সে আমারই প্রিয়জন | সৈয়দা নার্গিস (নূর)

সৈয়দা নার্গিস (নূর)


গল্পের নাম
:-
সে আমারই প্রিয়জন

কলমে : সৈয়দা নার্গিস (নূর)


         মাস টা ছিল রমজান মাস, সন্ধার পর ইফতার খুলে উঠেতে না উঠেতে ফোন বেজে ওঠে দেখলাম বেস্ট ফ্রেন্ডের ফোন,

      প্রিয় সাথীর ফোন মানে ঘন্টার পর ঘণ্টার কথা, নানা রকমের কথা চলতে চলতে আমি বললাম চল রে পরে কথা হবে এবার রাখি রে। 


     ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গে আমি হোয়াটসঅ্যাপ এ দেখি আমার কিছু ফ্রেন্ড গ্রুপে বেশ ইয়ার্কি চালাচ্ছে। আমি তারই মাঝে হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দেখতে গেলাম দেখি আমার একজন খুব কাছের মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিয়েছে যে “আমার সাথে হাসার এবং কাঁদার কেই নেই” যেহেতু মানুষটি ছিল আমার খুব প্রিয়জন তাই স্ট্যাটাস দেখার পর কিছুটা কষ্ট যেন মনে দাগ কেটে যায় । মেসেজের পর মেসেজ করতে থাকি কোন উত্তর আসেনা, সঙ্গে সঙ্গে আমি আর না থাকতে পেরে ফোন করি এবং তা রিং হয়ে কেটে যায়। কয়েক সেকেন্ডই প্রিয়জনের মেসেজ ভেসে আসে “জীবনে সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেবারও কেউ নেই আমার”।


      কথাটা শুনে আমার কেমন যেন মনে কষ্টের ঝড় ওঠে, আমি লিখলাম দূরে সরিয়ে দিলে আর কেউ থাকে না কথা শোনার মতো। 

    আমি ম্যাসেজ করলাম, অপেক্ষা করবো ফোনের জন্য যত রাত হোক না কেন একবার ফোন করবেন । আবার কয়েক সেকেন্ড পর প্রিয়জনের মেসেজ এলো “করতেই হবে ফোন?”


 হয়তো ইচ্ছে ছিলো না যাই হোক 

অবশেষে আমার ফোনের স্ক্রিনে নাম ভেসে ওঠে “ডাক্তার স্যার”,


    বলুন কী হয়েছে আজ হঠাৎ এই রকম স্ট্যাটাস? মনে কথা কিছুটা কষ্ট চেপে রেখেই বললেন- “ইচ্ছা হলো তাই দিলাম, সত্যি তো কেউ নেই সে রকম ভাবে দুঃখ সেয়ার করার মত”। তারপর বলে ওঠে “কেমন আছো বলো? বেশ ভালো আছো তুমি।“ আমি বেশির ভাগ হু হাঁ বলে উত্তর করলাম ,


    ইচ্ছা করলো না সে ভাবে কিছু জিজ্ঞাসা করার, কিছু আমারও রাগ হলো, কিছু সহ্য না করতে পেরে ব্লক করে দিলাম আমি আমার প্রিয়জন কে। তার পর ফোনের ওপরে ফোন আসতে থাকে। মার ডাক আসে – “খাবি আয় নুর”। ফোন সুইচ স্টপ করে খেতে যায় খাওয়া শেষ করে রুমে ঢুকেই আবার ফোনে হাত ,

তবে রাগ টা কেন আমার হয়েছিল আমি তা জানি না কিন্তু বেশ ভালোই রেগে ছিলাম 

ফোন খুলতে না খুলতেই আবার একই নামে ভেসে ওঠে ফোনের স্ক্রিন। আমি ফোন ধরে বেশ ভারী মেজাজে বলে উঠি- “বলুন”।


  ফোনের ওই পারে থাকা মানুষটি বলতে থাকে আমার উপর রাগ করেছো কেন? আমি তোমাই কিছু বলিনি তো।

আমার কাছে কিছু উত্তর ছিলো না। 

    তাই আমি আরো রেগে বললাম আমি রাগ করিনি, আপনার মনে ভুল ধারণা হয়েছে। তিনি বলে ওঠেন – “তাহলে আমাই ব্লক করেছো কেন ?”

“আমাই তুমি ব্লক করতে পারবে না,, করলে কেন ব্লক?” 

আমার ইচ্ছা হয়েছে আপনার মতো তাই আমি ব্লক করেছি।


আমার রাগ দেখে মনে হয় তার ভালোলাগেছে, তাই কিছুটা হেসে উঠলো হাসতে হাসতে বলতে থাকলো –“তুমি হাসলে আমার নুর” 

আবার বলতে লাগলো ব্লক টা খুলে দাও , 

আমার এই রকম জেদ “আমি খুলবো না” 

আপনি আমার দিদি কে কিছু বলবেন না , দিদিকে বলে আমি দুটো কথা শুনে নেবো তবু ব্লক খুলবো না। এটি শুনে আরও হাসতে লাগলো।

তখন আমার দুই চক্ষু যেন জলাশয়ে ভরে উঠলো। মনের ভিতরে যেন সেই পুরানো কথার আঘাত ফোনে প্রিয়জনের হাসির আওয়াজে যেন সব অভিমান মুছে যায়,


ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গে ইচ্ছা করে মেসেজে লিখতে থাকি আমার সাথে আজ কথা বলুন তো, আমি আজ প্রান ভরে কথা বলবো আপনার সঙ্গে। কিছু মজার ইমোজি সেন্ট করতে থাকি,


  সে বললো আমি কথা বলবো না তুমি ব্লক খোলোনি। এখনো আমি বেশ তার গার্লফ্রেন্ডর মতোই জোর করতে থাকি ও হাসতে হাসতে মেসেজের রিপ্লে করতে থাকে। 

তিনি বলেন “আমি বাড়ি আছি, কথা বলতে পারব না, গুড নাইট”।

  আমিও শেষ মেসেজ এ বলে দিলাম- “ঘুমিয়ে পড়ুন, গুড নাইট, এমনি মজা করলাম কিছু মনে করবেন না”। 


   রাত্রে আর আমার ঘুম আসলো না, তার কথা গুলোই ভেসে উঠলো, তার ওই কণ্ঠশ্বরে সব অভিমান ধুয়ে মুছে গেল। হোক না আমার দুই চক্ষুদ্বয় জলাশয়ে ভরাট, তবুও আপনার ওই হাসি আমার সমস্ত জলাশয় শুকিয়ে দেয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়