গল্প:- একাই একশো /লেখক:-'প্রবাল মুখোপাধ্যায়

গল্প:- একাই একশো
লেখক:-'প্রবাল মুখোপাধ্যায়


সুবল কাকার দোতলার জানলা
থেকে উঁকি মারলো মিনু কাকিমা।জগুয়াদের ছাদ থেকে ঝুঁকে পড়লো দুই দিদি। ডাক্তারবাবুর ন্যাড়া ছাদে
ভিড় করে এসে দাঁড়ালো ছেলে, বৌ, মা, একরত্তি নাতি, বাড়ির কাজের মেয়ে। উদয়দের বাড়ি থেকে জায়গাটা একটু দূরে, বারান্দায় দাঁড়িয়ে শরীরটা অনেকখানি ঝুলিয়ে দিলো স্বামী স্ত্রী। থৈ থৈ ভিড়, ব্যাপারটা ঠিক বোঝা গেলো না, ওরা নেমে এলো রাস্তায়।


অনুকুলবাবার আশ্রম থেকে প্রাত্যহিক প্রার্থনা সেরে বাড়ি ফিরছিলেন রায় গিন্নি। ভিড় দেখে দাঁড়িয়ে পড়লেন। চোখ কপালে উঠে গেলো, 'ও মা গো ! পা দুটো একেবারে থেঁতলে দিয়েছে গো।' সব ব্যাপারেই একটু মাতব্বরি  দেখানো চাই গোলক জ্যাঠার। উবু হয়ে বসে পড়লেন, নাকের কাছে প্রথমে হাত, পরে কান পাতলেন, 'নাঃ, নিঃশ্বাস পড়ছে। এম্বুলেন্স !' দোকানের ঝাঁপটা ফেলে দিয়ে  ছুটে এলো আখতার।  'এ বাবুরা, সব মজা দেখছেন কি ? মুখটা হাঁ করে আছে, একটু জল দিন না।'  রুণু কাকিমার মেয়ে সৃজা জিনস আর টপ পরে বেরিয়েছিলো কোচিং সেন্টারে। রাস্তা জুড়ে চাপ চাপ রক্ত দেখে ছুট্টে বাড়ি ঢুকে পড়লো, 'ও মাই গড, হোয়াট আ টেরিবল সাইট !'   লাল্টু, ভোঁদড়, জয়ন্ত হরিদার দোকানে সাত সকালেই এসে জুটেছিলো। ভিড় দেখে দোকান থেকে বেরিয়ে এলো, দুমড়ে মুচড়ে  যাওয়া সাইকেলটা রাস্তার মাঝখান থেকে নিয়ে এসে একপাশে সরিয়ে রাখলো। দাস লটারির দাসবাবু জিভ দিয়ে একটা চকচক শব্দ করে বললেন, 'ইস, আমার সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেলো লরিটা। যদি জানতাম ওই লরিটাই ঘাতক, ড্রাইভারটাকে টেনে হিঁচড়ে নামাতাম। বাছাধনকে বুঝিয়ে দিতাম কত ধানে কত চাল।' কোথা থেকে খবর পেয়ে ছুটে এলেন পাড়ার কাউন্সিলর দাদা দিবাকর বাবু। ভিড়ের মধ্যে উঁকি মেরেই বললেন, 'এতো রথীন, সানপুরের ছেলে, দুধ বেচে খায়।'  'দাদা, একে কাল দেখেছি, ওদের মিছিলে', কথাটা কে যেন দাদার কানে তুলে দিলো। দাদা আর দাঁড়ালেন না, কাকে কিসব নির্দেশ দিতে দিতেই গাড়িতে উঠে পড়লেন।


রথীন এ পাড়ায় ব্রাত্য, ওর রঙ আলাদা, তাই এম্বুলেন্স এলো অনেক দেরীতে। ততক্ষণে ওর প্রাণভোমরা খাবি খেতে শুরু করেছে।


ভিড় পাতলা হয়ে গেছে।  বুবাই, দীপেন, সন্তোষ, মনোজ সবাই গেলো দাদার পিছু পিছু। দাদার ঈশারা ওরা ঠিক বুঝেছে। অন্ততঃ আধ ডজন বাইক  একসাথে গর্জে উঠলো।


রায়গিন্নি তখনও দাঁড়িয়ে, ডানহাতের বুড়ো আঙ্গুলটা একবার কপালে ঠেকালেন। গাড়ি ছাড়বে ছাড়বে করছে, হঠাৎ কোথা থেকে পাড়ার সব থেকে বখাটে ছেলেটা লাফ দিয়ে গাড়িতে উঠলো। সবাইকে চমকে দিয়ে ওদের মুখে যেন একটা আস্ত থাপ্পড় মেরে চীৎকার করে বলে উঠলো, 'সব শালা চামচে, যা যা দাদার পা চাটগে যা। একটা মানুষ পড়ে আছে, তোরা শালা রঙ মারাচ্ছিস ! শোন শালা, বটু থাকতে কাউকে মরতে দেবে না। বটু একাই একশো। এই ড্রাইভার, গাড়ি ছোটাও।'



































 

 

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

১৬ মে ২০২২

এক মুঠো পয়সা | প্রত্যুষ কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়