রম্যরচনা:- মুখোশের আড়ালে//লেখক:- অরবিন্দ সরকার

রম্যরচনা:- মুখোশের আড়ালে
লেখক:- অরবিন্দ সরকার
 
রম্যরচনা:- মুখোশের আড়ালে
লেখক:- অরবিন্দ সরকার

           মাগো ! দেখো গণেশদাদা শুঁড় দিয়ে কলাবউ এর পায়ে শুড়শুড়ি দিচ্ছে?
--- দেখ সরস্বতী তোর কোনো সুর নেই যে একটা অসুর জোটাবি? ফেলে দে তোর বই পত্র , ফেলে দে তোর বীণা ! এখন স্কুল গেলেই ম্যাট্রিক পাশ। পড়াশোনার দরকার নেই বুঝলি ? আর স্বরগমের ও দরকার নেই? সা,রে,গা,মা কেউ শিখছে না !এবার  ত্রিপলের স্যাটা প্যান্ট পড়ে গান করি দেখি  "বেছে বেছে করলি বিয়ে চিরকালের ন্যাংটা লো ন্যাংটা" , দেখবি তোর পিছনে নাচছে কতশত খ্যামটা । আর তখনই তুই দেখাবি তোর ঘ্যামটা !
ওমা লক্ষ্মী ! মা লক্ষ্মী চুপ করে বসে থেকোনা মা ? পটের বিবি সেজে বসে থাকলে হবে ? গোলা আগলে কি করবি বল ? এখন গোলাভরা ধান দরকার নেই মা ! রেশনে এখন চাল,গম,চিনি,তেল সব দিচ্ছে, শুধু এ,পি,এল, বি,পি,এল,সি,পি,এলে, নাম লেখা মা তাহলেই চলে যাবে বুঝলি ? 
আঃ চুলের কি ছিরি ! একেবারে বিচ্ছিরি ! কার্ত্তিক ছাট চুল কাট?
-- আমাকে জড়িয়ো না মা ! এখন আমাকে লোকে এমনিতেই কেলোকাত্তিক,ভুলোকাত্তিক ,নেলোকাত্তিক বলে ? আবার কারো বাড়ি গেলে শালো কাত্তিক ও বলে ?
দেখ কার্ত্তিক তোর ময়ূরটাকে এবার কেষ্টকে দিয়ে বিশ্বকর্মার কাছ থেকে একটা মোটরসাইকেল বানিয়ে নে ?
এবার খরা কিংবা বন্যা হবে তখন ঋণ মুকুব হয়ে যাবে , দাম আর লাগবেনা ? এবার পায়রা দিয়ে প্রেমনিবেদনমিদং ছাড়  বুঝলি ?
মোবাইলে ভুলভাল নম্বরে মিসকল দে ! যখন দেখবি নারীকণ্ঠ ,ফোন কল ব্যাক ক'রেছে তখন হ্যালো বা হাই ব'লবি ! মিসকল বারে বারে মেরে দেখবি তোর মিসেস্ তৈরী ।একেই বলে মরদ, পুরুষালি বুঝতে পারলি?
আর পারছি না বাবা ! তোর বাবা ভোলানাথ তো আমাদের ভুলেই থাকে! তুই এমন মেয়ে বিয়ে কর্ যেনো ঘরজামাই থেকে আমাদের ভুলে থাকিস্ ! 
এতো বড়ো সংসার আর চালাতে পারছি না বাবা ! আমাদের সময় তো আর "বুলাদি" ছিলোনা ?

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়