কবিতার নাম:- ট্রিং ট্রিং ট্রিং | কবির নাম:-,দেবারতি গুহ সামন্ত

কবিতার নাম:- ট্রিং ট্রিং ট্রিং

কবির নাম:-,দেবারতি গুহ সামন্ত



এ‍্যালার্ম ঘড়িটা বেজেই চলেছে,"ট্রিং ট্রিং ট্রিং,"

একঘেয়ে আওয়াজে বিরক্ত রণি,ঘুমটা পুরো চটকে গেল।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সবে ছটা,

তাহলে তো আর একটু ঘুমানোই যায়।

ঠিক আটটা নাগাদ গরম ধোঁয়া ওঠা বেডটি নিয়ে হাজির হবে শ্রেয়া,

সদ‍্য স্নান করে আসা ভিজে চুলগুলো আলতো করে ছোঁয়াবে রনির গালে।

এটাই ওর ঘুম ভাঙানোর প্রসেস,

এসব ভাবতে ভাবতেই রণির দুচোখের পাতা ভারী হয়ে আসে।

হঠাৎ ও দেখে চারিদিকে বরফের পাহাড়,সূর্যের লুকোচুরি,

মাথার ওপর ঝকঝকে নীল আকাশ,নীচে সবুজ ঘাসের গালিচা।

রণি আর ওর সদ‍্য বিবাহিত স্ত্রী,শ্রেয়া,

কি দারুণ লাগছে শ্রেয়াকে,জিন্স টপ আর লাল সাদা চূড়ায়।

ফাটাফাটি কম্বিনেশন,ঠিক ওদের জুটির মতো,এক্কেবারে হট,

জায়গাতা শিমলা,হানিমুনে এসেছে ওরা,ওই তো শ্রেয়ার পেছনে ওও দৌঁড়াচ্ছে।

না না,আনন্দ খুনসুটিতে নয়,ওদের তাড়া করেছে কিছু হিংস্র পশু রূপী মানুষের দল।

উদ্দেশ্য,লুঠতরাজ ও শ্রেয়ার নরম মাংসকে উপভোগ করা,

এটা রণি হতে দিতে পারে না কিছুতেই,ওর প্রাণ দিয়ে ও রক্ষা করবে ওর প্রিয়তমাকে।

হঠাৎ চারদিক থেকে ঘিরে ধরল ওরা,সংখ‍্যায় পাঁচজন,

মুখে চোখে আদিম লালসা,আচমকা রণির মাথায় ভারী কিছু দিয়ে আঘাত করল কেউ,

দুচোখ বুজে আসছে রণির,মাথার পেছন দিয়ে গড়িয়ে পড়ছে টাটকা তাজা লাল রক্ত।

একি,ওরা যে শ্রেয়াকে ধরে ফেলেছে,ওর শত চিৎকারেও থামছে না,

একটা একটা করে ওর গায়ের কাপড় খুলে ফেলছে।

আর পারছে না রণি চোখ খুলে রাখতে,অন্ধকারের চাদর নেমে আসছে ওর চোখে,

তবুও শেষ বারের মতো ও দেখে নিতে চাইছে ওর শ্রী কে।

উফ,গেল তো আবার এ‍্যালার্মের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে,

ইচ্ছে করছে এল‍্যার্মটাকে আছড়ে ফেলে ভেঙে দিতে।

কিন্তু তা আর পারছে কই রণি,ও তো এখন দেওয়ালে টাঙানো,ফুলমালায় সাজানো ছবি,

এটা তো একটা হাসপাতাল,যেখানে মানসিক রুগী দের চিকিৎসা হয়।

ওই তো বেডে শুয়ে আছে ওর শ্রী,চোখের ফ‍্যালফ‍্যালে দৃষ্টি দেওয়ালে স্থির,

এ‍্যালার্মের শব্দে ঘুম ভেঙে গেছে,একটু পরে ডাক্তারবাবু এসে ওষুধ দেবে ওকে।

চোখের কোনা দিয়ে নোনতা জল গড়িয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছে শ্রেয়ার ভাঙা গালদুটো,

চাইলেও মোছাতে পারবে না রণি,ও যে এখন শুধুই নীরব দর্শক।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়