রম্যরচনা:- "মাধ্যাকর্ষণ শক্তি" // লেখকের নাম :- অরবিন্দ সরকার
রম্যরচনা:- "মাধ্যাকর্ষণ শক্তি"
লেখকের নাম :- অরবিন্দ সরকার

বিজ্ঞানের স্যার বিজন রায় এক অখ্যাত স্কুল হরিদাসপুর হাইস্কুলের শিক্ষক। তিনি নবীন শিক্ষক। ছাত্র ছাত্রীদের নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি শেখেন নি। পড়াশোনা করে এই স্কুলে তার চাকুরী। যষ্ঠ শ্রেণীতে প্রথম পিরিয়ডে গিয়ে রোলকল সেরে বিজ্ঞান পড়াবেন। পিছনের বেঞ্চে হৈচৈ শেষ হয়না।রোলকল খুব কষ্টেই করলেন। হাজিরা সব দিয়ে দিলেন শুনতে না পাওয়ার জন্য। পিছনের বেঞ্চের সকলকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন চিৎকার করছো কেন! পিছনের বেঞ্চের লিডার জগাই হালদার ,বললো বলুন কি বলবেন। বিজনবাবু- আমি কতো দূর থেকে আসছি তোমাদের পড়ানোর জন্য । একটু মনোযোগ দাও তাহলে তোমাদের সুবিধা হবে। আমার পক্ষে বোঝানো ভালো হবে। জগাই- মনযোগ বা মনবিয়োগ বা গুন ভাগ যাই করুন, আপনাকে কে বারণ করেছে। আপনি নির্বিঘ্নে পড়ান।দেখি কে চিৎকার করছে। স্যার- বা তুমি তো বেশ ক্লাসের লিডার।সব চুপ করিয়ে দিলে! আমার দ্বারা এ কাজ হতো না! জগাই- তাহলে আমাকেই ক্লাসের দায়িত্ব দিয়ে আপনি অফিসে গিয়ে ঘুমান। স্যার- না না জগাই , আমি না পড়ালে তোমরা জানবে কি ক'রে। মন দিয়ে শোনা তোমরা, আমি আজ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি পড়াবো। জগাই- স্যার আমি হলকর্ষন জানি।যা আপনি হয়তো জানেন না। আমরা কি দাঁড়িয়েই থাকবো। আপনি দাঁড়িয়ে দিয়ে বকে যাচ্ছেন , বিবেচনা নেই আপনার। স্যার - জগাই ভুল হয়েছে।তোমরা বসো। ভুল সবারই হয়। জগাই- না স্যার মানুষ মাত্রই ভুল। তা বলে জন্তু জানোয়ারের ভুলটা ভুল নয়- সত্যি। ওরা এমন কামড় দেবে যে বেমাত্রা ভুল। যাক্ আপনি পড়ান। স্যার বিজনবাবু-- গাছ থেকে ফল পতিত হওয়াকে কেন্দ্র ক'রে এটা স্যার আইজ্যাক নিউটন আবিষ্কার করেন পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ শক্তি। তিনি দেখলেন আপেল গাছ থেকে আপেল নীচে পড়লো। জগাই-- আকাশে উড়ে যাবে নাকি! গাছের ফলতো নীচেই পড়বে ,নইলে আমরা কি করে পাবো! আদিম কাল থেকেই মুনি ঋষিদের খাদ্য ফল। ফলমূল ,ফল তো মূলেই পড়বে।না হলে আমরা বাঁচি কি ক'রে! ওপর থেকে নীচে পড়া বললেন উনি আর নীচে থেকে উপরে ওঠা উনি জানেন! মাটির তল থেকে উপরে যা ওঠে সেটা উদ্ভিদ।তাই যেহেতু মাটিতে তার জন্ম তাই ফলটা মাটিতেই দেয়। মানুষের মতো নিমকহারাম গাছপালা নয়। এমনকি পশুপাখি তারাও ডিম বা বাচ্চা দেয় আমাদের জন্য। শুধুমাত্র আপেল খেলে হবে। মাটি ভেদ করে ওপরে ওঠে ,পাহাড় বেয়ে ওপরে ওঠে শিবলিঙ্গ,কৈ ও তো পেকেও পড়েনা। ও উপরি আকর্ষণ ।ও ওপর দিকে গমন করে।যেমন পানকৌড়ি জলের নীচে থেকে মাছ ধরে উপরে উঠে আসছে,কৈ ও তো নীচে তলিয়ে যায় না! বইপত্র বাদ দিন।মুর্খ কালিদাস না পড়েই পণ্ডিত হয়েছিলেন। মুখস্থ করতে করতে আমাদের মুখের ফেণা বেড়িয়ে আসে।হাতে কলমে শিক্ষা আসল শিক্ষা।চাষ করলে ফসল পাবো, এই ফসলের মাধ্যমে জীবের উন্নতি সাধন হবে।তাই মাধ্যাকর্ষণ বাদ দিয়ে হলকর্ষন অনেক উপকারী।বুদ্ধির চাষ হয়না,হয় বিকাশ।আর বিকাশ থেকেই হয় প্রকাশ। রামায়ণ মহাভারত দেখুন - শেষে কবি বলেছেন, কাশীরাম দাস কহে শুনে পূণ্যবান। কাশীরাম দাসের কথা বইয়ে লিপিবদ্ধ আছে।সবপাতা নষ্ট হয়ে গেলেও শেষ পাতা থাকবে। কতো বুদ্ধিমান উনারা।আর আপনি পড়াচ্ছেন স্যার আইজ্যাক নিউটন আবিষ্কার করেছেন।কে দেখেছে, কোথায় লেখা আছে! আমরাই লিখছি।আমরাই কতো আবিষ্কার করি সেটা তো বিজ্ঞানে লেখা থাকে না।এখন বিজ্ঞাপনে নাম ছড়ায়। ক্লাসের ঘণ্টা পড়ে গেল। বিজ্ঞান স্যার বিজন বাবুর খটকা লেগে গেলো। আমি ঠিক না ছাত্ররা ঠিক!
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন