কবিতার নাম:- মধুরেন সমাপয়েৎ / কবির নাম:- দেবারতি গুহ সামন্ত
কবিতার নাম:- মধুরেন সমাপয়েৎ
কবির নাম:- দেবারতি গুহ সামন্ত
ডিমডিমাপুরে থাকত এক রসিক জামাই,
ছিল না তার সেরকম কোন নির্দিষ্ট কামাই।
কার্তিক ঠাকুরের মত চেহারা তার,অমায়িক ব্যবহার,
ফুলবাবু সেজে বেড়াত ঘুরে,সুমিষ্ট হাসি দিত উপহার।
শাশুড়ি মায়ের চক্ষুশূল,তাই পায়নি জামাই আদর,
একমাত্র মেয়েকে ফুসলিয়ে করেছিল বিয়ে,তাই উপাধি পেয়েছিল বাদর।
এবছর মেয়ে সন্তানসম্ভবা,তাই আছে বাপের বাড়ি,
বাধ্য হয়েই জামাইষষ্ঠী করতে হবে পালন,যতই হোক জামাই এর সাথে আড়ি।
বেকার নিষ্কর্মা জামাইকে অনিচ্ছাসত্ত্বেও তাই পাঠানো হল ডাক,
যথাসময়ে জামাইবাবাজী এসে হাজির,সে সম্মান পাক বা নাই পাক।
জামাই কে দেখে মনের রাগ মনেই চেপে রেখে শাশুড়ি মা করলেন বরন,
ভোলা কি আর এতই সহজ,এই অপগন্ডটাই তার দুলালীকে করেছিল হরণ।
একটু পরে শাশুড়ি মা চললেন মন্দিরে দিতে পুজো,
যেমনই হোক,ওই জামাইকে দেখে হাসি মুখে মেয়ে করছিল সাজুগুজু।
সবার মঙ্গল কামনা করে শাশুড়ি মা ভালোয় ভালোয় করলেন পুজো সমাপন,
ফিরতি পথে ধরলেন বাড়ির রাস্তা,তখনই ঘটল সাংঘাতিক এক অঘটন।
উল্টোদিক থেকে এক বেসামাল গাড়ি এসে মারল শাশুড়ি মাকে এক ধাক্কা,
পুজোর থালা পড়ল উল্টে,ফাটল মাথা,শাশুড়ি মা গেলেন মূর্ছা,পেলেন না অক্কা।
খবর পেয়ে সেই বেকার জামাই তড়িঘড়ি এল ছুটে,
হাসপাতালে শাশুড়ি মাকে করল ভর্তি,আরও অনেকেই গেল জুটে।
ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন,"কন্ডিসন সিরিয়াস,লাগবে প্রচুর রক্ত,
ব্লাড গ্রুপ এ বি নেগেটিভ,রেয়ার গ্রুপ,না দিতে পারলে বাঁচানো শক্ত।"
কোন ব্লাডব্যাংকে পাওয়া গেল না ব্লাড,শেষে বেকার জামাই হল রক্তদাতা,
মা ষষ্ঠীর হস্তক্ষেপে গালমন্দ করা জামাইয়ের রক্তদানে এযাত্রায় বেঁচে গেলেন শাশুড়ি মাতা।
সুস্থ হয়ে এলেন বাড়ি শাশুড়ি জামাই মিলে,
দুজনকে একত্রে দেখে মেয়ের মনে খুশির ঢেউ খেলে।
এবছরের জামাইষষ্ঠী জমিয়ে হবে,প্রাণভরে মেয়ে জামাইকে শাশুড়ি মা করলেন আশীর্বাদ,
জামাইকে দিলেন পুত্র সমান সম্মান,খাঁটি সোনার মত ভালোবাসায় রইল না কোন খাদ।
আম কাঁঠাল,ফুলকো লুচি আলুর দম,পোলাও কচি পাঁঠার মাংসে দারুণ হল জামাই বাবাজীর খ্যাটন,
পাখার হাওয়ায় ঝরে পড়ল মা ষষ্ঠীর আশিস,
ধান দুব্বো,রারড়ি রসমালাইয়ের গল্পকথায় সমাপ্ত হল শুভ জামাইষষ্ঠীর কথন।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন