কবিতা :- মেহনতী মানুষের কান্না /কবি:- নীতা কবি
কবিতা :- মেহনতী মানুষের কান্না
কবি:- নীতা কবি
শ্রমিক বন্ধু, ভাই!
তোমাদের কাছে ঋণী যে আমরা,তোমার তুলনা নাই।
রক্ত-মাখা 'মে' দিবসের দিনে তোমাদের জানাই সেলাম
অক্লান্ত পরিশ্রম করে পাওনা ন্যায্য দাম।
বাঁচার জন্যে খেটে খাও তুমি, কাড়ো না কাহারো গ্ৰাস
রক্তাঙ্গনে পড়ে থাকে দেখি তোমাদের শত লাশ।
মেহনতী তোমরা, মুটে ও মজুর, অট্টালিকা গড়ো
রাস্তার ধারে, ফুটপাতে থেকে শুধু ধুঁকে ধুঁকে মরো।
ভবিষ্যৎ বলে কিছুই থাকে না, স্রোতেই গা ভাসাও
বাবুদের মাথায় ছাদ তুলে দিয়ে দামী মাথাগুলো বাঁচাও।
সমাজের যত অবহেলা আর বঞ্চনারই শিকার
তোমাদের পেটে লাথি মারতে হয় না কারো বিকার।
উঁচ-নীচ করে দেয়নি দয়াল, মানুষ গড়েছে ভেদ
ভেদাভেদ থেকে মুক্ত করতে বাড়াও মনের জেদ।
শিশু-শ্রমিকেরা পথে পথে ঘুরে শ্রমিকের কাজ করে
কম টাকা দিয়ে কাজ পাবে বলে শিশুদের আনে ধরে।
আট ঘণ্টার লড়াই হলো, তোমাদের হলো জয়
অত্যাচার আর ক্রীতদাস প্রথা সেই দিনই শেষ হয়
তবুও তোমরা শোষিত , পীড়িত, পায়ে পিষে যেতে চাই
কারোর চেয়ে কম নও তুমি আমার মেহনতী ভাই।
কাগজ কুড়াবে তোমাদের ছেলে, ধনীরা চড়বে গাড়ী
শিক্ষার পরশে মানুষ হয়ে গেলে কে ঠেলবে সভ্যতার গাড়ী?
সেই ভয়েই তো ভেদাভেদ প্রথা, বৈষম্যে ভরা সমাজ
এই প্রথা ভেঙ্গে গুড়িয়ে তোমরা সাম্য আনবে আজ।
রক্তাঙ্গনে পড়ে আছে দেখো কতো শ্রমিকের লাশ
বাঁচার তাগিদে খেটে খায় ওরা, কাড়ে না কাহারো গ্ৰাস।
দুনিয়ার যত মেহনতি আর মজুর,মুটে ও কুলি
সেলাম তোমায়, তোমরা গড়েছো সৌধ, তোমাদের
নিজের স্বার্থ ভুলি।
শোষক করেছে শোষন, তোমার ছিন্ন ভবিষ্যৎ
শত নিপীড়ন সহ্য করেও তোমরা থেকেছো সৎ।
আট ঘণ্টার লড়াইয়ে যখন চলেছে শব মিছিল
বাবুদের যত লোভের পাহাড় কিছুটা হয়েছে শিথিল।
অবশেষে জয় হয়েছে তাদের, গর্জেছে মজদূর
মজুরের সাথে আমরাও আছি,বেজেছে জয়ের সুর।
এই দুনিয়ার মেহনতি আর নিপীড়িত মজদূর
নত করি মাথা, সেলাম তোমায়, সেলাম তোমাকে বীর।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন