কবি অমরেন্দ্র কালাপাহাড় -এর কবিতার অ্যালবাম
তোমাকে চাই
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়
তোমাকে চাই থাকো পাশে
যখন আমি একরাশ বেদনার বালুচরে,
খুঁজি সান্ত্বনা করতে দূর যত যন্ত্রণা
আলতো স্পর্শে বোলাবে
কোমল হাত দুখানি,
মাথার চুলে কাটবে বিলুলি
তোমার মিষ্টি চুমায়
হতাশার কুজ্ঝটিকা হয়ে যাবে দূর
ভরবে সারা দেহ মন
রূপোলি জোছনায়!
চাই তুমি থাকো পাশে
যখন আমি এক দিকভ্রান্ত পথিক,
উদভ্রান্তের মতো খুঁজি এদিক ওদিক
পেতে একটুকুন ভালবাসা
যা ভুলিয়ে দেবে হতাশার যত গ্লানি
নিজেকে শেষ করে দেওয়ার
হঠকারী মানসিকতা!
তোমার সোনালী পরশে
ন্যাড়া গাছে ধরবে নবাঙ্কুর!
ক্ষীণ স্রোতা নদী আবার
হবে উত্তাল হবে বেগবতী!
তোমাকেই চাই থাকো পাশে
যখন আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্বের উত্তাল সমুদ্রে
তোমার একতারার সুর আমার হৃদয়তন্ত্রীতে হবে রাত জাগা পাখি!
যে আগলে রাখবে
আমার যা কিছু হতাশাকে
ভোরের শিশির হয়ে ঘাসের ডগায় সূর্যকিরণে দেবে হীরকের দ্যুতি!
যদি তুমি
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়
যদি তুমি এনে দাও ঘুম
আমি একরাশ স্বপ্নে বিভোর হতে পারি!
যদি তুমি আনো এক ফালি রোদ
আমি ঘাম হয়ে ঝরতে পারি!
যদি তুমি এনে দাও মেঘ
আমি বৃষ্টি হয়ে টপতে পারি!
যদি তুমি রূপসী হয়ে এসো
একরাশ মুগ্ধতায় তাকিয়ে থাকতে পারি!
যদি তুমি এনে দাও চাঁদ
আমি জ্যোৎস্না সমুদ্রে করতে পারি ফেরি!
যদি তুমি এনে দাও দুঃখ
আমি ডুব দিতে পারি তোমার শ্রাবণ নদীতে
যদি তুমি এনে দাও সুখ
আমি শান্তির পারাবতে ভাসতে পারি!
যদি তুমি আনো মনে প্রেম
আমি বাঁশি হয়ে বাজতে পারি তোমার কাননে।
এসো না সবাই
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়
এসো না সবাই হাতে হাত ধরি
পরিষ্কার করি রাস্তাটা,
বড় যে নোংরা যায় না হাঁটা!
পুঁতি গন্ধে আছে যে ভরি!
এসো না সবাই হাতে হাত ধরি
হৃদয়কে করি পরিষ্কার,
কেন শুনবো রে তিরস্কার!
মানুষ মানুষকে কেন বলবে অরি!
এসো না সবাই হাতে হাত ধরি
বাড়াই আমাদের শুভ জ্ঞান,
হয়েও মানুষ কেন তবে অজ্ঞান!
দেখেও না দেখার ভান করি!
এসো না সবাই হাতে হাত ধরি
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব তাই মানুষ,
কেন হারাচ্ছি আমাদের হুঁশ!
কেন পশুত্বের চিহ্ন ভুরি ভুরি!
এসো না সবাই মিলে একসাথে
জগৎটাকে করি সুন্দর,
এর রসে বাঁচি যে সংবৎসর!
এর শুভাশিস চির আমাদের মাথে!
সুখের লাগিয়া
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়
তুমি চাইলে কড় কড়ে সুখ!
বললাম তোমায় সবিনয়ে
ছাপোষা মানুষের কাছে
সুখ পেতে লাগে
আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ!
কেন এভাবে কাটাবে জীবন,
এসো খুঁজে বেড়াই একটুকুন শান্তি
যার তরে লাগে না
টাকা কড়ি হিরে জহরত!
একটু সদিচ্ছা আর সুন্দর মন
যা আছে হাতের মুঠোয়!
না ঘুরে দেশ বিদেশে
আলেয়ার পিছনে ঘুরে মিছে,
আঁচল পাতি সোনালী শান্তি জোছনায়!
তুমি তো বললে চলো না গো
গয়া কাশী বৃন্দাবন,
এতে হৃদয় হবে শান্তিতে চনমন!
বললাম মিছামিছি কেন ঝামেলায়
চলো না কোন নির্জন স্থানে বসি
হৃদ মন্দিরে খুঁজি বাজিয়ে মোহন বাঁশি!
তুমি চাইলে সোনাদানা
হিরে ও মণিমাণিক্য,
বললাম তোমার এসব চাওয়ার
হবে নাকো কোনো দিন শেষ!
নুন আনতে পান্তা ফুরোয় যাদের
হৃদয়ে থাকে নাকো খুশির রেশ!
তার চেয়ে যা আছে তাতেই হই খুশি!
ফুটো চালে পড়ুক জল
পাইতো ওর মধ্য দিয়েই
জোছনার হাসি!
ইচ্ছে করে
অমরেন্দ্র কালাপাহাড়
ইচ্ছে করে বলাকা হয়ে
মেঘের কোলে ঘুরি,
ইচ্ছে করে নৌকা বেয়ে
সাত সমুদ্রে ফেরি!
ইচ্ছে করে শিশির হয়ে
সবুজ ঘাসের ডগায়,
ইচ্ছে করে বৃষ্টি হয়ে
ঝরি নদী-নালায়!
ভাল্গেনা বদ্ধ ঘরে
হাঁপিয়ে কেবল উঠি,
ইচ্ছে করে জলাশয়ে
শালুক হয়ে ফুটি!
ইচ্ছে করে ঘুরে বেড়াই
বন পাহাড় নদী,
উড়ে যেতাম চাঁদের দেশে
থাকতো ডানা যদি!
ইচ্ছে করে ভ্রমর হয়ে
ফুলের মধু খাই,
ইচ্ছে করে বাউল হয়ে
পথে পথে গান গাই!
ইচ্ছে গুলি গুমরে মরে
স্বপ্ন নদীর তীরে,
থাকতো যদি জাদুদণ্ড
মিলতো সব অচিরে!
অমরেন্দ্র কালাপাহাড় দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুলপী থানার তারাচাঁদপুরে জন্ম বাংলা ১৩৬৬ বঙ্গাব্দের ১০ই আশ্বিন।এম এ (বাংলা) বি এড অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। বন্ধুদের অনুপ্রেরণায় কালাকার ছদ্মনামে কবিতা গল্প ত্রিশটির মতো ই ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখালেখি।নীল দিগন্ত, সুন্দর বন সমাচার,বনবিথি ইত্যাদি সাহিত্য গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ খোলা আকাশ।


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন