অকস্মাৎ হবে লোপ দুষ্ট স্বপনের;
নাট্যের কবররূপে বাকি শুধু রবে ভস্মরাশি
দগ্ধশেষ মশালের, আর অদৃষ্টের অট্টহাসি।'
বলে যাব, "দ্যূতচ্ছলে দানবের মূঢ় অপব্যয়
গ্রন্থিতে পারে না কভু ইতিবৃত্তে শাশ্বত অধ্যায়।'
বৃথা বাক্য থাক্। তব দেহলিতে শুনি ঘন্টা বাজে,
শেষপ্রহরের ঘন্টা; সেই সঙ্গে ক্লান্ত বক্ষোমাঝে
শুনি বিদায়ের দ্বার খুলিবার শব্দ সে অদূরে
ধ্বনিতেছে সূর্যাস্তের রঙে রাঙা পূরবীর সুরে।
জীবনের স্মৃতিদীপে আজিও দিতেছে যারা জ্যোতি
সেই ক'টি বাতি দিয়ে রচিব তোমার সন্ধ্যারতি
সপ্তর্ষির দৃষ্টির সম্মুখে; দিনান্তের শেষ পলে
রবে মোর মৌন বীণা মূর্ছিয়া তোমার পদতলে।
আর রবে পশ্চাতে আমার, নাগকেশরের চারা
ফুল যার ধরে নাই, আর রবে খেয়াতরীহারা
এ পারের ভালোবাসা-- বিরহস্মৃতির অভিমানে
ক্লান্ত হয়ে রাত্রিশেষে ফিরিবে সে পশ্চাতের পানে।
তাই তাঁর জন্মদিনে পূন্যবতী এ বৈশাখের সন্ধিক্ষনে গেয়ে চলা-
হে নূতন,
দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ ।।
তোমার প্রকাশ হোক কুহেলিকা করি উদঘাটন
সূর্যের মতন ।
রিক্ততার বক্ষ ভেদি আপনারে করো উন্মোচন ।
ব্যক্ত হোক জীবনের জয়,
ব্যক্ত হোক তোমামাঝে অসীমের চিরবিস্ময় ।
উদয়দিগন্তে শঙ্খ বাজে, মোর চিত্তমাঝে
চিরনূতনেরে দিল ডাক
পঁচিশে বৈশাখ ।।
এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ।
তাপসনিশ্বাসবায়ে মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে,
বৎসরের আবর্জনা দূর হয়ে যাক॥
যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে-যাওয়া গীতি,
অশ্রুবাষ্প সুদূরে মিলাক॥
মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।
রসের আবেশরাশি শুষ্ক করি দাও আসি,
আনো আনো আনো তব প্রলয়ের শাঁখ।
মায়ার কুজ্ঝটিজাল যাক দূরে যাক॥
লেখক পরিচিত-
![]() |
| বিশ্বেশ্বর মহাপাত্র লেখক ছাত্রাবস্থা থেকে বাংলা সাহিত্য অনুরাগী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রয়াসেই পত্রপত্রিকা ও বিভিন্ন সাময়িকী তে লেখালেখি এবং মঞ্চ সঞ্চালনার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছে । |
রবীন্দ্রনাথ
কার্ত্তিক মণ্ডল
এত বছর স্বাধীন হয়েও
মানুষ কাঁদে দিনও রাত
এ ঘোর দশা কাটবে কবে
বলতে পার ; রবীন্দ্রনাথ !
'মা' বোনদের ইজ্জত লুটে
লজ্জিত হয় মহান ভারত
আমরা কিন্তু অসহায় আজও
তাইতো ডাকি রবীন্দ্রনাথ !
জালিয়ানওয়ালার হত্যা দেখে
নাইট ত্যাগে করলে যে কাত
এখন যদি থাকতে তুমি,
কি করতে হে রবীন্দ্রনাথ !
জাতপাত আর ধর্মে লড়াই
প্রতিদিনকার সেরা সংবাদ
মুখ বুজে কি থাকতে তুমি
এমন দিনেও রবীন্দ্রনাথ !
নেতা মন্ত্রীর মুখের ভাষা
যেন সৃষ্ট নতুন রাষ্ট্রীয়বাদ
তুমি নিশ্চয় খুলতেই মুখ
কড়কে দিতে রবীন্দ্রনাথ !
লেখক পরিচিত-
মাতা-৺মুক্তাবালা মণ্ডল
গ্রাম-পশ্চিমবাড়
পোঃ ধনেশ্বরপুর
থানাঃ পিংলা
জেলা পশ্চিম মেদিনীপুর
জন্ম-২৫/০৭/৭১
শিক্ষা-বি এস সি বি এড
পেশা-শিক্ষকতা
লেখালেখি পঞ্চম শ্রেণী থেকে
দেশ বিদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় লেখালেখি।
প্রকাশিত বই-চাঁদের কণা।
![]() |
| হাতের কাজ ও অঙ্কন নন্দিনী দাস |
রবে নীরবে
মন্দিরা বরাট
তুমিই রবে, তুমিই নীরবে
মনের মাঝে, মনের নিভৃতে,
রয়েছো তুমি আমার
মনের একান্ত অনুরাগে।
ওগো তুমিই রবে, তুমিই নীরবে
তোমার সুরের ঝংকারের বেনু
বাজে আমার অবরত
শ্রবণের মাঝে।
তোমার বাঁশির সুরে
নৃত্য করে মোর
অঙ্গ পতঙ্গের দোর।
ওগো তুমিই রবে ,তুমিই নীরবে
বসে আছো তুমি
আমার মনের তীরে
সীমা অসীমের নীরে।
তুমি তান্ডব করেছ অবিরত নিত্যদোদুল ছন্দে ।
আমি খুঁজে বেড়াই তোমায়
বাঁশির সুরের মাঝে ,
মোর হৃদয় প্রাঙ্গণের কাছে।
আমি জানি তুমি আছো
আমার মনের ওপারের গভীরে
আর থাকবে তুমি
আমার সাথে
রবে - নীরবে।
লেখক পরিচিত-
বাঙালির লোক হয়ে এসেছিলে
কোন একদিন এই বাংলার মাঝে,
বাঙালির জীবনকে করেছিলে শ্রুতি মধুর
আনন্দঘন সঙ্গীত কবিতাজ্ঞলীর বরণডালার সাজে ৷
আজ মোরা যেখান থেকে
কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা পাই,
সেই জায়গায় তুমিই আমাদের অনুপ্রেরক
এছাড়া আর কিছু,কেহ নাই ৷
তুমিই মোদের দেখিয়েছো
কিভাবে বাঙালি কবি থেকে,
বিশ্ববাসীর হৃদয়ের মনিকোঠায় জায়গা করে
সারা বিশ্বের কবি হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখতে হয় ৷
সেই মনীষী বিশ্বকবি,কবিগুরু,গুরুদেব
জগত জোড়া বিখ্যাত তোমার নাম
তবুও তুমি হয়ে থাকতে চাও বাঙালির লোক,
জন্মদিনে তোমার চরণে লহ প্রণাম
তোমার আশীর্বাদে বাঙালির অবলুপ্ত
সুপ্ত প্রতিভা আবার প্রকাশ হোক ৷
লেখক পরিচিত-
সম্পাদকের কথা
রবীন্দ্রজয়ন্তী উপলক্ষে যে ওয়েবসাইট সংক্রান্তির পকাশ হতে চলেছে, আপনাদের একান্ত সহযোগিতায় আমরা প্রকাশ করলাম ওয়েবসাইট সংকলনটি, সকল লেখক এবং চিত্রশিল্পীদের জানাই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এই মহান দিনে আপনাদের নিজস্ব শিল্পকলা লেখাপড়ার পরিচয় ওয়েবসাইট সংকলনের জন্য আপনার শিল্পকলা আমাদের কাছে পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ একান্ত কামনা করি এই ভাবে আমাদের সাথে এবং সাহিত্যের সাথে পাশে থাকবেন।।
আন্তরিক ধন্যবাদ
লেখাপড়ার "পরিচয়" ম্যাগাজিন ও প্রকাশনী
সম্পাদক
মিলন পুরকাইত।






















মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন