দুই সখী | প্রবাল মুখোপাধ্যায়
শ্রুতি নাটক : দুই সখী
কলমে: প্রবাল মুখোপাধ্যায়
নাট্যরূপ: তপন দত্ত।
পাতা,,,,, 01
(মিউজিক)
শ্রুতধর:
নাটক শুরু হওয়ার আগে দুই চারটি কথা বলে নিই।
দুই অন্তরঙ্গ বান্ধবী (সখী) পাশাপাশি বাড়িতে থাকে। বাড়ির পাশাপাশি দুই ছাদ, মাঝে আট ফুটের ব্যবধান। বিকেল না হতেই দুই সখী এসে জোটে দুই ছাদে। **অতসী আর মালিনী*
*অতসী* আটাশ, ঈদানীং একটু মুটিয়েছে, গ্রীন টি ছাড়া ওর অন্য কিছু চলে না। বিস্কুটটাও মেনু থেকে বাদ পড়েছে।
*মালিনী* সাঁইত্রিশ ছুঁয়েছে, দুই ছেলেমেয়ের মা, এখনও যথেষ্ট সুন্দরী।স্বাস্থ্যবিধি খুব একটা যে মেনে চলে তেমনটা নয়। তবে তেল ঝাল মিষ্টিটা যতটা পারে এড়িয়ে চলে। বিকেলে এক ঢাউস কাপে দুধ চা আর সঙ্গে দুটো ক্রিমক্রেকার বিস্কুট ওর চাইই। চা খেতে খেতে দুই সখীতে চলে নিভৃত আলাপ।
....চলুন পরের ঘটনা গুলো
শোনা যাক,,,,,,
মালিনী:-
এই অতসী শুভ বিজয়া ,,,
অতসী :
শুভ বিজয়া দিদি
মালিনী: -
অতসী তোর পুজো কেমন কাটলো। কটা ঠাকুর দেখলি।
অতসী :
মোটামুটি ভালো কেটেছে।তবে দিদি পাড়ার গুলো দেখলাম আর একটু দুরের গুলো যা দেখছি। আর তুমি ত দেখছো যা বৃষ্টি শুরু হয়েছে তার উপর যা নামি নামি প্যান্ডেলে ভীড়। অনিমেষ বলেই দিয়েছে এই কারোনার প্রাক্কালে ভীড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে যাবে না।
মালিনী :
ঠিক বলেছে।আবার ত পুজোর পর কারোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। ভালোই করেছিস।বেশী ভীড় ঠেলে ঠাকুর দেখতে যাসনি। তার উপর মুখে মাস্ক লাগিয়ে বেশিক্ষণ থাকা যায় না।
অতসী :-
হ্যা,, গো!ঠিক বলেছো।জানো আমি আবার মুখে মাস্ক দিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারিনা।
,,,,,তা,,,মালিনী দি তুমি পুজো কেমন কাটালে ।আর কোথায় ঠাকুর দেখলে।
মালিনী:
আমার আবার ঠাকুর দেখা।
চার দেয়ালের মাঝে বসে
টি.ভি.ঠাকুর দেখা। তোমার প্রতুষদা সময় কোথায় যে আমাকে নিয়ে ঠাকুর দেখতে যাবে।সেতো সব সময় বাহিরের কাজে ব্যস্ত থাকে
,,,ছাড় ত ও সব কথা।
এই শোননা বলছি,,অতসী
তোর ম্যাক্সিটা কি সুন্দর রে ! তোকে মানিয়েছে বেশ। গড়িয়াহাট মার্কেট থেকে কিনলি বুঝি?
অতসী:
দিদি,তুমি আর বোকো না।
আমি ফিটিংস দুটি ছত্রিশ জামা কিনেছি,তবু দেখো
সবাই মুটকি বলতে শুরু করে দিয়েছে। বলো দেখি শুনলে কেমন লাগে।
মালিনী;
দূর বোকা মেয়ে,,,,,
সে তোকে রাগাবার জন্যে বলে। তুই তো আর সত্যিই তেমন কিছু নোস।
তুই ত একদম হ্যান্ডসম।
তুই কি খেয়াল করেছিস,
রাস্তায় বেরোলে বড়ো বড়ো ছেলেগুলো এখনও তোকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখে। বল, ভালো লাগে না তোর।
সুন্দরী বলেই ত লোকে তোকে পিছন ফিরে দ্যাখে।
,,,কি হলো লজ্জা পেয়ে গেলি।
অতসী :-(একটু লজ্জা পায়) মালিনীদি তুমি যেন কি।
মালিনী:(হেসে)
আমি আবার কি !
আমি কথাটা যে একেবারে মিথ্যে বলিনি সেটা ত ঠিক।
অতসী:
সেটা অবশ্য আমি বেশ কিছু দিন ধরে লক্ষ করেছি।আমাদের বাড়ির গলি থেকে বড়রাস্তায় পড়তে এক মিনিট সময় লাগে জানো।তারপরে ত আমাদের পাড়ারএভারগ্রীন ক্লাবটা। সন্ধের মুখে সব পাড়ার ছেলেরা ভিড় করে
তাস,কেরামবোর্ড গেম খ্যালে।
আর দেখছি পার্টির হোমরা চোমরা দু-চারজনকেও দেখা যায় আড্ডা মারতে।
মালিনী:
সেটা ত বুঝলাম।কিন্তু তোর তাতে কি হলো।
অতসী :
আরে শোনোনা,পুজোর আগে
মাকে নিয়ে যখন পুজোর বাজার করে ফিরছি তখন একটু রাত হয়েছিলো।তখন
দেখলাম ক্লাবের সবক'টা
মানুষের চোখ আমাকে দেখে থেমে গ্যাছে। আমার তখন যা অস্বস্তি লাগছিলো আর তখন মনে হচ্ছিলো যে কতক্ষনে ওই জায়গাটা থেকে পেরিয়ে আসবো।মা অবশ্য কিছুই বুঝতে পারেনি।
মালিনী;
,,,,ও,তাই।
আচ্ছা ছাড় ও সব কথা।
'হ্যাঁরে অতসী, তোর দেওরটা কী বলতো ?
অতসী :
কেনো গো মালিনিদি,,,
কি আবার হলো।
মালিনী:
তেমন কিছু নয়।
তবে ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে
পুজোর বাজার করতে গিয়ে
ছিলাম দক্ষিণাপনে,,সেখানে তোর দেওরকে দেখলাম,
সেই মেয়েটার সাথে।মনে হলো কিছু শপিং করেছে।
অতসী:
তা তুমি দেখতে পারো।মেয়েটি ত থাকে ঢাকুরিয়া।
এখন দেওর ত ওর গার্জেন।
মালিনী :
সে ত বোঝাই গেলো।কিন্তু
আর কতদিন মেয়েটাকে নিয়ে ঘুরবে ? সেদিন দেখি, দক্ষিণাপণের গেটে দুটিতে মিলে ফুচকা খাচ্ছে।
অতসী :-
তোমাকে দেওর দেখতে পায়নি?
মালিনী:-
নারে।দেখতে পায়নি। কিন্তু
মেয়েটাকে দেখতে বেশ।'
অতসী :-
অনিকেতের কথা আর বলো নাতো ? ওকে যতবারই বলতে গেছি, কেবলই বলে, দাঁড়াও বৌদি, আর একটু স্টেবল হয়ে নিই, তারপর সব হবে। এখন মাসে চল্লিশ পাচ্ছে, ঐ টাকায় বৌকে ঘরে আনা যায় না ?
তুমিই বলো মালিনীদি?
মালিনী:-
দেখ অতসী ,ইচ্ছে থাকলে সব হয়। তোর দেওর জানে এখন ঘর বাঁধলে এই ঘুরঘুর করাটা বন্ধ হয়ে যাবে।
তাই আর ও সময় চাইছে।
অতসী:
অনিমেষও কতবার বলেছে, তিরিশ তো পেরিয়ে গেছিস, বুড়ো হয়ে গেলে বৌকে ঘরে আনবি ?
তবুও বাবুর কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।
মালিনী:-
বলছি,,মাসিমা মেসোমশাই জানে ব্যাপারটা ?
অতসী:
শাশুড়ি বা শশুর সব কিছুই জানে।
মালিনী:
কিছু বলেনা ।
অতসী:
বলে না আবার। দিনরাত কথা শোনায়। এই ত দেওর এর সাথে কালই তো শাশুড়ির সঙ্গে একচোট হয়ে গেছে। শাশুড়ি বলে দিয়েছে, নিজে থেকে পছন্দ করেছো বেশ করেছো। আমাদের কোনো আপত্তি নেই। এই অঘ্রাণেই কাজটা সেরে ফেলা চাই। মেয়ের বাড়িতে আমাকে নিয়ে চলো, আমি কথাটা পাকা করে আসবো। অফিস থেকে বেরিয়ে হবু বৌকে নিয়ে এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াবে, আর বাড়ির লোকগুলো খাবার নিয়ে হাঁ করে বসে থাকবে, ওসব চলবে না।
মালিনী:
সে কিরে! মাসীমা এমন খেপে উঠলেন কেন ?
অতসী:-
খেপে গেছে কি এমনি ? পরপর তিনদিন এগারোটায় বাড়ি ফিরেছে, তিনদিনই রাতে কিছু খায়নি।
শাশুড়ি কি পুজো করবে বলো দিদি।
মালিনী:
ঠিক । এইভাবে চললে মাসিমার ত রাগ হবেই।
আচ্ছা ,অতো রাত অব্দি সময় কাটায় কোথায় ?
অতসী :-
কেনো ?
ফিঁয়াসের বাড়ি। ঐ বাড়িই তো এখন স্বর্গ। আমরা ভাই নরকের বাসিন্দা।
মালিনী:(হেসে)
ওঃ, তুই পারিস বটে।
পাতা,,,,, 2
(মিউজিক)
(সন্ধ্যার পুজোর ঘন্টা,শঙ্খ শব্দ,,,গানের রেওয়্যজ,প্লেন যাওয়ার শব্দ)
সূত্রধর:-
বিকেল গড়িয়ে সন্ধে নামছে। পাড়ার জৈন মন্দিরটায় ঘণ্টা বেজে উঠলো। মিত্তিরদের বাড়ির ছোটো মেয়ে গলা সাধছে। আকাশের উঁচু দিয়ে একটা যাত্রীবাহী প্লেন শব্দ করে উড়ে গেলো। গৃহস্থের ঘরে ঘরে সংসারের মঙ্গল কামনায় শাঁখ বেজে উঠলো। এই সময়টার মধ্য যতরাজ্যের বিষণ্ণতা এসে ঘিরে ধরলো দুই সখীর মনে,কথা বলা সাময়িক বন্ধ।
কিছুক্ষণ পরে আলসের ওপর ভর দিয়ে মাথাটা একটু বাড়িয়ে ,,,,,,,
অতসী:-
'মালিনীদি, একটা কথা বলবো, কিছু মনে করবে না ?'
মালিনী:-
আমার কাছে কি জানতে চাইছিস বলে ফেল,
তার উপর অন্ধকার নেমে এসেছে আর আকাশের তারা গুলো আস্তে আস্তে জ্বল জ্বল করছে ।
নে বল কি জানতে চাস ?
অতসী :
আগেই বলে রাখছি আমার এই কথার মধ্যে অন্য কিছু
মানে ধরবে না দিদি।
মালিনী:
আরে বাবা বলে ফেলনা।
তুই যখন আমার বোনের মতন আর আমরা ত পরস্পরে সুখে ও দুঃখে দুই সখী।
অতসী:
বলছি,তুমি রাতে শুয়ে শুয়ে কাঁদো ? তোমার জানলা তো খোলা থাকে রাতে।
আমি দেখিনি,অনিমেষ একদিন ঘুম থেকে উঠে বাথরুম যাবার পথে শুনেছে।
আমাকে ওই বললো।
মালিনী:
দূর,,ও সব কিছুই না।
অনিমেষ মনে হয় ঘুমের ঘোরে ভুল শুনেছে।
তাছাড়া আমি জানলা খুলেই ঘুমাই।
অতসী :
মালিনীদি, তুমি কষ্টে আছো আমি দেখতে চাই না।'
তোমার ত কিছু কথা আমাকে ত শেয়ার করেছো
সেই উদেশ্য ভাবে বললাম।
দেখো তুমিও মেয়ে আর আমিও ত মেয়ে।
(মালিনীর হাসি)
,,,,,,দিদি,তোমার ওই ম্লান হাসির মধ্য অন্ধকারের ছায়া নেমে আসে।আর ওই মধ্য আমি কিছুটা অনুভব করতে পারি তোমার কষ্টের কান্নার হাসি। কেনো তোমার মতন মেয়েরা ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়।
মালিনী :
-- অতসী, তোকে কি বলি বলতো। তুই আমায় ভালোবাসিস, একবার ভাবি তোকে সবকিছু বলি, কিন্তু কি জানিস, জীবনে এমন কিছু ঘটে, যা হয়তো অনিবার্য ছিলো না, তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয় নিজেকেই। শুধু নিজেকেই। ভুল হলে হবে, মাশুল গুণতে হলে হবে, কিন্তু সমাধান নিজের হাতেই। তুই তার কিচ্ছু করতে পারবি না রে।
অতসী :
তবুও আমাকে বলো। যদি তোমার মনটা কিছুটা হলেও হাল্কা হবে।
মালিনী :
তোকে ত কিছু টা বলেছিলাম
প্রতুষ এর ব্যাপারে ।
অতসী :
হ্যাঁ । বুবাই এর ম্যাম এর সাথের কিছু ঘটনা।
ওই ব্যাপারে কি তুমি কিছু সন্দেহ করছো?
মালিনী:
নিশ্চয়ই ! তুই বল কোন স্ত্রী পারে সহ্য করতে তার 15 বছরের ভালোবাসাকে কেড়ে নেবে অন্য এক দুশ্চরিত্র মেয়ে।
তুই হলে কি ছেড়ে দিতে পারতিস?
অতসী:
কিন্তু তোমার ভাবনা টা ভুলও হতে পারে।
হয়তো দেখো দাদা ও বোনের সম্পর্ক ।
মালিনী:-
নারে ,,,তা নয়। যেদিন আমি সন্দেহ প্রকাশ করে তোর প্রতুষদা কে জিগেস করলাম
তার উত্তরে কি বললো জানিস ,,,ওই তোর যে উক্তি
,,,বোনের মতন নাকি রেসপেক্ট দেয়।,,
আর এই দিকে বুবাই এর ম্যাম কে যখন জিগেস করলাম ,,,তখন সে আমতা আমতা করে বললো দাদার মতন।,দুই জনে মিথ্যাবাদী।
তারপর থেকে ওই ম্যাম বুবাইকে পড়াতে আসে না।
এটাকে তুই কি বলবি?
সত্যি বলতে আমি আর নিতে পারছিনা।
মালিনী:-( একটু চুপ করে)
ছাড়,,এই সব প্রসঙ্গ ।
ভালো লাগেনা । এই সব জানাজানি হলে লজ্জায় কারোর কাছে মুখ দেখাতে পারবো না। এদিকে ছেলে
মেয়েগুলা বড় হচ্ছে।
অতসী :
বুবাই এর ম্যাম এরপর বাড়িতে এসেছিলো?
মালিনী :
ম্যাম সেদিন একটু আর্লি এসেছিলো। বুবাই তখনও ঘুমিয়েছিলো।
আমি তখন ম্যাম কে আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালা।
ম্যাম তখন খুব ঘামছিলো। পাখাটা জোরে চালিয়ে দিলাম
আমি যখন ম্যামের মুখোমুখি বসে কিছু বলতে যাবো ।তখন ম্যাম হয়তো খানিক আন্দাজ করতে পেরেছিলো ।
আমি কিছু বলার আগেই ম্যাম বলতে শুরু করে : 'আমি যেতে চাইনি বৌদি। প্রত্যুষদা আমাকে জোর করে নিয়ে গেছে। আমি কতো করে বলেছিলাম, প্রত্যুষদা, এটা তোমার অফিস ট্যুর। একা বোর লাগলে বৌদিকে নিয়ে যাও। কিন্তু বিশ্বাস করুন, কিছুতেই আমার কথা শুনলো না।
তখন আমার কি মনে হচ্ছিল
জানিস বিয়ের পনেরো বছর পর প্রত্যুষের এই নতুন চেহারা দেখবো তা বিশ্বাস করতে পারিনি।
আমাদের এই পনেরো
বছরের
ভালোবাসা,সোহাগের আদর তার জীবনটা ভরিয়ে তুলেছিলো এই মানুষটাই। সবটাই কি তাহলে ছিলো মেকি ?
তার অন্য নারীর প্রতি আসক্তির কথাটা কেবল আমিই জানতে পারলাম না।
অতসী :
তারপর,,,,
মালিনী:
আমি শুধু দুটি কথাই বললাম
'তুমি পারলে দুটো রাত একসঙ্গে কাটাতে ? নিজেকে এতটা সস্তা করে ফেলতে লজ্জা করলো না ?'
ম্যাম তার উত্তরে বললো,
-- বৌদি, আপনি মিছিমিছি আমাকে দায়ী করছেন। আমি তো বললাম, আমি রাজী ছিলাম না। প্রত্যুষদা কোনো কথাই শুনলো না। আর আপনি যা ভাবছেন, ব্যাপারটা আদৌ তা নয়। উই স্পেণ্ট আওয়ার নাইটস্ ইন সেপারেট রুমস।
আমরা ছিলাম একদম দাদা ও বোনের মতন।বিশ্বাস করুন।
অতসী :
তারপর ।
মালিনী:
তারপর আর কি ।
ম্যাম এর ওই এক কথা ,,,
আমি যা ভাবছি সেটা সব সব ভুল ধারণা ।
,,,,,শুধু যাবার আগে বলে গেলো,, বৌদি,,, কিছু দিনের মধ্যে আপনার মনের ভাবনা টা ভুল হবে।আর এও বলে গেলো বুবাইকে কন্টিনিউ পড়াতে পারবে না।
অতসী:
ও,,এটাও বলে গেলো,,,
বুবাইকে আর পড়াবে না।
সেটা ত তোমার পক্ষে ভালো খবর।
মালিনী:-
জানিস অতসী,,,,
এই ধরণের মেয়েদের আমার খুব চেনা হয়ে গেছে। এদের নিঃশ্বাসে বিষ, দৃষ্টিতে বিষ। এরা সঙ্গে থাকলে সেই আঁচ এসে পড়বে আমার সংসারে। সেটা আমি কিছুতেই হতে দিতে পারে না।
অতসী:
মালিনীদি,
এই নিয়ে ভেবে আর কি করবে।ছেলে-মেয়েদের দিকে তাকিয়ে নিজের সংসার টাকে গুছিয়ে ওদের মানুষ করে তোলো।
চোঁখের জল মুছে নিজের মতন করে নিজেকে তৈয়ারী কারো।
(কলিং বেল এর শব্দ)
অতসী :-
নীচে কেউ এলো মনে হয়। বোধহয় অনিমেষ। আজ এতো তাড়াতাড়ি ?
যাই নিচে,,,, মালিনীদি আসছি গো,,,,অনিমেষ এসেছে।তুমি ঘরে যাও দিদি।
আর কান্নাকাটি করবে না
পাতা,,,,, 03
(মিউজিক)
সূত্রধর:
আমরা নাটকের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছি,,,,
অতসীর স্বামী অনিমেষ আসাতে অতসী ,,মালিনীর অনুমতি নিয়ে ছাদ থেকে নিচে নেমে গ্যাল। আর এদিকে মালিনী তখনও ছাদে দাঁড়িয়ে। অন্ধকার ঘিরে ধরেছে তাকে। আকাশের বুক চিরে হাজার তারার মেলা তার সাক্ষী হয়ে রয়েছে।
সে অনেকগুলো কথা অতসীকে বলাতে নিজেকে এখন বেশ কিছুটা হাল্কা মনে করছে। আর ও বুঝে ফেলেছে জোড়াতালি দিয়েই চলবে বাকি জীবনটা। ও যে দুই ছেলেমেয়ের মা, ও যে সাতপাকে বাঁধা স্ত্রী। ওকে তো সবাইকে নিয়েই চলতে হবে। সকলকে খুশী রাখাই তো ওর কাজ।
শুনুন,,,শেষ পয্যন্ত কি ঘটলো।
মালিনী::(মনে মনে)
,,,,যাই নীচে সন্ধ্যা হয়ে গ্যালো
ছেলের আর মেয়ের জলখাবার করে দিতে হবে। মেয়ের ম্যাথস্ টিচারের কাছে ,গেছে। সাড়ে সাতটায় নিয়ে আসতে হবে। প্রত্যুষ ফিরবে আটটায়।ওর জন্য বাথরুমে গরম জল ও তোয়ালেটা গুছিয়ে রাখতে হবে।
ও বাবা,রান্নার মাসি আজ আসবে না বলে গ্যাছে।রান্নাসব করে রাখতে হবে।আরও হাজারটা কাজ আমাকেই সব একা হাতে সামলাতে হবে।
(কলিং বেল)
,,,,,,এই সময় আবার কে এলো
খুলছি,,,,খুলছি,,,
,
আরে কি ব্যাপার ,,
এখন কটা বাজে। সবে ত সাতটা ,,,,
,,,,মেয়ে আর বাবা একসাথে।
প্রতুষ:-
কেনো,,,তাড়াতাড়ি আস্তে পারিনা।
মালিনী:
সে কথা নয় ।তুমি তো কখনো এতো তাড়াতাড়ি বাড়ি আসোনা, তাই বললাম।
তাছাড়া আমার ত মেয়ে কে নিয়ে আসার কথা
সাড়ে সাতটা।
প্রতুষ :
আমি দেখলাম আমার হাতে বিষয়ে কোনো কাজ নেই,তাই অফিস থেকে মেয়ে কে নিয়ে সোজা বাড়ি এলাম।
মালিনী:(মনে মনে ভাবে ব্যাপার টা কি?)
-----ঠিক আছে।
বাথরুমে সব কিছু রাখা আছে ।
,,,তোমার জলখাবার টা রেডি করছি।
,,,,,এই তোরাও জলখাবার খেয়ে যা,,,
,,,,,টিক,,,,টিক,,,,টিক,,,,
প্রতুষ:-(জলখাবার খেতে খেতে)
.....বলছি,,,আজ কি ম্যাম পড়াতে আসেনি।
মালিনী:
না,,আসেনি।
তুমি জাননা? কেনো আসেনি।
প্রতুষ:
হ্যাঁ,,, জানি ,,,তবুও জিগেস করলাম।
তোমাকে কিছু বলে গ্যাছে?
মালিনী:
কি,,,ব্যাপারে?
প্রতুষ:
আসবেনা বলে,,,
মালিনী:
হ্যাঁ,,, বলছিলো,,
বৌদি আমি আর কন্টিনিউ পড়াতে পারবো না।
কিন্তু কারণ কিছু বলে নি
আর আমি জিগেসও করিনি।
তুমি কি জানো ?কি কারণ?
প্রতুষ:-
হ্যাঁ,,, জানি?
মালিনী:-
কি কারণ বলতে পারো তোমার যদি কোন অসুবিধা না হয়।
প্রতুষ:
আমার আবার কিসের অসুবিধা ,,,,,
,,,,,এই দেখো,,,
মালিনী:
এটা ত একটা বিয়ের কার্ড।
,,,কার্ডে তোমার আর আমার নাম লেখা আছে।
প্রতুষ:
হ্যাঁ,,, বিয়ের কার্ড। খুলে পড়ে দেখো কার বিয়ের,,
আর হ্যাঁ,,,,তোমাকে একটা চিঠি দিয়েছে যেটা আমাকে শুধু দিতে বলেছে তোমাকে, আমাকে পড়তে নয়।
দেখো,,,কি লিখেছে তোমাকে।
,,,,,এই নাও।
মালিনী:
,,,,,দেখি,,,
,,হু,,হু,,,এটা ত ম্যামের বিয়ের কার্ড।
দেখি চিঠি টা,,, কি,,লেখা,,
শ্রদ্ধেয় বৌদি,,,,
,,আগামী ৭ই অগ্রহায়ণ আমার বিয়ে। তুমি ,দাদা ও ছেলে-মেয়েদের নিয়ে অবশ্যই আসবে আমার বিয়ের অনুষ্ঠানে। আমার শশুর বাড়ী দিল্লী তে তাই চলে যেতে হবে বলে পড়ানো টা চালাতে পারলাম না। সেদিন তোমাকে
আমার বিয়ের কথা বলতে গিয়েও বলতে পারিনি।
সেদিন তোমার মাথাটা খুব গরম ছিলো। আমি জানি বৌদি তোমার জায়াগায় আমি থাকলে আমার ও মাথা গরম হতো।তোমাকে বলে ছিলাম মনে আছে,,,বৌদি,তুমি যেটা ভাবছো ভুল।,,তোমাকে একটা কথা বলি আমার নিজের কোনো ভাই নেই,
তাই প্রতুষ দাকে নিজের দাদার চোঁখে দেখে থাকি।আর প্রতুষ দা আমার যত আবদার মেটাতো।
আর তুমি,,,
জানো বৌদি ,,দাদা সব সময় তোমার কথা বলতো আর কি বলতো জানো,,,যেমন তোমাকে ভালোবাসতো আর তেমনি তোমাকে চোঁখে হারাতো।
হ্যা,,,জানি ,তুমি অন্য কিছু ভেবে ছিলে।যদি অতিরিক্ত কিছু করে থাকি মনে করো
তবে, বৌদি হয়ে এই ননদ টাকে ক্ষমা করে দিও
,,,,বৌদি,,,তোমার প্রতি আমার রাগ বা অভিমান কিছুই নেই।
আমার বিয়েতে অবশ্যই এসো। দাদার ও বৌদির আশীর্বাদ নিয়ে সুখে ঘর সংসার যেনো করতে পারি।
ইতি .....
তোমার অভাগিনী ননদ।
( মালিনীর চোঁখে জল)
প্রতুষ;
তোমার আবার কি হলো।
চিঠিতে কি লিখেছে যে তুমি কেঁদে ফেলেছো।
মালিনী:
আমি হেরে গেছি গো,,,
আমার নিজের কাছে আর তোমার ভালোবাসার কাছে।
আমাকে ক্ষমা করে দিও।
প্রতুষ :-
,,,হ্যাঁ,,, করতে পারি ক্ষমা তবে একটা শর্তে,,,,বলো রাজি?
মালিনী :(হেসে)
আরে বলবে ত কি শর্ত ?
প্রতুষ:
আজ সবাই মিলে এক সাথে
বাহিরে কোন বড় হোটেলে ডিনার পার্টি করবো।
শুধুই আমার,,,,
মালিনী,:-
রাজি,,,
(মিউজিক)
(নমস্কার)
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন